খুঁজুন
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভুল জায়গায় জাকাত দিচ্ছেন না তো? জেনে নিন কারা প্রকৃত হকদার

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ভুল জায়গায় জাকাত দিচ্ছেন না তো? জেনে নিন কারা প্রকৃত হকদার

ইসলামে ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য জায়গায় সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদানের আদেশ করা হয়েছে।

সুরাতুল বাক্বারায় আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখছেন। (আয়াত: ১১০)

সুরা নুরে রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন,‘তোমরা সালাত আদায় করো, জাকাত দাও এবং রাসুলের আনুগত্য করো- যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পারো।’(আয়াত : ৫৬)

কিন্তু জাকাত প্রদানের সময় আমাদের দেশের অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না যে, কাকে জাকাত দেবেন আর কাকে দেবেন না। তাই যারা জাকাত আদায়ের সময় দ্বিধায় ভুগেন, তাদের জন্য কোরআন-হাদিসের আলোকে সহজ সমাধান জানিয়েছে ইসলামি গবেষণা পত্রিকা আল কাউসার

চলুন তাহলে জেনে নিই, কাদের জাকাত দেওয়া যাবে, আর কাদের জাকাত দেওয়া যাবে না।

১. যে দরিদ্র ব্যক্তির কাছে অতি সামান্য মাল আছে, অথবা কিছুই নেই, এমনকি একদিনের খোরাকীও নেই এমন লোক শরীয়তের দৃষ্টিতে গরীব। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে।

২. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ অর্থাৎ সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, বাণিজ্যদ্রব্য ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ আছে সে শরীয়তের দৃষ্টিতে ধনী। তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না।

৩. অনুরূপভাবে যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু অন্য ধরনের সম্পদ যাতে জাকাত আসে না যেমন ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, জুতা, গার্হস্থ সামগ্রী ইত্যাদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং নিসাব পরিমাণ আছে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে না। এই ব্যক্তির ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৫৬)

৪. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য ধরনের মাল-সামানাও নিসাব পরিমাণ নেই, এই ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১০৫৩৬)

৫. যে ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য ধরনের মাল-সামানাও নিসাব পরিমাণ নেই, এই ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১০৫৩৬)

৬. যে ব্যক্তি এমন ঋণগ্রস্থ যে, ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে না, তাকে জাকাত দেওয়া যাবে।

৭. কোনো ব্যক্তি নিজ বাড়িতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী, কিন্তু সফরে এসে অভাবে পড়ে গেছে বা মাল-সামান চুরি হয়ে গেছে, এমন ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়া যাবে। তবে এ ব্যক্তির জন্য শুধু প্রয়োজন পরিমাণ গ্রহণ করাই জায়েজ, এর বেশি নয়।

৮. জাকাতের টাকা এমন দরিদ্রকে দেওয়া উত্তম যে দ্বীনদার। দ্বীনদার নয় এমন লোক যদি জাকাতের উপযুক্ত হয় তাহলে তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে। কিন্তু যদি প্রবল ধারণা হয় যে, জাকাতের টাকা দেওয়া হলে লোকটি সে টাকা গোনাহের কাজে ব্যয় করবে, তাহলে তাকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।

৯. জাকাত শুধু মুসলমানদেরকেই দেওয়া যাবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টা বা অন্য কোনো অমুসলিমকে জাকাত দেওয়া হলে জাকাত আদায় হবে না। তবে নফল দান-খায়রাত অমুসলিমকেও করা যায়। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৬৬,৭১৬৭, ৭১৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/৫১৬-৫১৭)

১০. জাকাতের টাকা জাকাতের হক্বদারদের নিকট পৌঁছে দিতে হবে। জাকাতের নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে জাকাত আদায় হবে না। যেমন রাস্তা-ঘাট, পুল নির্মাণ করা, কুপ খনন করা, বিদ্যুৎ-পানি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

১১. জাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচার, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ মাহফিল করা, দ্বীনি বই-পুস্তক ছাপানো, ইসলামী মিডিয়া তথা রেডিও, টিভির চ্যানেল করা ইত্যাদিও জায়েজ নয়। মোটকথা, জাকাতের টাকা এর হক্বদারকেই দিতে হবে। অন্য কোনো ভালো খাতে ব্যয় করলেও জাকাত আদায় হবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৬৯৪৭,৬৯৪৮, ৭১৩৭,৭১৭০)

১২. জাকাত আদায় হওয়ার জন্য শর্ত হলো, উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। যাতে সে নিজের খুশি মতো তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। এরূপ না করে যদি জাকাতদাতা নিজের খুশি মতো দরিদ্র লোকটির কোনো প্রয়োজনে টাকাটি খরচ করে যেমন, তার ঘর সংস্কার করে দিল, টয়লেট স্থাপন করে দিল কিংবা পানি বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করল, তাহলে জাকাত আদায় হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৭)

নিয়ম হলো, জাকাতের টাকা দরিদ্র ব্যক্তির মালিকানায় দিয়ে দেওয়া। এরপর যদি সে নিজের খুশি মতো এসব কাজেই ব্যয় করে, তাহলেও জাকাতদাতার জাকাত আদায় হয়ে যাবে।

১৩. আত্মীয়-স্বজন যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়, তাহলে তাদেরকে জাকাত দেওয়াই উত্তম। ভাই, বোন, ভাতিজা, ভাগনে, চাচা, মামা, ফুফু, খালা এবং অন্যান্য আত্মীয়দেরকে জাকাত দেওয়া যাবে। তবে, দেওয়ার সময় জাকাতের উল্লেখ না করে মনে মনে জাকাতের নিয়ত করলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে এটাই উত্তম। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭১৬০,৭১৬১,৭১৬৪,৭১৭১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৬/৫৪২-৫৪৬)

১৪. নিজ পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, পরদাদা প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ যারা তার জন্মের উৎস, তাদেরকে নিজের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। এমনিভাবে নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতিন এবং তাদের অধস্তনকে নিজ সম্পদের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।(রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৮)

১৫. বাড়ির কাজের ছেলে বা কাজের মেয়েকে জাকাত দেওয়া জায়েজ যদি তারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়। তবে কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে জাকাতের অর্থ দিলে জাকাত আদায় হবে না। কেউ কেউ কাজের লোক রাখার সময় বলে, মাসে এত টাকা করে পাবে আর ঈদে একটা বড় অংক পাবে। এক্ষেত্রে ঈদের সময় দেওয়া টাকা জাকাত হিসাবে প্রদান করা যাবে না। সেটা তার পারিশ্রমিকের অংশ বলেই ধর্তব্য হবে।

১৬. কোনো লোককে জাকাতের উপযুক্ত মনে হওয়ায় তাকে জাকাত দেওয়া হলো, কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পেল যে, লোকটির নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তাহলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় জাকাত দিতে হবে না। তবে যাকে জাকাত দেওয়া হয়েছে সে যদি জানতে পারে যে, এটা জাকাতের টাকা ছিল সেক্ষেত্রে তার ওপর তা ফেরৎ দেওয়া ওয়াজিব।

১৭. জাকাত দেওয়ার পর যদি জানা যায় যে, জাকাত-গ্রহীতা অমুসলিম ছিল তাহলে জাকাত আদায় হবে না। পুনরায় জাকাত দিতে হবে।

১৮. অপ্রাপ্তবয়স্ক (বুঝমান) ছেলে-মেয়েকে জাকাত দেওয়া যায়। (রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/২০১ )

ফরিদপুরে বেড়েছে হামের প্রকোপ: ৪ মাসে ২৯৮ আক্রান্ত, ঝরল ৪ প্রাণ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বেড়েছে হামের প্রকোপ: ৪ মাসে ২৯৮ আক্রান্ত, ঝরল ৪ প্রাণ

ফরিদপুর জেলায় হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় মোট ২৯৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় ১০ জন, বোয়ালমারীতে ১২ জন, ভাঙ্গায় ৮ জন, চরভদ্রাসনে ৪ জন, নগরকান্দায় ২ জন, মধুখালীতে ৩ জন, সদরপুরে ৭ জন, ফরিদপুর সদরে সর্বোচ্চ ১৪ জন এবং সালথায় ৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার দিক থেকেও হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ জন। বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে মোট ৫৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন থাকতে, শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছি এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন।”

তিনি আরও জানান, জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং দ্রুত শনাক্তকরণই পারে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

অ্যাসিডিটির সমস্যা? জানুন ঘরোয়া উপায় নিয়ন্ত্রণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
অ্যাসিডিটির সমস্যা? জানুন ঘরোয়া উপায় নিয়ন্ত্রণ
বুক জ্বালা, ঢেকুর ওঠা, বমিভাব, পেটে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা বা অল্প খেলেই ভরাপেট লাগা অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। কখনও কিছু খাবারের কারণে, আবার কখনও দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও এমনটি হয়।

এই অ্যাসিডিটির সমস্যা কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 

দারুচিনি
দারুচিনি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে।

এটি হজম ও শোষণ প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং পাকস্থলীর সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। দারুচিনির চা পান করলে উপকার পাওয়া যায়।
 

জিরা
জিরা অ্যাসিড প্রতিরোধে কার্যকর। হজমে সহায়ক এবং পাকস্থলীর ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখে।

ভাজা জিরা গুঁড়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে বা সেদ্ধ পানিতে জিরা দিয়ে খাবারের পর পান করা যেতে পারে। 

তুলসী পাতা
তুলসী পাতা থেঁতো করে মধুর সঙ্গে খেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপকার পাওয়া যায়।

আপেল সাইডার ভিনেগার
এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে দুই চা-চামচ ভিনেগার মিশিয়ে খালি পেটে পান করলে গ্যাস কমতে সাহায্য করে।

আনারস
আনারস খাদ্য হজমে সহায়তা করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে।

ঠান্ডা দুধ
দুধে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরিতে বাধা দেয়। অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ উপকারী।

পানি
পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। তবে খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করলে হজম ভালো হয়।

খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা
পরিমিত খাবার খাওয়া, কম তেল-মসলায় রান্না করা এবং দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থাকা জরুরি। কুমড়া, মুলা, পেঁয়াজ, মরিচ, নারিকেল ও গরুর মাংসসহ ভারী খাবার এড়িয়ে চললে অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সন্তানের ওপর প্রভাব

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সন্তানের ওপর প্রভাব

অভিনেত্রী নোরা ফতেহির জীবনের পেছনের গল্পটা যতটা ঝলমলে, ততটাই ভাঙা স্মৃতিতে ভরা। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি শেয়ার করেছেন তার শৈশবের কঠিন অভিজ্ঞতা, যা আজও তার সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

নোরার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে তার খুব ছোট বয়সে। সেই সময় থেকেই তিনি বড় হয়েছেন মায়ের একক সংগ্রামে।

নোরা জানান, বিচ্ছেদের পর তার বাবা অনেকটা অদৃশ্য হয়ে যান, দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজও ছিল না। এই অভিজ্ঞতাই তার ভেতরে এক ধরনের মানসিক ভয় তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, কোনো সম্পর্কে যাওয়ার আগে আমি অনেক ভাবি। কারণ আমার মাথায় বারবার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের স্মৃতি ফিরে আসে।

অনেক ভালো মানুষের সঙ্গেও দেখা হয়েছে, কিন্তু সেই ভয় আমাকে পিছিয়ে দেয়।
এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শুধু তার প্রেমজীবনেই নয়, আবেগ ও সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা তিনি সহজে মেনে নিতে পারেন না।

বিচ্ছেদ ও সন্তানের মানসিক প্রভাব

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ শিশুদের জীবনে গভীর আবেগগত প্রভাব ফেলে। এতে তার মনে অনিশ্চয়তা, ভয়, রাগ ও দুঃখ জন্মাতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো

বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলে সন্তানকে বয়স অনুযায়ী পরিষ্কারভাবে জানানো
বাবা-মা সম্পর্কে নেতিবাচক কথা না বলা
সন্তানের অনুভূতি মনোযোগ দিয়ে শোনা
তাদের আশ্বস্ত করা যে তারা একা নয়, দুইজনই তাদের পাশে আছেন
প্রয়োজন হলে শিশু মনোবিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া।

বিয়ে বিচ্ছেদ জীবনের একটি কঠিন বাস্তবতা হলেও, সন্তানের মানসিক সুস্থতা সবার আগে। বাবা-মায়ের দায়িত্ব হলো, নিজেদের দূরত্ব যেন সন্তানের শৈশব ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। ভালোবাসা, ধৈর্য আর সঠিক যত্নই পারে এই কঠিন সময়কে কিছুটা সহজ করে দিতে।