খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী—যেভাবে শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক উত্থান?

হারুন-অর-রশীদ ও মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী—যেভাবে শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক উত্থান?

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে অবশেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম।

নতুন সরকারের ২৪ সদস্যের প্রতিমন্ত্রী তালিকায় তার নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির ঘটনা নয়; বরং তৃণমূল রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শপথ গ্রহণের এই মুহূর্তে শামা ওবায়েদ শুধু একজন সংসদ সদস্য বা দলের সাংগঠনিক নেতা নন, বরং দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত একজন নীতিনির্ধারক। ফলে তার ওপর প্রত্যাশা যেমন বেড়েছে, তেমনি দায়িত্বও হয়েছে বহুগুণ বেশি।

উত্তরাধিকার থেকে নেতৃত্বে উত্তরণ:

শামা ওবায়েদ ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয় শুরু হয় পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও প্রভাবশালী রাজনীতিক কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কে এম ওবায়দুর রহমান ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বগুণ এখনো দলীয় নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করে।

তবে শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক পথচলা কেবল উত্তরাধিকার নির্ভর নয়। বাবার মৃত্যুর পর তিনি যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, তা তাকে নতুনভাবে রাজনীতির ময়দানে দাঁড়াতে বাধ্য করে। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম অংশগ্রহণ করে পরাজিত হলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং পরাজয়কে শক্তিতে পরিণত করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন।

তৃণমূল রাজনীতির শক্ত ভিত:

রাজনীতিতে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে শামা ওবায়েদ বেছে নেন তৃণমূলকেন্দ্রিক কৌশল। ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পুনর্গঠন, কর্মীসংগ্রহ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখেন। বিশেষ করে নারী ও তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ দলীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, তিনি মাঠে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন, কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতেন। ফলে ধীরে ধীরে তিনি একজন ‘মাঠমুখী নেতা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তার সক্রিয় ভূমিকা দলের উচ্চপর্যায়ের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিপুল ভোটে জয়, জনসমর্থনের প্রতিফলন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন। এই জয় শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিশ্রম ও জনসংযোগের প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, শামা ওবায়েদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সংকটে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ফলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হতে সক্ষম হন।

তার বিজয়ের পর থেকেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শপথ গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

মন্ত্রিসভায় নারী নেতৃত্বের প্রতীক:

নতুন মন্ত্রিসভায় তিনজন নারী প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে একজন শামা ওবায়েদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের নারী নেতৃত্বের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলে নারী নেতৃত্বের বিকাশে তার অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

সালথা উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “শামা শুধু ওবায়দুর রহমানের কন্যা নন, তিনি নিজেই একজন দক্ষ সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তার এই পদোন্নতি প্রাপ্য।”

শিক্ষিত ও আধুনিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি:

শামা ওবায়েদ ইসলামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা। ১৯৭৩ সালের ১৪ মে ফরিদপুরের নগরকান্দায় লস্করদিয়ায় জন্মগ্রহণ করা শামা ওবায়েদ ঢাকার ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে প্রায় ছয় বছর করপোরেট খাতে কাজ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা তাকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে রাখবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক ভারসাম্য:

রাজনৈতিক ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও শামা ওবায়েদ একজন সফল নারী। তার স্বামী সোভন ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। তিনি দুই সন্তানের জননী। পারিবারিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার সক্ষমতা তাকে আরও দৃঢ় নেতৃত্বে পরিণত করেছে।

তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনেও তিনি পরিবারকে সময় দেন এবং সন্তানদের শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন তার ব্যক্তিত্বকে আরও পরিপূর্ণ করেছে।

অঙ্গীকার ও দায়িত্বের নতুন অধ্যায়:

নির্বাচনের আগে এক সাক্ষাৎকারে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছিলেন, “আমি রাজনীতিতে সুবিধা নিতে আসিনি; মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই আমার লক্ষ্য।”

এখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে রয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। দেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তাকে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে।

বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:

সালথা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আসাদ মাতুব্বর ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, শামা ওবায়েদের এই পদোন্নতি ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় দায়িত্বের পথে নিয়ে যেতে পারে। তার সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠমুখী রাজনীতি এবং জনসংযোগের ক্ষমতা তাকে বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অনেকে মনে করছেন, যদি তিনি সফলভাবে তার বর্তমান দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবেও তার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

ফরিদপুর থেকে জাতীয় মঞ্চে:

ফরিদপুরের আঞ্চলিক রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ—শামা ওবায়েদের এই যাত্রা অনেক তরুণ নেতার জন্য অনুপ্রেরণার গল্প। তার রাজনৈতিক জীবন প্রমাণ করে, শুধু পারিবারিক পরিচয় নয়, বরং অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগই একজন নেতাকে প্রতিষ্ঠিত করে।

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার সামনে এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই অধ্যায়ে তাকে প্রমাণ করতে হবে—তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী নন, বরং একজন দক্ষ নীতিনির্ধারক ও জননেত্রী।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চোখ শামা ওবায়েদের দিকে—তিনি কতটা সফলভাবে এই নতুন দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘এসো জ্ঞান অন্বেষণে, বের হও সেবা দানে’—স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ। সিনিয়র শিক্ষক মো. শাহাদত হোসেনের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক কাজী দেলোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী শায়লা শারমীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামছুল আজম এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নূরুল কাদের পারভেজ। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নূরুল কাদের পারভেজ বলেন, নটরডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ ও ক্যাডেট কলেজগুলো শৃঙ্খলার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এসব প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ঝরে পড়ে। কলেজে ওঠার পর নিয়মশৃঙ্খলা মেনে না চলা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এর অন্যতম কারণ। এ ক্ষেত্রে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই জীবনে সফল হওয়া যায় না; সফলতার জন্য নিয়মশৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও দায়িত্ববোধের চর্চা জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা ও শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৮০ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালিত হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত নিম্নমাধ্যমিক এবং ১৯৯৫ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল। ২০১৫ সালে ডাবল শিফট চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি বলেন, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শৃঙ্খলা, যা সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে চলা, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনটা ক্রিকেটের টেস্ট ম্যাচের মতো। এখানে কখনো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে, আবার যেকোনো সময় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থেকে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় অন্যান্য বক্তারাও নবীন শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরে শিশু মাহফুজা হত্যা: প্রধান আসামি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশু মাহফুজা হত্যা: প্রধান আসামি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার (৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবলু শেখকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া এলাকার শংকরপাশা বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে এসআরবি।

​এসআরবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল এসআরবি-৬-এর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরকান্দার তারাকান্দি এলাকার ইদ্রিস আলী মোল্যার মেয়ে মাহফুজা আক্তারকে আসামিরা তাঁদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে মাহফুজা নিখোঁজ ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রধান আসামি বাবলু শেখের বসতবাড়ি সংলগ্ন বাগান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

​এসআরবি আরও জানায়, পারিবারিক পূর্ববিরোধের জেরে ওই দিন বিকেল থেকে রাতের কোনো একসময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও মারধর করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

​এ ঘটনায় নিহত মাহফুজার বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-১০। এর ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

​গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নগরকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফরিদপুরের চরাঞ্চলে ফলদ ও ঔষধি চারা বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরাঞ্চলে ফলদ ও ঔষধি চারা বিতরণ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ফরিদপুরের পদ্মা নদীবেষ্টিত ১০টি ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে তালবীজ ও বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ।

​শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের শফির ঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ৫০০টি ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

​ফরিদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং ফরিদপুর পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

​নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি নেতা শামিম হোসেন এবং নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ফরিদপুর পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার অংশ হিসেবে ফরিদপুরের ৩টি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার তালবীজ ও ফলদ বৃক্ষের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। বজ্রপাতের কারণে প্রতি বছর দেশে অনেক প্রাণহানি ঘটে। এই ঝুঁকি কমাতে চরাঞ্চলে তালের বীজ রোপণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানো এবং তা পরিচর্যার আহ্বান জানান।

​আলোচনা সভা শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক যক্ষ্মাব্যাধি (ভক্ষব্যাধি) হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে তালবীজ রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।