খুঁজুন
সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে কৃষকদল নেতাকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে কৃষকদল নেতাকে কুপিয়ে জখম

ফরিদপুরে মহানগর কৃষকদলের সহ-সভাপতি আমিন শরীফের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাদের বরাতে জানা যায়, রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের একটি ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “হোটেল গার্ডেন সিটি”-তে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবির জেরে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলে পড়ে এবং তাকে কুপিয়ে জখম করে।

এ সময় হামলাকারীরা হোটেলের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আমিন শরীফকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরে একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মহানগর কৃষকদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুন অর রশিদ মামুন বলেন, “এটি একটি ন্যক্কারজনক ও পরিকল্পিত হামলা। একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

এ ঘটনায় রাতে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেন আহত নেতার ছেলে মো. ছরোয়ার শরীফ। এজাহারে শহরের আলিপুর এলাকার পাকিস্তান পাড়ার বাসিন্দা হিরু কসাইয়ের ছেলে তমাল (৩০) ও মাহমুদ (৩৫)-কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, “অভিযোগটি আমরা গুরুত্বসহকারে নিয়েছি। আমি বর্তমানে থানার বাইরে থাকলেও এজাহারটি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।”

ফরিদপুরে মাদকসম্রাজ্ঞী সাহেদা বেগম ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদকসম্রাজ্ঞী সাহেদা বেগম ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসম্রাজ্ঞী হিসেবে খ্যাত মোসা. সাহেদা বেগম ও তার এক সহযোগীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে শহরের ২ নম্বর কুঠিবাড়ী গৃহলক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃতরা হলেন—শহরের গৃহলক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মোসা. সাহেদা বেগম এবং তার সহযোগী মো. সোনাজান খা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, সাহেদা বেগম মাদক ব্যবসার সঙ্গে পূর্ব থেকেই জড়িত। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা না করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তিনি পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ মার্চ তার বিরুদ্ধে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি ওই মামলার পলাতক আসামি ছিলেন।

এছাড়া পুলিশ প্রণীত পিপিআর (Police Profile Record) যাচাই করে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে পূর্বে আরও ১৯টি মামলা রয়েছে, যা তার অপরাধ জগতের দীর্ঘ সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।

এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নম্বর ৬৫ এবং তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬।

ফরিদপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যারা সমাজে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

ভাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে নেমে শ্রমিকের মৃত্যুু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে নেমে শ্রমিকের মৃত্যুু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের সেফটি ট্যাংকে নেমে মাসুম শেখ (৫২) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে পৌরসভার কোটপাড়া মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাসুম শেখ বরিশালের পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল হাই শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল দিকে ভবনের সেফটি ট্যাংক পরিষ্কার করার কাজ চলছিল। এ সময় মাসুম শেখ ট্যাংকের ভেতরে নামলে সেখানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সহকর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

ভাঙ্গা ফায়ার স্টেশনের ম্যানেজার আবু জাফর জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ভাই ও ভবন নির্মাণের সাব-কন্ট্রাক্টর মহিবুল্লাহ শেখ বলেন, “কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত সে ট্যাংকের ভেতরে নেমে পড়ে। আমরা বুঝতেই পারিনি ভেতরে এত গ্যাস জমে ছিল।” এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আব্দুল্লাহ আবু জাহের জানান, ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, “সেফটি ট্যাংকে কাজ করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে ‘ভুল চিকিৎসা’ বিতর্কের জেরে প্রভাতী হাসপাতালে অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘ভুল চিকিৎসা’ বিতর্কের জেরে প্রভাতী হাসপাতালে অভিযান, লাখ টাকা জরিমানা

ফরিদপুরে গলায় টিউমার অপারেশনের পর কিশোরী মিম (১৫)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হাসপাতালটির বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান ও ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম। অভিযানে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জ্যোতির্ময় চৌধুরী এবং জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. বজলুর রশীদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালটির প্যাথলজি বিভাগে নানা অনিয়ম, অপারেশন থিয়েটারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এছাড়া হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২৩-২৪ সালে শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আরোপ এবং আংশিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম বলেন, “হাসপাতালটিতে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। জনস্বার্থে প্যাথলজি বিভাগ সিলগালা এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।”

এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল প্রকাশিত একটি সংবাদে অভিযোগ ওঠে, গলায় টিউমারের অপারেশন করতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় মিম নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, অপারেশনের সময় গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, নাক-কান-গলা (ইএনটি) সংক্রান্ত রোগে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকের অপারেশন করাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালে প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছিল। সর্বশেষ এ অভিযানের ফলে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।