খুঁজুন
রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

অগ্নিঝরা মার্চের সূচনায় ফরিদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
অগ্নিঝরা মার্চের সূচনায় ফরিদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম প্রহরকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ কার্যক্রমটি পরিচালনা করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের একজন নেতা।

রবিবার (০১ মার্চ) সকালে ফরিদপুর জেলা শহরে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরিফুল হাসান প্লাবন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালেই তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায় তাকে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন অনুসারীও ছিলেন। তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং ছবি তোলেন। পরে সেই দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগ বলে মন্তব্য করলেও, আবার কেউ কেউ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্চ মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। তবে আইনগত বা সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় এ ধরনের কার্যক্রম কতটা গ্রহণযোগ্য—তা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কোনো নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, অগ্নিঝরা মার্চ বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এ মাসের প্রতিটি দিনই জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবহ।

ইরান যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া: যে ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
ইরান যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া: যে ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি করা পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলএনজির দাম বাড়তে পারে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।

বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় সবসময় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার শিকার হয়।’

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যই হলো বাংলাদেশের প্রধান আমদানি উৎস। তাই এই যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের জন্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) ও রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

তিনি জানান, দ্বিতীয়ত, এশিয়া ও ইউরোপ এবং আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর প্রধান নৌপথ সুয়েজ খাল ইরানের খুব কাছাকাছি। সেখানে এই যুদ্ধের প্রভাব পড়লে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে।

তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার। সুতরাং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতি সেখানে নতুন শ্রমিক নিয়োগে অনাগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেল্টা এলপিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকরভাবে কাজ না করায় বাংলাদেশে এখন মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে তা তেলের দাম, এলপিজি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির সরবরাহের ওপর অবশ্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‘যুদ্ধ চলতে থাকলে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ব,’ বলেন তিনি।

হারুন-উর-রশিদ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এছাড়া ইতোমধ্যে হুতি হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, যদি রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘আমরা একটি রপ্তানিনির্ভর দেশ, তাই আমাদের অবশ্যই এই যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে, বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিকারকরা।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের সক্ষমতা কমবে, ফলে তারা পোশাকের মতো পণ্যে কম ব্যয় করবেন।
দ্বিতীয়ত, জ্বালালি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারে উৎপাদন খরচ বাড়বে, কারণ বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ।

তৃতীয়ত, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যদি বিকল্প নৌপথ বেছে নিতে হয়, তাহলে সামগ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে বাংলাদেশি পোশাক ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধ দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে, কিন্তু সেই যুদ্ধ এখন চার বছর ধরে চলমান।

তিনি বলেন, ‘তাই যদি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলে কুয়েত, ইরাক, ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রপ্তানি বাজারগুলো মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইরানের প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারে প্রায় ১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। যার বেশিরভাগত পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য।

সূত্র : ডেইলি স্টার

পুরুষেরা কেন নারীদের চেয়ে কম দিন বাঁচে?

অনিমেষ হালদার
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
পুরুষেরা কেন নারীদের চেয়ে কম দিন বাঁচে?

একটা ব্যাপার কি কখনো খেয়াল করেছেন? আমাদের আশপাশে তাকালে দেখবেন, বয়স্ক দাদুদের চেয়ে দিদিমারা বা নানিমারা যেন একটু বেশিই দিন বাঁচেন। পরিসংখ্যানও কিন্তু একই কথা বলে। সারা বিশ্বেই নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের চেয়ে বেশি। ইউএনএফপিএ-এর মতে বাংলাদেশে নারীদের গড় আয়ু ৭৭ বছর, পুরুষের ৭৪ বছর। কিন্তু কেন?

অনেকে বলবেন, পুরুষেরা বেশি রিস্ক নেয়, ধূমপান বেশি করে কিংবা বাইরের ধকল বেশি সামলায়। এ কারণে হয়তো তাদের আয়ু কম। তবে এসব কারণ ভুল নয়। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এর পেছনে লুকিয়ে থাকা এক ভয়ানক জেনেটিক বিশ্বাসঘাতকতার খোঁজ পেয়েছেন। আর সেই ভিলেন হলো ওয়াই (Y) ক্রোমোজোম!

আমরা জানি, মানুষের শরীরে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে এক জোড়া হলো সেক্স ক্রোমোজোম। নারীদের থাকে দুটো XX, আর পুরুষদের একটা X ও একটা Y ক্রমোজোম। এই Y ক্রোমোজোমটাই মূলত ঠিক করে দেয় শিশুটি ছেলে হবে, নাকি মেয়ে।

এতদিন বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, Y ক্রোমোজোমের কাজ শুধু একটাই—লিঙ্গ নির্ধারণ করা এবং শুক্রাণু তৈরিতে সাহায্য করা। এর বাইরে এর তেমন কোনো কাজ নেই। কারণ আকারে এটি খুবই ছোট এবং এতে জিনের সংখ্যাও খুব কম। অন্য ক্রোমোজোমে যেখানে হাজার হাজার জিন থাকে, Y ক্রমোজমে থাকে মাত্র পঞ্চাশটির মতো। তাই বিজ্ঞানীরা একে অপ্রয়োজনীয় ক্রোমোজোম ভাবতেন।

কিন্তু সম্প্রতি সেই ধারণা পাল্টে গেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শরীর থেকে এই Y ক্রোমোজোম গায়েব হতে শুরু করে! একে বলা হয় মোজাইক লস অব ওয়াই বা mLOY। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ বছর বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ পুরুষের রক্তকোষ থেকে Y ক্রোমোজোম হারিয়ে গেছে। আর বয়স যখন ৯০ এর ঘরে পৌঁছায়, তখন ৫৭ শতাংশ পুরুষের শরীরেই এই ক্রোমোজোমের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষ করে যারা ধূমপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই গায়েব হওয়ার হার অনেক বেশি।

Y ক্রোমোজোম হারিয়ে গেলে কী ক্ষতি

আগে ভাবা হতো, Y ক্রোমোজোম শুধু ছেলে সন্তান বানানোর কাজ করে, তাই বুড়ো বয়সে এটা হারিয়ে গেলে আর কীই-বা ক্ষতি হবে? কিন্তু গত কয়েক বছরের গবেষণায় বিজ্ঞানীরা শিউরে ওঠার মতো তথ্য পেয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব ইউনিভার্সিটির জেনেটিক্স বিশেষজ্ঞ জেনি গ্রেভস এবং তাঁর দল বলছেন, রক্তকোষ থেকে Y ক্রোমোজোম হারিয়ে যাওয়া মানেই শরীরের সর্বনাশ ডেকে আনা। এর ফলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে মারাত্মক সব রোগ। যেমন ক্যানসারহতে পারে।ওয়াই ক্রোমোজোমবিহীন কোষগুলো ল্যাবরেটরিতে সাধারণ কোষের চেয়ে দ্রুত বাড়ে।

শরীরের ভেতরেও এরা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে টিউমার বা ক্যানসার তৈরি করতে পারে। জার্মানির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বয়স্ক পুরুষের Y ক্রোমোজোম বেশি হারে হারিয়েছে, তাদের হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে মারা যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। আলঝেইমার রোগীদের মস্তিষ্কে ওয়াই ক্রোমোজোম হারানো কোষের সংখ্যা সাধারণ মানুষের চেয়ে ১০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। আবার করোনায় নারীদের চেয়ে পুরুষদের মৃত্যুর হার বেশি ছিল। এর পেছনেও এই ওয়াই ক্রোমোজোম হারানোর হাত থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা ও প্রমাণ

এখন প্রশ্ন হলো, Y ক্রোমোজোম হারিয়ে যাওয়ার কারণেই কি অসুখ হচ্ছে, নাকি অসুখ হওয়ার কারণে ক্রোমোজোম হারিয়ে যাচ্ছে?

এই ধাঁধার সমাধানে বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর একটি পরীক্ষা চালান। তাঁরা কিছু ইঁদুরের শরীরে এমন রক্তকোষ ঢুকিয়ে দেন, যেগুলোতে ওয়াই ক্রোমোজোম নেই। ফলাফল ছিল চমকে দেওয়ার মতো! দেখা গেল, ওই ইঁদুরগুলোর হৃৎপিণ্ড দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং নানা ধরনের বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, Y ক্রোমোজোম হারানোই সরাসরি অসুস্থতার কারণ।

অর্থাৎ, যে Y ক্রোমোজোমকে বিজ্ঞানীরা দুর্বল ভাবতেন, সেটি আসলে শরীরের এক বিশাল বডিগার্ড। যদিও এতে খুব কম জিন থাকে, কিন্তু এই জিনগুলোই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

ওয়াই ক্রোমোজোমে কিছু জিন আছে, যেগুলো ক্যানসার দমনকারী হিসেবে কাজ করে। যখনই এই ক্রোমোজোমটি কোষ থেকে হারিয়ে যায়, তখন শরীরের পাহারাদার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ফলে ক্যানসার কোষ বা হৃদরোগ সহজেই শরীরে জাঁকিয়ে বসে।

নারীদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে। তাই কোনো কারণে একটিতে সমস্যা হলেও ব্যাকআপ হিসেবে আরেকটি থাকে। কিন্তু পুরুষদের ওয়াই ক্রোমোজোম একটাই। তাই এটি হারিয়ে গেলে ব্যাকআপ দেওয়ার কেউ থাকে না।

বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক বছর আগে মানুষের ওয়াই ক্রোমোজোমের ডিএনএ পুরোপুরি ম্যাপ করতে পেরেছেন। এখন তাঁরা বোঝার চেষ্টা করছেন, ঠিক কোন জিনের অভাবে হার্ট ফেইলিওর বা ক্যানসার হচ্ছে। এটা যদি বের করা যায়, তবে ভবিষ্যতে হয়তো পুরুষদের আয়ু বাড়ানোর কোনো ওষুধ আবিষ্কার হবে।

কিন্তু ততদিন পর্যন্ত কী করবেন? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমপান ছাড়ুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন। কারণ পরিবেশ দূষণ ও ধূমপান এই ক্রোমোজোম হারানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়, শশিকর, মাদারীপুর

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

সালথায় পাটবীজ উৎপাদনে সাফল্যের নতুন দিগন্ত, কৃষকের মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৯ পিএম
সালথায় পাটবীজ উৎপাদনে সাফল্যের নতুন দিগন্ত, কৃষকের মুখে হাসি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পাটবীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পরিকল্পিত চাষাবাদ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকির ফলে চলতি অর্থবছরে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে এবং পাটচাষে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ একর জমিতে নাবী পাটের আবাদ করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল মানসম্মত দেশীয় পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা। মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ নির্বাচন, সঠিক সময়ে বপন, সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন পাওয়া গেছে।

এ বছর প্রায় ২ হাজার কেজি উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদন হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাইরের বাজারেও সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগে তারা মূলত পাটের আঁশ উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিতেন। তবে এবার সরকারি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পাটবীজ উৎপাদনে এগিয়ে এসেছেন। এতে তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভ হচ্ছে।

সামজুদ্দিন মাতুব্বর নামে এক কৃষক বলেন, “আগে শুধু আঁশের জন্য পাট চাষ করতাম, কিন্তু এবার বীজ উৎপাদন করে ভালো দাম পাচ্ছি। এতে লাভের পরিমাণও বেশি।”

রহিম মোল্যা নামের আরেক কৃষক জানান, পাটবীজ উৎপাদনে ঝুঁকি কম এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় আগামী বছর আরও বেশি জমিতে বীজ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছেন তারা। এতে কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, “সালথার মাটি ও জলবায়ু পাটবীজ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ বছর আমরা পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেছি এবং আশানুরূপ সফলতা পেয়েছি। কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, মানসম্মত দেশীয় পাটবীজ উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ে পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকেরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি দেশীয় পাটবীজের ঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, “পাট আমাদের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল। সালথায় পাটবীজ উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য টেকসই আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে পাটবীজ উৎপাদন বাড়ানো গেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম পাটবীজ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে কৃষির উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।