খুঁজুন
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩২

জাতীয় পাট দিবসে ফরিদপুরে র‍্যালি, পাটের বাজার সম্প্রসারণের দাবি

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ১:১৭ পিএম
জাতীয় পাট দিবসে ফরিদপুরে র‍্যালি, পাটের বাজার সম্প্রসারণের দাবি

“সোনালি আঁশের গৌরব, পাটের পণ্য ব্যবহার হোক সর্বত্র”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তর, ফরিদপুরের যৌথ আয়োজনে শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এ উপলক্ষে প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাটচাষী, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম। এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফরিদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মজিবুর রহমান, পাটচাষী প্রতিনিধি মো. মোক্তার মোল্লা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, একসময় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাট ছিল বাংলাদেশের প্রধান অবলম্বন। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। তাই পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পাটের ব্যাগ ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, পাটচাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে তাদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পাটের বাজারে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এছাড়া পলিথিনের ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করা এবং পরিবেশ রক্ষায় পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি এবং পাট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পাট দিবসের এ আয়োজনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব সোনালি আঁশের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।

বসন্তে বাড়ে নানা রোগ, সুস্থ থাকতে খান যেসব মৌসুমি খাবার?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ এএম
বসন্তে বাড়ে নানা রোগ, সুস্থ থাকতে খান যেসব মৌসুমি খাবার?

ঋতু পরিবর্তনের সময়, বিশেষ করে বসন্তকালে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখের প্রকোপ বাড়ে। তবে প্রকৃতিতে যেমন রোগ আছে, তেমনি রয়েছে তার সমাধানও। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে ঋতুর যে রোগ, সেই ঋতুর শাক-সবজি ও ফলেই লুকিয়ে থাকে তার প্রতিকার। তাই বাজারি খাবারের বদলে মৌসুমি খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে।

ছেলেবেলায় অনেকের সকাল শুরু হতো নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ খেয়ে। খালি পেটে ৪-৫টি নিমপাতা চিবিয়ে খাওয়ার পর মুখের তেতো কাটাতে খাওয়া হতো কাঁচা হলুদ, গোলমরিচ ও আখের গুড়। এসব উপাদান জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে হাঁচি-কাশি, জ্বর ও পেটের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

নিমপাতায় থাকা নিম্বিন ও নিম্বোলাইডসহ প্রায় ১৩০টি উপাদান, হলুদের কারকিউমিন এবং গোলমরিচের পিপারিন শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জোগায়।

কাঁচা নিমপাতা খেতে না পারলে ভাতের সঙ্গে নিম-বেগুনের তরকারি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে একদিকে জীবাণুনাশক গুণ পাওয়া যায়, অন্যদিকে বেগুনের পুষ্টিগুণও শরীরকে সমৃদ্ধ করে। এতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়।

কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবার থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক।

এ সময় সজনে ডাঁটা ও ফুল খাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে শরীর প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পায়। এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হাঁপানির প্রকোপ কমাতেও সজনে উপকারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তকালে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাক, মেথি শাক, মুলা শাক, ধনেপাতা, পেঁয়াজকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, মটরশুঁটি, বিট, গাজর, ব্রোকোলি, ক্যাপসিকাম, টমেটো, নতুন আলু, শিম, বিনস, কুমড়ো ও পটল, এসব সবজি বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে। সেদ্ধ, তরকারি, স্যুপ বা সালাদ হিসেবে এসব খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও ফাইটোকেমিক্যাল পায়। এতে ঋতু পরিবর্তনের সময় অসুখ-বিসুখের ঝুঁকি কমে।

ভাতের সঙ্গে লেবু খাওয়াও উপকারী। ডাল, সালাদ বা ধনেপাতার চাটনির সঙ্গে লেবু খেলে শরীর কিছুটা ভিটামিন সি পায়।

রাতে নয়, দিনে ফল

ফল দিনে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকায় রাতে ফল খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। দিনের বেলায় ফল খেলে শরীরের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সেই চিনি খরচ হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময় সুস্থ থাকতে বেশি দাম দিয়ে অসময়ের ফল-সবজি না কিনে মরসুমি শাক-সবজি ও ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

আপনার ওপর কত জাকাত ফরজ? হিসাব করবেন যেভাবে

আবু সাঈদ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫২ এএম
আপনার ওপর কত জাকাত ফরজ? হিসাব করবেন যেভাবে

সামর্থবান প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জাকাত দেওয়া ফরজ। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক এমন ব্যক্তি সামর্থ্যবান, যার কাছে সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের নির্দিষ্ট সম্পদ রয়েছে। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৯) সুতরাং যার কাছে এই পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার উপর জাকাত ফরজ। নির্দিষ্ট সময় তাকে জাকাত আদায় করতে হবে।

সব সম্পদে জাকাত আসে না। কেবলমাত্র পাঁচ ধরনের সম্পদে জাকাত আদায় করতে হয়। তা হলো স্বর্ণ, রুপা, নগদ ক্যাশ, ব্যবসায়ী পণ্য এবং গবাদি পশু (যদি গবাদি পশুর জন্য বছরের অধিকাংশ সময় খাবারের ব্যবস্থা করা না লাগে এবং মাঠের ঘাসেই তার পেট চলে, তাহলে জাকাত আসবে। অন্যথায় আসবে না।) এই পাঁচ জিনিসের মধ্য থেকে যেসব জিনিস আছে, তার মোট মূল্য যদি সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপার মূল্য পরিমাণ হয়, তাহলে জাকাত দিতে হবে। এগুলোর বাইরে অন্যান্য সম্পদে -হোক তা হীরা, জাওহার বা এজাতীয় কোনো মূল্যবান জিনিস- জাকাত আসবে না। (ফিকহি মাকালাত : ৩/১৪৮; আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৬১; বাদায়েউস সানায়ে : ২/৯১; রদ্দুল মুহতার : ২/২৬৩)

ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যক্তি যেদিন সামর্থ্যবান হয়, সেদিনটি তার বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হয়। কারণ, এমন সামর্থ্যবান অবস্থায় থেকে এক চান্দ্র বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ঠিক ওই দিনটিতেই জাকাত ফরজ হয়। ওই দিনের জাকাতযোগ্য সম্পদ অনুযায়ীই জাকাত আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। যেমন কেউ মুহাররমের ৫ তারিখে সামর্থ্যবান হলো, এরপর আগামী বছর মুহাররমের ৫ তারিখেও যদি তার কাছে নেসাব পরিমাণ জাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে, তাহলে নতুন বছরের ৫ মুহাররম তার ওপর জাকাত ফরজ হবে এবং সেদিন যে পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার আলোকে জাকাত আদায়ের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। (ফিকহি মাকালাত : ৩/১৬৩-১৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৭৫; আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৫৬; রদ্দুল মুহতার : ২/২৯৪)।

যে দিন জাকাত ফরজ হবে (যেমন উপরোক্ত উদাহরণে নতুন বছরের ৫ মুহাররম), ওই দিন ব্যক্তির কাছে থাকা জাকাতযোগ্য সম্পদের একটি তালিকা করতে হবে। এরপর এসব সম্পদের সর্বমোট মূল্য হিসাব করে বের করতে হবে। অতঃপর জাকাতযোগ্য সম্পদের মূল্য থেকে ঋণের টাকা -যদি থেকে থাকে- বাদ দিতে হবে। তারপর যে টাকাটা অবশিষ্ট থাকে, তার আড়াই শতাংশ হিসাব করে জাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

বিষয়টি আরেকটু বিস্তারিত বলা যাক। জাকাতের হিসাব বের করতে আমাদের চার ধাপে কাজ করতে হবে। প্রথম কাজ হলো, জাকাতযোগ্য সম্পদের একটি তালিকা তৈরি করা। আমরা প্রথমেই বলেছি, জাকাতযোগ্য সম্পদ পাঁচটি- স্বর্ণ, রুপা, নগদ ক্যাশ, ব্যবসায়ী পণ্য এবং গবাদি পশু। এর মধ্যে স্বর্ণ-রুপার স্থিতি সহজেই নিরুপণ করা যায়। গবাদি পশুরু বিষয়টিও স্পষ্ট। কিন্তু নগদ ক্যাশ ও ব্যবসায়ী পণ্য বিভিন্ন পন্থায় সংরক্ষিত থাকে। সেজন্য অনেক ক্ষেত্রে তা নির্ধারণে বিভ্রম ঘটতে পারে। হিসাবের সুবিধার্তে আমরা একটি তালিকা নমুনা হিসেবে পেশ করছি-

যেমন থাকতে পারে স্বর্ণ, রুপা, নগদ অর্থ, প্রাপ্য ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রা, ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ, ফেরতযোগ্য বীমা পলিসিতে জমাকৃত অর্থ, শেয়ার, বন্ডের ক্রয়মূল্য, ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের মূল টাকা, বিক্রিত পণ্যের বাকি মূল্য, বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত বস্তু, ব্যবসার কাঁচামাল এবং অংশীদারিত্ব ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত মূল পূঁজি ইত্যাদি।

এভাবে বিভিন্ন রূপে নগদ ক্যাশ এবং ব্যবসায়ী পণ্য থাকতে পারে। এসবের হিসাব বের করতে হবে। এটি জাকাত হিসাবের ক্ষেত্রে প্রথম কাজ।

দ্বিতীয় কাজ হলো, এসব সম্পদের মূল্য বের করতে হবে। মূল্য বের করার ক্ষেত্রে উত্তম হলো, এসব পণ্যের বাজারদর হিসাব করা। অর্থাৎ আপনি যদি এখন বাজার থেকে পণ্যটি ক্রয় করেন, কত টাকা দিয়ে কিনতে হবে, ওই পরিমাণ টাকা মূল্য ধরতে হবে। এভাবে প্রত্যেকটি পণ্যের বাজারদর খোঁজ করে মূল্য হিসাব করা। তারপর সবগুলো মূল্য যোগ করে দেখতে হবে আপনার কাছে কত টাকা আছে।

অবশ্য পণ্যটির বিক্রয় মূল্যের আলোকেও হিসাব করা যায়। অর্থাৎ আপনি পণ্যটি এখন বিক্রি করতে গেলে বাজারে কত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন, সেটাকে মূল্য হিসেবে হিসাব করা। তবে ক্রয়মূল্য ধরা হলে যেহেতু দরিদ্রদের উপকার বেশি হয়, সেজন্য ক্রয়মূল্য ধরাটাই উত্তম। (ফাতাওয়া উসমানী : ২/৬৬)।

তৃতীয় কাজ হলো আপনার যদি কোনো ঋণ থেকে থাকে, ওই ঋণের টাকা জাকাতযোগ্য সম্পদের সর্বমোট মূল্য থেকে বাদ দিতে হবে। তবে এই ঋণের মধ্যে ব্যবসার ঋণ উদ্দেশ্য নয়। ঋণের একটি সম্ভাব্য তালিকা এমন হতে পারে-

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নেওয়া ঋণ; বাকিতে ক্রয়কৃত পণ্যের অপরিশোধিত ঋণ, যা জাকাতবর্ষের মধ্যেই আদায় করতে হবে; স্ত্রীর মোহর, যা চলতি বছরই দেওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা রয়েছে; ফ্ল্যাট, দোকান, বাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সিকিউরিটি হিসেবে নেওয়া অর্থ। ভাড়াটিয়া এর জাকাত আদায় করবে। তবে বাড়ি বা দোকানের মালিক যদি এর জাকাত আদায় করে ফেলে, তাহলে ওই টাকা হস্তগত হওয়ার আগে ভাড়াটিয়াকে এর জাকাত দিতে হবে না। যেন একই সম্পদে দুবার জাকাত না দিতে হয়। আর বাড়ি বা দোকানের মালিক প্রতি বছর এর জাকাত আদায় করে থাকলে, যে বছর সে উক্ত টাকা ফেরত দেবে, কেবল সেই বছর তা বাদ দিয়ে জাকাত হিসাব করবে; কর্মচারীদের অনাদায়ী বেতন-ভাতা; অনাদায়ী বাড়ি বা দোকান ভাড়া; ট্যাক্স ও বিদ্যুৎ ইত্যাদির বিল, যা আগে শোধ করা হয়নি এবং জাকাতবর্ষের মধ্যেই শোধ করতে হবে; অতীতের জাকাত যা এখনও আদায় করা হয়নি; ব্যবসার উদ্দেশ্যে নেওয়া ঋণ, যা দিয়ে জাকাতযোগ্য সম্পদ ক্রয় করা হয়েছে। যেমন, পণ্য বা কাঁচা মাল ইত্যাদি।

এগুলো হলো ঋণের সম্ভাব্য তালিকা। তৃতীয় কাজ হলো এসব ঋণ খুঁজে বের করা। তারপর তার মূল্য যোগ করে যত টাকা হয়, তা জাকাতের নেসাব থেকে বাদ দেওয়া। (আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৭২; রদ্দুল মুখতার : ২/২৬০)।

চতুর্থ কাজ হলো, জাকাতের নেসাবে অবশিষ্ট যে টাকা আছে, তার থেকে আড়াই শতাংশ টাকা জাকাত হিসেবে আদায় করা।

এভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাব করে জাকাত আদায় করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে উত্তম হলো, কোনো শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ আলেমের মাধ্যমে জাকাতের হিসাব সম্পন্ন করা। নিজে নিজে জাকাতের হিসাব করা সমুচিত নয়। কারণ, হতে পারে আপনার সম্পদের এমন কোনো দিক আছে, যেটাকে আপনি জাকাতযোগ্য মনে করছেন না। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে তাতেও জাকাত আসে। বর্তমানে নগদ ক্যাশ ও ব্যবসায়ী পণ্য নানা উপায়ে গচ্ছিত থাকে। তাই এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেজন্য শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ কোনো আলেমের মাধ্যমে জাকাতের হিসাব করিয়ে নেওয়াটা নিরাপদ।

মনে রাখতে হবে, জাকাত রমজানের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ইবাদত নয়। বরং যেদিন ব্যক্তি সামর্থ্যবান হবে, তার ঠিক এক বছর পরে একই দিন তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। ঠিক এক বছর পরেই জাকাতযোগ্য সম্পদের পরিমাণ বের করে জাকাত আদায়ের পরিমাণ নির্ধারণ করে নিতে হবে। এরপর ইচ্ছে হলে একসঙ্গে জাকাতের হকদারদের মাঝে ওই টাকা বিতরণ করে দিতে পারে। আবার অল্প অল্প করে বিভিন্ন সময় তা আদায় করা যেতে পারে।

কারো যদি রজমানে জাকাত আদায় করার ইচ্ছে থাকে, তাহলে তার উচিৎ হলো যেদিন জাকাত ফরজ হবে, সেদিন জাকাতের হিসাব করে টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা। এরপর রমজানের সময় ওই টাকা জাকাতের হকদারদের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া। তবে উত্তম হবে- যেদিন জাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হলো, সেদিন থেকে অল্প অল্প করে জাকাত দিতে শুরু করা। এরপর যখন রমজান মাস আসে, তখন বাকিটুকু হকদারদের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া।

 

ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে কী শাস্তি ও বিধান রয়েছে

তোয়াহা হুসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৩ এএম
ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে কী শাস্তি ও বিধান রয়েছে

রমজান মাসে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন ও মুকিম তথা নিজ বাড়িতে অবস্থানকারী প্রত্যেক মুসলমানের ওপর রোজা রাখা ফরজ। রোজার বিধান সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)।

অন্য এক আয়াতে এসেছে, ‘অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা সফরে থাকলে এ সংখ্যা অন্য সময়ে পূরণ করবে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)

এ মাসে রোজা রাখলে যেমন অধিক সওয়াব লাভের সুযোগ রয়েছে, তদ্রূপ রোজা না রাখলেও রয়েছে ভয়াবহ শাস্তির আশঙ্কা। রমজান মাসে রোজা পরিত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। রমজান মাসে রোজার প্রতিদান বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই দশগুণ থেকে সাতশগুণ বৃদ্ধি করা হয়। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, কিন্তু রোজা ছাড়া। কেননা তা আমার জন্য, তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সে আমার সন্তুষ্টির জন্য কামাচার ও পানাহার পরিত্যাগ করে। রোজা পালনকারীর জন্য রয়েছে দুটি খুশি, যা তাকে খুশি করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশি হয় এবং যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তখন রোজার বিনিময়ে আনন্দিত হবে। রোজা পালনকারীর মুখের (না খাওয়াজনিত) ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিসকের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম।’ (বুখারি: ১৯০৪)। তিনি আরও বলেছেন যে, প্রত্যেক আমলেরই কাফফারা আছে। রোজা আমার জন্য, তাই আমি এর প্রতিদান দেব।’ (বুখারি: ৭৫৩৮)।

রোজার বিনিময়ে রয়েছে জান্নাত। রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজান ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত।’ (ইবন খুজাইমা: ১৮৮৭)। আরেক হাদিসে এসেছে, রোজা ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ভেঙে না ফেলে।’ (নাসাঈ: ২২৩৫, মুসনাদে আহমাদ: ১৬৯০)। এখানেই শেষ নয়, রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, রোজা পালনকারীর মুখের (না খাওয়াজনিত) ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিসকের ঘ্রাণের চেয়েও উত্তম।’ (বুখারি: ১৯০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৫১)। তিরমিজি শরিফে বর্ণনা করা হয়েছে, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (তন্মধ্যে একজন হলো) রোজা পালনকারী ব্যক্তি, যতক্ষণ না ইফতার করে।’ (তিরমিজি: ৩৪৯৮)।

এ তো গেল অধিক ফজিলতের বর্ণনা। রমজান মাসে রোজা না রাখার ভয়াবহ শাস্তির ব্যাপারে হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) বলেছেন, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এ সময় দুজন ব্যক্তি এসে আমার দুই বাহু ধরে আমাকে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে যায়। অতঃপর আমাকে এমন কিছু লোকের কাছে নিয়ে যায়, যাদের পায়ের টাখনুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের গাল ছিন্নভিন্ন, তা হতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘এরা কারা?’ তারা বললেন, ‘এরা এমন রোজাদার, যারা (অকারণে রমজান মাসের) রোজা শেষ না করেই ইফতার করত।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১৫০৯)। অন্য হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি প্রয়োজন ও রোগ ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভেঙে ফেলল, তার সারা জীবনের রোজা দ্বারাও এ কাজা আদায় হবে না, যদিও সে সারা জীবন রোজা পালন করে।’ (তিরমিজি: ৭২৩)।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে রোজা রাখার তওফিক দান করুন।

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক