খুঁজুন
, ,

যে ৮ জিনিস দিয়ে কখনোই মুখ পরিষ্কার করবেন না?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
যে ৮ জিনিস দিয়ে কখনোই মুখ পরিষ্কার করবেন না?

ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়ের জনপ্রিয়তা নতুন কিছু নয়। রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই অনেকেই ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল কিংবা ব্রণমুক্ত রাখার চেষ্টা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ভিডিও কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এমন অসংখ্য ‘বিউটি টিপস’ ছড়িয়ে আছে। তবে সমস্যা হলো, সব পরামর্শ যে সত্যিই ত্বকের জন্য উপকারী, তা নয়। বরং কিছু উপাদান আছে, যেগুলো ব্যবহার করলে সাময়িকভাবে উপকার মিলছে বলে মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হওয়া, সংক্রমণ, জ্বালাপোড়া, এমনকি ত্বকের প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই ত্বকের যত্নে সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বহুল প্রচলিত ঘরোয়া উপাদান মুখে ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। জেনে নিন এমনই ৬টি জিনিস সম্পর্কে, যেগুলো দিয়ে কখনোই মুখ পরিষ্কার করা উচিত নয়।

চিনি: অনেকেই চিনি দিয়ে মুখের ত্বক পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এটি মোটেই ঠিক নয়। কারণ চিনির দানাদার অংশ ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে। এতে ত্বক কেটে যাওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

গরম পানি: মুখের ত্বকের জন্য গরম পানি অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ উষ্ণ জল মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।

বেকিং সোডা: অনেকেই মনে করেন, বেকিং সোডা ত্বক খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি ক্ষারজাতীয় উপাদান। এটি ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক pH মাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

আঠা: ব্ল্যাকহেড পরিষ্কার করতে অনেকে আঠা ব্যবহার করেন। তবে এটি ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ আঠা ব্যবহারে ত্বকের লোমকূপের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা পরবর্তীতে আরও জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে।

লেবু: লেবুর রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার পরামর্শও অনেক জায়গায় দেখা যায়। কিন্তু এটি ত্বকের জন্য নিরাপদ নয়। লেবুর রস ত্বকের সেই উপাদানগুলোর ক্ষতি করে, যেগুলো সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়।

টুথপেস্ট: ব্রণ কমাতে টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ অনেকেই দিয়ে থাকেন। যদিও এতে সাময়িকভাবে ব্রণ শুকিয়ে যেতে পারে, তবে এর ফলে ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আলুর রস: কাঁচা আলুর রস যে কার্যকরভাবে কালো দাগ বা ক্ষতচিহ্ন হালকা করে, তার কোনো ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। এতে প্রাকৃতিকভাবেই সোলানিনের মতো অ্যালকালয়েড থাকে, যা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের মাধ্যমে শোষিত হলে উচ্চ মাত্রায় জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে বা বিষাক্তও হতে পারে। রস করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আলুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ভেঙে যায়, তাই এর সামান্য উপকারিতাও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বারবার ব্যবহারে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনার ত্বক আগে থেকেই সংবেদনশীল বা প্রদাহযুক্ত থাকে।

কাঁচা ডিম: কাঁচা ডিমে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থাকতে পারে, যা থেকে ত্বক বা চোখে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। ডিমের সাদা অংশের মাস্ক ব্যবহারের পর ত্বকে যে টানটান ভাব আসে, তা আসলে শুকিয়ে যাওয়া প্রোটিনের একটি আস্তরণ মাত্র; এটি ত্বককে টানটান করে না বা এর বার্ধক্যও রোধ করে না। আপনার ত্বক ডিমের বড় প্রোটিন শোষণ করতে পারে না, তাই সেগুলো সেখানে নিষ্ক্রিয়ভাবে থেকে যায়। এ ছাড়া কাঁচা ডিমে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এটি মুখে মাখলে ব্রণ বা তার চেয়েও খারাপ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই ত্বকের যত্নে কোনো ঘরোয়া উপায় অনুসরণের আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। সব ‘ভাইরাল টিপস’ যে নিরাপদ নয়, সেটি মনে রাখাই ভালো।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভি

দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রেন টিউমার হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রেন টিউমার হয়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

ভূমিকা বর্তমান যুগে আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত হাতছাড়া হয় না এই প্রযুক্তি। কিন্তু এই অফুরন্ত ফোন ব্যবহারের সাথে সাথেই আমাদের মনের কোণে উঁকি দেয় একটি বড় সংশয়; দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করলে কি ব্রেন টিউমার হতে পারে? কিংবা বাড়ির পাশে থাকা মোবাইল টাওয়ার কি আমাদের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে ফেলছে?

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিতর্ক ও সাধারণ মানুষের মনের ভয় দূর করতে সম্প্রতি ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর লাইফস্টাইল বিভাগে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ভারতের ফরিদাবাদের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর এবং মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. সানি জৈন।

তার মতে, মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন বা মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি থাকার কারণে ব্রেন টিউমার বা ক্যান্সারের আশঙ্কাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত ভুল ধারণা বা ‘মিথ’।

তিনি বলেন, মোবাইল টাওয়ার বা সেলফোনের দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে ব্রেন টিউমার হতে পারে—এমন দাবির সপক্ষে আজ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানসম্মত তত্ত্ব বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসা পরিভাষায় একে তিনি ‘করিডোর নলেজ’ বা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসকের দাবি, সমাজের এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়া এই মনগড়া তথ্যগুলোই কালক্রমে মানুষের মনে অবৈজ্ঞানিক ভয়ের জন্ম দেয়, যার সাথে বাস্তব বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই।

রেডিয়েশনের প্রকারভেদ: আয়নাইজিং বনাম নন-আয়নাইজিং

ড. জৈনের মতে, রেডিয়েশনের সব ধরন এক নয় এবং আমাদের ভয়ের মূল কারণ হলো সব ধরনের রেডিয়েশনকে এক পাল্লায় মাপা। ক্ষতিকারক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে রেডিয়েশনকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. আয়নাইজিং রেডিয়েশন: এই ধরনের রেডিয়েশনের শক্তি অত্যন্ত বেশি থাকে। এটি মানবদেহের কোষ ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে এবং সরাসরি ডিএনএ বা জিনগত কাঠামো ভেঙে ফেলতে সক্ষম। এই ডিএনএ মিউটেশন বা বিকৃতির ফলেই পরবর্তীতে ক্যান্সার বা টিউমার সৃষ্টি হয়।

২. নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশন: মোবাইল ফোন এবং মোবাইল টাওয়ার থেকে যে রেডিয়েশন নির্গত হয়, তা মূলত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (Radiofrequency energy) তরঙ্গ, যা সম্পূর্ণভাবে নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত।

মোবাইল রেডিয়েশন কি ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারে?

ড. সানি জৈন স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, মোবাইল ফোন বা টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের শক্তি অত্যন্ত দুর্বল। মানবদেহের কোষে প্রবেশ করে ডিএনএ ভেঙে ফেলার মতো কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশনের নেই। সুতরাং, এই দুর্বল রেডিও তরঙ্গ আমাদের শরীরের ডিএনএ বা জিনের কোনো ক্ষতি করতে পারে না, যার ফলে ক্যান্সার বা ব্রেন টিউমার হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না।

বৈশ্বিক গবেষণা ও ডব্লিউএইচও-র মতামত

মোবাইল রেডিয়েশনের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বছরের পর বছর ধরে ব্যাপক গবেষণা চালানো হয়েছে। ড. জৈন উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণমূলক ট্র্যাকিং, যেমন—‘কসমস’ স্টাডি, নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি বসবাসের সাথে ব্রেন টিউমারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক বা কারণ খুঁজে পায়নি। বিজ্ঞানের বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী, সব রেডিয়েশনের কার্যকারিতা ও শক্তির মাত্রা ভিন্ন হওয়ায় মোবাইল ফোন নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ফরিদপুরের গোপালপুর-মৈনট ঘাটে ইজারা কম, ভাড়া বেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের গোপালপুর-মৈনট ঘাটে ইজারা কম, ভাড়া বেশি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর-মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটে ইজারা মূল্যে ধস নামলেও উল্টো বেড়েছে যাত্রী পারাপারের ভাড়া। সেই সঙ্গে ঘাটের চৌহদ্দি বা সীমানা অস্বাভাবিকভাবে সম্প্রসারণ করা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও বিতর্ক। ২০২২ সালে যেখানে এই ঘাটটির ইজারা মূল্য ছিল ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, সেখানে চলতি বছরে মাত্র ৭০ লাখ টাকায় ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।

গত তিন বছর ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া এই ঘাটটি এবার নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেওয়া হলেও কমেনি যাত্রী পারাপারের মাশুল, বরং বাড়ানো হয়েছে ভাড়া।

​২০২৫ সাল পর্যন্ত স্পিডবোটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা এবং লঞ্চে ৭০ টাকা। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পিডবোটে ১৭৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণের কথা বলা হলেও স্থানীয়ভাবে ১৮০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

অন্যদিকে লঞ্চে ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮০ টাকা। শুধু ভাড়াই নয়, ঘাটের সীমানা বাড়িয়ে দুই পাড় মিলিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার পদ্মা পারকে গোপালপুর-মৈনট ঘাটের আওতায় আনা হয়েছে। এতে হাজীডাঙ্গী, এমপি ডাঙ্গী ও টিলারচরসহ আশপাশের একাধিক ঘাটের কার্যক্রম ও সরকারি রাজস্ব আদায় মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

​ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে কম দামে ইজারা নিয়েছেন এবং সীমানা বাড়িয়ে সরকারের অন্যান্য ঘাটের রাজস্ব কমিয়ে দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদারের অংশীদার মো. আজিজ মাষ্টার দাবি করেন, তাঁরা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত হারেই ভাড়া আদায় করছেন।

​এদিকে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, ঘাটটি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সেখান থেকেই স্পিডবোটে ১৭৫ টাকা ও লঞ্চে ৮০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া যাত্রী পারাপার করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে ইজারা মূল্য হ্রাসের পেছনে প্রকৃত কারণ ও সীমানা বৃদ্ধির বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরে জিয়া ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে জিয়া ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত জিয়া খাল ও সুতানালী খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে শহরের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনের মহাসড়কে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাল দুটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর ও মাচ্চর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য জলাবদ্ধ পানিতে মিশে কুড়িগাড়া বিল, টেংরামারা বিল, তলাপত্তর বিল ও বাঁশগাড়ি খাদের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।

​বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরাসরি উপস্থিত হয়ে খাল দুটি পুনঃখনন করেছিলেন। এর ফলে অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে গতি এসেছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে খাল দুটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করার দাবি জানান তারা।

​কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে খাল পুনঃখননের পাশাপাশি ফরিদপুরে পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল স্থাপনসহ আট দফা দাবি জানানো হয়।

​কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ফরিদপুর জেলা কমিটির সভাপতি সুধীন সরকার মঙ্গল, সহ-সভাপতি আবু হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক অজিত বিশ্বাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আব্দুল্লাহ্ সাঈদ, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খাঁন রেজাউল কবীর বাচ্চু, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি জাহানারা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মল্লিকসহ স্থানীয় কৃষকরা।