খুঁজুন
, ,

যে কারণে ইসলামি ব্যাংকিং প্রয়োজন?

মুফতি উবাইদুর রহমান হাম্মাদ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ
যে কারণে ইসলামি ব্যাংকিং প্রয়োজন?

বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাংক আমাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রায় সব ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ডেই কোনো না কোনোভাবে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

বেতন গ্রহণ, অর্থ স্থানান্তর, অনলাইন কেনাকাটা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা আন্তর্জাতিক অর্থ আদান-প্রদানসহ সব ক্ষেত্রেই ব্যাংকিং ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এক কথায়, দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের অধিকাংশই ব্যাংকনির্ভর। ফলে এই সময়ে এসে ব্যাংককে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু বিপত্তি হলো প্রচলিত ব্যাংকিং সিস্টেম নিয়ে। এই সিস্টেমের মূলেই আছে সুদের মত ভয়াবহ একটি গোনাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা। এসব ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সঞ্চয়ী হিসাব, ডিপোজিট, এফডিআর কিংবা ঋণ গ্রহণ—সর্বত্রই সুদের উপাদান বিদ্যমান। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যাংকিং এর সাহায্যেও সুদবিহীন সেবা গ্রহণ সম্ভব। যেমন সুদবিহীন কারেন্ট একাউন্ট ওপেনিং, ইউটিলিটি বিল প্রধানসহ মৌলিক কয়েকটি সার্ভিস। ব্যাংকের সামগ্রিক সার্ভিস এর তুলনায় যা খুবই সামান্য।

বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে ব্যাংক যেমন অপরিহার্য; ঠিক তেমনিভাবে সুদ পরিহার করা হারাম থেকে বেঁচে থাকা একজন মুসলিমের জন্য আরো বেশি অপরিহার্য। কেননা পবিত্র কোরআনুল কারিমে সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু নিষিদ্ধ নয়; বরং সুদি লেনদেনে জড়িয়ে যাওয়াকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ করার মত বলা হয়েছে।

ঠিক এই বাস্তবতা নিরিখেই ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। যে কারণে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়েই পুরো বিশ্বজুড়েই প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিকল্প হিসাবে ইসলামি ব্যাংকিং-এর আলোচনা সরব হয়ে ওঠে। উপমহাদেশসহ বিশ্বনন্দিত ইসলামিক স্কলারগণ ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান।

ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, আধুনিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ব্যবহারিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৩ সালে মিশরের মিত গামরে আহমদ আল-নাজ্জারের প্রতিষ্ঠিত Mit Ghamr Savings Bank-এর মাধ্যমে; আর ১৯৭৫ সালে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (IsDB) ও Dubai Islamic Bank প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকিং বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। একই সূত্র ধরে বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং এর যাত্রা ১৯৮৩ সনে ‘ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র মাধ্যমে শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশেপূর্ণাঙ্গ ১০টি ইসলামি ব্যাংক রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে আরও অনেক প্রচলিত ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো ও ইসলামি শাখার মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৬টি প্রচলিত ব্যাংক ৬০০-এর বেশি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডো পরিচালনা করছে এবং ১৫টি ব্যাংকের ৩০টি ইসলামি শাখা রয়েছে।

ইসলামি ব্যাংকিং মূলত কী?

ইসলামি ব্যাংকিং মূলত সুদের পরিবর্তে মুদারাবাভিত্তিক আমানত গ্রহণের নীতির ওপর পরিচালিত হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, একজন গ্রাহক যখন ইসলামি ব্যাংকে হিসাব খোলেন, তখন তিনি মুদারাবার ভিত্তিতে ব্যাংকের কাছে অর্থ বিনিয়োগ করেন। ব্যাংক সেই অর্থ মুদারাবা, মুশারাকা, মুরাবাহা, ইজারা প্রভৃতি শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ খাতে ব্যবহার করে। এসব কার্যক্রম থেকে অর্জিত মুনাফা পূর্বনির্ধারিত অনুপাত অনুযায়ী ব্যাংক ও আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

সার্বিকভাবে ইসলামি ব্যাংকিং সুদভিত্তিক ঋণব্যবস্থার পরিবর্তে শরিয়াহসম্মত বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং লাভ-ক্ষতিতে অংশীদারিত্বের নীতির ওপর আর্থিক সেবা প্রদানের চেষ্টা করে। এর ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই সুদমুক্ত আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

প্রচলিত ইসলামি ব্যাংক পুরোপুরি শরিয়সম্মত?

বলা বাহুল্য যে, প্রচলিত ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাতেও শরিয়াহ পরিপালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি বিদ্যমান। অধিকাংশ ইসলামি ব্যাংকে শরিয়াহ বোর্ডের কার্যকারিতা যথাযথভাবে নিশ্চিত নয়। ব্যাংকিং লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন: মুরাবাহা, এইচপিএসএম, ক্রেডিট কার্ড কিংবা এলসি সংক্রান্ত লেনদেনে—বহু ধরনের অসঙ্গতি ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এসব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানও অত্যন্ত জরুরি।

ইসলামি ব্যাংকিং কেন প্রয়োজন?

বর্তমান বাস্তবতায় সুদভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকা ব্যক্তিগত পর্যায়ে অত্যন্ত কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে হালাল উপায়ে ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনার জন্য ইসলামি ব্যাংকিংয়েরচেয়ে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প বর্তমানে নেই। এ কারণেই ইসলামি ব্যাংকিং কেবল একটি বিকল্প ব্যবস্থা নয়; বরং মুসলিম সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। তবে এটাও সত্য যে, ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এখনো বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। তাই ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শরিয়াহ গভর্ন্যান্সের শক্তিশালীকরণ এবং শরিয়াহ মানদণ্ডের আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল বাস্তবায়ন সময়ের অন্যতম দাবি। এই কাজ কোনো একক ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।

বিশেষত ইসলামি ব্যাংকিংয়ের জন্য পৃথক ও কার্যকর আইন প্রণয়ন, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাহকদের আস্থা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা উচিত। ইসলামি ব্যাংকিং যত বেশি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শরিয়াহসম্মত হবে, ততই এটি দেশের অর্থনীতি ও জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

একটা সময় পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাককে ভাবা হতো বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু এখন তরুণ বয়সেই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এই কারণে প্রাণ হারানোর সংখ্যাও কম নয়।

তাই শুধু বয়স্করা নয়, হার্টের অসুখের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে অল্প বয়সীদেরও। এই যে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক, এর পেছনে কারণ কী?

হার্ট অ্যাটাক যে কারণে হয়

কোনো কারণে আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরায় রক্ত ​​চলাচল ঠিকমতো না হলে রক্ত ​​জমাট বাঁধার সমস্যা সৃষ্টি হয়। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক হয়। আমাদের হৃৎপিণ্ডে যখন রক্ত ​​ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না, তখন শিরায় চাপ পড়ে। এর ফলে তখন হার্ট অ্যাটাক হয়।

জীবনযাপনে অনিয়ম

আমাদের বেশিরভাগ অসুখ-বিসুখের কারণ হলো জীবনযাপনের বিভিন্ন অনিয়ম। বর্তমানে বাইরের খাবার বেশি খাওয়া, রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকসহ নানা অনিয়মত করে থাকে তরুণেরা। জীবনযাপনের এসব বদ অভ্যাসের প্রভাব পড়ে শরীরে। বর্তমানে বিভিন্ন দিকে খেয়াল দিতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখার কথা ভুলে যান বেশিরভাগই। যে কারণে ধীরে ধীরে তৈরি হয় হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্র।

ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ

অনেকে না বুঝেই সিগারেট এবং অ্যালকোহলের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের আসক্তি একবার পেয়ে বসলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সিগারেট এবং অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এ ধরনের অভ্যাস সরাসরি ধমনীতে প্রভাব ফেলে। হৃৎপিণ্ড দ্রুত পাম্প করার কারণে এটি পরিণত হয় আক্রমণে।

স্থূলতা

সঠিক খাদ্যাভ্যাস পারে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থতায় সাহায্য করতে। কিন্তু বর্তমানে ভুলভাল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন অনেকে। শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, ট্রিপল ভেসেল ডিজিজ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। যে কারণে বাড়ে বিপদ।

উত্তেজনা

আমাদের দেশে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায়ই অনেকে পাত্তা দিতে চান না, সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার কথা অনেকে চিন্তাও করতে চান না। এদিকে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে মারাত্মক সব রোগের কারণ। বর্তমানে তরুণেরা পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ইত্যাদি নানা দুশ্চিন্তায় থাকে। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর কায়িক শ্রমের অভাবে পেটের মেদ বা ‘বেলি ফ্যাট’ জমানো এখন অনেকের জন্যই নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পেটের এই বাড়তি মেদ কেবল আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যই নষ্ট করে না; বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, পেটের মেদ মূলত দুই ধরনের হয়—চামড়ার নিচে থাকা ‘সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট’ এবং শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে জমে থাকা ‘ভিসারাল ফ্যাট’। এর মধ্যে ভিসারাল ফ্যাট অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সুস্থতার মাপকাঠি হিসেবে আমরা সাধারণত বিএমআই-এর ওপর নির্ভর করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোমর ও নিতম্বের অনুপাত জানা এখন অনেক বেশি জরুরি। যদি পুরুষদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ০.৯ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ০.৮৫-এর বেশি হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার পেটে ক্ষতিকর মেদ জমছে। এই জেদি মেদ ঝরানো বেশ কষ্টসাধ্য হলেও কিছু নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পানীয় বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে মেদ কমানোর এই সংগ্রামকে সহজ করতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন এনডিটিভি ফুড-এর কনসালট্যান্ট নিউট্রিশনিস্ট ড. রূপালী দত্ত।

ড. রূপালী দত্তের পরামর্শ অনুযায়ী পেটের মেদ কমাতে কার্যকরী ৪টি পানীয় নিচে দেওয়া হলো:

১. গ্রিন টি

সামগ্রিক ওজন কমাতে গ্রিন টি-র কার্যকারিতা এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ‘ক্যাটেচিন’ এবং বিশেষ করে ‘EGCG’ বিশ্রামের সময়ও শরীরের ফ্যাট অক্সিডেশনে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে তা সরাসরি পেটের ভেতরের ভিসারাল ফ্যাট কমাতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

২. দারুচিনি চা

দারুচিনি কেবল মসলা হিসেবেই নয়; বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতেও অনন্য। উল্লেখ্য যে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স পেটের মেদ জমার অন্যতম প্রধান কারণ। দারুচিনি শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমিয়ে আনে, যা চিনিযুক্ত খাবার ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আসক্তি কমায়। এর বিপাক বৃদ্ধিকারী গুণাগুণ পেটের চর্বি পোড়াতে অত্যন্ত সহায়ক।

৩. ব্ল্যাক কফি

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পরিমিত (২-৩ কাপ) ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীরের সামগ্রিক মেদ, বিশেষ করে ভিসারাল ফ্যাট উল্লেখযোগ্য হারে কমে। কফিতে থাকা পলিফেনল এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড পেটের চর্বি কমাতে কাজ করে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করলেও এটি চিনি ছাড়া পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. মধু মিশ্রিত পানীয়

পেটের মেদ বা ভিসারাল ওবেসিটি কমাতে মধু একটি চমৎকার উপাদান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি রোধ করতে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। মধু একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ভিসারাল ফ্যাট কোষের কারণে তৈরি হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং বারবার খিদে পাওয়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে।

সতর্কতা

যদিও এই পানীয়গুলো ওজন কমাতে এবং বিপাক প্রক্রিয়া বাড়াতে সহায়ক, তবে মনে রাখতে হবে মেদ কমানোর কোনো ‘শর্টকাট’ বা জাদুকরী উপায় নেই। পেটের মেদ পুরোপুরি ঝরাতে এই পানীয়গুলোর পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা অপরিহার্য। যে কোনো ডায়েট শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় সুজন মণ্ডল (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার হোগলাকান্দি এলাকার পাকা রাস্তার ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

​নিহত সুজন মণ্ডল সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বিষ্ণুদিয়া গ্রামের মন্টু লাল মণ্ডলের ছেলে।

​থানায় দায়ের করা লিখিত আবেদন ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সুজন মণ্ডল নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে কানাইপুর বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে হোগলাকান্দি এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।

​পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারা যান সুজন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

​ঘটনার পর নিহত যুবকের বাবা মন্টু লাল মণ্ডল পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থার আবেদন জানান।

​এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি লিখিতভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।