খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফ্যামিলি কার্ডের টাকা—সরকারের তহবিল নাকি ঋণ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৫ এএম
ফ্যামিলি কার্ডের টাকা—সরকারের তহবিল নাকি ঋণ?

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ১০ই মার্চ থেকেই দেশে পরীক্ষামুলক ভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার প্রাথমিকভাবে যেসব ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে তার বিপরীতে কার্ডধারী আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উপজেলায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে সরকারের দিক থেকে জানানো হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, এখন আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে থোক বরাদ্দ নেওয়া হবে। তবে আগামী বাজেট থেকে এ খাতে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ থাকবে বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় ইশতেহারে বিএনপি নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছিলেন তার শুরুতেই ছিল এই ফ্যামিলি কার্ড।

এতে বলা হয়েছিল ‘প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে’।

প্রসঙ্গত, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টিসিবির মাধ্যমে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছিল যার মাধ্যমে কার্ড গ্রহীতা বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে টিসিবি থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্য কিনতে পারতেন।

কারা পাবেন, কিভাবে বাছাই হবেন তারা

সমাজকল্যানমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সচিবালয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে হওয়া এক বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি শুরুর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ওই বৈঠকেই বলা হয়েছে, এখন একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৪টি উপজেলা থেকে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডকে বাছাই করা হচ্ছে এবং সেই ওয়ার্ডের প্রতি পরিবারের একজন নারী এই কার্ড পাবেন।

“এই কার্ডের সুবিধা পাবেন পরিবারের মা বা নারী প্রধান। এর মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এবং পুরো পরিবার ও আগামী প্রজন্ম এর সুফল পাবে। আগামী চার মাসে পাইলটিং কাজ শেষ হবে। এরপর প্রতিটি উপজেলায় এর আওতায় আসবে,” বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে বলেছেন মি. হোসেন।

সরকারের এখনকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি ওয়ার্ডে যে কতজন এই কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত হবেন তাদের সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এজন্য মাঠপর্যায় থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মূলত হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মায়েরা এই সুবিধা পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে যাচাই বাছাই করে এ তিন ধরনের পরিবার থেকে কার্ড গ্রহীতাদের নাম নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী বলেছেন, “এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার কাজ হবে। বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে এটা নিয়ে কাজ করেছেন। ওনার সভাপতিত্বেই আজ এটি অনুমোদিত হয়েছে”।

কত দেওয়া হবে, টাকার সংস্থান কিভাবে হবে

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবে তারা কার্ড পাওয়ার পর প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। অনুদানের এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয় এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ থোক বরাদ্দ হিসেবে দিবে। পরবর্তীতে আগামী জুনে জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময় সেখানে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সরকার দেবে বলে সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, একটি ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে।

এছাড়া একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

“তদারকির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভুলত্রুটি এড়াতে ‘দ্বিস্তর বিশিষ্ট’ চেকিং ও রি-চেকিং ব্যবস্থা থাকবে,” ব্রিফিংয়ে বলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

ফ্যামিলি কার্ড প্রথম দফায় যাদের দেওয়া হবে তাদের কীভাবে বাছাই করা হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “বাছাই করা হচ্ছে না। ইনফরমেশন কালেক্ট করা হচ্ছে প্রতিটি ডোর-টু-ডোর স্টেপস অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে। কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে কোনো বাছাই হবে না”।

আবেদন করা যাবে যেভাবে

নির্বাচনের আগে ২২শে জানুয়ারি সিলেট এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে।

তিনি তখন বলেছিলেন যে এই ফ্যামিলি কার্ডটি মূলত পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে।

সরকার জানিয়েছে এখন মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত উপজেলার নির্ধারিত ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এখনকার পাইলট প্রকল্প আগামী চার মাসে শেষ হবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে সারাদেশের প্রতিটি উপজেলাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতে এবং অনিয়ম রোধে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস তৈরি করছে সরকার। তবে আগ্রহীরা কিভাবে আবেদন করবেন তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।

পাইলট প্রকল্পে যাদের বাছাই করা হচ্ছে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, রঙ্গিন ছবি ও একটি সচল মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক নম্বর থাকে সেটি নিজেদের কাছে রাখতে বলা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, পরে একটি নির্দিষ্ট আবেদন ফরম থাকবে যা আগ্রহীরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা সরকারের একটি অনলাইন পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এরপর ১৯শে ফেব্রুয়ারি আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

ওই কমিটিকে ঈদের আগেই যাতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা হয় সেজন্য আজ মঙ্গলবারের মধ্যে‌ একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

আজ সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ১০ই মার্চ থেকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের অন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম
ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল

দেশের শোবিজ অঙ্গনে পরিচিত নাম পিয়া জান্নাতুল। মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী— তিন পরিচয়েই জনপ্রিয় তিনি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আলোচিত ব্যারিস্টার সুমনের চেম্বারে অ্যাসোসিয়েটস আইনজীবী হিসাবে কাজ শুরু করেছিলেন পিয়া।

এই মডেল এবার তার সহকর্মীকে নিয়ে লিখলেন ফেসবুকে। সুমনের প্রশংসা করে তার মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চাইলেন।

পিয়া তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘যে মানুষটি সবসময় অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, দেশের স্বার্থে নির্ভয়ে কথা বলেছেন, আজ তিনি নিজেই জামিন প্রার্থনা করছেন; সময়ের এটি নির্মম পরিহাস।  কেউ যে কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতেই পারেন- সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।  কিন্তু একজন মানুষের মূল দর্শন, তার সততা, তার উদ্দেশ্য-সেগুলোই হওয়া উচিত আমাদের মূল্যায়নের আসল মানদণ্ড।’

স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী-আইনজীবী আরও বলেন, ‘কোনো মামলা যদি হয়রানিমূলক হয়ে থাকে, তা যেন ন্যায়সঙ্গতভাবে পর্যালোচনা হয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।  পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নতির জন্য ব্যারিস্টার সুমনের মতো মানুষের সংখ্যা বাড়ুক’-এই কামনাও ব্যক্ত করেন তিনি।

 

বোয়ালমারীতে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিককে হত্যা, পালিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা রিহাতের

হারুন-অর-রশীদ ও আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম
বোয়ালমারীতে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিককে হত্যা, পালিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা রিহাতের

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কম্প্রেসার মেশিনের বাতাস পায়ুপথে ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিক সজিব শরীফকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিম (২২)-কে মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামে অবস্থিত আকিজ-বশির জনতা জুট মিলে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব শরীফ (১৫) পাশের দাদপুর ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল শরীফের ছেলে। সে মিলটির স্পিনিং বিভাগে হেলপার হিসেবে কাজ করত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজ শেষে শরীরে লেগে থাকা পাটের আঁশ পরিষ্কার করতে সজিব কম্প্রেসার মেশিনের হাওয়ার পাইপ ব্যবহার করছিল। এ সময় সহকর্মী রিহাত শেখ ও তার এক সহযোগী মিলে মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস সজিবের পায়ুপথে প্রবেশ করায়। এতে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।

সহকর্মীরা তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, অতিরিক্ত চাপের কারণে সজিবের অন্ত্র একাধিক স্থানে ছিদ্র হয়ে যায়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নিহতের ভাবি নুরজাহান বেগম বলেন, “আমার দেবর খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। কাজ করতে গিয়ে এমন নিষ্ঠুরতার শিকার হবে, তা কখনও ভাবিনি।”
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ১৭, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রিহাত শেখ আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মাগুরার শ্রীপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

ফরিদপুরের ডিসি অফিসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সুযোগ পাচ্ছে ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:২০ পিএম
ফরিদপুরের ডিসি অফিসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সুযোগ পাচ্ছে ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী

ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভূমি সংস্কার বোর্ডের নির্দেশনা এবং “আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫” অনুসরণ করে জেলার ৯টি উপজেলা ভূমি অফিসের জন্য নিরাপত্তা প্রহরী (নৈশ প্রহরী) পদে জনবল সরবরাহ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ক্যাটাগরি-৫ এর আওতায় মোট ৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস থাকতে হবে। তবে সরাসরি ব্যক্তিগত নিয়োগ নয়, বরং সরকার অনুমোদিত নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহ করা হবে।

আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেলা প্রশাসক, ফরিদপুর-এর অনুকূলে এক হাজার টাকার পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে আগামী ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে দরপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হবে না। জমাকৃত দরপত্র ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর ১টার মধ্যে সিলগালা খামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় জমা দিতে হবে। একই দিন দুপুর আড়াই টায় দরপত্র উপস্থিত দরদাতাদের সামনে খোলা হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সেবাকর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস চার্জ ন্যূনতম ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের ক্ষেত্রে আনসার সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, আয়কর সনদ এবং সরকারি প্রকল্পে কমপক্ষে তিন বছরের জনবল সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়ন বাধ্যতামূলক।

চুক্তির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োজিত কর্মীদের পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদনের পরই জনবল কাজে যোগ দিতে পারবে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং কর্তৃপক্ষ যেকোনো দরপত্র গ্রহণ বা বাতিলের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে।