খুঁজুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ইফতারের পর ধূমপান কেন সবচেয়ে বিপজ্জনক?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
ইফতারের পর ধূমপান কেন সবচেয়ে বিপজ্জনক?

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর-এ কথা সবারই জানা। কিন্তু রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সঙ্গে সঙ্গেই সিগারেট ধরানো শরীরের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয় এবং কোষগুলো পুষ্টি ও অক্সিজেনের অপেক্ষায় থাকে। ঠিক এই সময় ধূমপান করলে শরীর একসঙ্গে বিপরীতধর্মী সংকেত পায়-একদিকে পুষ্টির চাহিদা, অন্যদিকে নিকোটিন ও বিষাক্ত ধোঁয়ার আক্রমণ। ফলে তৈরি হয় নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইফতারের পর ধূমপান স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ধাক্কা তৈরি করতে পারে। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক যেসব সমস্যা হতে পারে-

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কা

দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার পর হঠাৎ নিকোটিন গ্রহণে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায় এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। এতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ধূমপান হৃদরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ। আর আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, নিকোটিন তাৎক্ষণিকভাবে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন বাড়ায়-যা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মারাত্মক হতে পারে।

অক্সিজেনের ঘাটতি

ইফতারের পর শরীরের কোষগুলোতে অক্সিজেনের প্রয়োজন বেড়ে যায়। কিন্তু ধূমপানের ফলে উৎপন্ন কার্বন মনোক্সাইড রক্তে মিশে অক্সিজেন পরিবহন বাধাগ্রস্ত করে।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এর তথ্য অনুযায়ী, কার্বন মনোক্সাইড শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছানো কমিয়ে দেয় এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়।

পাকস্থলীর সমস্যা

খালি পেটে নিকোটিন ও টার পাকস্থলীর আস্তরণকে উত্তেজিত করে। এতে অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে অম্বল, গ্যাস্ট্রাইটিস ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ধূমপান পরিপাকতন্ত্রে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব

সারাদিন নিকোটিনবিহীন থাকার পর হঠাৎ ধূমপান করলে দ্রুত নিকোটিন প্রবেশের কারণে মাথা ঘোরা, বমিভাব বা সাময়িক অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘নিকোটিন রাশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইস্তানবুল ব্রেন হসপিটাল জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় নিকোটিন ছাড়া থাকার পর হঠাৎ ধূমপান করলে মস্তিষ্কে বিষক্রিয়াজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে, এমনকি চেতনা হারানোর ঘটনাও ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতার শরীরকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়। সেই মুহূর্তে ধূমপান শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই রমজানকে ধূমপান ছাড়ার সূচনা হিসেবে নিলে আধ্যাত্মিক লাভের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যগত সুফলও মিলবে।

সূত্র : কালবেলা

তাকবিরে তাশরিক কার ওপর ওয়াজিব, কখন পড়বেন?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
তাকবিরে তাশরিক কার ওপর ওয়াজিব, কখন পড়বেন?

তাকবিরে তাশরিক হলো আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্ত্বের বর্ণনা। পরিভাষায়, হিজরি বর্ষের সর্বশেষ মাস জিলহজের সুনির্দিষ্ট দিনগুলোতে নির্দিষ্ট বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করাকে তাকবিরে তাশরিক বলে।

জিলহজ মাসের ১১, ১২ ও ১৩—এই তিনদিনকে বলা হয় আইয়ামে তাশরিক। আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারাহর ২০৩ নম্বর আয়াতে এ-দিনগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো।’ হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আইয়ামে তাশরিক হলো, পানাহার ও আল্লাহর জিকিরের সময়। (মুসনাদে আহমাদ: ২০৭২২; সহিহ মুসলিম: ১১৪১)

তাকবিরে তাশরিক হলো—

اَللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اَللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

কখন পড়তে হয় তাকবিরে তাশরিক?

জিলহজ মাস শুরু হতেই বেশি-বেশি তাকবির পড়া সুন্নত। এ-মাসের প্রথম দশকের দিনগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করতেন, তাকবির উচ্চারণ করতেন। পথ-ঘাটে কিবা হাট-বাজারে—সবখানেই শোনা যেত তাকবিরের সুর-লহরী।

হজরত ইবনে উমর (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর তাকবিরের আওয়াজ শোনে, তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতো বাজারের অন্যরাও। মিনার দিনগুলোতে তাকবিরের সুরে মুখরিত হতো চারপাশ! মহিলারাও বলতো অনুচ্চ স্বরে। (সহিহ বোখারি, ফাতহুল বারি: ২/৫৩০-৫৩৬)

তবে জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ আসর পর্যন্ত—মোট ২৩ ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক মুসল্লির জন্য ন্যূনতম একবার বড় আওয়াজে তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। (ফতওয়াতে শামি: ২/১৭৯-৮০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস: ৫৬৭৭, ৫৬৭৮, ৫৬৯২; সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ২৫-২৯)

তাছাড়া ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে তাকবির বলতে বলতে যাওয়া ঈদুল আজহার বিশেষ সুন্নত। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৪/১৯২-১৯৪; সুনানে দারাকুতনি: ২/৪৪-৪৫)

কারা পড়বেন তাকবিরে তাশরিক?

প্রাপ্তবয়সী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর এটি পাঠ করা ওয়াজিব। চাই সে, মুকিম হোক বা মুসাফির, পুরুষ হোক কিবা নারী—অবশ্য নারীরা তাকবির বলবে অনুচ্চ স্বরে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৫২; রদ্দুর মুহতার: ২/১৭৮)

ইমাম আবু হানিফার (রহ.)-এর অভিমত অনুযায়ী, একাকী নামাজ আদায়কারী ও মুসাফির এবং নারীদের ওপর তাকবিরে তাশরিক যদিও ওয়াজিব নয়, তবে সাহেবাইন তথা ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহ.)-এর অভিমত অনুযায়ী সবার ওপরই ‘ওয়াজিব’।

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে সাহেবাইনের কথার ওপরই ফতওয়া। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৪/২৪০-২৪১, ২৫১, রদ্দুল মুহতার: ২/১৮০)

তবে সুন্নত, নফল, বিতর নামাজ আদায়কারীর জন্য তাকবির ওয়াজিব নয়। (বাদায়েউস সানায়ে: ১/৪৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৫২)

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

বৃষ্টির সময় এসি কত তাপমাত্রায় চালালে বিল কমবে? জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
বৃষ্টির সময় এসি কত তাপমাত্রায় চালালে বিল কমবে? জানুন

তপ্ত গরমের পর বৃষ্টির ঝাপটা জনজীবনে স্বস্তি নিয়ে এলেও, বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায় অনেকটাই। ফলে আবহাওয়া কিছুটা শীতল মনে হলেও ঘরের ভেতরে ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি থেকেই যায়। এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই এসি চালান, কিন্তু মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়ে অনেকেরই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টির দিনগুলোতে এসির ব্যবহারে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করলে ঘরও থাকবে ঠান্ডা, আবার বিদ্যুৎ বিলও থাকবে সাধ্যের মধ্যে।

আদর্শ তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত?

বৃষ্টির সময় বাইরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই তপ্ত দুপুরের তুলনায় কম থাকে। তাই এসময় এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালানোর কোনো প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালানো সবচেয়ে উপযোগী। এই তাপমাত্রা যেমন শরীরের জন্য আরামদায়ক, তেমনি কম্প্রেসরের ওপর চাপ কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখে। মনে রাখা জরুরি, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি কমালে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ‘ড্রাই মোড’-এর ব্যবহার

বর্ষার অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো অতিরিক্ত আর্দ্রতা। বর্তমানের অনেক আধুনিক এসিতে ‘ড্রাই মোড’ সুবিধা থাকে। বৃষ্টির সময় সাধারণ কুলিং মোডের বদলে এই মোড ব্যবহার করলে ঘরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। ফলে ঘর খুব অল্প সময়েই আরামদায়ক হয়ে ওঠে এবং বিদ্যুৎ খরচও সাধারণ মোডের তুলনায় কম হয়।

সাশ্রয়ী হওয়ার কিছু কার্যকর টিপস

বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এসির স্থায়িত্ব বাড়াতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:

দরজা-জানালা বন্ধ রাখা: এসি চালানোর সময় ঘরের দরজা ও জানালা ভালোমতো বন্ধ রাখতে হবে যাতে বাইরের আর্দ্র বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

ফিল্টার পরিষ্কার: এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এতে বাতাস চলাচলে বাধা পায় না এবং এসি দ্রুত ঘর ঠান্ডা করতে পারে।

টাইমার ও ফ্যানের ব্যবহার: রাতে ঘুমানোর সময় এসির টাইমার ব্যবহার করা ভালো অভ্যাস। এতে নির্দিষ্ট সময় পর এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিল বাঁচবে। এছাড়া এসির সাথে হালকা গতিতে সিলিং ফ্যান চালালে ঠান্ডা বাতাস দ্রুত সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রযুক্তির গুরুত্ব

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে ইনভার্টার এসি সাধারণ এসির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। ইনভার্টার প্রযুক্তি প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে এসি বারবার অন-অফ হওয়ার ঝামেলা থাকে না এবং বিদ্যুৎ খরচ অনেক কমে আসে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে ২০ ডিগ্রির নিচে এসি চালিয়ে রাখা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ এটি বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ এবং সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বর্ষার এই দিনগুলোতেও আপনি উপভোগ করতে পারেন আরামদায়ক পরিবেশ, কোনো বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চিন্তা ছাড়াই।

সূত্র: এনার্জি সেভার গাইড

সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকতে চান? জেনে নিন রাতে ঠিক কতক্ষণ ঘুম জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকতে চান? জেনে নিন রাতে ঠিক কতক্ষণ ঘুম জরুরি

আমরা কত বছর বেঁচে আছি তা আমাদের ক্যালেন্ডারের বয়স বা ক্রোনোলজিক্যাল বয়স দিয়ে মাপা হয়। কিন্তু আমাদের শরীরের কোষ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো আসলে কত দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে, তা নির্ধারণ করে ‘জৈবিক বয়স’। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে এই জৈবিক বয়স বাড়ার গতি কম বা বেশি হতে পারে।

গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য

‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুমান, তাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো অন্যদের তুলনায় ধীরগতিতে বুড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, খুব কম (৬ ঘণ্টার কম) বা খুব বেশি (৮ ঘণ্টার বেশি) ঘুম মস্তিষ্কসহ শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করতে পারে।

কম ঘুমের বিপদ

গবেষকদের মতে, অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং প্রদাহ (inflammation) বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে টিস্যু মেরামত এবং বিপাকীয় ভারসাম্য ব্যাহত হয়। এছাড়া কম ঘুম সরাসরি নিচের সমস্যাগুলোর সাথে যুক্ত:

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ: পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে রক্তচাপ ও কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস ও স্থূলতা: এটি গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তির ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটায়।

মানসিক স্বাস্থ্য: কম ঘুম বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বেশি ঘুম কি ভালো?

অনেকে মনে করেন বেশি ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা [৯]। অতিরিক্ত ঘুম অনেক সময় শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। যারা ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে বিষণ্ণতা এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে।

বয়সভিত্তিক ঘুমের চাহিদা

যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি (CDC)-এর তথ্যমতে, সুস্থ থাকার জন্য ঘুমের প্রয়োজন বয়স ভেদে ভিন্ন হয়:

১৮ থেকে ৬০ বছর: অন্তত ৭ ঘণ্টা।

৬১ থেকে ৬৪ বছর: ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা।

৬৫ বছরের বেশি: ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা।

ভালো ঘুমের কিছু সহজ উপায়

বিশেষজ্ঞরা তারুণ্য ও সুস্থতা ধরে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:

লক্ষ্য স্থির করুন: রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা বিছানায় থাকার পরিকল্পনা করুন, যাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত হয়।

রুটিন মেনে চলুন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।

ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন (মোবাইল, ল্যাপটপ) বন্ধ করে দিন।

খাবার দাবার: রাতের খাবার দ্রুত সেরে ফেলুন, যা শরীরকে শান্ত হতে সাহায্য করবে।

পর্যাপ্ত এবং সঠিক সময়ের ঘুম কেবল আপনাকে সতেজই রাখে না, বরং আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে সচল রেখে বার্ধক্যকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই আজ রাত থেকেই আপনার ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন