ভাঙাচোরা সড়কে চরম ভোগান্তি, সালথায় রাস্তার মাঝে খুঁটি পুঁতে প্রতিবাদ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙারদিয়া গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে এলাকাবাসী রাস্তার মাঝখানে খুঁটি পুঁতে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান এবং উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে এর আগে একাধিক বার উপজেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েও প্রতিকার মেলেনি বলে ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছর ধরে রাঙারদিয়া পূর্বপাড়া পাকা রাস্তা থেকে একই গ্রামের স্লুইচগেট এলাকা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এই সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় পরিণত হয়, ফলে হাঁটা-চলা তো দূরের কথা, কোনো যানবাহনও চলাচল করতে পারে না। জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করাও হয়ে ওঠে অত্যন্ত দুরূহ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে নিয়মিত ভারী ট্রাক ও বড় যানবাহন চলাচল করায় রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। ফলে অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় মানুষজন পাশের ফসলি জমির ভেতর দিয়ে চলাচল করছেন। এতে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সালথা উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে আমাদের প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলে রাস্তাটা একেবারে কাদার সাগরে পরিণত হয়। আমাদের মা-বোনদের চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে পারে না।”
আরেক বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “অসুস্থ রোগী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তাই দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা খুবই জরুরি।”
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “রাঙারদিয়া গ্রামের সড়কটির বিষয়ে আমরা অবগত নই, তবে আপনার মাধ্যমে এই প্রথম জানতে পারলাম। প্রতিবাদকারীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে অথবা ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বার দিয়ে আমাকে অবহিত করলে গুরুত্ব অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা এবং ভারী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে করে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং কৃষিজমিরও ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন
Array