খুঁজুন
বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১১ চৈত্র, ১৪৩২

বাংলাদেশে ২০২৬ নির্বাচন: ভোটের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা

রহমান মৃধা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ এএম
বাংলাদেশে ২০২৬ নির্বাচন: ভোটের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা

বাংলাদেশ এখন একটি ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যাবে না। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি, রাষ্ট্রীয় বিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ‑পরিকল্পনার প্রতি জাতির আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষাও বটে।

এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিয়ে দেশের মানুষের মনেই গভীর প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে। প্রশ্নগুলো কেবল একদলীয় দাবির নয়; বরং এগুলো বিস্তৃত রাজনৈতিক আলোচনার, গণমত ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের প্রতিফলন।

১. নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি?

এ প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় এবং বাস্তব উদ্বেগ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোট পরিবেশ ‘এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক’ এবং সবাই সহযোগিতা করলে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’। তবু নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা শুধু সময়মতো আয়োজন দ্বারা নির্ধারিত হয় না; এটি নির্ভর করে সাধারণ জনগণের আস্থা, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং ভোটারদের নিরাপত্তার ওপর।

হেট‑স্পিচের ঝুঁকি রয়েছে।

• রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও মিডিয়ার দায়িত্ব হলো সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করা।

• ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চূড়ান্ত মতামত

বাংলাদেশের ২০২৬ নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক বিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক অন্তর্দ্বন্দ্বময় পরীক্ষা।

সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন:

১. স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন প্রক্রিয়া।

২. প্রতিটি দলের সমান সুযোগ ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ।

৩. প্রশাসন ও ইসির নিরপেক্ষ ভূমিকা।

৪. ভোটার নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা।

৫. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, স্বচ্ছ গণনা ও তথ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ফলাফল যাই হোক, যদি এই শর্তগুলো নিশ্চিত করা হয়, তবে নির্বাচন কেবল অনুষ্ঠিত হবে না; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবন এবং জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত হবে।

বাংলাদেশের জনগণ চায় নির্বাচন, বিশ্বাস ও স্থিরতার সমন্বয়। এটি আজকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

লেখক: রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

 

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফরিদপুরের হোটেল ‘রয়েল প্যালেসে’ অভিযান, ৮ জনের কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফরিদপুরের হোটেল ‘রয়েল প্যালেসে’ অভিযান, ৮ জনের কারাদণ্ড

ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তউল্লাহ বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘রয়েল প্যালেস’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগে ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে হোটেলটির বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৬ জন পুরুষ ও ২ জন নারীকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোট ৮টি মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম ও দীপ্ত চক্রবর্ত্তী। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহায়তা প্রদান করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্ত্তী জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটির আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো হোটেল বা প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়া হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ‘হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরই প্রেক্ষিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের কিছু আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে প্রশাসনের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে সমাজ থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবন অনেকাংশে কমে আসবে।

মেরামতের নামে প্রহসন, ফাটা পাইপে চলছে নগরকান্দা পৌরসভার পানির অপচয়

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম
মেরামতের নামে প্রহসন, ফাটা পাইপে চলছে নগরকান্দা পৌরসভার পানির অপচয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে ফাটা পানির পাইপ দিয়ে অবিরাম পানি অপচয়ের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সমস্যার কারণে একদিকে যেমন বিশাল পরিমাণ বিশুদ্ধ পানির অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে পৌরবাসী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ব্রিজের নিচে স্থাপিত সাপ্লাই লাইনের পাইপ ফেটে নিয়মিত পানি বের হয়ে যাচ্ছে। দিন-রাত অবিরাম পানি ঝরার ফলে আশপাশে জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হচ্ছে, যা চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সাময়িক সংস্কার কাজ করা হলেও তা টেকসই হয়নি। ফলে কিছুদিন পরপরই একই সমস্যা পুনরায় দেখা দিচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি বহুবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে নাগরিক সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, দায়িত্বে অবহেলা ও নজরদারির অভাবেই সমস্যাটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান রাসেল বলেন, “প্রায় এক বছর ধরে পাইপ ফেটে পানি অপচয় হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পাচ্ছি না, অথচ প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ পানি নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।”

শুধু একটি স্থানেই নয়, কোর্টপাড় বন বিভাগ অফিসের পাশসহ পৌরসভার আরও কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের পানির অপচয়ের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। এতে করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পানি অপচয় অব্যাহত থাকলে তা শুধু স্থানীয় সংকটই তৈরি করে না, বরং সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি অবকাঠামোগত দুর্বলতা দ্রুত সমাধান না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।

এ বিষয়ে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া জানান, সমস্যাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মালামাল ঢাকায় থেকে সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।”

  • এদিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পানির অপচয় রোধ এবং নাগরিক ভোগান্তি নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ডেকে নিয়ে গুলি! বোয়ালমারীতে ভাই হত্যায় সাবেক এমপি প্রার্থী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ডেকে নিয়ে গুলি! বোয়ালমারীতে ভাই হত্যায় সাবেক এমপি প্রার্থী আটক

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর ডা. গোলাম কবীরের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে উপজেলার চতুল ইউনিয়নের ফায়ার সার্ভিসের পেছনে রেলগেট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এতে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মিন্টু (৫২) অভিযুক্ত গোলাম কবিরের আপন ছোট ভাই বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র। জানা যায়, পারিবারিক জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দিন সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিন্টুকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন ডা. গোলাম কবির। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মিন্টুর মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত গোলাম কবিরকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেইন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটির পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকেই হত্যার মূল কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

এদিকে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।