খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে টেন্ডার ঘিরে ভয়ভীতি—৬ ঠিকাদারের অভিযোগ, পুনঃদরপত্রের দাবি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে টেন্ডার ঘিরে ভয়ভীতি—৬ ঠিকাদারের অভিযোগ, পুনঃদরপত্রের দাবি

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের ইজারা নিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সন্ত্রাসীদের ভয়-ভীতি ও বাধার কারণে একাধিক ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার ইজারা নিতে মোট ৪৭ জন সিডিউল ক্রয় করেন। কিন্তু গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে দরপত্র জমা দিতে গেলে জেল ফেরত সন্ত্রাসী ও কিছু দুষ্কৃতিকারী তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং জমা দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। এতে করে অন্তত ছয়জন ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, “আমরা নিয়ম মেনে সিডিউল ক্রয় করলেও সন্ত্রাসীদের কারণে দরপত্র জমা দিতে পারিনি। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা প্রয়োজন।”

অভিযোগকারীদের মধ্যে মোহাম্মদ শাহিন মন্ডল, আতাউর রশিদ (বাচ্চু), মিজানুর রহমান চৌধুরী, কে.এম নাজমুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী খান লাভলুসহ একাধিক ঠিকাদার রয়েছেন।

এছাড়া পৃথক আরেকটি আবেদনে বর্তমান ইজারাদার লিয়াকত আলী খান (লাভলু) একই অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তিনিও সিডিউল ক্রয় করলেও সন্ত্রাসীদের বাধার কারণে দরপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ফিরে আসেন। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের দাবি জানান।

লিয়াকত আলী খান বলেন, “আমি বৈধভাবে বাজারের বর্তমান ইজারাদার। নতুন অর্থবছরের জন্যও নিয়ম অনুযায়ী অংশ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সন্ত্রাসীদের কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি—সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে আবার দরপত্র আহ্বান করা হোক।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “যারা দরপত্র জমা দিয়েছেন, তারা নিয়ম মেনেই দিয়েছেন। যারা জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করছেন, তারা নির্ধারিত সময়ে আমাদের অবহিত করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “দরপত্র গ্রহণের পর তা মূল্যায়ন কমিটির কাছে পাঠানো হবে। কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, সন্ত্রাসী প্রভাব থাকলে দরপত্র প্রক্রিয়া কখনোই সুষ্ঠু হতে পারে না। এতে করে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত প্রতিযোগিতাও বাধাগ্রস্ত হয়।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে এবং পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে, তাহলে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য ইজারাদার নির্বাচন সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয়, জেলা প্রশাসন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।

মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

প্রতিটি শিশুর জন্মই এক নতুন জগতের সূচনা। তবে শুধু পিতামাতার ভালোবাসা, যত্ন বা পরিবেশ নয়, শিশুর শরীর ও মনও এক ধরনের জৈবিক উত্তরাধিকার বহন করে।

বিশেষ করে মায়ের জিনের প্রভাব সন্তানের ওপর আলাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখিয়েছে, মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিন এবং বৈশিষ্ট্য শিশুর শারীরিক গঠন, মানসিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং এমনকি আচরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের পরিবারে মা ও সন্তানের সম্পর্ক প্রাথমিক পরিচর্যার মাধ্যমে বোঝা যায়, কিন্তু এই সম্পর্ক জিনগতভাবে অনেক গভীর। শুধু দেখায় যে বাচ্চা মায়ের মতো হাসে বা মূখাবয়ব নেয়, বরং মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনগুলো শিশুর জীবনের নানা দিককে প্রভাবিত করে।

চলুন জেনে নিই, মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আসে:

১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ

কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া শুধু মায়ের কাছ থেকেই আসে। এটি শিশুর শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে।

২. বুদ্ধিমত্তা

গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন মায়ের দিক থেকে বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে মায়ের শিক্ষার অভ্যাস, চিন্তাভাবনার ধরন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারে।

৩. শারীরিক বৈশিষ্ট্য

চুলের রং ও গঠন, হেয়ারলাইন, ত্বকের রং এবং ভ্যারিকোজ ভেইনের প্রবণতা; এসব শিশুর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মায়ের দিক থেকে আসে। ভ্যারিকোজ ভেইন হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে শিরাগুলো ফুলে যায় বা বাঁকানো দেখা যায়, সাধারণত ত্বকের ওপর নীল বা বেগুনি দাগের মতো প্রকাশ পায়।

৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন

শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন এবং সহজে ওজন বাড়ার প্রবণতা; এসবে মায়ের জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর বিপাক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনের প্রভাব চোখে পড়ে।

৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন

অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা কিছু মুড-সম্পর্কিত প্রবণতা, যেমন বিষণ্নতা—মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণে প্রভাব পড়ে।

৬. কিছু রোগের ঝুঁকি

মায়োপিয়া (কাছের জিনিস স্পষ্ট ও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা), গ্লুকোমা, ছানি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মায়ের দিক থেকে আসতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক নজরদারি শিশুর জন্য জরুরি।

৭. X-লিংকড বৈশিষ্ট্য (বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে)

ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একমাত্র X ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধের মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের দিক থেকে আসার সম্ভাবনা বেশি।

৮. প্রজনন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)

মেয়েদের প্রথম মাসিক ও মেনোপজের সময় অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিল দেখা যায়। অর্থাৎ মেয়েদের প্রজনন সংক্রান্ত কিছু বৈশিষ্ট্যও মায়ের জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শেষ কথা

মনে রাখতে হবে, সব শিশুর ক্ষেত্রে এসব ভূমিকা এক রকম নয়। জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনধারার প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা ও সন্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র জেনেটিক নয়, বরং প্রতিদিনের যত্ন, পরিচর্যা ও অভ্যাসের মিশ্রণে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন

কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

দুপুর গড়িয়েছে, অফিসের ফাইল টেবিলে জমে উঠছে। কেউ চুপচাপ কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, আবার কেউ একটু পরপর মোবাইল স্ক্রল করছে কিংবা চা-আড্ডায় ব্যস্ত। তাই প্রশ্নটা প্রায়ই ওঠে, আসলে কে বেশি কাজে ফাঁকি দেয়? ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এতটা সরল নয়। বরং এর পেছনে আছে সামাজিক বাস্তবতা, কর্মসংস্কৃতি, এবং ব্যক্তিগত মনস্তত্ত্বের জটিল মিশেল।

গবেষণা কী বলছে?

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মসংস্থান ও আচরণবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ ফাঁকি দেওয়া বা কাজ পেছানো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে; তবে এর ধরন ভিন্ন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ‘non-work activities’-এ ব্যয় করেন। সেটা হতে পারে অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা আড্ডা।

অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ-এ প্রকাশিত একাধিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নারীরা কাজ ফাঁকি কম দিলেও অনেক সময় অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে ‘burnout’ বা মানসিক ক্লান্তিতে ভোগেন, যা তাদের কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

মনস্তত্ত্বের দিক থেকে পার্থক্য

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ছেলেদের মধ্যে ‘risk-taking behavior’ বা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ফলে তারা অনেক সময় কাজ শেষ মুহূর্তে করার ঝুঁকি নেয়।

অন্যদিকে, মেয়েদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পারফেকশনিজম বেশি থাকায় তারা কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা কম দেখায়, তবে অতিরিক্ত নিখুঁত করতে গিয়ে সময় বেশি নেয়।

বাংলাদেশি বাস্তবতায় চিত্রটা কেমন?

বাংলাদেশের অফিস-সংস্কৃতি, বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, এই প্রশ্নের উত্তর আরও ভিন্ন হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষ কর্মীরা অফিস সময়ের মধ্যে বাইরে যাওয়া, ধূমপান বিরতি, কিংবা আড্ডায় বেশি সময় দেন। আবার নারী কর্মীরা অফিসের পাশাপাশি ঘরের কাজ, রান্না, সন্তান দেখাশোনা; সব সামলাতে গিয়ে অফিসে তুলনামূলকভাবে বেশি ফোকাসড থাকতে বাধ্য হন।

ঢাকার মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এইচআর কর্মকর্তা মামুন আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা দেখেছি, নারী কর্মীরা সাধারণত সময় মেনে কাজ শেষ করতে বেশি সচেতন। তবে চাপ বেশি হলে তারা চুপচাপ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পুরুষরা আবার কাজের ফাঁকে একটু বেশি ‘breather’ বা সংক্ষিপ্ত বিরতি নেয়।

সিলেটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারূফ জাকির বলেন, কোনো ক্ষেত্রে নারীকর্মীরা বেশি ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ খুঁজেন, আবার কোনো ক্ষেত্রে পুরুষকর্মীরাও এই সুযোগের আশায় থাকেন। তাই বিষয়টি একদম নির্ধারণ করে বলা মুশকিল। তবে এটা সত্য যে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি ভারী কাজ করতে পারেন।

ডিজিটাল যুগে নতুন ফাঁকি

বর্তমানে কাজ ফাঁকি দেওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা, ইউটিউব দেখা এবং অপ্রয়োজনীয় চ্যাটে লিপ্ত হওয়া। এই অভ্যাসগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই সমানভাবে বাড়ছে। ফলে ‘কে বেশি ফাঁকি দেয়’, এই প্রশ্ন এখন অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

তাহলে আসল সত্যটা কী?

সব গবেষণা ও বাস্তবতা মিলিয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার, কাজ ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্গ নয়, বরং ব্যক্তিগত অভ্যাস, কাজের পরিবেশ ও মানসিক অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ দায়িত্বশীল হলে সে ছেলে হোক বা মেয়ে, ফাঁকি কম দেবে। আর কেউ যদি অনুপ্রেরণাহীন বা চাপগ্রস্ত হয়, তাহলে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়বেই।

শেষ কথা

‘ছেলেরা বেশি ফাঁকি দেয়’ বা ‘মেয়েরা বেশি সিরিয়াস’; এমন একপাক্ষিক ধারণা আসলে পুরো সত্যকে তুলে ধরে না। বরং কাজের সংস্কৃতি, পারিবারিক চাপ, এবং ব্যক্তিগত মানসিকতা; এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয় একজন কর্মীর কাজের ধরন।

মানুষ কেন অন্যের ফোনে উঁকি দেয়?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
মানুষ কেন অন্যের ফোনে উঁকি দেয়?

স্মার্টফোন এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অপরিচিতদের ফোনের স্ক্রিনে উঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য দেখেন বলে উঠে এসেছে স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে।

যেখানে ৫৬ শতাংশ ইউরোপীয় বলেছেন, জনসমক্ষে অপরিচিত মানুষের ফোনের স্ক্রিনে অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের নজর পড়ে যায়। ২৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা কৌতূহলবশত ইচ্ছা করেই অন্যের ফোনে উঁকি দেন। ৫৭ শতাংশের মতে, গণপরিবহনে এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। ৩৩ শতাংশ বলছেন, তারা অপরিচিত মানুষের ফোনের খুব সংবেদনশীল তথ্য দেখে ফেলেছেন।

২৮ শতাংশ মানুষ অন্যের ফোনে ব্যক্তিগত কিছু দেখলে তা উপেক্ষা করেন এবং ২৭ শতাংশ বলছেন, এমন কিছু চোখে পড়লে তারা সঙ্গে সঙ্গেই চোখ সরিয়ে নেন। সাত শতাংশ মানুষ বলছেন, তারা সুযোগ বুঝে বেশ কৌশলে অন্যের ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

অন্যের ফোনে সাধারণত যা যা দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে ৩৮ শতাংশ ব্যক্তিগত ছবি, ৩২ শতাংশ ভিডিও কল, ২৯ শতাংশ মেসেজ, ২৭ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার, ১৭ শতাংশ অনলাইন কেনাকাটা, ১২ শতাংশ ডেটিং অ্যাপের নোটিফিকেশন এবং ১১ শতাংশ ব্যাংকিং তথ্য।

স্যামসাং বলছে, অন্য কেউ ফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন বুঝলে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ফোনটির ব্যবহার বন্ধ করে দেন। শুধু ১০ শতাংশ মানুষ বিষয়টির প্রতিবাদ করেন।

এ সমস্যার সমাধানে স্যামসাংয়ের লক্ষ্য ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ ফিচারটির ব্যবহার, এতে নির্দিষ্ট কোণ থেকে তাকালে স্ক্রিনটি অন্ধকার দেখায়। তাদের এ ফিচারটি নিজের প্রয়োজনমতো সেট ও যে কোনো সময় চালু বা বন্ধ করা যায়, যা এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর উপায়।

সূত্র: স্যামমোবাইল