খুঁজুন
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কাঠফাটা গরমে ছুঁতে পারবে না রোগব্যাধি, জেনে নিন সহজ কয়েকটি উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ
কাঠফাটা গরমে ছুঁতে পারবে না রোগব্যাধি, জেনে নিন সহজ কয়েকটি উপায়

জেঁকে বসছে গরম। প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে দাবদাহের পারদ। হাঁসফাঁস অবস্থা। কয়েক দিনের মধ্যে গরমের তীব্রতা যে আরও বাড়বে তা এর মধ্যেই আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে— জুনে ভ্যাপসা গরমের প্রভাব পড়বে। সে জন্য বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকবে।

সে কারণে এই সময় বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস কিংবা টুপি ব্যবহার করুন। বাড়িতে থাকলেও সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। আর যদি বাড়ির বাইরে বের হন, তবে কমপক্ষে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে বের হন।

তবে ত্বক স্বাভাবিক হলে যে কোনো ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। আর তৈলাক্ত ও স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য জেল, স্প্রে ও স্টিক সানস্ক্রিন ভালো। গরমে ত্বক ঠান্ডা রাখার জন্য বরফের টুকরো ঘষতে পারেন। এ ছাড়া শসার স্লাইস চোখের পাতায় লাগিয়েও বিশ্রাম নিতে পারেন।

কিন্তু কাঠফাটা রোদে ফ্যানের তলায় থেকেও স্বস্তি নেই, যা এর মধ্যেই লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এসির হাওয়া সাময়িক আরাম দিলেও কতক্ষণই বা থাকতে পারবেন! কাজের প্রয়োজনে বাইরে তো বের হতেই হবে। আবার গলদঘর্ম হয়ে বাড়ি ফিরেই ঢক ঢক করে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান কিংবা সঙ্গে সঙ্গে স্নান করলেও শরীরের বারোটা বাজতে সময় লাগে না।

বরং আপনার শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখুন। গরমকালে বেশ কিছু বিষয় মেনে চললেই সুস্থ থাকবেন।

তাই কাঠফাটা গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরলজাতীয় পান করুন। হালকা ও সুতির পোশাক পরুন এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়া হিটস্ট্রোকসহ অন্যান্য রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকুন।

খুব গরম থেকে এসে এসিতে ঢুকলে কিংবা বরফ ঠান্ডা পানি খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা হতে পারে। তাই এ অভ্যাস ত্যাগ করুন। গরমে ঘন ঘন স্নান করলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কাও থাকে, সেটিও বদলে ফেলুন। এর বদলে কখনো কখনো কোল্ড ফুট বাথ নিন। যার জন্য একটি বড় গামলায় ঠান্ডা পানি নিয়ে তার মধ্যে বরফের টুকরো দিন। এবার খানিক সময় পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। চাইলে এই পানির মধ্যে কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট অ্যাসেন্সিয়াল অয়েল যোগ করতে পারেন।

আর গরমে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে। সে কারণে বাইরে থেকে এসে হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস করুন। গরম পড়তে শুরু করলেই শরীরে পানিশূন্যতার সমস্যা দেখা দেয়। তাই দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে ক্লান্তি কম অনুভূত হয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে।

গরমের সময় হালকা ও সুতি আর আরামদায়ক পোশাক পরুন। এ সময়ে খুব আঁটসাঁট পোশাক না পরাই ভালো। কারণ গাঢ় রঙের বদলে হালকা রঙের পোশাক শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। আর গরমের সময়ে ঝাল, তেল, মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। খাদ্যতালিকায় এমন ফল বা সবজি রাখুন যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। তরমুজ, শসা, জামরুল, পটোল, ঝিঙের মতো যেসব ফল অথবা সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, সেগুলো বেশি করে খাওয়ার চেষ্টা করুন।

টকদই ঘরে পাতা হলে তো কথাই নেই। নয়তো দোকান থেকে কিনে এই সময়ে প্রতিদিন পাতে রাখুন টকদই। দারুণ স্বাস্থ্যকর এ টকদই শরীরও ঠান্ডা রাখে। দইয়ের শরবত থেকে শুরু করে দইভাত, দইয়ের রায়তা যেভাবে হোক দই খাওয়া চাই-ই চাই। আবার খেতে পারেন দই চিঁড়ে, খইদইয়ের মতো খাবার।

তবে শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। গরমের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, তাই ঘরকে যতটা সম্ভব ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করুন।

এ ছাড়া গরমের কারণে অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, যা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সকালে বা সন্ধ্যায় হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা যোগব্যায়াম করুন। এতে শরীর চাঙা থাকবে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

সূত্র : যুগান্তর

আলফাডাঙ্গায় ভুয়া স্বাক্ষরে জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় ভুয়া স্বাক্ষরে জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় জাল দলিল, ভুয়া স্বাক্ষর ও প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের জমি নিজের নামে নামজারি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাম কাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. শহিদুল ইসলাম।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে আলফাডাঙ্গা ডাকবাংলো সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহিদুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার বাবা অলিয়ার রহমান বৈধ দানপত্রের মাধ্যমে তাকে ৩ শতাংশ জমি প্রদান করেন। পরবর্তীতে গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে ওই জমির নামজারির আবেদন করতে গেলে তিনি জানতে পারেন, জমিটি ইতোমধ্যে শাম কাজী নামের এক ব্যক্তি নিজের নামে নামজারি করে নিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০০৮ সালের একটি দলিল (নম্বর-৭৯১) দেখিয়ে জমিটির নামজারি সম্পন্ন করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সেখানে সংরক্ষিত মূল দলিলে তার বাবা অলিয়ার রহমানের কোনো নাম, ছবি কিংবা স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। ফলে এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা দলিল বলে প্রতীয়মান হয়।

শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর উপস্থাপন করা হলে তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরে প্রশাসন অভিযুক্ত শাম কাজীর নামে করা নামজারি বাতিল করে। তবে নামজারি বাতিল হলেও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত পক্ষ তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে। ফলে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কাছে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, সহযোগী এবং ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি তার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম রায়হানূর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট নামজারি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাঁশের খুঁটি গলায় ঢুকে প্রাণ গেল গাছ ব্যবসায়ীর

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাঁশের খুঁটি গলায় ঢুকে প্রাণ গেল গাছ ব্যবসায়ীর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে গাছ কাটার সময় দুর্ঘটনায় শেখ আকু (৬৫) নামে এক গাছ ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) সকাল ৮টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত শেখ আকু নগরকান্দা উপজেলার কুঞ্জনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাছ কেনাবেচা ও কাটার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে কৃষ্ণপুর এলাকায় একটি বড় গাছ কাটার কাজ করছিলেন শেখ আকু। গাছের ওপর অবস্থান করে কাজ করার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। এ সময় নিচে থাকা একটি বাঁশের খুঁটির ওপর আছড়ে পড়লে খুঁটিটি তার গলার ভেতর ঢুকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ ছিল না।

নিহতের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার বাড়িতে চলছে আহাজারি। দীর্ঘদিনের পরিচিত ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে এলাকায় তার সুনাম ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাবার সঙ্গে অভিমান, ঘাস মারা বিষ খেয়ে প্রাণ দিল যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাবার সঙ্গে অভিমান, ঘাস মারা বিষ খেয়ে প্রাণ দিল যুবক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বাবার সঙ্গে অভিমান করে ঘাস মারা বিষপান করা এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

মৃত যুবকের নাম রুবেল ফকির (২০)। তিনি উপজেলার বোড়ইপাড়া গ্রামের নুরু ফকিরের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় বাবা নুরু ফকির ছেলেকে বকাঝকা করেন। বিষয়টি নিয়ে অভিমান করে রুবেল বাড়িতে থাকা কৃষি জমিতে ব্যবহৃত ঘাস মারা বিষ পান করেন।

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

পরে একই দিন দুপুর ১টা ১০ মিনিটে রুবেলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিষক্রিয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ হাসপাতাল মর্গে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”