খুঁজুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফোন ভালো রাখতে কতদিন পরপর রিস্টার্ট করা উচিত, জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
ফোন ভালো রাখতে কতদিন পরপর রিস্টার্ট করা উচিত, জানুন

বর্তমান যুগে স্মার্টফোন ছাড়া একমুহূর্তও কল্পনা করা কঠিন। যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, বাজার করা কিংবা বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল দেওয়া; সবকিছুই এখন মোবাইলের মাধ্যমে করা হয়।

সারাদিনই হাতের মুঠোয় থাকে ফোন, রাতেও অনেক সময় চার্জে দিয়ে রেখে ঘুমানো হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, সারাক্ষণ সচল থাকা এই ডিভাইসটিরও প্রয়োজন হয় ‘বিশ্রামের’?

বিশেষজ্ঞরা জানান, ফোনে যেমন নিয়মিত চার্জ দেওয়া জরুরি, তেমনি ফোনকে সপ্তাহে অন্তত দুই-তিনবার রিস্টার্ট করা উচিত। তাদের দাবি, সবচেয়ে ভালো হলো দুয়েকদিন পরপর রিস্টার্ট করা। যদি সেটা না করেন, তবে সপ্তাহে মাত্র এক মিনিটের জন্য হলেও ফোন রিস্টার্ট করলে এর আয়ু বেড়ে যায় এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

মোবাইল কমিউনিকেশন কোম্পানি টি-মোবাইলের মতে, সপ্তাহে অন্তত একবার যে কোনও স্মার্টফোন রিস্টার্ট করতে পারলে ভালো।

স্যামসাং জানিয়েছে, তাদের গ্যালাক্সি মডেলের ফোনগুলো প্রতিদিন রিস্টার্ট করা উচিত। Samsung Galaxy ফোনে স্বয়ংক্রিয় রিস্টার্ট সেট করার একটি বিকল্পও রয়েছে। সেটিংসে গিয়ে চেক করতে পারেন সেটি।

কেন ফোনকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার?

১. ব্যাটারির স্বাস্থ্য রক্ষায়

ফোন সারাক্ষণ চালু থাকলে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে, অতিরিক্ত গরম হয় এবং দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যায়। সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট করলে ব্যাটারি ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায় এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

২. ফোনের পারফরম্যান্স উন্নত হয়

ফোন চালু থাকলে অনেক সময় অ্যাপস বন্ধ হওয়ার পরও কিছু র‍্যাম ব্যবহার করে যায়, যাকে বলা হয় মেমোরি লিক। এতে ফোন ধীরে ধীরে স্লো হয়ে যায়। সপ্তাহে একবার রিস্টার্ট করলে এসব সমস্যা কমে গিয়ে ফোন দ্রুত কাজ করে।

৩. নেটওয়ার্ক সমস্যা মেটে

বিশেষ করে পুরোনো ফোনগুলোতে অনেক সময় মোবাইল ডাটা বা ওয়াইফাই হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এক্ষেত্রে ফোন রিস্টার্ট করলেই নেটওয়ার্ক আবার নতুনভাবে কানেক্ট হয়। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারেও ঝামেলা থাকে না।

৪. অপ্রয়োজনীয় ক্যাশ ডাটা মুছে যায়

দীর্ঘদিন ফোন চালু রাখলে ক্যাশড ডাটা জমে গিয়ে ফোনকে স্লো করে দেয়। রিস্টার্ট করলে এসব অপ্রয়োজনীয় ডাটা মুছে গিয়ে ফোনের গতি বেড়ে যায়।

৫. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে

অনেক সময় ফোন বন্ধ না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ চলতেই থাকে, যা ব্যাটারির খরচ বাড়ায় এবং র‍্যাম দখল করে রাখে। সপ্তাহে একবার রিস্টার্টের পাশাপাশি এই অ্যাপগুলো বন্ধ করে দিলে ফোনের কর্মক্ষমতা বাড়ে।

কতবার রিস্টার্ট করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে এক মিনিটের জন্য বিশ্রাম দেওয়া উচিত। এতে ফোন ও এর ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে কেউ যদি অনেক বেশি ফোন ব্যবহার করেন বা পুরোনো ফোন ব্যবহার করেন, তাহলে সপ্তাহে ২–৩ বার রিস্টার্ট করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

শেষ কথা

স্মার্টফোন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে বটে, তবে এরও নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন। যেমন চার্জ দিয়ে ফোন সচল রাখি, তেমনি মাঝে মাঝে বন্ধ করে বিশ্রাম দেওয়া উচিত। সপ্তাহে একবারের এই ছোট্ট অভ্যাস শুধু ফোনের আয়ু বাড়াবে না, ব্যবহারকারীরও অযাচিত ঝামেলা কমাবে।

সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্টদ্য মিরর ও নিউজ ১৮

নগরকান্দায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল সাবেক ডাককর্মীর

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল সাবেক ডাককর্মীর

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কাজী আব্দুল মান্নান (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের কাজী কড়িয়াল গ্রাম এলাকায় ফরিদপুর–ভাঙ্গা সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে সড়ক পার হয়ে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন কাজী আব্দুল মান্নান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কাজী আব্দুল মান্নান কাজী কড়িয়াল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ডাক বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং অবসরে জীবনযাপন করছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকাহত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ফরিদপুর–ভাঙ্গা সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা সড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি টাকার ফাঁদ, লিবিয়ায় বন্দি যুবক—ভাঙ্গায় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি টাকার ফাঁদ, লিবিয়ায় বন্দি যুবক—ভাঙ্গায় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে বিদেশে পাচার ও বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জসিম সরদার নামে একজন আসামিকে গ্রেফতার করে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামান মিয়া (৫১) তার ছেলে মো. মিনহাজ মিয়া (২১)-কে বৈধভাবে বিমানে ইতালি পাঠানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্তরা ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে এবং ভুক্তভোগী পরিবার তাদের কথায় বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে সেই অর্থ প্রদান করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল আসামি মনির সরদারের (৪৮) নির্দেশে তার স্ত্রী ও সহযোগীরা অর্থ সংগ্রহ ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। অপর আসামিরা হলেন পপি আক্তারী (৩৫), জসিম সরদার (৪৭) এবং রেজাউল কাজী (৫৫)। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একত্রিত হয়ে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্র হিসেবে কাজ করছিল।

পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম দফায় ২৬ লাখ টাকা পরিশোধের পর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মিনহাজ মিয়াকে ঢাকা থেকে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে আটক অবস্থায় আছেন বলে জানানো হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে তার ওপর নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে পরিবারটি বাধ্য হয়ে নিজেদের জমি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৭ শতাংশ জমি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তা আসামিদের নামে দলিল করে দিতে বাধ্য হন ভুক্তভোগীর বাবা। পরে আরও ১৮ লাখ টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে প্রদান করা হয় বলে দাবি করা হয়।

এত বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে পুনরায় টাকা দাবি করা হয় এবং তাকে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জসিম সরদার নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি মানবপাচার চক্রের আন্তর্জাতিক সংযোগ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।

এই ৫ ব্যক্তির দোয়া কখনোই কবুল হয় না

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
এই ৫ ব্যক্তির দোয়া কখনোই কবুল হয় না

আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তাঁর দয়া অফুরন্ত। তাঁর রহমত অগণিত। রব্বুল আলামিনের দয়ার সাগরে দুনিয়ার সব মানুষ, সব মহাশক্তি ডুব দিলেও বরকতে পরিপূর্ণ মণিমুক্তা পাবে, কিন্তু কূল পাবে না। কারণ, তাঁর দয়ার সাগরের গভীরতার কোনো সীমা নেই। সৃষ্টির প্রতি তাঁর মায়ার কোনো পরিমাপ নেই।

দুনিয়ার সব মালিকের কাছে তার শ্রমিকরা একটু বেশি মজুরি চাইলে, সুবিধা চাইলে তারা নাখোশ হন। কেউ কেউ ক্ষিপ্ত হন। অনেকে আবার অবিচারও করেন। কিন্তু দু’জাহানের মালিকের প্যাটার্ন ভিন্ন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পাল্লা অতুলনীয়। তাঁর কাছে তাঁর গোলামরা যত বেশি চায়, তিনি তত বেশি দেন। খুশি হন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, বান্দা তুই যত বেশি চাইবি, আমি তত বেশি খুশি হই। রহমতের দ্বার খুলে দিই। আমি পরম করুণাময়।

কোরআনের ভাষায়, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। আর যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ (সুরা মু’মিন, আয়াত : ৬০)।

আল্লাহর কাছে চাইতে হয় দোয়ার মাধ্যমে। নতচিত্তে। অবনত মস্তকে। রব্বেকা’বা ইরশাদ করেন, ‘আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)। হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, দোয়া সব ইবাদতের মূল।

আর দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে হারাম খাদ্য, বস্ত্র, পানীয় ইত্যাদি বর্জন (পরিহার) করা। রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু (হালাল) হতে ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো। (সুরা মুমিন : ৫১)

অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদাত কর। (সুরা বাক্বার : ১৭২)

এর ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরাম বলেন, যারা হারাম উপার্জন, হারাম খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে, তাদের দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। চাই সে যতই দোয়া করুক না কেন।

চলুন জেনে নিই, যে ৫ ব্যক্তির দোয়া কখনোই কবুল হয় না—

হারাম খাওয়া

হারাম খাবার খাওয়া ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, হারাম খাবার, পানীয় ও বস্ত্র অর্থাৎ হারাম উপার্জনে যাপিত জীবন দোয়া কবুলের অন্তরায়। যে ব্যক্তি হারাম পরিহার করতে পারে না, তার দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায় না। বিপরীতে যার জীবিকা পবিত্র, তার দোয়া কবুল হওয়ার কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি (সা.) একদিন সাদকে (রা.) বলেন, হে সাদ, তোমার খাদ্য পবিত্র করো, তাহলে মুস্তাজাবুদ দাওয়াত (যার দোয়া কবুল হয়) হতে পারবে। (আল মুজামুল আওসাত : ৬৪৯৫)

নিরাশ হওয়া ব্যক্তি

যে ব্যক্তি দোয়া করে হতাশ হয়ে যায় তার দোয়াও আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। যদি-না সে তাড়াহুড়ো করে আর বলে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না। (বোখারি : ৬৩৪০) তাই রাসুল (সা.) বলেছেন, দোয়ার পর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করবেন।

আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া

হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। নিশ্চয়ই তোমরা সৎ কাজের জন্য আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। তা না হলে আল্লাহ তায়ালা শিগগির তোমাদের ওপর তার শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তার কাছে দোয়া করলেও তিনি তোমাদের সেই দোয়া গ্রহণ করবেন না (তিরমিজি : ২১৬৯)। তাই আল্লাহ যেসব কাজের আদেশ দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন না করলে ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না।

আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা

হাদিসে আছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করে, সে এই পাপের শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায়ই ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘কোনো মুসলিম দোয়া করার সময় কোনো গোনাহের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া না করলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে এ তিনটির কোনো একটি দান করবেন— ১. হয়তো তাকে তার কাঙ্ক্ষিত সুপারিশ দুনিয়ায় দান করবেন ২. অথবা তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন ৩. অথবা তার কোনো অকল্যাণ বা বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করবেন। এ কথা শুনে সাহাবিরা বলেন, তাহলে তো আমরা অনেক বেশি লাভ করব। তিনি (রাসুল সা.) বলেন, আল্লাহ এর চেয়েও বেশি দেন। (আত-তারগীব : ১৬৩৩)

দোয়া করার সময় মনোযোগী না থাকা

যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয় তখন পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে দোয়া করতে হবে। কারণ, অবচেতন মনের দোয়া আল্লাহ গ্রহণ করেন না। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না। (তিরমিজি : ৩৪৭৯)

সূত্র : কালবেলা