খুঁজুন
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ওজন কমাতে রাতে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ওজন কমাতে রাতে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন?

আধুনিক জীবনে ওজন নিয়ন্ত্রণ নিঃসন্দেহে বেশ বড় এক চ্যালেঞ্জ। তবে জীবনধারায় সাদামাটা কিছু পরিবর্তন আনলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হয়। শরীরে দ্রুত মেদ জমে। কিন্তু তা ঝরাতে গেলেই রাতের ঘুম উড়ে যায়।

ডায়েট ও শরীরচর্চা ছাড়া ওজন কমানো সহজ নয়। তবে ওজন কমাতে গিয়ে চর্বির বদলে মাংসপেশি ঝরে গেলেও মুশকিল।

তাই রাতে ঘুমোনোর সময়েও যাতে মেদ গলে, সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ঘুমোলেও বিপাক ক্রিয়া চলতে থাকে।

তাই ডিনারে এমন কিছু খাবার খেতে হবে, যা আপনার সারাদিনের পরিশ্রমকে নষ্ট করবে না। উল্টো ওজন কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি মাঝরাতে হঠাৎ খিদে পাওয়ার প্রবণতাও বন্ধ হবে। জেনে নিন রাতে কী কী খাবার খাবার খেলে ওজন কমবে-

ডিম

দিনের যে কোনো সময়ে ২-৩টি ডিম অনায়াসে খাওয়া যায়।

তবে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ১-২ ঘণ্টা আগে ১টা ডিম সিদ্ধ খেতে পারেন। প্রোটিনে ভরপুর এই খাবার পেশির ক্ষয় পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। তা ছাড়া রাতে ডিম খেলেও হজমে কোনো সমস্যা হয় না।

মরিচ

রাতে ঝাল-ঝাল খাবার রাখতে পারেন। কাঁচা মরিচ বা মরিচ গুঁড়া দিয়ে রান্না করা খাবার খেতে পারেন।

মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন থার্মোজেনেসিস প্রক্রিয়াকে বুস্ট করে। অর্থাৎ শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে চর্বি গলাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বিপাক হার উন্নত করে। তাই ডিনারে ঝাল খাবার খেলে ঘুমোনোর সময়ে ওজন কমবে। এ ছাড়া কুসুম গরম পানিতে এক চিমটে মরিচ গুঁড়া মিশিয়েও খেতে পারেন।

আপেল সিডার ভিনেগার

ওজন কমাতে সাহায্য করে অ্যাপেল সিডার ভিনেগারও। স্বাদে ভালো না হলেও মেটাবলিজম বাড়াতে এই ভিনেগারের জুড়ি মেলা ভার। এক গ্লাস পানিতে এক চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করুন। এতে ক্যালোরি গলে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এই পানীয়তে চুমুক দিন।

ড্যান্ডেলিয়ন ও ক্যামোমাইলের পানীয়

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে চুমুক দিতে পারেন ভেষজ পানীয়তে। ড্যান্ডেলিয়ন বা ক্যামোমাইলের পানীয় খেতে পারেন। এই ধরনের পানীয়তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এই ধরনের পানীয় রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ৩০ মিনিট আগে পান করতে পারেন।

ফরিদপুরে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য লাঠি খেলা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য লাঠি খেলা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে ঘিরে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চরভদ্রাসন সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের পাকড় গাছের নিচে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামীণ বাংলার প্রাচীন ক্রীড়া ঐতিহ্যের এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে।

লাঠি খেলায় অংশ নেয় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ধোপাডাঙ্গা-চাদপুর এলাকার অভিজ্ঞ লাঠিয়াল দল। তারা দলবদ্ধ ও এককভাবে নানা কৌশলী ও শৈল্পিক লাঠি খেলার প্রদর্শনী উপস্থাপন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। ঢোলের তালে তালে লাঠিয়ালদের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন, চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। লাঠি খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত এই খেলা এখন লোকজ সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীরা এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যগুলো টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যাতে গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে নতুন গতি সঞ্চার করা যায়।

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ফরিদপুরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত আয়োজন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠানটির ড্রিলশেড প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।

দিনের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির প্রতীক নানা রঙের মুখোশ, পাখি, গ্রামীণ জীবনচিত্র ও লোকজ উপকরণে সাজানো শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসজুড়ে ঘুরে এক অনন্য আবহ তৈরি করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের রঙিন পোশাক, আলপনা আঁকা প্রাঙ্গণ এবং বৈশাখী সাজ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে নৃত্য, গান, আবৃত্তি এবং নাটিকার মাধ্যমে বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তচিন্তার চেতনাকে তুলে ধরেন। বিশেষ করে বৈশাখী গান ও লোকজ পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি আনন্দের সঞ্চার করে। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও অংশগ্রহণের এক অনন্য সমন্বয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ুম শেখ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম। এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। নতুন বছরের সূচনায় সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানবিকতা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। তারা আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবমিলিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন ছিল আনন্দ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক মিলনমেলা, যা অংশগ্রহণকারীদের মনে নববর্ষের নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।

পহেলা বৈশাখে সাজ: গরমেও থাকুন সতেজ ও আকর্ষণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
পহেলা বৈশাখে সাজ: গরমেও থাকুন সতেজ ও আকর্ষণীয়

সারা বছরের অপেক্ষার পর সেই কাঙ্ক্ষিত সকালে বাইরে যাওয়ার আগে মেকআপ করতে তাড়াহুড়ো না করে একটু সময় নিয়ে তৈরি হোন। প্রথমে এক টুকরো বরফ মুখে ঘষে নিন।

এতে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকবে এবং গরমে ত্বকও স্বস্তি পাবে।
ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন মুখে, চোখের ওপর-নিচে ও গলায় লাগিয়ে একটি ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন।

মেকআপের পরও যদি চোখের নিচে কালি, মুখে দাগ বা ভাঁজ দেখা যায়, তাহলে কনসিলার ব্যবহার করুন। এরপর কমপ্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে নিন।

চোখের ওপর পুরো পাতাজুড়ে বেস আইশ্যাডো লাগান। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বা দুই শেড মিলিয়ে আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।

ভ্রূর ঠিক নিচে হাইলাইটার লাগান। কাজল চোখের ভেতরে লাগিয়ে ওপরে ও নিচে আইলাইনার দিন। যারা আইলাইনার ব্যবহার করতে চান না, তারা গাঢ় করে কাজল লাগাতে পারেন। সবশেষে দুই কোট মাসকারা ব্যবহার করুন।
নাক একটু মোটা বা বড় হলে দুই পাশে ডার্ক শেডের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করে শার্প লুক দিতে পারেন। নাকের ওপরের অংশে লাইট শেডের ফাউন্ডেশন ও কমপ্যাক্ট লাগান।

গোলাপি বা বাদামি শেডের ব্লাশন ব্রাশে নিয়ে গালের আপেল পয়েন্টে লাগান।

লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে হালকা পাউডার লাগিয়ে নিন। এরপর লিপ পেন্সিল দিয়ে আউটলাইন এঁকে লিপ ব্রাশ দিয়ে লিপস্টিক লাগান।

পহেলা বৈশাখে গরম বেশি থাকে, তাই চুল খোলা না রেখে হালকা ভলিউম দিয়ে সেট করে নিতে পারেন। পেছনে চুল আটকানোর জায়গায় পছন্দের ফুল ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে খোঁপাও করতে পারেন।

বৈশাখের সাজে হাতভর্তি রেশমি চুড়ি, পোশাকের সঙ্গে মানানসই কানের দুল এবং কপালে টিপ বা আলপনা সাজকে পূর্ণতা দেয়।

পহেলা বৈশাখে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ ব্যবহার করা ভালো। সঙ্গে ওয়েট টিস্যু ও কিছুটা লুজ পাউডার রাখুন। ত্বক ঘেমে গেলে মুছে নিয়ে আবার পাউডার দিয়ে মেকআপ সেট করে নিতে পারবেন।