খুঁজুন
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

লোডশেডিং চলবে আরও কতদিন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
লোডশেডিং চলবে আরও কতদিন?

“গরমের মধ্যে যন্ত্রণায় আছি- গভীর রাতেও দুই-তিনবার বিদ্যুৎ যায়, একবার গেলে দেড়-দুই ঘণ্টার কমে আসে না।”

একথা বলছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা নয়ন বড়ুয়া। তার দাবি, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টার মতো লোডশেডিং হচ্ছে।

এই অবস্থা দেশের বেশিরভাগ এলাকায়। দিনে-রাতে নিয়ম করে শহর এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানাচ্ছেন বিদ্যুতের গ্রাহকরা।

“এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে এমনিতেই তীব্র গরম, আর সাথে কারেন্ট (বিদ্যুৎ) নাই, সব মিলিয়ে খুবই বাজে অবস্থা,” বলেন নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দার বাসিন্দা পলাশ তালুকদার।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশে লোডশেডিং একটু একটু করে বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়েছে আরও আগে থেকেই।

কিন্তু গত তিনদিনে গ্রাম-শহর নির্বিশেষে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে বলেই তথ্য মিলছে।

মূলত গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে চাহিদা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি থাকায় গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং দিতে হয়েছে।

এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন অন্তত ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

যদিও দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিউ চালু এবং আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক হলে সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

“আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট আমাদের যা সাপ্লাই করতো তাদের একটি ইউনিটে সমস্যা হওয়ায় এখন অর্ধেক দিতে পারছে। বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তাদের সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে,” বলেন তিনি।

এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ে চিত্র

“সকাল থেকে দুইবার বিদ্যুৎ যায় অন্তত আধা ঘণ্টা করে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনবার যায় আরও আধা ঘণ্টা করে। আর সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত তিন থেকে চারবার যায় অন্তত এক ঘণ্টা করে,” চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে গেল তিনদিন এভাবেই লোডশেডিং চলছে বলে জানান স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মোহাম্মদ আসাদ।

ওই জেলার গ্রামাঞ্চলে আরও আগে থেকেই লোডশেডিং শুরু হয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানান তিনি।

জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিংয়ের বিরূপ প্রভাব পড়েছে যশোর জেলার কৃষি কাজে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী বুলবুল শহীদ খান বলেন, “তেলের দাম বাড়ানোর পর থেকেই যশোরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। কৃষকরা তেল পাচ্ছে না, বিদ্যুৎও ভোগাচ্ছে।”

গ্রাম-শহর নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি এলাকায় কম-বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। যার কারণ হিসেবে চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ঘাটতির কথা বলছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াট। যার বিপরীতে ওই দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ পরিমাণ ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট।

অর্থাৎ সরবরাহ ঘাটতি থাকায় সারাদেশে লোডশেডিং দিতে হয়েছে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

চাহিদা এবং সরবরাহের হিসেবে বৃহস্পতিবারও তিন হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি লোডশেডিংয়ের তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির অঞ্চল ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জোনে সবথেকে বেশি ছয় হাজার ১৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে।

খুলনা জোনে এক হাজার ৯৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩৮০ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামে এক হাজার ৫৮৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৫০ মেগাওয়াট, রাজশাহী জোনে এক হাজার ৮০৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৮০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কুমিল্লা জোনে এক হাজার ৫৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২২০ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে এক হাজার ৭০ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১৮০ মেগাওয়াট, সিলেটে ৫৭৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১০০ মেগাওয়াট, বরিশালে ৪৬৮ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৬০ মেগাওয়াট এবং রংপুরে এক হাজার দুই মেগাওয়াটের বিপরীতে ১৬৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি কেন?

জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ধাপে ধাপে লোডশেডিং বেড়েছে। গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি আর একাধিক পাওয়ার প্লান্টের ইউনিটে কারিগরি জটিলতা তৈরি হওয়ায় সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কাগজেকলমে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট। যার মধ্যে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।

কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে একদিকে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গেও ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের।

তাহলে এতো উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও বিদ্যুৎ নিয়ে এই বেহাল দশা কেন?

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত গ্যাস ও কয়লা নির্ভর হওয়ায় জ্বালানি সংকটে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে।

এছাড়া আদানির একটি বিদ্যুৎ ইউনিটে কারিগরি সমস্যা তৈরি হওয়ায় সব মিলিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা।

“আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জ্বালানির চিন্তা না করে কেবল বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।

যারা ফলে যখনই জ্বালানির ঘাটতি হয়েছে তখনই বিদ্যুৎ নিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন।

“আপনার গাড়ি আছে কিন্তু গাড়ি চালানোর তেল নেই, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরের বর্তমান অবস্থা ঠিক এমন,” বলেন তিনি।

লোডশেডিং চলবে কতদিন

তীব্র গরমে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শিল্প উৎপাদন এবং কৃষি উৎপাদনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

আর তাই বিদ্যুৎ নিয়ে এমন পরিস্থিতি আরও কতদিন চলবে এই প্রশ্নই এখন ঘুরেফিরে সামনে আসছে।

পরিস্থিতি পুরো ঠিক না হলেও খুব শিগগিরই সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলেই মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

তারা বলছে, ২৬শে এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ারের আমদানিৃকত বিদ্যুৎ আবারো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্ট থেকে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ২৮শে এপ্রিল থেকে স্বাভাবিক হতে পারে।

“২৮শে এপ্রিল থেকে প্রায় তেরশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা পাবো, যাতে সংকট খানিকটা কমবে। এছাড়া জ্বালানি সংকটে আরএনপিএন এর বন্ধ ইউনিটটি চালু হলে সব মিলিয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে,” বলে জানান যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা।

এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলছেন, “আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট আমাদেরকে যা সাপ্লাই করতো তাদের একটি ইউনিটে সমস্যা হওয়ায় এখন অর্ধেক দিতে পারছে, বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তাদের সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে এবং বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের এই প্রেক্ষাপট ঠিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং সহ্য করেই চলতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলছেন, প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার মেগাওয়াটের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল করে এই মুহূর্তে লোডশেডিং কমানো সম্ভব।

কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম যত বাড়বে সেটি বহন করা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কঠিন বলেই মনে করেন মি. হোসেন।

তিনি বলছেন, “বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এই খাতে। এবার হয়তো সেটা ৬০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। ফার্নেস অয়েল নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে চাইলেই বাড়তি উৎপাদন করা যাবে না।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চর হাজীগঞ্জ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ।

অভিযানকালে বাজারের বিভিন্ন মুদি ও খাদ্যপণ্যের দোকান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারায় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী মিহির কুমার রায়কে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া দোকানগুলোতে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযান চলাকালে চরভদ্রাসন থানা পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও পণ্য কেনার আগে মেয়াদ যাচাই করার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।”

ফরিদপুরের সেই ভাইরাল শিল্পী লাইলী বেগমকে ৩ লাখ টাকার অনুদান দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সেই ভাইরাল শিল্পী লাইলী বেগমকে ৩ লাখ টাকার অনুদান দিল সরকার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকগান গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া ফরিদপুরের শিল্পী লাইলী বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। তার শিল্পীসত্তার স্বীকৃতি হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৩ লাখ টাকার বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী লাইলী বেগমের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “লাইলী বেগম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজের প্রতিভা ও সাধনার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। দেশের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতিকে ধারণ করে তিনি গান গেয়ে চলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গান শুনে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। এমন প্রতিভাবান শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলেই আমরা এই সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, লাইলী বেগমকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমে তাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তিনি আরও বড় পরিসরে তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন।”

জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি লোকগান ও বাউলগান পরিবেশনের ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় আসেন লাইলী বেগম। তার সুমধুর কণ্ঠ, সহজ-সরল পরিবেশনা এবং গ্রামীণ জীবনের আবহ ফুটিয়ে তোলা গান হাজারো দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

অনুদান গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত লাইলী বেগম বলেন, “আমার মতো গ্রামের একজন শিল্পীকে সচিবালয়ে ডেকে এনে সম্মান জানানো হবে, এটা কখনও ভাবিনি। সরকারের এই সহযোগিতা আমাকে আরও ভালোভাবে গান গাইতে এবং সংস্কৃতির জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা মনে করছেন, লাইলী বেগমের মতো মাটির কাছাকাছি থাকা শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেশের লোকসংগীত ও গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ফরিদপুর পৌরসভায় ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইনে পানি সংকট, দুর্ভোগে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর পৌরসভায় ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইনে পানি সংকট, দুর্ভোগে মানুষ

ফরিদপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পুরোনো পাইপলাইনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। শহরের বিভিন্ন মহল্লায় নিয়মিত পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও পানি খুব কম আসছে, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একেবারেই পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে সম্প্রতি বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরজুড়ে পানি সরবরাহের জন্য লোহার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও সেই পাইপলাইন এখনো পরিবর্তন করা হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে পাইপের ভেতরে জং ও আয়রনের স্তর জমে পাইপগুলো সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে পানি প্রবাহ কমে গিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

শহরের গুহলক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ট্যাংকে পর্যাপ্ত পানি ওঠে না। বাধ্য হয়ে মোটর চালিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।”

ঝিলটুলী এলাকার গৃহিণী সেলিনা বেগম বলেন, “কয়েকদিন ধরে পানি খুব কম আসছে। রান্না, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বেশি দুর্ভোগে আছি।”

টেপাখোলা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “পানি না থাকলে দোকান ও বাসার দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পৌরসভার উচিত দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।”

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে পানি উত্তোলন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে গভীর নলকূপ ও পাম্প চালানো সম্ভব না হওয়ায় পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পানি সরবাহের জন্য ১৯৮০ দশকের পাইপ এখন জং ধরে ও আয়রণ পড়ে পানিপথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে, এতে অনেক এলাকায় পানি দিতে সমস্যা হচ্ছে ও কম পানি যাচ্ছে। তবে, বরাদ্দ না থাকায় পাইপগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছেনা।

ফরিদপুুর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য হাসানউজ্জামান বলেন, ‘নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তন, পানি উত্তোলন কেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার চুরি রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপও জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক নাগরিক আছেন নিয়মিত পানির বিল দিচ্ছেন কিন্তু একেবারেই তারা পানি পাচ্ছেন না এমন অভিযোগও রয়েছে। পানির সরবরাহের ব্যাপারে জানতে চাইলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের সদুত্তর দিচ্ছেনা। এটা দুঃখজনক। আমরা বলবো, অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধানে পৌরসভাকে উদ্যোগী হতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হয়নি। অনেক এলাকায় নতুন সংযোগ দেওয়া হলেও পুরোনো অবকাঠামোর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে গ্রীষ্মকাল কিংবা বিদ্যুৎ সমস্যার সময় সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।’

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, ‘ফরিদপুরবাসী দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার সরবরাহ করা পানীয় জলের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। পানির লাইনগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা না করায় ময়লা আবর্জনা পানির সাথে প্রভাবিত হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানের জন্য দ্রুত পৌরসভাকে উদ্যোগ নিতে হবে। নাগরিক সুবিধার নিশ্চিত করতে এবং একটি এ গ্রেডের পৌরসভার আধুনিক সুবিধা ক্ষেত্রে এর কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিতাপের বিষয় পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ ব্যাপারে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা আশা করি পৌরসভা এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং পৌরবাসীকে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি দেবে।’

এব্যাপারে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় ও সরকারি সফরে চীনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, “১৯৮০-এর দশকে স্থাপিত লোহার পাইপগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে জং ধরে ভেতরে সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এতে অনেক এলাকায় পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। পুরোনো পাইপ পরিবর্তন করা জরুরি হলেও বড় বাজেটের অভাবে এখনো তা সম্ভব হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে নতুন পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি শহরে বৈদ্যুতিক তার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর প্রভাব পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। এছাড়া কোনো এলাকায় পাইপলাইনের মেরামত কাজ চললে সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। তারপরও আমাদের কর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।”

শহরে বৈদ্যুতিক তার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে বলে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যের ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘চুরি রোধে রাতে ও দিনে আমাদের পুলিশের মোবাইল টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। এছাড়া চুরি বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।’

দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ফরিদপুর শহরের পানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।