খুঁজুন
, ,

গণতন্ত্রের উত্তরণে সামাজিক সংহতি ও জাতীয় দায়বদ্ধতা কেন জরুরি

মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
গণতন্ত্রের উত্তরণে সামাজিক সংহতি ও জাতীয় দায়বদ্ধতা কেন জরুরি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে তপশিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তপশিল অনুসারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫-এর আলোকে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এখন দেশব্যাপী চলছে নির্বাচনী হাওয়া। শহর, নগর, গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় চলছে এক এবং অভিন্ন আলোচনা।

নির্বাচনী মৌসুমে সব দলীয় প্রার্থী এবং জাতীয় নেতারা অতি সাধারণ বেশে জনতার কাতারে নেমে আসে। সাধারণ ভোটাররা প্রার্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, বুক মিলিয়ে ও কুশল বিনিময়ে প্রশান্তি লাভ করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি দলনিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সরকার গঠন করে। তাই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার গঠনের লক্ষ্যে ভোটার হিসেবে ভোট প্রদান নাগরিকের অন্যতম দায়িত্ব।

আধুনিক সমাজে রাষ্ট্র নাগরিকের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের এ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বা প্রহসনমূলক পন্থায় নির্বাচিত সরকার অনেক সময় নাগরিক অধিকার হনন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, মানবাধিকার খর্ব করা, জনমত উপেক্ষা করা ও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালায়। এতে দেশে শান্তি, স্বস্তি, স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সংহতি বিঘ্নিত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্ত গণতান্ত্রিক চর্চায় সফলতা কতটুকু? এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে। গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন। যেখানে শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকে। নাগরিকরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে অংশ নেয়, যা মূলত জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন। যার মূলভিত্তি নাগরিকের অধিকার, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও সব নাগরিকের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশ অদ্যাবধি পূর্ণরূপে অর্জন করতে পারেনি। ১৯৭৫ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা, যা পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহে ১৯৭৮ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তিত হয়। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবারও গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তন করে। আশির দশকের গোড়ায় গণতন্ত্র আবারও হারিয়ে যায় এবং গড়ে ওঠে স্বৈরাচারী শাসন কাঠামো। ১৯৯০ সালের সালের ৬ ডিসেম্বর দেশে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের সফল সমাপ্তি ঘটে ছাত্র সংগঠনগুলোর দৃঢ়তায়। এ আন্দোলনে সাতদলীয় জোট, আটদলীয় জোট ও পাঁচদলীয় রাজনৈতিক জোটগুলো প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটায়। ১৯৯০ সালে সামরিক সরকারের পতন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনাবিন্দু হিসেবে পরিচিত। আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী তিনদলীয় জোটের রূপরেখা অনুসারে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হয় গণতন্ত্রের অভিযাত্রা এবং গণতন্ত্রের উত্তরণ। এ ধারাবাহিকতায় পঞ্চম থেকে নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকে। পরে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ অনুষ্ঠিত দশম থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সর্বদলীয় ও সর্বসাধনের অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়। দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হয়। উত্থান ঘটে স্বৈরতন্ত্রের।

জুলাই গণআন্দোলন দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সূচনা করে, যা ছিল ২০২৪ সালে ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলন। যার মাধ্যমে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পতন হয়। এ আন্দোলেনে তারুণ্যের শক্তির উদ্ভব ঘটে। তারা সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে কোটামুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে। অঙ্গীকারবদ্ধ হয় একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে। জুলাই আন্দোলন একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার আন্দোলন হিসেবেও বিবেচিত। এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্যগুলো—পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, মৌলিক মানবাধিকার ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, বৈষম্যহীন সমাজ, সুবিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

এখন সময় হয়েছে সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সমাজের শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা মোটেই সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন সামাজিক সংহতি। সামাজিক সংহতি হচ্ছে সমাজের সদস্যদের মধ্যকার মানসিক ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি, বিশ্বাস ও বন্ধনের অনুভূতি, যা একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে শক্তি জোগায়। সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠায় সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজ অনন্য ভূমিকা পালন করে। সামাজিক সংহতি সমাজে শান্তি, সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা আনয়ন করে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস বোঝাপড়া বাড়ায় ও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র হুমকির মুখে। বিশ্ব মুক্ত গণতন্ত্র চর্চায় ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে সীমিত মানুষের হাতে। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তা অন্তহীন। সুইডেনভিত্তিক একটি সংস্থা ভি ডেম (ভ্যারাইটিস অব ডেমোক্রেসি) বিশ্বব্যাপী চলমান গণতন্ত্রায়ন ও স্বৈরতন্ত্রীকরণ নিয়ে জরিপ পরিচালনা করে। এ জরিপের প্রকাশিত তথ্যমতে, বিশ্বের জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ স্বৈরতন্ত্রীকরণের শিকার। বর্তমানে পৃথিবীর ৮৭টি দেশে নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র চালু আছে। ২০০৮ সালে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংখ্যা যেখানে ৪৪ ছিল, ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা ২৯টিতে নেমে আসে। জার্মানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ বিশ্বের ১২৯ দেশে গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে।

গণতন্ত্রের উত্তরণ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন জাতীয় অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ রাষ্ট্র আমাদের, এ রাষ্ট্র সবার। এ রাষ্ট্র আমরা স্বাধীন করেছি সংগ্রামের মাধ্যমে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে চাই স্থিতিশীল সমাজ, যা গণতন্ত্রের উত্তরণের মাধ্যমে সম্ভব। সামাজিক সংহতি সুপ্রতিষ্ঠিত হোক। জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হোক।

লেখক: অধ্যক্ষ, জাতীয় সমাজসেবা একাডেমি, ঢাকা

 

কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
কমলা নাকি কলা, রক্তে শর্করার জন্য কোনটি বেশি ভালো?

সুস্থ থাকতে ফলের কোনো বিকল্প নেই। তবে যখন প্রশ্ন আসে রক্তে শর্করার বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের, তখন অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান যে কোন ফলটি বেছে নেবেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় দুটি ফল কমলা এবং কলার মধ্যে কোনটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বা যারা চিনি নিয়ে সচেতন তাদের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়ে বিতর্ক অনেক দিনের।

যদিও উভয় ফলেই প্রাকৃতিক চিনি থাকে, কিন্তু পুষ্টিগত গঠন এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের (জিআই) পার্থক্যের কারণে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রায় এদের প্রভাব ভিন্ন হয়।

আজকের ফিচারে আমরা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে খুঁজে দেখব, আপনার শরীরের জন্য এই দুটি ফলের মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ এবং কীভাবে খেলে আপনার শর্করা থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে কে এগিয়ে?

রক্তে শর্করার ব্যবস্থাপনায় কমলার পাল্লা কিছুটা ভারী বলে মনে করা হয়। কারণ কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) মাত্র ৩৫, যা বেশ কম। অন্যদিকে, একটি পাকা কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত ৪৮ এর কাছাকাছি থাকে। যেহেতু কমলার জিআই কম, তাই এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কলার তুলনায় ধীরে বৃদ্ধি করে।

পুষ্টির তুলনা: একনজরে

একটি মাঝারি আকারের কলা (১১৮ গ্রাম) এবং একটি মাঝারি কমলার (১৩১ গ্রাম) পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

ক্যালরি: কলায় থাকে ১০৫ ক্যালরি, যেখানে কমলায় থাকে মাত্র ৬১.৬ ক্যালরি।

কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা: কলায় শর্করার পরিমাণ ২৬.৯ গ্রাম, অন্যদিকে কমলায় তা ১৫.৫ গ্রাম।

ভিটামিন সি: কমলায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে (দৈনিক চাহিদার ৭৭%), যা কলার (১০.৩ মিলিগ্রাম) তুলনায় অনেক বেশি। শর্করার পরিমাণ কম এবং ভিটামিন সি-এর আধিক্যের কারণে কমলা রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় কিছুটা বেশি সুবিধাজনক।

কলার গুণাগুণ: পাকা নাকি আধাপাকা?

কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে এর পরিপক্কতা বা কতটা পেকেছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম পাকা বা কিছুটা সবুজ কলায় ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ নামক এক ধরণের কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা সহজে হজম হয় না এবং রক্তে শর্করার শোষণকে ধীর করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরণের স্টার্চ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তবে কলা যত বেশি পাকে, তার জিআই তত বাড়তে থাকে এবং তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে।

কমলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য

কমলায় থাকা সাইট্রাস পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা হেস্পেরিডিন এবং নারিঞ্জিনের মতো ফ্ল্যাভোনয়েডগুলি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে ফল খাওয়ার কিছু কৌশল

আপনি কলা বা কমলা যা-ই পছন্দ করুন না কেন, রক্তে শর্করার প্রভাব কমাতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন:

১. আস্ত ফল খান, রস নয়: ফলের রস করলে এর প্রয়োজনীয় ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তা দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়। তাই সব সময় আস্ত ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

২. প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে খান: ফলের সাথে কিছু বাদাম, গ্রিক ইয়োগার্ট বা পনির মিশিয়ে খেলে হজম ধীর হয় এবং সুগার স্পাইক বা শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমে।

৩. পরিমিত মাত্রা: ফল যত উপকারীই হোক না কেন, পরিমাণে বেশি খেলে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই সব সময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৪. কলা কিনুন কিছুটা কাঁচা: ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে খুব বেশি পাকা কলার চেয়ে কিছুটা কম পাকা বা শক্ত কলা বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

শেষকথা

কমলা এবং কলা উভয়ই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হতে পারে। তবে যাদের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে, তাদের জন্য কম শর্করার কারণে কমলা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, নিয়ম মেনে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়াও সম্পূর্ণ নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

 

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।