খুঁজুন
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র, ১৪৩২

যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে হজ ফরজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:১২ এএম
যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে হজ ফরজ?

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ। জীবনে একবার হলেও আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ-এ উপস্থিত হয়ে হজ আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ। তবে ‘সামর্থ্য’ শব্দটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা যায়, কত টাকা থাকলে হজ ফরজ হবে, কী ধরনের সম্পদ থাকলে তা বাধ্যতামূলক হবে, কিংবা ঋণ থাকলে কী হবে—এসব বিষয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই।

ইসলামি শরিয়তে হজ ফরজ হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে একজন মুসলমানের জন্য হজ আদায় করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। নিচে সেই শর্তগুলো ও ‘সামর্থ্য’ বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো—

হজ ফরজ হওয়ার মৌলিক পাঁচ শর্ত

১. মুসলমান হওয়া

২. মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া

৩. সাবালক হওয়া

৪. স্বাধীন (দাসত্বমুক্ত) হওয়া

৫. সামর্থ্য থাকা

এই পাঁচটির মধ্যে ‘সামর্থ্য’ শর্তটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তব জীবনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

সামর্থ্যের ব্যাখ্যা

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর জন্য এই ঘরের হাজ করা লোকেদের ওপর আবশ্যক, যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে।’ (সুরা আল ইমরান : ৯৭)

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম-এর সিনিয়র মুফতি মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, এখানে ‘সামর্থ্য’ বলতে মূলত দুই ধরনের সক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে। তা হলো, শারীরিক সক্ষমতা ও আর্থিক সক্ষমতা।

শারীরিক সামর্থ্য

হজ ফরজ হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে এমন সুস্থ হতে হবে, যাতে তিনি নিজে মক্কায় গিয়ে হজের যাবতীয় আমল আদায় করতে পারেন। গুরুতর অসুস্থতা বা অক্ষমতা থাকলে সেই অবস্থায় হজ ফরজ হয় না।

কতটুকু সম্পদ হলে হজ ফরজ

হজ ফরজ হওয়ার জন্য কেবল ধনী হওয়া জরুরি নয়; বরং নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক শর্ত পূরণ হতে হবে—

১. নিজের মৌলিক প্রয়োজন (খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি) পূরণের পর অতিরিক্ত অর্থ থাকতে হবে।

২. হজে যাওয়া-আসা ও সৌদি আরবে থাকা-খাওয়ার খরচ থাকতে হবে।

৩. হজের সময় পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রেখে যেতে হবে।

এই শর্তগুলো পূরণ হলে হজ ফরজ হয়ে যাবে।

ঋণ থাকলে করণীয়

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আগে ঋণ পরিশোধ প্রাধান্য পাবে। যদি জমাকৃত অর্থ দিয়ে ঋণ ও হজ দুটি সম্ভব না হয়, তাহলে হজ ফরজ হবে না। আগে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

‘মৌলিক প্রয়োজন’ কী?

মৌলিক প্রয়োজন বলতে অপচয় বাদ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য যা অপরিহার্য, তা-ই বোঝানো হয়েছে। যেমন—বসবাসের জন্য একটি ঘর, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, পেশাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি এবং জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ।

তাই একমাত্র বসতবাড়ি বা প্রয়োজনীয় গাড়ি বিক্রি করে হজ করা ফরজ নয়। তবে একাধিক সম্পদ থাকলে অতিরিক্ত অংশ সামর্থ্যের মধ্যে গণ্য হবে।

একইভাবে বিয়েও মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। কারো বিয়ের প্রয়োজন থাকলে, হজের আগে বিয়ে প্রাধান্য পাবে।

শারীরিকভাবে অক্ষম হলে করণীয়

যদি সাময়িক অসুস্থতা থাকে, তাহলে সুস্থ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে। আর স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে অন্য কাউকে দিয়ে ‘বদলি হজ’ করানো যাবে। এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে নির্দেশনা পাওয়া যায়।

নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত

নারীর হজ ফরজ হওয়ার জন্য মাহরাম সঙ্গে থাকা শর্ত। বোখারি ও মুসলিমে এ বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে নারীর হজের জন্য স্বামীর অনুমতির শর্ত নেই। ওপরের শর্তগুলো পাওয়া গেলে স্বামীর অনুমতি ছাড়াই হজ করতে পারবেন নারীরা।

সূত্র : আল-শারহুল মুমতি, ৭ /৫-২৮।

৫ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা, কে পেলেন কোন সিটি?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
৫ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা, কে পেলেন কোন সিটি?

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি।

রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

মনোনীত প্রার্থীরা হলেন-

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা)।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: আরিফুল ইসলাম আদীব।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন: অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন: মোবাশ্বের আলী।

সিলেট সিটি করপোরেশন: অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল।

এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। নির্বাচনে প্রশাসকদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, কোনও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা যাবে না। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।

বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তেল মজুদ না করার আহ্বান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম
বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তেল মজুদ না করার আহ্বান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমানের

বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণকে ভোগান্তিতে না ফেলতে তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুগুণে বেড়ে যায়। এতে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং সামগ্রিকভাবে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সংকটকালে মানবিকতা, সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

জনগণের দুর্ভোগ কমাতে তেল মজুদ না করে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য পাম্প মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ফরিদপুরে জ্বালানি সংকট: রেশনিংয়ে বিপাকে মানুষ

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
ফরিদপুরে জ্বালানি সংকট: রেশনিংয়ে বিপাকে মানুষ

ফরিদপুর জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে যানবাহন চালকসহ সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে এর মাঝেই শহরের একটি ফিলিং স্টেশন কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে গ্রাহকদের মাঝে।

রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল থেকে ফরিদপুর শহরের জোবাইদা ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হলে সেখানে ভিড় বাড়তে শুরু করে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মজুদ থাকা সাপেক্ষে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। এতে করে অন্যান্য পাম্পের তুলনায় এখানে গ্রাহকদের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।

জ্বালানি নিতে আসা কয়েকজন গ্রাহক জানান, জেলার অধিকাংশ পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। অনেক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তবে জোবাইদা ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

জেলা জুড়ে প্রায় ৪০টির মতো ফিলিং স্টেশন থাকলেও এর মধ্যে অধিকাংশেই এখন রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়াও সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও টোকেন পদ্ধতিতেও তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন সেবাখাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।