খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

গণতন্ত্রের উত্তরণে সামাজিক সংহতি ও জাতীয় দায়বদ্ধতা কেন জরুরি

মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৮ এএম
গণতন্ত্রের উত্তরণে সামাজিক সংহতি ও জাতীয় দায়বদ্ধতা কেন জরুরি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে তপশিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তপশিল অনুসারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫-এর আলোকে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এখন দেশব্যাপী চলছে নির্বাচনী হাওয়া। শহর, নগর, গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় চলছে এক এবং অভিন্ন আলোচনা।

নির্বাচনী মৌসুমে সব দলীয় প্রার্থী এবং জাতীয় নেতারা অতি সাধারণ বেশে জনতার কাতারে নেমে আসে। সাধারণ ভোটাররা প্রার্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, বুক মিলিয়ে ও কুশল বিনিময়ে প্রশান্তি লাভ করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি দলনিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সরকার গঠন করে। তাই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার গঠনের লক্ষ্যে ভোটার হিসেবে ভোট প্রদান নাগরিকের অন্যতম দায়িত্ব।

আধুনিক সমাজে রাষ্ট্র নাগরিকের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের এ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বা প্রহসনমূলক পন্থায় নির্বাচিত সরকার অনেক সময় নাগরিক অধিকার হনন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, মানবাধিকার খর্ব করা, জনমত উপেক্ষা করা ও কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালায়। এতে দেশে শান্তি, স্বস্তি, স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সংহতি বিঘ্নিত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্ত গণতান্ত্রিক চর্চায় সফলতা কতটুকু? এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে। গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন। যেখানে শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকে। নাগরিকরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে অংশ নেয়, যা মূলত জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন। যার মূলভিত্তি নাগরিকের অধিকার, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও সব নাগরিকের সমান অংশগ্রহণের সুযোগ। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশ অদ্যাবধি পূর্ণরূপে অর্জন করতে পারেনি। ১৯৭৫ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করা, যা পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহে ১৯৭৮ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তিত হয়। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবারও গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তন করে। আশির দশকের গোড়ায় গণতন্ত্র আবারও হারিয়ে যায় এবং গড়ে ওঠে স্বৈরাচারী শাসন কাঠামো। ১৯৯০ সালের সালের ৬ ডিসেম্বর দেশে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের সফল সমাপ্তি ঘটে ছাত্র সংগঠনগুলোর দৃঢ়তায়। এ আন্দোলনে সাতদলীয় জোট, আটদলীয় জোট ও পাঁচদলীয় রাজনৈতিক জোটগুলো প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটায়। ১৯৯০ সালে সামরিক সরকারের পতন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনাবিন্দু হিসেবে পরিচিত। আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী তিনদলীয় জোটের রূপরেখা অনুসারে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হয় গণতন্ত্রের অভিযাত্রা এবং গণতন্ত্রের উত্তরণ। এ ধারাবাহিকতায় পঞ্চম থেকে নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকে। পরে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ অনুষ্ঠিত দশম থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সর্বদলীয় ও সর্বসাধনের অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়। দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হয়। উত্থান ঘটে স্বৈরতন্ত্রের।

জুলাই গণআন্দোলন দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সূচনা করে, যা ছিল ২০২৪ সালে ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলন। যার মাধ্যমে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পতন হয়। এ আন্দোলেনে তারুণ্যের শক্তির উদ্ভব ঘটে। তারা সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে কোটামুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে। অঙ্গীকারবদ্ধ হয় একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে। জুলাই আন্দোলন একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার আন্দোলন হিসেবেও বিবেচিত। এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্যগুলো—পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, মৌলিক মানবাধিকার ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, বৈষম্যহীন সমাজ, সুবিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

এখন সময় হয়েছে সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সমাজের শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা মোটেই সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন সামাজিক সংহতি। সামাজিক সংহতি হচ্ছে সমাজের সদস্যদের মধ্যকার মানসিক ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি, বিশ্বাস ও বন্ধনের অনুভূতি, যা একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে শক্তি জোগায়। সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠায় সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজ অনন্য ভূমিকা পালন করে। সামাজিক সংহতি সমাজে শান্তি, সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা আনয়ন করে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস বোঝাপড়া বাড়ায় ও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র হুমকির মুখে। বিশ্ব মুক্ত গণতন্ত্র চর্চায় ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে সীমিত মানুষের হাতে। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তা অন্তহীন। সুইডেনভিত্তিক একটি সংস্থা ভি ডেম (ভ্যারাইটিস অব ডেমোক্রেসি) বিশ্বব্যাপী চলমান গণতন্ত্রায়ন ও স্বৈরতন্ত্রীকরণ নিয়ে জরিপ পরিচালনা করে। এ জরিপের প্রকাশিত তথ্যমতে, বিশ্বের জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ স্বৈরতন্ত্রীকরণের শিকার। বর্তমানে পৃথিবীর ৮৭টি দেশে নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র চালু আছে। ২০০৮ সালে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংখ্যা যেখানে ৪৪ ছিল, ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা ২৯টিতে নেমে আসে। জার্মানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ বিশ্বের ১২৯ দেশে গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে।

গণতন্ত্রের উত্তরণ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন জাতীয় অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ রাষ্ট্র আমাদের, এ রাষ্ট্র সবার। এ রাষ্ট্র আমরা স্বাধীন করেছি সংগ্রামের মাধ্যমে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে চাই স্থিতিশীল সমাজ, যা গণতন্ত্রের উত্তরণের মাধ্যমে সম্ভব। সামাজিক সংহতি সুপ্রতিষ্ঠিত হোক। জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হোক।

লেখক: অধ্যক্ষ, জাতীয় সমাজসেবা একাডেমি, ঢাকা

 

ঘাড় ও বগলে কালচে দাগ কেন হয়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৮ এএম
ঘাড় ও বগলে কালচে দাগ কেন হয়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

অনেকের ঘাড়, বগল কিংবা শরীরের ভাঁজে অন্য জায়গার তুলনায় কালচে দাগ দেখা যায়। অনেকেই এটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি মনে করে বেশি করে ঘষে বা সাবান ব্যবহার করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি সব সময় পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং এটি কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক অ্যানেসথেসিওলজি ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। গত ৪ মার্চ তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় জানান, ঘাড় বা বগলের ত্বক গাঢ় হয়ে যাওয়ার একটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম রয়েছে— Acanthosis Nigricans।

কেন হয় এই কালচে দাগ?

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অবস্থায় ত্বক শুধু গাঢ়ই হয় না, বরং একটু মোটা ও মসৃণ বা ভেলভেটের মতো দেখায়। অনেকেই এটিকে ময়লা বা অপরিষ্কার ভাবলেও আসলে তা নয়। ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করলে সাধারণত কোনো পরিবর্তন হয় না।

ডা. কুনাল সুদের মতে, এই সমস্যাটি বেশিভাগ ক্ষেত্রেই শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেশি থাকা বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে এটি অনেক সময় প্রিডায়াবেটিস, টাইপ ২ ডায়াবেটিস কিংবা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)–এর মতো সমস্যার সঙ্গে দেখা যায়।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কী?

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের পেশি, চর্বি ও লিভারের কোষগুলো ইনসুলিন হরমোনের প্রতি ঠিকমতো সাড়া দেয় না। অথচ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইনসুলিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যখন কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সাড়া কম দেয়, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে অগ্ন্যাশয়কে আরও বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। এই পরিস্থিতিই অনেক সময় ত্বকের এমন কালচে দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, Acanthosis Nigricans নিজে থেকে সংক্রামক বা মারাত্মক রোগ নয়। তবে এর পেছনে থাকা কারণগুলো শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

ডা. কুনাল সুদের মতে, শুধু ত্বক ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করে লাভ নেই। বরং শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়?

স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Cleveland Clinic জানায়, কিছু জীবনধারাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানো সম্ভব। যেমন—

পুষ্টিকর খাবার খাওয়া : অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম : ব্যায়াম করলে শরীরের পেশি রক্তের গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে, ফলে ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা কমে।

অতিরিক্ত ওজন কমানো : অনেক ক্ষেত্রে ওজন কমালে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও কমে যায়।

পরীক্ষা করা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি ঘাড় বা বগলে এমন কালচে দাগ দেখা যায় এবং তা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। অনেক সময় A1C পরীক্ষা করা হয়, যার মাধ্যমে গত তিন মাসে রক্তে গ্লুকোজের গড় মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরের ত্বকে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় ছোট একটি লক্ষণই বড় কোনো শারীরিক সমস্যার আগাম ইঙ্গিত দিতে পারে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

রমজানের শিক্ষা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা: সালথায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
রমজানের শিক্ষা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা: সালথায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সালথা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে সালথা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রমজানের তাৎপর্য ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা এবং মিলনমেলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল ফজল মুরাদ।

আলোচনা সভায় প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা মাহে রমজানের শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, রমজান কেবল রোজা পালনের মাসই নয়, এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিকতার অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি জীবনকে শুদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধারণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান, নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বকুল মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের সুরা সদস্য ও তালমা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা মাহবুব হোসেন, ঢাকা মহানগরীর মুহাম্মদপুর থানা জামায়াতের সুরা সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ সাইফুর রহমান হিটু।

এ ছাড়া উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি চৌধুরী মাহবুব আলী সিদ্দিকী নসরু, সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।