ফরিদপুরে প্রশাসনের অভিযানের পরও দমেনি বালু সিন্ডিকেট, প্রকাশ্যে চলছে ড্রেজার
ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে প্রশাসনের অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার মাত্র তিন দিনের মাথায় আবারও অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রকাশ্যে তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে বালু কেটে অন্যত্র ভরাটের কাজ চলছে, অথচ প্রশাসনের নির্দেশ কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চরনসিপুর এলাকার ওমেদ আলী বিশ্বাসের পাড়া (জমিদার ওমেদ আলী বিশ্বাস বাড়ির পেছনের তিন ফসলি জমি) থেকে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুরের হাজী ইসমাইল মুন্সির পাড়া, পাঞ্জু শেখের বাড়ির পাশের পাকা সড়ক কেটে পাইপলাইন স্থাপন করে মৌজদ্দীন মোল্লার পাড়ায় জুয়েলের দোকানের পাশের তিন ফসলি জমি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালী শ্রমিক লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত জিপ্পু বিশ্বাসের নেতৃত্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার সহযোগী হিসেবে সোহেল শেখ নামে এক ড্রেজার ব্যবসায়ীর নামও উল্লেখ করেছেন তারা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে পাকা সড়কের ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ বহন করা হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
এর আগে গত শনিবার (৪ জুলাই) ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধ ড্রেজারের বালু পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি পাইপ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানের মাত্র তিন দিনের মাথায় ভাঙা পাইপ মেরামত করে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই আবারও পুরোদমে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও স্থানীয় সড়ক অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ ড্রেজার স্থায়ীভাবে অপসারণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আবারও অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন
Array