খুঁজুন
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যে ৮ কারণে মুখের চামড়া কুঁচকে যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
যে ৮ কারণে মুখের চামড়া কুঁচকে যায়?

বাংলাদেশে বয়স বাড়া মানেই অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়া। কপালের ত্বকে ভাঁজ, চোখের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা কিংবা গালের মসৃণতা হারিয়ে যাওয়া; এসব লক্ষণ যেন চেহারার তারুণ্যকেই কেড়ে নেয়।

অনেক সময় বয়স না বাড়লেও অল্প বয়সেই ত্বকে কুঁচকে যাওয়া শুরু হয়, যা উদ্বেগ বাড়ায় আরও বেশি। শহরের ধুলাবালি, রোদের তাপ, ব্যস্ত জীবনের মানসিক চাপ, রাত জাগা, অস্বাস্থ্যকর খাবার; সব মিলিয়ে ত্বক তার স্বাভাবিক জেল্লা হারাতে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বয়স নয়, নানা ধরনের অভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার কারণেও মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়তে পারে। তবে সুখবর হচ্ছে, কিছু সচেতনতা আর নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যাকে অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

এসব বিষয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধতে বিস্তারিত কারণ ও সমাধানের উপায় জানিয়েছেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি-এর মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ হোসেন খান।

চলুন তাহলে জেনে নিই, কেন চামড়া কুঁচকে যায়—

১. বয়সজনিত পরিবর্তন

ডা. সাইফ হোসেন খান বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কপাল ও মুখের চামড়া কুঁচকে যাওয়া একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন। ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামক প্রোটিন থাকে, যা ত্বককে টান টান ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোটিন কমে যায়, ফলে ত্বক ঢিলা হয়ে যায়।

২. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি-রে)

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত রোদে কাজ করলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয় ও ত্বকে ভাঁজ পড়ে।

৩. পানিশূন্যতা

পানি আমাদের ত্বকের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পানি না খেলে ত্বক ম্লান হয় ও কুঁচকে যায়।

৪. ধূমপান ও অ্যালকোহল

ধূমপান ও মদ্যপান শরীরের ওপর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস নামক বিশেষ ধরনের চাপ তৈরি করে। এসব অভ্যাস রক্তসঞ্চালন কমায় এবং ত্বকের কোষের ক্ষতি করে। ফলে দ্রুত চামড়া কুঁচকে যায়।

৫. অতিরিক্ত চা-কফি পান

অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করে। শরীরে যখন পর্যাপ্ত অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে না, তখন ত্বকেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এই পর্যায় হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। অতিরিক্ত চা-কফি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত চা-কফি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে, যার কারণে ত্বক কুঁচকে যেতে পারে।

৬. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব

সময়মতো ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি ত্বকের সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ত্বক ক্লান্ত দেখায়, সতেজ ভাব চলে যায়।

৭. পুষ্টির অভাব

ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে দরকার বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ (যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, জিংক ইত্যাদি)। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে ত্বক সহজেই কুঁচকে যায়।

৮. অভ্যাসগত মুখভঙ্গি

অনেকেরই বারবার কপাল কুঁচকানো বা ভ্রু কুঁচকানোর অভ্যাস থাকে। বারবার এ রকম কপাল, মুখ কুঁচকালে ত্বকে একধরনের চাপের সৃষ্টি হয়, যার কারণে স্থায়ী রেখা তৈরি হয়।

প্রতিরোধে করণীয়

ত্বকের কুঁচকে যাওয়া ঠেকাতে কিছু বিষয় নিয়মিত চর্চা করার পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ।

ত্বকের যত্ন : প্রতিদিন মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। রাতে শোবার আগে ত্বক পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ত্বকের উপযোগী কিছু ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

খাদ্য ও পানীয় : প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। খাবারে প্রচুর ফল, শাকসবজি, বাদাম ও মাছ রাখুন (ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার)। ভিটামিন সি (কমলা, লেবু, পেয়ারা), ভিটামিন ই (বাদাম, সূর্যমুখী তেল), জিংকসমৃদ্ধ (ডাল, মাছ) খাবার খাওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ভাজা খাবার, তেলে ভাজা খাবার ও ফাস্টফুডের অভ্যাস কমাতে হবে।

জীবনযাপন : প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন। ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন।

চিকিৎসা ও পরামর্শ

ডা. সাইফ বলেন, ভাঁজগুলো যদি বেশি গভীর হয় বা দ্রুত বেড়ে যায়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রয়োজনে মেডিকেল গ্রেড ক্রিম, লেজার থেরাপি, মাইক্রোনিডলিং, বোটক্স/ফিলার দিতে পারেন। তবে এসব চিকিৎসা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।

 

‘ফেন্সী বাবু’

জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
‘ফেন্সী বাবু’

নিত্যদিনই মাদক খেয়ে
ঘুম ঢুলঢুল চোখে,
ফেন্সিতে পেট ভরেন তিনি
জানে সর্ব লোকে।

শতেক খানিক ডিলার তাহার
হাজার খানেক খোর,
কেউবা ডাকাত কেউবা নেতা
কেউবা আবার চোর।

গুরুর আশির্বাদে সবাই
খায় চিবিয়ে গাঁজা,
ফেন্সী খোর এই ফেন্সী বাবু
এই শহরের রাজা!

হঠাৎ দেখি ফেন্সী বাবুর
খুব গর্জন মুখে,
নেশা মেশা উড়িয়ে দেবে
নিজের গ্রাম থেকে।

খুবতো হলো মিটিং মিছিল
রাখবো না আর নেশা,
যে যার মতো যাও পালিয়ে
ছাড়ো এমন পেশা।

সবার মাঝে কানাঘুষা
ডিলার উনি নিজে,
এই লোকেতেই বলছে কি সব
বলছে এসব কি-যে।

হাস্যকর এই ভাষণ মাষণ,
অভিনয়ে ভরা,
ওনার লোকে ওনার কাছে
দেবে নাকি ধরা?

খুব হেসেছি খুব হেসেছি
ক্যামনে এটা হয়?
ফেন্সি ডিলার এখন দেখি
আজব কথা কয়!

মাদক সেবী কখোনো কি
মাদক নির্মুল করে?
আগে নিজে হও ভাল হও
এসব মিটিং পরে।

মিটিং শেষে বাসায় গিয়ে
ফেন্সিতে দেও ঢোক,
ফেন্সি তোমার কাছে এখন
উচ্চ দামী কোক।

চাকরির ইন্টারভিউতে বেতনের প্রশ্নের উত্তর দেবেন যেভাবে

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
চাকরির ইন্টারভিউতে বেতনের প্রশ্নের উত্তর দেবেন যেভাবে

চাকরির ইন্টারভিউতে অনেক কঠিন প্রশ্নের জন্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি নেন। নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আগেভাগেই চর্চা করেন। কিন্তু একটি প্রশ্নের মুখে পড়েই অনেকের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যায়; আর সেটি হলো ‘আপনার প্রত্যাশিত বেতন কত?’

প্রশ্নটি শুনতে সহজ মনে হলেও এটি চাকরির ইন্টারভিউয়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি। খুব কম বললে নিজের মূল্য কমিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে, আবার বেশি বললে নিয়োগদাতার আগ্রহ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।

ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতনসংক্রান্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতি, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগ।

কেন নিয়োগদাতারা বেতন নিয়ে প্রশ্ন করেন?

অনেকেই মনে করেন, শুধু বেতন নির্ধারণের জন্যই এ প্রশ্ন করা হয়। বাস্তবে নিয়োগদাতারা আরও কয়েকটি বিষয় বোঝার চেষ্টা করেন—

– প্রার্থী নিজের বাজারমূল্য সম্পর্কে কতটা সচেতন

– প্রতিষ্ঠানের বাজেটের সঙ্গে তার প্রত্যাশা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না

– অর্থের পাশাপাশি চাকরির অন্যান্য দিক নিয়ে তার আগ্রহ কতটুকু

– আলোচনায় তিনি কতটা পেশাদার

ক্যারিয়ারবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ইনডিড-এর মতে, বেতন নিয়ে আলোচনা প্রার্থীর পেশাদার প্রস্তুতি ও বাস্তবসম্মত প্রত্যাশারও একটি পরীক্ষা।

ইন্টারভিউয়ের আগে বাজার যাচাই করুন

বেতন নিয়ে কথা বলার আগে সংশ্লিষ্ট পদে বাজারে সাধারণত কত বেতন দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ধারণা থাকা জরুরি। একই পদে ঢাকায় যে বেতন দেওয়া হয়, মফস্বল শহরে তা ভিন্ন হতে পারে। আবার বহুজাতিক কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা কিংবা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামোও এক নয়।

নির্দিষ্ট অঙ্ক নয়, যুক্তিসঙ্গত একটি পরিসর বলুন

ইন্টারভিউ বোর্ড যদি সরাসরি প্রত্যাশিত বেতন জানতে চায়, তাহলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার পরিবর্তে একটি যৌক্তিক পরিসর উল্লেখ করা ভালো।

উদাহরণ: ‘আমার অভিজ্ঞতা, দায়িত্বের পরিধি এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে একটি প্যাকেজ প্রত্যাশা করছি। তবে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উত্তর নমনীয়তা প্রকাশ করে এবং আলোচনার পথও খোলা রাখে।

খুব দ্রুত বেতনের বিষয়ে কথা তুলবেন না

ইন্টারভিউয়ের শুরুতেই বেতন নিয়ে আগ্রহ দেখানো অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। প্রথমে নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্ভাব্য অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করুন। নিয়োগদাতা যখন বেতন প্রসঙ্গ তুলবেন, তখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলাই বেশি পেশাদার আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানের কাছে আপনার মূল্য প্রমাণের আগেই বেতন নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা করলে আপনি শুধু অর্থকেন্দ্রিক—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে।

বর্তমান বেতন জানতে চাইলে কী বলবেন?

বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই নিয়োগদাতারা বর্তমান বেতন সম্পর্কে জানতে চান। এ ক্ষেত্রে তথ্য গোপন না করাই ভালো। তবে শুধু বেতনের অঙ্ক বলেই থেমে গেলে চলবে না।

উদাহরণ: ‘বর্তমানে আমার মোট মাসিক প্যাকেজ ৪৫ হাজার টাকা। তবে নতুন পদে দায়িত্ব ও কাজের পরিধি বেশি হওয়ায় আমি কিছুটা উন্নত প্যাকেজ প্রত্যাশা করছি।’ এ ধরনের উত্তর বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা দুইটিই পরিষ্কার করে।

কম বেতন প্রস্তাব পেলে কী করবেন?

প্রথম প্রস্তাবই চূড়ান্ত নয়। নিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানই আলোচনার সুযোগ রেখে প্রাথমিক প্রস্তাব দেয়। তাই ভদ্র ও পেশাদার ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরা যেতে পারে।

উদাহরণ: ‘প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ। তবে আমার অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বের পরিধি বিবেচনায় কিছুটা উন্নত প্যাকেজ হলে আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব।’ এ ধরনের উত্তর আলোচনার সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু সম্পর্কের অবনতি ঘটায় না।

যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

প্রস্তুতি ছাড়া ইন্টারভিউতে যাওয়া

অবাস্তব অঙ্ক দাবি করা

খুব কম বেতন চাওয়া

আবেগপ্রবণ হওয়া

‘যা দেবেন তাই চলবে’ বলা

শেষ কথা

চাকরির ইন্টারভিউতে বেতনের প্রশ্নের কোনো একক সঠিক উত্তর নেই। তবে সঠিক প্রস্তুতি, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগ আপনাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে পারে।

মনে রাখতে হবে, বেতন শুধু অর্থের বিষয় নয়; এটি আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত মূল্যেরও প্রতিফলন। তাই বেতনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বিনয়ী থাকুন, কিন্তু নিজের মূল্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

তথ্যসূত্র: ক্যারিয়ার ইনডিড, লিংকডইন, স্যালারি ডটকম ও পেস্কেল

মাস শেষে টাকা থাকে না? মধ্যবিত্তের ৭ সাধারণ ভুল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
মাস শেষে টাকা থাকে না? মধ্যবিত্তের ৭ সাধারণ ভুল

মাসের শুরুতে বেতন হাতে আসার পর মনে হয় এবার কিছু টাকা জমবে। কিন্তু মাসের শেষ সপ্তাহে এসে দেখা যায়, ব্যাংক হিসাব প্রায় শূন্য। অনেক ক্ষেত্রে আবার ধার বা ক্রেডিট কার্ডের ওপরও নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর বড় একটি অংশ এই বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যায়।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আয় কম হওয়াই এর কারণ নয়; বরং কিছু সাধারণ আর্থিক ভুলও মানুষকে মাস শেষে সংকটে ফেলে দেয়। বিভিন্ন গবেষণা ও আর্থিক পরামর্শভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন কয়েকটি অভ্যাস, যা দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

১. বাজেট না করে খরচ করা

অনেকেই জানেন মাসে কত টাকা আয় করেন, কিন্তু কোথায় কত খরচ হচ্ছে তার হিসাব রাখেন না। ফলে প্রয়োজনীয় খরচ ও অপ্রয়োজনীয় খরচ একাকার হয়ে যায়। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেট না থাকলে অর্থ কোথায় চলে যাচ্ছে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। মাসের শুরুতেই বাসাভাড়া, বাজার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সঞ্চয়ের জন্য আলাদা পরিকল্পনা না থাকলে মাস শেষে অর্থসংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

২. বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে ফেলা

বেতন বাড়লেই নতুন ফোন, দামি রেস্টুরেন্ট, বেশি ঘোরাঘুরি কিংবা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। অর্থনীতিতে একে বলা হয় ‘লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন’ বা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। এতে আয় বাড়লেও সঞ্চয় বাড়ে না। বরং আগের মতোই মাস শেষে অর্থকষ্ট থেকে যায়।

৩. জরুরি তহবিল না রাখা

হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরি হারানো, দুর্ঘটনা বা পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে বড় অঙ্কের অর্থের দরকার হতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের আলাদা জরুরি তহবিল নেই। ফলে সংকটের সময় ঋণ বা ধারই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের প্রয়োজনীয় খরচের সমপরিমাণ জরুরি সঞ্চয় রাখার পরামর্শ দেন।

৪. ছোট ছোট খরচকে গুরুত্ব না দেওয়া

প্রতিদিনের চা-নাস্তা, অনলাইন ডেলিভারি, অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন কিংবা হঠাৎ কেনাকাটা; এসব খরচ অনেকের কাছেই তুচ্ছ মনে হয়। কিন্তু মাস শেষে এসব ছোট ব্যয় মিলিয়ে বড় অঙ্কের টাকা বেরিয়ে যায়। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটিকে ‘মানি লিকেজ’ বা অর্থের অদৃশ্য অপচয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. ঋণ ও কিস্তির চাপকে স্বাভাবিক মনে করা

বাড়ি, গাড়ি কিংবা প্রয়োজনীয় খাতে ঋণ নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সমস্যা শুরু হয় যখন একাধিক কিস্তি ও ঋণের বোঝা মাসিক আয়ের বড় অংশ গ্রাস করতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ সুদের ঋণ ও অপ্রয়োজনীয় কিস্তি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক পরিবার মাসের বড় অংশের আয় শুধু ঋণ পরিশোধেই ব্যয় করে ফেলে।

৬. সঞ্চয়কে শেষে রাখা

অনেকেই সব খরচ করার পর যা বাঁচে, সেটি সঞ্চয় করার চেষ্টা করেন। বাস্তবে মাস শেষে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। অর্থ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ‘খরচের পর সঞ্চয় নয়, সঞ্চয়ের পর খরচ।’ অর্থাৎ বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে রাখা উচিত।

৭. ভবিষ্যতের জন্য কোনো পরিকল্পনা না থাকা

অনেকেরই মাসিক আয়-ব্যয়ের হিসাব আছে, কিন্তু পাঁচ বছর বা দশ বছর পর কোথায় থাকতে চান সেই পরিকল্পনা নেই। আর্থিক লক্ষ্য না থাকলে সঞ্চয়ের আগ্রহও কমে যায়। ফলে বাড়ি কেনা, সন্তানের উচ্চশিক্ষা, অবসর জীবন বা বড় কোনো স্বপ্নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ গড়ে ওঠে না। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশ্লেষণগুলো বলছে, শুধু বাজেট নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও আর্থিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

শেষ কথা

মধ্যবিত্তের আর্থিক সংকটের পেছনে সবসময় কম আয় দায়ী নয়। অনেক সময় কিছু অভ্যাসই ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের পথ বন্ধ করে দেয়। বাজেট তৈরি, ছোট খরচ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি তহবিল গঠন এবং ভবিষ্যতের জন্য সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ; এই কয়েকটি পদক্ষেপই মাস শেষে হাতে কিছু টাকা রাখার পথ সহজ করতে পারে। অর্থনীতির ভাষায় সম্পদ গড়ে ওঠে শুধু বেশি আয় থেকে নয়, বরং আয়কে কতটা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপরও।

তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, বাজেট প্ল্যান, নিউইয়র্ক পোস্ট