খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফোন ভালো রাখতে কতদিন পরপর রিস্টার্ট করা উচিত, জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
ফোন ভালো রাখতে কতদিন পরপর রিস্টার্ট করা উচিত, জানুন

বর্তমান যুগে স্মার্টফোন ছাড়া একমুহূর্তও কল্পনা করা কঠিন। যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, বাজার করা কিংবা বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল দেওয়া; সবকিছুই এখন মোবাইলের মাধ্যমে করা হয়।

সারাদিনই হাতের মুঠোয় থাকে ফোন, রাতেও অনেক সময় চার্জে দিয়ে রেখে ঘুমানো হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, সারাক্ষণ সচল থাকা এই ডিভাইসটিরও প্রয়োজন হয় ‘বিশ্রামের’?

বিশেষজ্ঞরা জানান, ফোনে যেমন নিয়মিত চার্জ দেওয়া জরুরি, তেমনি ফোনকে সপ্তাহে অন্তত দুই-তিনবার রিস্টার্ট করা উচিত। তাদের দাবি, সবচেয়ে ভালো হলো দুয়েকদিন পরপর রিস্টার্ট করা। যদি সেটা না করেন, তবে সপ্তাহে মাত্র এক মিনিটের জন্য হলেও ফোন রিস্টার্ট করলে এর আয়ু বেড়ে যায় এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

মোবাইল কমিউনিকেশন কোম্পানি টি-মোবাইলের মতে, সপ্তাহে অন্তত একবার যে কোনও স্মার্টফোন রিস্টার্ট করতে পারলে ভালো।

স্যামসাং জানিয়েছে, তাদের গ্যালাক্সি মডেলের ফোনগুলো প্রতিদিন রিস্টার্ট করা উচিত। Samsung Galaxy ফোনে স্বয়ংক্রিয় রিস্টার্ট সেট করার একটি বিকল্পও রয়েছে। সেটিংসে গিয়ে চেক করতে পারেন সেটি।

কেন ফোনকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার?

১. ব্যাটারির স্বাস্থ্য রক্ষায়

ফোন সারাক্ষণ চালু থাকলে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে, অতিরিক্ত গরম হয় এবং দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যায়। সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট করলে ব্যাটারি ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায় এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

২. ফোনের পারফরম্যান্স উন্নত হয়

ফোন চালু থাকলে অনেক সময় অ্যাপস বন্ধ হওয়ার পরও কিছু র‍্যাম ব্যবহার করে যায়, যাকে বলা হয় মেমোরি লিক। এতে ফোন ধীরে ধীরে স্লো হয়ে যায়। সপ্তাহে একবার রিস্টার্ট করলে এসব সমস্যা কমে গিয়ে ফোন দ্রুত কাজ করে।

৩. নেটওয়ার্ক সমস্যা মেটে

বিশেষ করে পুরোনো ফোনগুলোতে অনেক সময় মোবাইল ডাটা বা ওয়াইফাই হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এক্ষেত্রে ফোন রিস্টার্ট করলেই নেটওয়ার্ক আবার নতুনভাবে কানেক্ট হয়। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারেও ঝামেলা থাকে না।

৪. অপ্রয়োজনীয় ক্যাশ ডাটা মুছে যায়

দীর্ঘদিন ফোন চালু রাখলে ক্যাশড ডাটা জমে গিয়ে ফোনকে স্লো করে দেয়। রিস্টার্ট করলে এসব অপ্রয়োজনীয় ডাটা মুছে গিয়ে ফোনের গতি বেড়ে যায়।

৫. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে

অনেক সময় ফোন বন্ধ না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ চলতেই থাকে, যা ব্যাটারির খরচ বাড়ায় এবং র‍্যাম দখল করে রাখে। সপ্তাহে একবার রিস্টার্টের পাশাপাশি এই অ্যাপগুলো বন্ধ করে দিলে ফোনের কর্মক্ষমতা বাড়ে।

কতবার রিস্টার্ট করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে এক মিনিটের জন্য বিশ্রাম দেওয়া উচিত। এতে ফোন ও এর ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে কেউ যদি অনেক বেশি ফোন ব্যবহার করেন বা পুরোনো ফোন ব্যবহার করেন, তাহলে সপ্তাহে ২–৩ বার রিস্টার্ট করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

শেষ কথা

স্মার্টফোন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে বটে, তবে এরও নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন। যেমন চার্জ দিয়ে ফোন সচল রাখি, তেমনি মাঝে মাঝে বন্ধ করে বিশ্রাম দেওয়া উচিত। সপ্তাহে একবারের এই ছোট্ট অভ্যাস শুধু ফোনের আয়ু বাড়াবে না, ব্যবহারকারীরও অযাচিত ঝামেলা কমাবে।

সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্টদ্য মিরর ও নিউজ ১৮

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানহা (১৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জন রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তানহাকে। সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন দিল জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন দিল জনতা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আয়ুব আলী ও ময়না বেগমের বাড়িঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা। দীর্ঘদিন ধরে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

শুক্রবার (০৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা আয়ুব আলী ও ময়না বেগম (স্বামী-স্ত্রী) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। কয়েকদিন আগে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে তাদের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। পরে উদ্ধারকৃত মাদক ও অস্ত্র ধ্বংস করা হয়। তাদের মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকতে বারবার অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা এলাকাবাসীর অনুরোধ কর্ণপাত না করে তাদের মাদককারবারী চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের এলাকা থেকে উচ্ছেদের দাবিতে তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে।

একাধিক এলাকাবাসী বলেন, বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েও তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এলাকার যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদক সমাজকে ধ্বংস করে। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সোনাখোলার মতো প্রতিটি এলাকায় সচেতন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম.ম.সিদ্দিক মিঞার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে রাতভর নিখোঁজ, সকালে পদ্মায় মিলল ট্রাক্টরচালকের মরদেহ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে রাতভর নিখোঁজ, সকালে পদ্মায় মিলল ট্রাক্টরচালকের মরদেহ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর পাড়ের আমন ধানের জমিতে চাষ গিতে গিয়ে ট্যাফে ট্রাক্টর উল্টে জয় বিশ্বাস (২০) নামের এক ড্রাইভারের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (০৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় থেকে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জয় বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম আলী বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩ মে) চরভদ্রাসন উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর মাহিন্দ্র ট্রাক্টরের চালক ছিলেন জয়।
গত দুইদিনই  জয় বিশ্বাস মোহাম্মদ আলীর ট্যাফে ট্রাক্টর দিয়ে কৃষিজমি চাষাবাদের কাজ করছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ট্রাক্টর দিয়ে জয় নদীর তীরবর্তী জমিতে চাষ দিচ্ছিল। এসময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পরে প্রায় পুরোটাই ডুবে যায়।এতে ট্রাক্টরের  চালক জয় বিশ্বাস ট্রাক্টরের নিচে আটকা পড়েন। রাতে তার সাথে আর কেউ না থাকায় বিষয়টি টের পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে  স্থানীয় লোকজন নদীতে ট্রাক্টরের চাকা ও অন্যান্য অংশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে ওই চালকের মরদেহ উদ্ধার করে।

চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। ট্রাক্টরটি নদীর পাড়ে কিছুটা তলিয়ে গিয়েছিল পুরোটা ডুবে ছিল না।

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি চালকের ঘুম এসে যাওয়ায় বা নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বিশ্বাস বলেন, আমরা লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সাথে আলাপ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।