খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

গাড়ি ব্যবহারে এই ৫ কাজ একদমই নয়—জানুন কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
গাড়ি ব্যবহারে এই ৫ কাজ একদমই নয়—জানুন কেন?

সিনেমা, টিভি শো কিংবা সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়, ‘ড্রাইভ ইট লাইক আ রেন্টাল।’ অর্থাৎ রেন্টাল বা ভাড়া গাড়ি এমনভাবে চালানো, যেন সেটি নিজের নয়। কারণ, অনেকেই মনে করেন যেহেতু গাড়িটি নিজের টাকায় কেনা নয়, তাই এটিকে একটু বেপরোয়াভাবে চালালেও সমস্যা নেই।

কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা একেবারেই ভুল। রেন্টাল গাড়ি বেপরোয়াভাবে চালানো শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং এর ফলে অতিরিক্ত জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের মতো বড় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেন্টাল গাড়ি চালানোর সময় সেটিকে নিজের গাড়ির মতোই ব্যবহার করা উচিত। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি না তোলা এবং অবশ্যই দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলা; এসব নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

তবে রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি নিয়মও রয়েছে। গাড়ি নেওয়ার আগে এসব নিয়ম জানা থাকলে সময়, অর্থ ও ঝামেলা—সবই বাঁচানো সম্ভব। কারণ অধিকাংশ রেন্টাল কোম্পানিরই একটি ‘ডু নট রেন্ট’ তালিকা থাকে, যেখানে সমস্যাজনক গ্রাহকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একবার সেই তালিকায় চলে গেলে ভবিষ্যতে আবার রেন্টাল গাড়ি পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বের প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানির ক্ষেত্রেই এই নিয়মগুলো প্রায় একই। তাই রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত। নিচে এমন পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হলো।

১. গাড়ির ভেতরে ধূমপান বা ভ্যাপিং করবেন না

রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাড়ি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে পোষা প্রাণীর লোম, খাবারের প্যাকেট বা তরল কিছু পড়ে থাকলে তা পরিষ্কার করে দিতে বলা হয়। না হলে কোম্পানি অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বড় অঙ্কের ফি নিতে পারে।

ধূমপানের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর। বেশিভাগ রেন্টাল কোম্পানিতে গাড়ির ভেতরে ধূমপান করলে প্রায় ৪৫০ ডলার পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ক্লিনিং ফি নেওয়া হয়। অর্থাৎ একবার সিগারেট ধরালেই আপনাকে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে।

এমনকি গাড়ি নেওয়ার সময় যদি আগেই সিগারেটের গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি দ্রুত কোম্পানিকে জানানো উচিত। না হলে আগের ব্যবহারকারীর কারণে আপনাকেই জরিমানা দিতে হতে পারে।

একই নিয়ম ভ্যাপিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বর্তমানে প্রায় সব রেন্টাল কোম্পানিই ধূমপান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভ্যাপিংকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাই প্রয়োজন হলে গাড়ি থেকে নেমে বাইরে গিয়ে ধূমপান করা উত্তম।

২. গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে জ্বালানি ভরতে ভুলবেন না

রেন্টাল গাড়ি নেওয়ার সময় সাধারণত ট্যাংকে যতটুকু জ্বালানি থাকে, ফেরত দেওয়ার সময়ও ঠিক ততটুকুই থাকতে হয়। ধরা যাক, আপনি গাড়িটি অর্ধেক ট্যাংক জ্বালানি নিয়ে পেয়েছেন, তাহলে ফেরত দেওয়ার সময়ও সেটি অর্ধেক ট্যাংক থাকা উচিত।

যদি তা না করেন, তাহলে রেন্টাল কোম্পানি নিজে জ্বালানি ভরে তার মূল্য আপনার কাছ থেকে আদায় করবে। তবে তারা সাধারণ পাম্পের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি চার্জ করে।

কিছু ক্ষেত্রে প্রতি গ্যালন জ্বালানির জন্য প্রায় ১০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করার ঘটনাও রয়েছে। যেখানে গড়ে প্রতি গ্যালনের দাম প্রায় ৩.৩০ ডলার, সেখানে অতিরিক্ত বেশ বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হতে পারে। তাই গাড়ি ফেরত দেওয়ার আগে নিজেই জ্বালানি ভরে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

৩. টোল রোডের বিকল্প পথ না খোঁজা

টোল রোডে চলাচল সাধারণ চালকদের জন্য খুবই সহজ—গাড়ি চালিয়ে যান, টোল দিন, কাজ শেষ। বিভিন্ন দেশের আধুনিক অনেক টোল প্লাজায় আবার থামতেও হয় না; ট্রান্সপন্ডার বা সেন্সরের মাধ্যমে টোল কেটে নেওয়া হয়।

কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। এখানে অতিরিক্ত প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত হতে পারে। রেন্টাল কোম্পানিগুলো সাধারণত দুইভাবে টোল ব্যবস্থাপনা করে— প্রতিদিন নির্দিষ্ট ফি কেটে টোল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, অথবা পরে বিল পাঠিয়ে টোলের সঙ্গে প্রশাসনিক চার্জ যুক্ত করা। এই চার্জগুলো দ্রুতই বড় অঙ্কে পৌঁছে যেতে পারে।

তাই নেভিগেশন অ্যাপ ব্যবহার করে সম্ভব হলে টোল রোড এড়িয়ে চলাই ভালো। আর যারা নিয়মিত টোল রোড ব্যবহার করেন, তারা নিজের ট্রান্সপন্ডার সঙ্গে এনে রেন্টাল গাড়িতেও ব্যবহার করতে পারেন।

৪. অন্য কাউকে গাড়ি চালাতে দেওয়া

অনেক সময় বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে পালা করে গাড়ি চালানোর কথা ভাবা হয়। কিন্তু রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু জটিল হতে পারে।

যদি আপনার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ গাড়ি চালায় এবং দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বীমা সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ কিছু বীমা নীতিতে গাড়ি কভার করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট চালককে কভার করা হয়। যদি ব্যক্তিগত গাড়ির বীমা ব্যবহার করেন, তাহলে অনেক সময় ‘পারমিসিভ ইউজ’ সুবিধা থাকে, অর্থাৎ অন্য কেউ গাড়ি চালালেও কভারেজ থাকে।

কিন্তু রেন্টাল কোম্পানির বীমা নিলে সাধারণত চালকের নাম চুক্তিতে যুক্ত থাকতে হয়। তাই একাধিক ব্যক্তি গাড়ি চালালে তাদের নাম আগেই চুক্তিতে যুক্ত করা জরুরি।

৫. দুর্ঘটনায় গাড়ির ক্ষতি করা (বীমা থাকলেও)

দুর্ঘটনা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। এতে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি চালক ও যাত্রীও আহত হতে পারেন।

রেন্টাল গাড়ির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ রেন্টাল কোম্পানিগুলো গাড়ি মেরামতের পুরো খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জও নিতে পারে। যদি আপনার ব্যক্তিগত বীমা রেন্টাল গাড়িকে কভার না করে এবং কোম্পানির বীমাও না নেন, তাহলে পুরো ক্ষতিপূরণই আপনাকে দিতে হতে পারে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, রেন্টাল গাড়ি ব্যবহারের সময় বীমা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে ভালো উপায় অবশ্যই নিরাপদে গাড়ি চালানো। স্মার্টফোন ব্যবহার না করা, গতিসীমা মেনে চলা, টার্ন সিগন্যাল ব্যবহার করা এবং ক্লান্ত থাকলে বিশ্রাম নেওয়া; এসব নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

সূত্র : স্ল্যাশগিয়ার

জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল

বিশ্বজুড়ে পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় মানবতা আজ চরম সংকটের মুখে-এমন মন্তব্য করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে, তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখনই জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বাইশরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে আয়োজিত এক ইসলামী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাকের পার্টি ও বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) এর ওফাত দিবস উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মোস্তফা আমীর ফয়সল আরও বলেন, মুসলিম বিশ্ব আজ বিভক্ত ও নানা সংকটে জর্জরিত। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, অন্যরা ব্যর্থ হলেও জাকের পার্টি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সায়েম আমীর ফয়সল।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১ মে (১৮ বৈশাখ) বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী ইন্তেকাল করেন। দিনটি জাকের অনুসারীদের কাছে গভীর শোক ও তাৎপর্যের সঙ্গে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে।

ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশুকে হত্যা: ৬ দিনে রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশুকে হত্যা: ৬ দিনে রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরে নিখোঁজের ছয়দিন পর উদ্ধার হওয়া ৭ বছর বয়সী শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (০১ মে) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা মিয়া বিশ্বাসের মেয়ে আইরিন আক্তার বিনা স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকেও বিষয়টি জানানো হয়।

এরপর কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও স্বজনরা মিলে তল্লাশি চালাতে থাকেন। কিন্তু নিখোঁজের ছয়দিন পর, ৩০ এপ্রিল সকালে ঘটে মর্মান্তিক সেই ঘটনা। স্থানীয় দুই ব্যক্তি একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে খোঁজ নিলে একটি পঁচাগলা লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি আইরিনের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলটি ছিল বাখুন্ডা এলাকায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইনের ঢালে অবস্থিত একটি কলাবাগান।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একইসঙ্গে হত্যা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি।

তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে এবং বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) এবং নাছিমা বেগম (৪৫)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ভয়াবহ তথ্য উঠে আসে। প্রধান আসামি ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আশ্রয়ন কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু শিশুটি বাধা দিলে এবং বিষয়টি তার মাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে আতঙ্কিত হয়ে ইসরাফিল তাকে গলা টিপে হত্যা করে।

হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সে লাশটি পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। কয়েকদিন পর ওই বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম টয়লেটে সমস্যা বুঝতে পেরে বিষয়টি তার ছেলেদের জানান। পরে ট্যাংক খুলে তারা ভিতরে শিশুটির লাশ দেখতে পান।

পুলিশ জানায়, এরপর নাছিমা বেগম তার ছেলে শেখ আমিন ও আরেক ছেলে রহমানকে লাশটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা মিলে লাশটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে দূরের একটি কলাবাগানে ফেলে রেখে আসে, যাতে কেউ সহজে শনাক্ত করতে না পারে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ভিকটিমের পরিহিত কাপড়, স্যান্ডেল, লাশ বহনের জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ড্রাম এবং একটি কম্বল উদ্ধার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাই। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যে ৬ রোগ নিয়ে হজে না যাওয়ার নির্দেশনা সৌদির?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
যে ৬ রোগ নিয়ে হজে না যাওয়ার নির্দেশনা সৌদির?

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সামনে রেখে পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি ও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে সৌদি আরব। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুতর শারীরিক জটিলতা থাকলে এবার হজের অনুমতি বা পারমিট পাওয়া যাবে না।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পুণ্যার্থীরা যাতে হজের কঠিন আনুষ্ঠানিকতাগুলো নিরাপদে এবং কোনো বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী, যেসব শারীরিক অবস্থায় এবার হজ করা যাবে না তার মধ্যে রয়েছে কিডনির জটিলতা বা ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন অবস্থা, হার্ট ফেইলিউর বা হৃৎপিণ্ডের গুরুতর সমস্যা, লিভার সিরোসিস, জটিল মানসিক রোগ অথবা স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া, বার্ধক্যজনিত চরম শারীরিক দুর্বলতা এবং এমন অন্তঃসত্ত্বা নারী, যারা গর্ভধারণের শেষ তিন মাস বা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।

এদিকে, রোগব্যাধির তালিকার পাশাপাশি টিকাদানের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে সৌদি আরব। সকল পুণ্যার্থীর জন্য ‘মেনিনোকোক্কাল মেনিনজাইটিস’ ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হজ শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে এই টিকার একটি ডোজ নিতে হবে।

এ ছাড়া উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি যেমন—বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং যাদের দীর্ঘস্থায়ী রোগ (শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ) আছে, তাদের জন্য কোভিড-১৯ এবং সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জার আপডেট ডোজ নেওয়ার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ