খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২

মুখে দুর্গন্ধ কেন হয়? সহজ সমাধান জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
মুখে দুর্গন্ধ কেন হয়? সহজ সমাধান জানুন

মুখের দুর্গন্ধ কিংবা হ্যালিটোসিসের প্রধান কারণ হলো— মুখের ভেতরে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া, যা দাঁত, মাড়ি ও জিহ্বায় খাদ্যকণা পচিয়ে সালফার গ্যাস তৈরি করে থাকে। অপরিষ্কার মুখগহ্বর, দাঁতের প্লাক, মাড়ির রোগ, শুষ্ক মুখ, ধূমপান এবং পেঁয়াজ-রসুনজাতীয় খাবার এ সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়া গ্যাস্ট্রিক, সাইনাস কিংবা টনসিলের সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

সাধারণত মুখের দুর্গন্ধের মূল কারণ হচ্ছে— মুখের ভেতরের মাইক্রোবায়োম বা ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। মুখে দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস একটি খুব সাধারণ সমস্যা। মুখ থেকে দুর্গন্ধ বেরোলে তা অত্যন্ত অস্বস্তিকরও বটে। এর পেছনে থাকা কারণগুলো অনেকেই ঠিকভাবে জানেন না। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়।

ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট

আমাদের মুখের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে অনেক ধরনের ভালো কিংবা খারাপ ব্যাকটেরিয়া থাকে। যখন এই ব্যালান্স ঠিক থাকে, তখনই মুখে কোনো সমস্যা হয় না। আর কিছু কারণে এই ভারসাম্য নষ্ট হলে খারাপ ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তারা সালফারজাতীয় যৌগ তৈরি করে, যার ফলে মুখে দুর্গন্ধ হয়।

ডায়েট নিয়ন্ত্রণ

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেঁয়াজ, রসুন, মসলাদার খাবার খাওয়ার পর মুখে দুর্গন্ধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যদি দুর্গন্ধ থাকে, তাহলে তা শরীরের অন্য সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। এই যেমন মাড়ির রোগ, সংক্রমণ কিংবা হজমের সমস্যা।

মুখ শুকিয়ে যাওয়া

মুখ শুকিয়ে যাওয়াও এ সমস্যার একটি বড় কারণ। লালা বা স্যালাইভা মুখের ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু যখন লালা কম তৈরি হয়, তখন ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং দুর্গন্ধ বাড়ে। দীর্ঘ সময় না খাওয়া, কম পানি পান করা কিংবা কিছু ওষুধের কারণে এ সমস্যা হতে পারে।

দাঁত পরিষ্কার করা

মুখে দুর্গন্ধের অন্যতম বড় একটি কারণ হচ্ছে— সঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার না করা। অনেক সময় আমরা শুধু দাঁত ব্রাশ করি, কিন্তু জিহ্বা পরিষ্কার করি না। জিহ্বার ওপর জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া থেকেই দুর্গন্ধ বেশি হয়ে থাকে। এ ছাড়া দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকলেও তা পচে গিয়ে বাজে গন্ধ তৈরি হয়।

সুতরাং সমস্যা এড়াতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করা, জিহ্বা পরিষ্কার করা, নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা ভীষণ জরুরি। এর পাশাপাশি নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে চেক-আপ করানোও প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : যুগান্তর

 

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে ৭ মাসের শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে অভিভাবকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে ৭ মাসের শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে অভিভাবকরা

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে রহিমা আক্তার নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, বুধবার (০১ এপ্রিল) সকালে শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় থেকেই তার অবস্থার অবনতি ছিল বলে জানান চিকিৎসকরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত রহিমা আক্তার মাদারীপুর সদর উপজেলার কাউদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ খানের মেয়ে। শিশুটির মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে হামের উপসর্গ—যেমন জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও দুর্বলতা—নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীস্থ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পাইনি। তবে উপসর্গ বিবেচনায় চিকিৎসকরা এটিকে ক্লিনিক্যালি হামজনিত মৃত্যু হিসেবে ধারণা করছেন।”

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে আরও ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ২৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন এবং জেনারেল হাসপাতালে ৮ জন ভর্তি আছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে এর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এদিকে, জেলায় হামের উপসর্গ বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুত কত, চলবে কয়দিন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুত কত, চলবে কয়দিন?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। দেশে এই মুহূর্তে কত তেল আছে এবং তা দিয়ে কতদিন চলবে এমন প্রশ্ন ঘুরেফিরেই সামনে আসছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকার দাবি করা হলেও ‘তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে’ এমন শঙ্কা থেকে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের লাইন।

জ্বালানি তেল নিয়ে গ্রাহক-বিক্রেতা বাকবিতণ্ডা কিংবা সংঘাতের অভিযোগ যেমন আসছে, তেমনি অবৈধ মজুদ ঠেকাতে চালানো হচ্ছে অভিযানও।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে গোটা দেশে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণই বেশি।

এছাড়া অল্প পরিমাণ অকটেন আমদানি করা হলেও চাহিদার বড় অংশ দেশেই উৎপাদন হয়।

বড় অংশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ আমদানির ওপরই নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বড় ভরসা।

এছাড়া ভারত, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর থেকেও বাংলাদেশে ডিজেল আমদানি করা হয়।

বাংলাদেশের রিজার্ভ সক্ষমতা অনুযায়ী বার্ষিক জ্বালানি তেলের চাহিদার পুরোটা একসাথে মজুত করার সুযোগ নেই। মূলত চাহিদার নিরিখে নিয়মিতভাবে চালান আসে, ব্যবহার হয়- এভাবে চক্রাকারে চলতে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিয়ে বৈশ্বিক সংকট শুরুর শঙ্কায় মার্চ মাস থেকেই জ্বালানি তেল ব্যবহারে রেশনিং (সাশ্রয়ী ব্যবহার) শুরু করে বাংলাদেশ।

মূলত আগের বছরের মাসভিত্তিক চাহিদার সাথে মিল রেখেই এই মুহূর্তে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

সেই হিসেবে মার্চের মতো এপ্রিল মাসেও জ্বালানি তেলের সংকট হবে না বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

তেলের মজুদ কত?

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মজুদ কত? কতদিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব? এই প্রশ্নগুলো এখন অনেক বেশি আলোচনায়।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন।

এছাড়া সাত হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুদ রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ডিজেলের গড় নিয়মিত চাহিদা ১২ হাজার মেট্রিক টনের মতো। অর্থাৎ মজুদ থাকা ডিজেলে প্রায় ১১ দিনের মতো চলবে।

তার মানে এই নয় যে, জ্বালানি তেলের মজুদ ফুরিয়ে শূন্য হয়ে যাবে। এই সময়ে নতুন করে আমদানি করা জ্বালানি তেলের চালান দেশে পৌঁছালে আবারও এই মজুত বাড়বে।

যেমন সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন এবং মার্চ মাসে ভারত থেকে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

এছাড়া অকটেন পেট্রোলের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের ব্যবহারের পাশাপাশি স্টকে নতুন করে তেল যুক্তও হচ্ছে বলে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই মুহূর্তে মাসভিত্তিক চাহিদা পূরণেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

তিনি জানান, গত বছরের এপ্রিলে দেশে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়েছিল এই বছরের এপ্রিলেও একই পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দাবি মি. চৌধুরীর। তিনি বলছেন, “ডিজেলে কোনো সংকট নেই, বরং পাচারের শঙ্কা থাকতে পারে, যা সরকার বিবেচনায় রেখেছে- সীমান্তে নির্দেশনা দেওয়া আছে।”

জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রসঙ্গে মি. চৌধুরী বলছেন, মজুদের চেষ্টা থাকায় এই মুহূর্তে প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করা কঠিন হচ্ছে।

এক্ষেত্রে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশে অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ থাকা উচিত।

কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা না থাকায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম।

“স্টোরেজ বা সংরক্ষণ সক্ষমতা কম হওয়ায় আমরা সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ দিনের বেশি তেল মজুদ করে রাখতে পারি না,” বলেন মি. তামিম।

‘কৌশলগত মজুদের’ সক্ষমতা না থাকা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ বলেও মনে করেন তিনি।

“সব সময়ই মজুদ ওঠানামা করে। সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ার সঙ্গেও জুন মাস পর্যন্ত আমাদের জ্বালানি চুক্তি আছে, কিন্তু তাদেরও অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকেই। ফলে তারা যে পরিশোধিত তেল দেয় সেটাও ধারাবাহিক থাকবে না,” বলেন তিনি।

জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা কেন?

“প্রায় দুই ঘণ্টা দাড়াইছি এক পাম্পের সামনে পরে বলে তেল নাই। পরে আরেকটা পাম্পে আইসা অনেকক্ষণ দাড়াইয়া দুইশ টাকার তেল দিছে।”

এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা বলছিলেন ঢাকার বংশাল এলাকার বাসিন্দা মোটরসাইকেল চালক আনিসুর রহমান। পাম্প থেকে তেল দিতে অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

অন্যদিকে পেট্রোল পাম্প মালিকরা নিরাপত্তা চেয়েছেন সরকারের কাছে। তাদের দাবি, কোনো অনিয়ম না করেই অনেক সময় গ্রাহকদের আক্রোশের শিকার হচ্ছেন তারা।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আদেশ, নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস অবস্থা।

এছাড়া অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে রাতের বেলা পেট্রোল এবং অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগে কয়েকটি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে প্রশাসন।

সব মিলিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংকট না থাকার কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্বস্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে প্রতিদিনই যানবাহনের লাইন দীর্ঘ হওয়ার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে অস্থিরতাও বাড়ছে।

যদিও জ্বালানি তেলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা সরকার করছে বলে দাবি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরীর।

তিনি বলছেন, মার্চের মতো এপ্রিল মাসেও জ্বালানি তেল সংকটের কোনো শঙ্কা নেই।

তাহলে পেট্রোল পাম্পের সামনে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের এমন দীর্ঘ লাইন কেন? এই প্রশ্নের জবাবে মি. চৌধুরী বলছেন, “এই দীর্ঘ লাইন মনস্তাত্ত্বিক। আমরা কোনো সংকট দেখছি না।”

সরকার কী করছে?

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে আলোচনা শুরুর পর থেকেই ‘প্যানিক বাইং’ এবং ‘মজুদ’ এই শব্দগুলোও অনেক বেশি সামনে আসছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাশ্রয়ী ব্যবহারের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংগ্রহের কথা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

এছাড়া জ্বালানি তেলের মজুদ এবং এর সঠিক ব্যবস্থাপনায় দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে ১১৬ জন, ঢাকার ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামের ১১ জেলায় ৩৩০ জন, রাজশাহীর আট জেলায় ৩৪০ জন, খুলনার দশ জেলায় ৩০১ জন কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার হিসেবে কাজ করছেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলছেন, বাকি বিভাগগুলোতেও একইভাবে সরকারিভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

“জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মকর্তারা কাজ করবে এবং এ সংক্রান্ত নিয়মিত তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন,” বলেন তিনি।

এছাড়া জ্বালানি তেল মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান মি. চৌধুরী।

তিনি বলেন, ৩০শে মার্চ একদিনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সারাদেশে ৩৯১টি অভিযান চালানো হয়েছে।

“এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা করা হয়েছে, প্রায় দশ লাখ টাকা জরিমানা এবং তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে,” জানান তিনি।

এছাড়া প্রায় ৬৮ হাজার লিটার ডিজেল, সাড়ে ছয় হাজার লিটার অকটেন এবং প্রায় ১৪ হাজার লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলছেন, বাংলাদেশের জ্বালানি তেল সাধারণত দুই ভাবে কেনা হয়। উৎস দেশের সঙ্গে সরকারিভাবে চুক্তির মাধ্যমে অথবা ওপেন টেন্ডারে স্পট মার্কেটের মাধ্যমে।

“ভারত, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো কয়েকটি দেশের সঙ্গে আমাদের চুক্তির মেয়াদ এখনো রয়েছে। এছাড়া আমেরিকা ও চীনের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করছি জ্বালানি তেল আনার ব্যাপারে,” বলেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

মুড়ি না চিড়া—কোন খাবারটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
মুড়ি না চিড়া—কোন খাবারটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

সকালের হালকা নাশতা বা গল্প-আড্ডার সময় চিড়া ও মুড়ি দুটোই বেশ জনপ্রিয়। কেউ চিড়া বেশি পছন্দ করেন, কেউ মুড়ি। দুটিই চাল থেকে তৈরি হলেও প্রস্তুতি ও পুষ্টিগুণে পার্থক্য রয়েছে।

চিড়া ও মুড়ির প্রস্তুতি:

মুড়ি তৈরি হয় চালকে উচ্চ তাপে ফুলিয়ে, এতে পানি খুব কম থাকে। চিড়া তৈরি হয় ভিজিয়ে, চাপ দিয়ে ও শুকিয়ে; এতে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। দু’টিই মূলত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ, তবে চিড়ায় ফাইবার ও খনিজ বেশি থাকতে পারে।

মুড়ি:

ওজন কমানোর জন্য মুড়ি বেশ জনপ্রিয়। এতে ক্যালোরি কম, হজম সহজ এবং ফ্যাটও কম। তবে হজমের পর তা দ্রুত ক্ষুধা বাড়ায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা হতে পারে।

চিড়া:

চিড়া তুলনামূলকভাবে ভারী ও দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। দই, বাদাম বা ফল মিশালে এটি পুষ্টিকর নাশতা হিসেবে আদর্শ। এতে প্রোটিন ও ফাইবার থাকলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কম হয়।

হজমের দিক:

মুড়ি হালকা ও সহজে হজম হয়। অ্যাসিডিটি থাকলে খালি পেটে মুড়ি অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। চিড়া ভিজিয়ে খেলে তা পেটের জন্য আরামদায়ক হয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য:

চিড়া-মুড়ি উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত হতে পারে। তাই পরিমিত খাওয়া জরুরি। প্রোটিন বা ফাইবার সঙ্গে মিশালে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ।

শিশু ও বয়স্কদের জন্য:

উভয়ই শিশুর ও বয়স্কদের জন্য উপকারী। মুড়ির সঙ্গে সেদ্ধ ছোলা, শসা বা সামান্য সরিষার তেল মেশানো হলে পুষ্টিকর হয়। চিড়া দুধ বা দইয়ের সঙ্গে খেলে শক্তির উৎস হিসেবে কার্যকর।