খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে কি রোজা শুদ্ধ হবে? জানুন সঠিক নিয়ম

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৮ এএম
আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে কি রোজা শুদ্ধ হবে? জানুন সঠিক নিয়ম

সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম : ১০৯৫)

অন্য হাসিছে এসেছে, ‘তোমরা সেহরি পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করো। কারণ যারা সেহরি খায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/১২, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৯০১০, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৪৭৬)

কোন সময়ে সেহরি খাওয়া ভালো?

হাদিসে বলা হয়েছে, সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সেহরি শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত-তবারানী : ১৮৮৪, মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৩/৩৬৮)

আমর ইবনে মায়মুন আলআওদি (রাহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দ্রুত ইফতার করতেন আর শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭৫৯১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯০২৫)

আজান পর্যন্ত সেহরি খাওয়া যাবে কি?

এই প্রশ্নের উত্তরে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, আমরা যখন সেহরি গ্রহণ করব, তখন আজান হচ্ছে কি হচ্ছে না— এটা সেহরির সময় নির্ধারক মানদণ্ড নয়। বরং এক্ষেত্রে আমাদের ক্যালেন্ডার বা সময়সূচি দেখতে হবে।

আপনি যে এলাকায় থাকেন, সেখানকার ইসলামিক সেন্টারগুলোতে সেহরি-ইফতারের যে ক্যালেন্ডার দেওয়া হয়, সেখানে দেখুন সেহরির শেষ সময় কখন। সেহরির শেষ সময় পর্যন্ত আপনি খেতে পারবেন। তারা যদি দশ মিনিট আগেও আজান দিয়ে দেয় তবুও আপনি খেতে পারবেন।

মোটকথা হলো, সেহরিতে আজান উদ্দেশ্য নয়; বরং সেহরির শেষ সময়টি কখন, সেটি আপনি খেয়াল করবেন। মনে করুন সেহরির সময় শেষ এবং এর দশ মিনিট পরে তারা আজান দিল, তাহলে তো আর আপনার রোজা হবে না। এজন্য আপনাকে টাইম-টেবিল লক্ষ্য করতে হবে, আজান নয়। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার : ২/৩৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৪)

অনেক সময় দেখা যায়, কেউ কেউ মাইকে সাইরেন বাজানো, সেহরি বন্ধ করার ঘোষণা চলা অবস্থায়ও চা পান করেন, অথবা পান চিবিয়ে থাকেন; এরপর তড়িঘড়ি করে কুলি করে নেয়। এখন প্রশ্ন হলো পারে, উল্লিখিত কাজ যদি কোনো রোজাদার করে থাকেন, তাহলে তার রোজা বৈধ হবে কি? শরিয়তের দৃষ্টিতে এই রোজার বিধান কী?

এর উত্তরে মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, যদি প্রবল ধারণা হয় যে, সুবহে সাদিক হওয়ার পর মসজিদে আজান দেওয়া হচ্ছে, তাহলে যারা আজান পর্যন্ত খেয়েছেন, তাদের রোজা হবে না। কারণ, আজান সাধারণত সুবহে সাদিক হওয়ার পরই দেওয়া হয়। তবে কোথাও ভুলে আগে আজান হয়ে গেলে, ভিন্ন কথা। কিন্তু স্বাভাবিকত আজান পর্যন্ত যারা খায়, সাধারণত তাদের রোজা হয় না।

উল্লেখ্য, সুবহে সাদিক হওয়া এবং সেহরির সময় বাকি থাকার ব্যাপারে সংশয়যুক্ত সময়ে পানাহার করা মাকরুহ। আমাদের দেশের ক্যালেন্ডারগুলোতে আজান ও সেহরির মাঝে কয়েক মিনিট বিরতি দেওয়া হয়। সংশয়যুক্ত সময় বলতে ওই সময়টাকে ধরা যায়। তবে এ সময়ে খাওয়ার মাধ্যমে রোজা শুদ্ধ হয়ে যাবে। (আহসানুল ফাতওয়া : খণ্ড ৪; পৃষ্ঠা ৪৩২, আল ফিকহুল হানাফি ফি ছাওবিহিল জাদিদ : খণ্ড ১; পৃষ্ঠা ৪৩৩)।

সেহরি খাওয়ার দোয়া

সেহরির শুরুতে পড়ার মতো কোনো দোয়া কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সেজন্য সেহরি খেতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার দরকার নেই। অবশ্য যেকোনো খাবারের শুরুতে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া রয়েছে, সেহরির শুরুতে তা পাঠ করা যেতে পারে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো।’ {মুসতাদরাকে হাকেম : ৫/১৪৬, হাকেম ও হাফেজ জাহাবি (রাহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।}

অবশ্য ‘আলা’ শব্দ যুক্ত করে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ এভাবেও পড়া যায়। দোয়াটি ইবনুল জাযারি (রাহ.) তার আলহিসনুল হাসিন গ্রন্থে (পৃ. ২৫৫) উল্লেখ করেছেন। তিনি আলমুসতাদরাক-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

সূত্র : কালবেলা

ফাল্গুনের সকালে শীতের প্রত্যাবর্তন: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩০ এএম
ফাল্গুনের সকালে শীতের প্রত্যাবর্তন: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর

আজ ১৮ ফাল্গুন, মঙ্গলবার (৩ মার্চ)। বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে এসে হঠাৎ ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে ফরিদপুরের জনপদ। শীত বিদায় নিলেও ভোরের এই কুয়াশা যেন শীতের চিরচেনা রূপকেই আবারও ফিরিয়ে আনল।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যায়। সকাল ৮টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক এবং গ্রামীণ জনপদ—সবখানেই ছিল কুয়াশার সাদা চাদর। দূরের ভবন, গাছপালা এমনকি চলন্ত যানবাহনও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এতে করে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া ছিল বেশ উষ্ণ। দিনের তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে বাড়ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে গিয়ে কুয়াশার সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভোরে ঘর থেকে বের হয়ে শীতের মতো অনুভূতি পান। কেউ কেউ আবার শীতের পোশাক বের করে পরেছেন।

কৃষকদের জন্য এই কুয়াশা কিছুটা স্বস্তির হলেও উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান ও সবজি চাষিরা বলছেন, অতিরিক্ত কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে স্বল্প সময়ের কুয়াশা জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

শহরের শ্রমজীবী মানুষদের কাজে যেতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। রিকশাচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা কম দৃশ্যমানতার কারণে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করেন। ভোরে নদীপথেও নৌযান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে এমন হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতার তারতম্যের কারণেই মূলত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গিয়ে স্বাভাবিক আবহাওয়া ফিরে আসে।

ফাল্গুন মানেই রঙিন প্রকৃতি আর বসন্তের আমেজ। কিন্তু আজকের সকালটি যেন স্মরণ করিয়ে দিল—ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা অস্বাভাবিক নয়। শীতের বিদায়ের পরও মাঝে মাঝে এমন কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল ফরিদপুরবাসীর কাছে এক ভিন্ন অনুভূতি এনে দেয়।

গরমের সঙ্গে ঝড়ের বার্তা—মার্চে আসছে তাপপ্রবাহ ও কালবৈশাখী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৬ এএম
গরমের সঙ্গে ঝড়ের বার্তা—মার্চে আসছে তাপপ্রবাহ ও কালবৈশাখী

চলতি মার্চ মাসে দেশে ১-২টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। রয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনা। এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (০১ মার্চ) মার্চ মাসব্যাপী পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এতে বলা হয়েছে, মার্চ মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় অথবা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, এ মাসের শেষের দিকে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপর দিয়ে ১-২টি মৃদু (৩৬-৩৭.৯°সে.) থেকে মাঝারি (৩৮-৩৯.৯°সে.) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি থাকতে পারে। চলতি মাসে ২-৩ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা অথবা মাঝারি ধরনের এবং ১-২ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বিরাজ থাকতে পারে বলে জানানো হয়।

সূত্র : যমুনা টিভি

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেলেন পাঁচ সাংবাদিক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৩ এএম
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেলেন পাঁচ সাংবাদিক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘স্পিচ রাইটার’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এস এ এম মাহফুজুর রহমান। তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক। এ ছাড়া চার সাংবাদিককে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগের কথা জানানো হয়। সবাইকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

‘স্পিচ রাইটার’ মাহফুজুর রহমানকে গ্রেড-১ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপ–প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন একাত্তর টিভির ডেপুটি হেড অব নিউজ মোস্তফা জুলফিকার হাসান, জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম, বাংলা ভিশনের সাংবাদিক মো. সুজাউদ্দৌল্লা এবং সাংবাদিক শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন । তাঁরা জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড–৪ অনুযায়ী বেতন পাবেন।

এ ছাড়া পৃথক প্রজ্ঞাপনে দুজনকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন কে এম নাজমুল হক এবং আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

এর আগে নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান আতিকুর রহমান রুমন।