খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭ মাঘ, ১৪৩২

ব্যবহার শেষে বাথরুমে তোয়ালে ঝুলিয়ে রাখা কি নিরাপদ? জানুন সত্যটা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩১ এএম
ব্যবহার শেষে বাথরুমে তোয়ালে ঝুলিয়ে রাখা কি নিরাপদ? জানুন সত্যটা

দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসই অনেক সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা আমরা অনেকে খেয়ালই করি না। ঠিক তেমনই একটি সাধারণ অভ্যাস হলো, গোসলের পর ব্যবহৃত তোয়ালে বাথরুমের রডে ঝুলিয়ে রেখে দেওয়া। অধিকাংশ মানুষই মনে করেন, তোয়ালে শুকিয়ে গেলেই তা আবার ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাথরুমের স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখা তোয়ালে অজান্তেই হয়ে উঠতে পারে জীবাণুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস থেকে ত্বকের নানা সমস্যা থেকে শুরু করে সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই তোয়ালে ব্যবহারের পর কীভাবে সংরক্ষণ করবেন, কতদিন পরপর ধুবেন— এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

বাথরুমে তোয়ালে রাখলে ঝুঁকি কেন বাড়ে

বাথরুমের এমন অনেক জায়গা আছে, যেগুলো জীবাণুর জন্য আদর্শ পরিবেশ। টাওয়েল রডও তার মধ্যে একটি। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, কম আলো-বাতাস— এসব কারণে সেখানে সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে।

অনেকে মনে করেন, তোয়ালে থেকে দুর্গন্ধ বের হলে তবেই তা নোংরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বোঁটকা গন্ধ না থাকলেও তোয়ালের ভেতরে ক্ষতিকর জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। ভেজা তোয়ালে দীর্ঘ সময় বাথরুমে পড়ে থাকলে তাতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে সেই তোয়ালে ব্যবহার করলে জীবাণু ত্বকে পৌঁছে যেতে পারে।

কী ধরনের সমস্যা হতে পারে

এভাবে জীবাণুযুক্ত তোয়ালে ব্যবহার করলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেমন—

১. ফাঙ্গাল ইনফেকশন (দাদ)

২. ব্যাকটেরিয়াল স্কিন ইনফেকশন

৩. ব্রণ বাড়ার প্রবণতা

৪. ত্বকে চুলকানি বা অ্যালার্জি

এ ছাড়া পরিবারের একাধিক সদস্য একই তোয়ালে ব্যবহার করলে সর্দি-কাশি বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে। চোখ বা মুখ মুছলে কনজাঙ্কটিভাইটিসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কোথায় রাখবেন তোয়ালে

১. তোয়ালে শুকানোর জন্য সবচেয়ে ভালো হলো এমন জায়গা বেছে নেওয়া, যেখানে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস আছে।

২. বাথরুমের বাইরে আলাদা টাওয়েল বার ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩. সম্ভব হলে রোদে শুকানো সবচেয়ে ভালো, কারণ সূর্যের আলো জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়।

৪. পুরোপুরি না শুকালে তোয়ালে ভাঁজ করে বা মুড়ে রাখা উচিত নয়। প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় শুকাতে দেওয়া যেতে পারে।

কতদিন পরপর তোয়ালে ধোয়া উচিত

অনেকেই একই তোয়ালে দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সাধারণভাবে ৩-৪ বার ব্যবহারের পর তোয়ালে সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। আর বর্ষাকাল বা আর্দ্র পরিবেশে ২-৩ বার ব্যবহারের পরই ধোয়া ভালো।

মনে রাখা দরকার, শরীর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ব্যবহৃত তোয়ালের পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ছোট এই অভ্যাসে সচেতনতা আপনাকে অনেক ধরনের সংক্রমণ ও ত্বকের সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে।

সূত্র : এই সময় অনলাইন

আমলাতন্ত্র কি বিফলতার ঢাল, না-কি রাষ্ট্রের অপরিহার্য রক্ষাকবচ?

শামীম আল মামুন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৩ এএম
আমলাতন্ত্র কি বিফলতার ঢাল, না-কি রাষ্ট্রের অপরিহার্য রক্ষাকবচ?

বাংলাদেশে পণ্ডিতের অভাব নেই। তবে সংখ‍্যার দিক দিয়ে সব চেয়ে বেশি বিশেষজ্ঞ পণ্ডিত দেখা যায় প্রশাসন বিষয়ে। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, রাজনীতিক থেকে শুরু করে ফুটপাথে বসে অলস আড্ডা দেয়া অক্ষম ব্যক্তিটিও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে, নিদেন পক্ষে তাঁর অক্ষমতার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেন।

আমি কোনো পণ্ডিত নই বা কখনো তা হবার চেষ্টাও করিনি। নিজের অজ্ঞতা নিয়ে আমি সবসময় সংকুচিত থাকি। তথাপি আমার শিক্ষকগণ, দেশী-বিদেশী বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীদের এক বিরাট অংশ মনে করেন আমি জনপ্রশাসন বিষয়টা খুব ভালো বুঝি। জনপ্রশাসন বুঝার জন‍্য লোকপ্রশাসন পাঠই যথেষ্ট নয়। প্রশাসন বুঝার জন্য দেশীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, লোকাচার, সামাজিক মনোবিজ্ঞান, সমাজের ক্ষমতা-কাঠামো সমন্ধে স্বচ্ছ জ্ঞান থাকার সাথে সাথে গভীর অন্তর্দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন।

স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, আমি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা বুঝি। দায়িত্ব নিয়েই বলছি যে, এর উত্থান-পতনের উপলক্ষ‍্য এবং উপাদান ব‍্যাখ‍্যা করতে পারি। বন্ধুমহলের আড্ডায় অনেকবার প্রশাসন ও রাজনীতি নিয়ে যা বলেছি তা পরবর্তীতে সত্য হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।

পৃথিবীর সকল দেশেই আমলারা কখনো রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের কোনো কথার প্রতিবাদ করে না বা করতে পারে না। তারা হলো ফুটবলের মত। ২২ জন খেলোয়াড় একটি সীমাবদ্ধ মাঠে লাথি দিতে থাকে এবং বল বিনা প্রতিবাদে সেই লাথি সহ্য করে। বলের মত আমলাদেরও সকল দোষ অপবাদ মাথায় নিয়ে নীরবে কাজ বা অকাজ করে যেতে হয়।

গত কয়েক দিন যাবৎ সরকারের উপদেষ্টাগণ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা, পরিযায়ী পণ্ডিতগণসহ অনেকেই সকল ব‍্যর্থতার দায় আমলাদের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার থেকে মুক্তির চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হতো না, যদি না কিছুদিন আগে একজন উপদেষ্টা মাইলস্টোন স্কুলের পরিবর্তে সচিবালয়ে মধ্যে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বাসনা প্রকাশ না করতেন। তাঁর হতাশা এবং আমলাতন্ত্রের প্রতি শত্রুভাবাপণ‍্যতা কত প্রবল তা পত্রিকায় প্রকাশিত বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। তাঁর ব‍্যক্তিগত অনুভূতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি আমলাতন্ত্রকে জনগণের শত্রু হিসাবে উপস্থাপনের প্রয়াস নিয়েছেন – যা মেনে নিতে না পেরে আমি এই লেখা লিখছি।

আমলাতন্ত্রের সমালোচনা নতুন কিছু নয়, কিন্তু যখন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে একে ধ্বংস করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তখন বুঝতে হবে আমরা গভীর সংকটে আছি।

আসলে আমলাতন্ত্র কী এবং কেন এটি এমন—তা বুঝতে হলে এর ঐতিহাসিক ও সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট বোঝা জরুরি।

১. ম্যাক্স ওয়েবার এবং যৌক্তিক কাঠামো:

আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয় ম্যাক্স ওয়েবারকে (Max Weber)। তিনি বলেছিলেন, আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আমলাতন্ত্র হলো ‘সবচেয়ে যৌক্তিক এবং কার্যকর উপায়’। তার মতে, আমলারা আবেগ বা রাজনৈতিক হুজুগে নয়, বরং নির্দিষ্ট নিয়মের (Rule of Law) অধীনে কাজ করে। এই যে আমরা ‘ধীরগতি’র কথা বলি, ওয়েবারের দৃষ্টিতে এটি আসলে একটি ‘নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত’ পদ্ধতি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া।

২. কার্ল মার্ক্স ও আমলাতন্ত্রের দ্বান্দ্বিক অবস্থান:

কার্ল মার্ক্স (Karl Marx) আমলাতন্ত্রকে শাসক শ্রেণির হাতিয়ার হিসেবে দেখলেও তিনি একে রাষ্ট্রের একটি ‘অপরিহার্য অঙ্গ’ হিসেবে স্বীকার করেছেন। মার্ক্সীয় বিশ্লেষণে আমলাতন্ত্র হলো রাষ্ট্রের সংহতি রক্ষার একটি মাধ্যম। যখন কোনো সংকট তৈরি হয়, তখন রাজনীতিবিদরা দায় এড়াতে আমলাতন্ত্রকে ‘বলির পাঁঠা’ বানান, যা বর্তমানে আমরা বাংলাদেশেও দেখতে পাচ্ছি। অথচ এই কাঠামোটিই রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

৩. ঐতিহাসিক সত্য: কেন আমলাতন্ত্র ধীর?

পৃথিবীর কোনো সফল রাষ্ট্রই হুটহাট সিদ্ধান্তে চলেনি। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আধুনিক ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যন্ত সর্বত্র আমলাতন্ত্র একটি ‘ফিল্টার’ হিসেবে কাজ করে। উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson) তার ‘The Study of Administration’-এ স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনীতি এবং প্রশাসন দুটি ভিন্ন মেরু। রাজনীতি স্বপ্ন দেখায়, আর প্রশাসন সেই স্বপ্নকে বাস্তবতার কঠিন আইন ও বাজেটের নিক্তিতে বিচার করে। এই বিচার করতে গিয়ে যে সময় ব্যয় হয়, তাকে ‘অদক্ষতা’ বলা ভুল।

যারা খোঁজ খবর রাখেন তাঁরা জানেন পৃথিবীর সকল দেশের আমলাতন্ত্রই ধীরগতিতে চলে। যে রাষ্ট্র যত উন্নত সে রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্র তত শক্তিশালী। আমাদের ধারণাগত সীমাবদ্ধতা এবং তথ‍্যের অপ্রতুলতার কারণে সফল রাষ্ট্রগুলোর আমলাতন্ত্র সম্পর্কে না জেনে আমরা অনেক মন্তব্য এবং আমাদের আমলাতন্ত্র তুলনা করে থাকি। উন্নত রাষ্ট্রসমূহের সেবাখাত বেসরকারি ব‍্যবস্থাপনায় ছেড়ে দিয়ে তারা প্রতিযোগিতামূলক অবকাঠামো তৈরি করে দেয়াতে ঐসব দেশে সেবা প্রদানের মান ও দক্ষতা বাণিজ‍্যিক কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের সেবাখাত পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এখানে অদক্ষতা ও দুর্নীতি বেশী এবং সেবার মান হতাশাজনক। সেবাখাতের প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ – আমলাতন্ত্র নয়। আমেরিকা, ইউকে, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, জাপান, রাশিয়া সিংগাপুর, ইন্ডিয়াসহ পৃথিবীর যে কোনো স্থিতিশীল দেশের আমলাতন্ত্র আমাদের দেশের আমলাতন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাধর এবং মজবুত। পিরামিড থেকে তাজমহল পৃথিবীর সকল অত‍্যাশ্চর্য স্থাপনা নির্মাণের পিছনে আছে সুসংগঠিত এবং সুদক্ষ এক আমলাতন্ত্র।

আমরা অনেকেই আইনের শাসন (rule of law) নিয়ে কথা বলি। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক তা আমরা চাই। কিন্তু আমরা একবারও ভাবি না যে আইনের শাসন মানেই দল নিরপেক্ষ এক আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে আইনের চোখে সবাই সমান। আমলাগণ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সকলকে এক দৃষ্টিতে দেখবেন। তখন আমলাগণ এখনকার চেয়ে শক্তিশালী হবেন।

এবার অন্য প্রসঙ্গে কথা বলি। আমলাদের যতটা ক্ষমতাবান হিসেবে বিবেচনা করা হয় আসলে তাঁরা তা নন। গত তিন দশক যাবৎ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্বাহী প্রধান হচ্ছেন মন্ত্রী/উপদেষ্টা। তাই সকল মন্ত্রণালয়ের ভালো মন্দ যাই হোক না কেন তাতে দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী/উপদেষ্টার বিশাল ভূমিকা বা দায় আছে।

বাংলাদেশের বর্তমান আমলাতন্ত্র অত্যন্ত দুর্বল এবং disoriented। জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এটাকে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের স্বার্থে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলেছে। ফলে আইনের শাসন থেকে দেশ যোজন যোজন মাইল দূরে ছিটকে পড়েছে। গত ১৭/১৮ ধরে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে দেশের আমলাতন্ত্রই প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে। আর দূর্বল আমলাতন্ত্রের কারণে দেশে এমন কোনো অপরাধ নেই যা ঘটেনি। লক্ষকোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। বৈদেশিক ঋণ সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে অদক্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাতন্ত্র যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এরকম একটি দুর্বল ভঙ্গুর আমলাতন্ত্রকে যদি পরিচালনা করতে না পারে তাহলে জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত‍্যাশা পূরণ করবে কিভাবে!

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর আকাঙ্ক্ষা এই জনপদের দীর্ঘ দিনের। এমন কোনো পরীক্ষা নেই যা এদেশের মানুষ দেয়নি। সাধারণ মানুষের ত‍্যাগ বুদ্ধিজীবীদের চেয়ে অনেক বেশি। অন‍্যান‍্য প্রতিষ্ঠান সচল করার সাথে সাথে একটি শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ছাড়া সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব নয়। আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুফল পেতে সৎ-দক্ষ-দলনিরপেক্ষ আমলাতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের সাধারণ প্রবণতা হলো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন ঘটানো। কিন্তু এটা সবসময় ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনা। অনেক সময় আমলাগণ সেটা ধরিয়ে দিতে গেলেই রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ তা পছন্দ করেন না। বাস্তবে আমলাগণ ad hoc wisdom এর ভিত্তিতে চলতে পারেন না – তাকে আইন কানুন বিধিবিধান অনুসরণ করে যৌক্তিক পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একটা দেশও কখোনো ad hoc wisdom দ্বারা চলতে পারে না – চলা উচিত না।

শেষাংশ:

যারা আমলাতন্ত্রের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন, তারা আসলে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শনই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। একজন প্রাক্তন আমলা যখন সচিবালয়ে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার প্রত্যাশা করেন, তখন বুঝতে হবে তিনি নিজের পেশাগত অতীত এবং রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর প্রতি অশ্রদ্ধাশীল। আমলাতন্ত্র কোনো ত্রুটিমুক্ত ব্যবস্থা নয়, তবে এটি পরিবর্তনের পথ ‘ধ্বংস’ নয়, বরং ‘সংস্কার’। আমলাতন্ত্রকে তার কাজের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। যে কোনো বিচ‍্যুতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার হওয়া উচিৎ। মাথা ব্যাথার চিকিৎসা দরকার তবে তা মাথা কেটে নয়।

জনপ্রিয়তা পাওয়ার সস্তা আশায় রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে জনশত্রু হিসেবে দাঁড় করানোর এই অপচেষ্টা দেশের স্বার্থে সকল পক্ষ থেকে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

লেখক : প্রশাসনের অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা

রোজায় বমি: শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজা ভাঙে নাকি থাকে?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৯ এএম
রোজায় বমি: শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজা ভাঙে নাকি থাকে?

রমজান মাস এলেই রোজা সংক্রান্ত নানা মাসআলা ও প্রশ্ন সামনে আসে। দৈনন্দিন জীবনে হঠাৎ অসুস্থতা, বমি, মাথা ঘোরা কিংবা শারীরিক দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো অনেক সময় রোজাদারকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় যে, রোজা ভেঙে গেল কি না, কাজা করতে হবে কি না—এসব নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণাও প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে রোজা অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলে রোজা থাকে নাকি ভেঙে যায়—এ প্রশ্নটি প্রায়ই শোনা যায়।

ইসলামি শরিয়তে রোজা ভঙ্গ হওয়ার নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে, আর সবকিছুই যে রোজা ভেঙে দেয়, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু ঘটলে শরিয়ত তা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেছে এবং রোজা সহিহ থাকার বিধান দিয়েছে। এ বিষয়ে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা থেকে উলামায়ে কেরাম বিস্তারিত মাসআলা বর্ণনা করেছেন।

তাই রোজার বিধান সঠিকভাবে জানতে হলে কোরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে বিষয়গুলো বোঝা জরুরি। রোজা অবস্থায় বমি হলে কখন রোজা ভাঙবে আর কখন ভাঙবে না—এ বিষয়ে হাদিসের আলোকে সঠিক বিধান ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো।

ইসলামিক স্কলাররা বলছেন, ‘রোজা অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলে রোজা ভেঙে যাবে এবং তার কাজা করতে হবে’—এ ধারণা ঠিক নয়। বরং অনিচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি হলেও রোজা ভাঙবে না, কাজাও আদায় করতে হবে না। হ্যাঁ, কেউ যদি রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা আদায় করতে হবে।

হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যার অনিচ্ছাকৃত বমি হয়ে যায় তাকে কাজা আদায় করতে হবে না (অর্থাৎ তার রোজা ভাঙবে না)। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত বমি করে সে যেন কাজা আদায় করে (অর্থাৎ তার রোজা ভেঙে যাবে)। (তিরমিজি : ৭২০, সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৭৬, মুসতাদরাকে হাকেম : ১৫৫৭)

রোজা অবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ালে কী রোজা ভাঙে?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০১ এএম
রোজা অবস্থায় বুকের দুধ খাওয়ালে কী রোজা ভাঙে?

রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে মুসলমানরা আত্মসংযম, তাকওয়া ও আল্লাহভীতি অর্জনের চেষ্টা করেন। তবে মানবজীবনের স্বাভাবিক প্রয়োজন, বিশেষ করে অসুস্থতা, সফর, গর্ভাবস্থা কিংবা সন্তান লালন-পালনের মতো বাস্তব পরিস্থিতিতে ইসলামের বিধানও এসেছে সহজতা ও সহানুভূতির বার্তা নিয়ে।

অনেক মা-ই প্রশ্ন করেন, রোজা অবস্থায় সন্তানকে দুধ পান করালে রোজার কোনো ক্ষতি হবে কি না, অথবা সন্তানের প্রয়োজনের কারণে রোজা ভাঙার সুযোগ আছে কি না। ইসলামি শরিয়তের দলিল-প্রমাণ ও ফুক্বাহায়ে কেরামের ব্যাখ্যা থেকে জানা যায়, এ বিষয়ে রয়েছে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, যা একদিকে মায়ের ইবাদতকে গুরুত্ব দেয়, অন্যদিকে শিশুর হক ও স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব আরোপ করে।

চলুন জেনে নিই, রোজা অবস্থায় সন্তানকে দুধ পান করানো যাবে কি না—

ফুক্বাহায়ে কেরাম বলছেন, কোনো নারী যদি রোজা অবস্থায় শিশুকে দুধ পান করান, তাহলে এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। কেননা, শরীর থেকে কোনো কিছু বের হলে রোজা ভেঙে যায় না। কারণ, পানাহার ও স্ত্রী সহবাস বর্জন করার নাম হচ্ছে রোজা। সুতরাং রোজা অবস্থায় স্বাভাবিক রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু পেটে অথবা মস্তিষ্কে প্রবেশ করলেই কেবল রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় ভাঙবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৩-৩৭১, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ৬-৪০৮, ৪১০ ও ৪১৩)

এক সফরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.)-কে কিছু খেতে দিলে তিনি বললেন, আমি রোজাদার। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বসো, আমি তোমাকে রোযা ও রোযাদার সম্পর্কে কিছু বলব, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের অর্ধেক নামায কমিয়ে দিয়েছেন এবং মুসাফির, গর্ভবর্তী ও দুগ্ধদানকারিনীর জন্য রোযায় ছাড় দিয়েছেন। (মুসনাদে আহমদ : ১৯০৪৭)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, গর্ভবর্তী ও দুগ্ধদানকারিনী রমজানের রোজা ভাঙ্গতে পারবে। তবে পরে তা কাজা করে নেবে। রোজার বদলে (মিসকিনদেরকে) খাওয়াবে না। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজযাক : ৭৫৬৪)

সূত্র : কালবেলা