খুঁজুন
, ,

সকালে ঘুম ভাঙার পর যে ৩০ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
সকালে ঘুম ভাঙার পর যে ৩০ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

সুখী জীবনের জন্যে সুস্বাস্থ্যের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বিশ্বে মানুষ স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বেড়েই চলেছে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের রোগীর সংখ্যা। বাড়ছে হাড়ের সমস্যা।

কম বয়সিরাও ভুগছে জয়েন্টের ব্যথায়। নেপথ্যে দায়ী সেডেন্টারি লাইফস্টাইল। দৈনন্দিন জীবনে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে এ ধরনের সমস্যা সহজেই এড়াতে পারবেন। সারাদিন শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকা, এক জায়গায় বসে না থাকা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া—এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম ৩০ মিনিট কী করবেন জানেন?

ঘুম থেকে ওঠার পরের ৩০ মিনিট কী কী করবেন?

হাইড্রেশন

৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম একাধিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আর এই নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে আপনি পানি খান না। তাই ঘুম থেকে ওঠার পরে শরীর ডিহাইড্রেট থাকে। তাই বিছানা থেকে নামা মাত্র পানি পান করুন।

এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন। এ ছাড়া কুসুম গরম লেবুর পানিও খেতে পারেন। বরং, চা-কফি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলুন।

স্ট্রেচিং

মুখ ধোয়া, গোসল করার মতো প্রাত্যহিক কাজগুলো শুরু করার আগে একটু স্ট্রেচিং করে নিন। হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন।

৫-১০ মিনিট করলেই হবে। এতে শরীরে ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়বে এবং জয়েন্টের স্টিভনেস বা কঠোর ভাব এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি কাজ করার এনার্জি পাবেন।

রোদে দাঁড়ান

সকালের রোদ স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। এটি শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ করে। তাই অন্তত ১৫ মিনিট রোদে দাঁড়ান। এই অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী।

এক্সারসাইজ

একদম ওয়ার্কআউট না করলে স্ট্রেচিং করে নিন। আর ফিট থাকতে হলে সকালবেলাই এক্সারসাইজ সেরে নিন। ব্রিস্ক ওয়াকিং, সাইকেলিং, সুইমিং করতে পারেন। কিংবা জিমে গিয়েও ঘাম ঝরাতে পারেন। দিনের শুরুতেই শরীরচর্চা করে নেয়া জরুরি। এতে সারাদিন কাজ করার এনার্জি মেলে এবং মন ভালো থাকে।

দিনের কাজ গুছিয়ে নিন

সারাদিন কী কী করবেন, কী রান্না করবেন, কখন কোথায় যাবেন— সব প্ল্যান সেরে রাখুন। এতে সারাদিন যতই ব্যস্ততা থাকুক, সব কাজ সময় মতো করতে পারবেন।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ প্রহরায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) এবং একই গ্রামের নাসির মোল্যা (৩৬)।

​মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী স্থানীয় গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১ নম্বর আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে আসামি নাসির মোল্যা দেখা করার জন্য ওই ছাত্রীর বাড়ির কাছাকাছি জীবন মন্ডলের বাগানের কাছে আসে। খবর পেয়ে ছাত্রীটি সেখানে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়।

​পরবর্তীকালে আসামিরা তাকে মধুমতি নদীর তীরে থাকা একটি নৌকায় তুলে চরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে এবং মোবাইল ফোনে সেই নৃশংস ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ ও ছবি তোলে। পাশবিক নির্যাতনে ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে আসামিরা তাকে পুনরায় নৌকায় করে নদীর পাড়ে ফিরিয়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

​অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগী বাড়ি ফিরে তার মা, বাবা ও স্বজনদের বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি বোয়ালমারী থানায় হাজির হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

​মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, “আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।”

জলবায়ু পরিবর্তন: বাস্তুচ্যুতি, বৈষম্য ও মানবিক ঝুঁকি

নিকোলাস বিশ্বাস
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন: বাস্তুচ্যুতি, বৈষম্য ও মানবিক ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উঠলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছু পরিচিত দৃশ্য – ভয়াবহ দাবানল, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ কিংবা খরায় ফেটে যাওয়া মাটি। সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টেলিভিশনের পর্দায় এসব দৃশ্যই সবচেয়ে বেশি স্থান পায়। কারণ এগুলো তাৎক্ষণিক, দৃশ্যমান এবং উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এগুলো জলবায়ু সংকটের কেবল দৃশ্যমান অংশ। যেমনি হিমশৈলের (Iceberg) সবচেয়ে বড় এবং গভীর অংশ লুকিয়ে থাকে পানির নিচে তেমনি জলবায়ূ পরিবর্তনের গভীর প্রভাব ও ক্ষত মিশে থাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মাঝে যা উপর থেকে দেখা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ফসলহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলে। এই সংকটকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে গিয়ে এর অন্তর্নিহিত কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবগুলো বুঝতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

দৃশ্যমান দুর্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকাশ্য রূপ

বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা ক্রমাগত বাড়ছে। অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং দাবানল পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপর্যস্ত করছে। এসব দুর্যোগ তাৎক্ষণিক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলো ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের মনোযোগ সীমাবদ্ধ থাকে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই, অথচ এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলো অনেক বেশি গভীর এবং জটিল যা আমাদের জীবনকে দূর্বীসহ করে তোলে।

দুর্যোগের আড়ালে শুরু হয় আরেকটি সংকট

প্রতিটি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ একটি দীর্ঘ শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়ার সূচনা করে। যখন খরায় ফসল নষ্ট হয়, তখন শুধু কৃষকের উৎপাদনই কমে না; খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেয়, বাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে যায় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও বেশি খাদ্য অনিরাপত্তার মুখোমুখি হয়। কৃষক তার আয়ের উৎস হারান, পরিবারগুলো ঋণের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয় এবং অনেক মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

একইভাবে নদী, খাল ও জলাধার শুকিয়ে গেলে শুধু পানির সংকটই সৃষ্টি হয় না; কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়, যা তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগকেও সীমিত করে।

খাদ্য নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুতর কিন্তু কম আলোচিত প্রভাবগুলোর একটি হলো খাদ্য নিরাপত্তা। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা হ্রাস, বন্যা ও খরার কারণে কৃষি উৎপাদন দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের ক্ষুদ্র কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ফসলের উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। দরিদ্র পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে কম এবং নিম্নমানের খাদ্য গ্রহণ করে। এর ফলে অপুষ্টি বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যে। ক্ষুধা তখন শুধু একটি মানবিক সংকট নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা ও টেকসই খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব হুমকি

জলবায়ু পরিবর্তন এখন জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার কারণে নিরাপদ পানির উৎস দূষিত হয়ে কলেরা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে মশাবাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার বিস্তার নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে জরুরি চিকিৎসা প্রদান ব্যাহত হয়। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী ও সহনশীল করে গড়ে তোলা জরুরি।

অর্থনৈতিক ক্ষতি ও বৈষম্যের বিস্তার

জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতিকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিটি দুর্যোগের পর সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠনে। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। তারা সঞ্চয় হারায়, ঋণগ্রস্ত হয়, অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্যের চক্রে আটকে পড়ে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যেসব জনগোষ্ঠীর দায় সবচেয়ে কম, তারাই এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন ও সামাজিক অস্থিরতা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, উপকূলীয় লবণাক্ততা, বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে বহু এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। ফলে জলবায়ুজনিত অভিবাসন দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে সীমিত ভূমি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক অঞ্চলে সামাজিক উত্তেজনা, সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত নয়, সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ নতুন অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। ভবিষ্যতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ এবং বৈশ্বিক অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বা পরিবেশগত অভিবাসীর সংখ্যা ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১০০ কোটিরও বেশি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হতে পারে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই প্রায় ২ কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারে। Internal Displacement Monitoring Centre (IDMC) -এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে (২০১৪–২০২৩) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটিয়েছে যা বিভিন্ন দেশে অমানবিক বিপর্যয় ডেকে আনছে।

জলবায়ু সংকট: উন্নয়নেরও বড় চ্যালেঞ্জ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্পর্শ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষা ব্যাহত হয়। স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হয়ে পড়ে। কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে ব্যয় করতে হয়। ফলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন অনেক দেশের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এজন্য পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরী।

দুর্যোগের আগে বিনিয়োগই সর্বোত্তম সমাধান

জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা শুধু দুর্যোগের পর ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রয়োজন জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা, বন ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে এমন নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা দুর্যোগ ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেবে এবং তাদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

দৃশ্যমান ক্ষতির বাইরে তাকানোর সময় এখনই

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটিই মানুষের জীবন, জীবিকা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই শুধু বন্যা, খরা কিংবা দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলেই চলবে না। আমাদের দেখতে হবে খাদ্য সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বাস্তুচ্যুতি এবং উন্নয়নের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। এই সামগ্রিক চিত্রটি উপলব্ধি করলেই আমরা এমন নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সহনশীল, নিরাপদ এবং টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

উপসংহার: সংকটের আড়ালে গভীর সংকট

জলবায়ু পরিবর্তন কেবল একটি পরিবেশগত সংকট নয়; এটি মানবসভ্যতার অস্তিত্ব, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এক বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ। অতএব, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আমাদের শুধু দৃশ্যমান দুর্যোগ নয়, বরং এর অন্তর্নিহিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলোর প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রকৃত সমাধান তখনই সম্ভব, যখন আমরা কেবল লক্ষণ নয়, সংকটের মূল কারণ এবং এর বহুমাত্রিক প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সহনশীল এবং টেকসই পৃথিবী নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

লেখক: নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রীল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত। যোগাযোগ: gonomaddyom@gmail.com

ভাঙ্গায় মহাসড়কে পার্কিং নিয়ে কথা কাটাকাটি, পিস্তল বের করে যুবকের প্রকাশ্যে গুলি

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় মহাসড়কে পার্কিং নিয়ে কথা কাটাকাটি, পিস্তল বের করে যুবকের প্রকাশ্যে গুলি

ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে প্রাইভেটকার পার্কিংকে কেন্দ্র করে এক যুবকের জনসমক্ষে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তাড়াহুড়ো করে সরতে গিয়ে ২ জন আহত হয়েছেন।

​ঘটনার একটি ২৬ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

​সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আমিন জানান, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী একটি প্রাইভেটকার হাইওয়ে থানার সামনে থামিয়ে এক যুবক ও যুবতী চা খেতে নামেন। গাড়িটি সড়কের ওপর রাখা দেখে স্থানীয়রা চালককে কিছুটা সাইড করে পার্কিং করার জন্য অনুরোধ জানান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই যুবক গাড়ি থেকে পিস্তল বের করে জনসমক্ষে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আকস্মিক বিকট শব্দে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যায়।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু জানান, বিষয়টি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে খবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।