খুঁজুন
, ,

ক্ষমতার বিড়ম্বনা ও সুদিনে সংকট

ড. মো. শওকত হোসেন
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ক্ষমতার বিড়ম্বনা ও সুদিনে সংকট

দার্শনিক হবসের ‘লেভিয়াথান’ নামক একটি গ্রন্থ আছে। রাষ্ট্রবিষয়ক নানাবিধ আলোচনার মধ্যে রাষ্ট্র নির্মাণের পেছনের পরিস্থিতির কিছু কাল্পনিক ব্যাখ্যাও তুলে ধরেছেন তিনি এই বিখ্যাত গ্রন্থে। তার মতে, রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পূর্বে প্রকৃতির রাজ্য বিরাজিত ছিল। এই প্রকৃতির রাজ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি দেখিয়েছেন যে, এখানে মানুষ ছিল অবাধভাবে স্বাধীন। সবাই যথেচ্ছা সুযোগের সন্ধানে লিপ্ত ছিল। কোনো প্রতিষ্ঠান বা সুগঠিত কর্তৃপক্ষ কাউকে নিয়ন্ত্রণ করত না; যে যার মত সুযোগ নেওয়ার উন্মত্ত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল সেই প্রকৃতির রাজ্যে।

তথাপিও যেমন খুশি তেমন ইচ্ছা অবাধ স্বাধীনতার এই জামানা মানুষের জন্য শান্তিময় ছিল না, বরং তা ছিল সংঘাতময়। এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণ হচ্ছে : মানুষের চাহিদা অপরিসীম, মানুষ অল্পে তৃপ্ত হয় না। সুযোগ অবারিত থাকলে যে যার মতো করে সর্বোচ্চ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। আর এই অবস্থা কারো জন্য সুখকর হয় না, এই কারণে যে, কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। তাই তথাকথিত নিকটজন বলতে কেউ থাকেনা। সবাই সবার সাথে প্রতিযোগিতা করে; আর এই প্রতিযোগিতার এক পর্যায়ে সংঘাত ও সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। প্রকৃতির রাজ্যের অবস্থা ব্যাখ্যায় এক কথায় এই বাস্তবতাকে হবস চিহ্নিত করেছেন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রত্যেকের যুদ্ধ হিসেবে। আসলে অবাধ সুযোগ সংঘাতকেই যেন স্বাগত জানায়।

রাষ্ট্র উৎপত্তির পেছনের ইতিহাস যাই হোক না কেন, আর সেক্ষেত্রে হবসের প্রকল্প সত্য হোক বা মিথ্যা হোক- সে আলোচনা এখন আর খুব দরকারি না। কেননা বাস্তবতা হলো এখন রাষ্ট্র আছে। পৃথিবীময় মানুষ এখন এক একটি রাজনৈতিক সমাজে বসবাস করছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে মানুষের সমাজজীবন পরিচালিত হচ্ছে। তবে সব রাষ্ট্রের বাস্তবতা এক রকম নয়। সরকার ব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী অনেকাংশে রাষ্ট্রের প্রকৃতি নির্ভর করে। আর শাসনব্যবস্থার প্রকৃতি নির্ধারণ করে রাষ্ট্রের গতি-প্রকৃতি ও জনগণের সুবিধা-অসুবিধা।

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সাংবিধানিকভাবে এই রাষ্ট্রে জনগণকেই বলা হয় সকল ক্ষমতার অধিকারী। জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। যদিও সেই সরকারে জনগণের কর্তৃত্ব বা অধিকার কতটা সুরক্ষা পায় তাও নির্ভর করে শাসক শ্রেণির মানসিকতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক দর্শনের উপর। সংসদীয় গণতন্ত্রে আসন ভিত্তিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার তারতম অনুযায়ী সরকারের ক্ষমতা নির্ধারিত হয়। ২০২৬- এর নির্বাচনের পরে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এমনকি সংসদে দুই তৃতীয় অংশের বেশি আসন নিয়ে এক নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে দলটি। এই বাস্তবতায় সরকারের ক্ষমতা এখন একচ্ছত্র। আর যেহেতু এটি একটি দলীয় সরকার, তাই সরকারি দলের নেতা কর্মী সমর্থক ও সুনজরপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণের সামনে এখন সৃষ্টি হয়েছে অবারিত সুযোগ, অপার সম্ভাবনা। সংগত কারণেই এই বাস্তবতায় এইসব সুযোগধারী বা সম্ভাবনাময়ী ব্যক্তিবর্গের মধ্যেও তৈরি হয়েছে এক ধরনের নিরলস প্রতিযোগিতা। অনেকেই বিরতিহীনভাবে দৌড়াচ্ছেন। কোনটা রেখে কোনটা নেবেন, কোথায় গিয়ে থামবেন-তা কেউ কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘হেথা নয়- অন্য কোথা, অন্য কোথা— অন্য কোনখানে?’ কেউ পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না, কেউ কম পাচ্ছেন, আবার কেউ যা পাওয়ার কথা তার চেয়েও বেশি পাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন যে, পেয়ে খুশি হওয়া মানুষের চেয়ে না পেয়ে বা অল্প পেয়ে অখুশি মানুষের সংখ্যাই বেশি। আরো ছোট করে বললে সরকার দলের অসংখ্য চাহিদাওয়ালা মানুষই থেকে যাচ্ছে নাখোশ, এমনকি ক্ষুব্ধ। দলের উপর, দলের কোনো কোনো নেতার উপর, সরকারের উপর, এমনকি সহযোদ্ধা প্রিয়জনদের উপরও অনেকেই হয়ে উঠছেন ক্রমশ আস্থাহীন।

এই বাস্তবতা দার্শনিক হবসের প্রকৃতির রাজ্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এবং সুবিধার সন্ধানে প্রতিদ্বন্দ্বী মানুষের মধ্যে সম্পর্কের বাঁধন বিনষ্ট হয়ে সংঘাত যদি ব্যাপকতার হয়ে ওঠে, তবে তা নিতান্তই অশনি সংকেত। সরকারের বড় পদে গেলে বা সরকার পরিচালনার উচ্চ অবস্থায় অধিষ্ঠিত হলে অনেক সময় এই বাস্তবতাকে টের পাওয়া যায় না। কেননা সবাই তাদের কাছে তোষামোদি করেন, দলের প্রতি দেশের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট ও প্রেম দেখানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে তারা যে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে ভিতর থেকে দলের শক্তিকেই খর্ব করে ফেলে তা বাইরে থেকে অনেক সময় বোধগম্য হয় না।

এমন পরিস্থিতিতে বিরুদ্ধ পক্ষ অর্থাৎ সরকারবিরোধীরা, এমনকি দেশবিরোধীরাও সুযোগ করে নেওয়ার বা দলীয়ভাবে সংগঠিত হওয়ার এবং শক্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পায়। সরকারি দলের পক্ষেও সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় সেবা সুচারুভাবে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা ব্যাহত হয়। শাসক দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দল পরিচালনা এবং দলকে জনবান্ধব হিসেবে ধরে রাখাও ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।

ভূমিধস বিজয় নিয়ে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তাদের অনুসারীদের দৌড় সামলানো, সংঘাত এড়ানো এবং সমন্বিতভাবে সুযোগসমূহের যুক্তিযুক্ত সুনিপুণ বণ্টনের। দল ঠিক রাখতে হলে অনেককেই যেমন অখুশি করা যায় না, তেমনি নানামুখী চাহিদাধারীদের মধ্যে সুসমন্বয় করা একটি জটিল যজ্ঞ। ছোট মাঝারি নেতা কর্মী সমর্থকরা যখন দেখে দুঃসময়ে সকলেই একসাথে ছিল, নির্যাতন নিষ্পেষণ সবকিছু সহ্য করেছে, বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়েছে, কিন্তু সুসময়ে এসে মুষ্টিমেয় মানুষেরাই শুধু সৌভাগ্যের পরশ পাচ্ছে, তাহলে তাদের মনে না পাওয়ার যন্ত্রণা ক্রমশ বেড়ে চলবে, ক্ষোভ দানা বাঁধবে।

বর্তমান বাস্তবতায় অনেকেই অনেক আলোকিত আলয়ে সৌভাগ্যের সাহচর্য নিতে দেখা যাচ্ছে। আবার কাউকে কাউকে গাড়ির পেছনে দৌড়াতে, নিরাপত্তাকর্মীদের অথবা নিজ দলের অপেক্ষাকৃত বড় কর্তাদের ধাক্কা খেতে দেখা যাচ্ছে। যেসব নেতা অনেক বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে দৈনন্দিন ওঠা-বসা ও যোগাযোগ রাখতেন, তারা কেউ কেউ সৌভাগ্যবান হাওয়ায় ঐসকল পরিচিত জনের ফোন কল পর্যন্ত ইগনোর করছেন। তারা ভীষণ ব্যস্ত- দেশ জাতির বড় বড় দায়িত্ব নিয়ে। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে এসবের বিরূপ প্রতিফলন হতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই।

সুস্থতা যে কত নিয়ামত এবং অসুখ যে কত যন্ত্রণাময়, তা যেমন সুস্থ অবস্থায় উপলব্ধি করতে হয়; তেমনি অবারিত সুদিন আসলে দুর্দিনের দুরবস্থা এবং অনাহুত অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত আগামীর কথা যথাযথভাবে চেতনায় রাখাটাই জরুরি কাজ হওয়া উচিত।

লেখক : অধ্যাপক (দর্শন বিভাগ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

ফরিদপুরে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পুলিশের প্রশিক্ষণ শুরু

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দুই দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ফরিদপুর পুলিশ লাইনসের শহীদ ছালাম সভাকক্ষে প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রথম ব্যাচের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে ফাতেমা ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ফরিদপুর জেলা পুলিশ শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনি দায়িত্বে সততা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সদস্যদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

​প্রথম ব্যাচে জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিট থেকে আসা ৫০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, আইন প্রয়োগে মানবিক হওয়া, জনগণের আস্থা অর্জন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যায় মামলা, আসামি ৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে চা দোকানিকে কুপিয়ে হত্যায় মামলা, আসামি ৪৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চা দোকানি রবিউল ইসলাম শেখ রবি (৫৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

​এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রবিউলের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

​থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়বাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা (হুকুমের আসামি) করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য আসামিরাও একই এলাকার বাসিন্দা।

​মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চা বিক্রি করতেন। ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে নিজ গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয় এবং সঙ্গে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন।

​আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার জানান, নিহতের ভাতিজার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

​উল্লেখ্য, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে গত ২৬ জুন সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবক খুন হন। নিহত রবিউল ছিলেন সুমনের চাচা। ওই সুমন হত্যা মামলারও প্রধান হুকুমের আসামি ছিলেন হোসাইন শেখ। পূর্বের মামলায় আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় আসার পরই এ নতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অবশেষে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন পদে মঞ্জুর এ এলাহীর পদায়ন বাতিল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
অবশেষে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন পদে মঞ্জুর এ এলাহীর পদায়ন বাতিল

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহীর বদলি ও পদায়নের আদেশ বাতিল করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর পদায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অংশ বাতিল করা হয়।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখার যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা স্মারকমূলে ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহীকে ওএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা থেকে সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব), ফরিদপুর হিসেবে বদলি/পদায়নের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য প্রযোজ্য অংশ নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর ফরিদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন বাতিলের দাবিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন ছাত্র সমাজ। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ তুলে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁকে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে না রাখার দাবি করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওই সময় নবনিযুক্ত সিভিল সার্জনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়। পরে আপাতত অবরোধ স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সতর্ক করেন।

এর দুই দিন পরই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ডা. মঞ্জুর এ এলাহীর ফরিদপুরের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি/পদায়নের আদেশ বাতিলের কথা জানানো হলো।

প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ফরিদপুরের সিভিল সার্জন/সহকারী পরিচালক এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।