খুঁজুন
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৫ মাঘ, ১৪৩২

তৃতীয় লিঙ্গের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার ও প্রতিবন্ধকতা

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম
তৃতীয় লিঙ্গের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার ও প্রতিবন্ধকতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার হলেও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের প্রতিকূলতা রয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৩৪ জন। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি।

কারণ সামাজিক অবহেলার ভয়ে পরিচয় গোপন করে ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন অনেক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। কাগজে-কলমে এ জনগোষ্ঠীর ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও মানসিক গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতিতে থমকে আছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকারের বাস্তবায়ন।

নির্বাচনে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভূমিকা বর্তমানে ভোটাধিকার প্রয়োগ, প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ এবং প্রচারণায় সক্রিয় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র‍্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করছে। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

মূলত ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদের সভায় নারী-পুরুষের পাশাপাশি হিজড়াদের পৃথক লিঙ্গীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ সময় উল্লেখ করা হয় যে, তারা শিক্ষাসহ অন্যান্য সব মৌলিক অধিকারে অগ্রাধিকার পাবে। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়, ‘সরকার বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিল’। ২০১৯ সালে হিজড়ারা স্বতন্ত্র লিঙ্গীয় পরিচয়ে ভোটাধিকার লাভ করে। এর আগে তারা নারী ও পুরুষ হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেন।

এ নির্বাচনে লিঙ্গ কোন বিবেচ্য বিষয় নয়। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে নজরুল ইসলাম ঋতু প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এবারও তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী নির্বাচন করছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এই আনোয়ারা ইসলাম রানী।

ওই নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের জয়লাভ করলেও তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হন রানী। সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে এবারও ভোটের মাঠে রংপুর-৩ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃতীয় লিঙ্গের একমাত্র প্রতিনিধি আনোয়ারা ইসলাম রানী।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রামে এবার ১৬টি সংসদীয় আসনে ৬৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার শেষ নেই।

এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের তৃতীয় লিঙ্গের ৫৬ জন ভোট দিয়েছিলেন। গতবারের চেয়ে এবার ১৩ জন ভোটার বেড়েছে। চট্টগ্রামে এবার মোট ভোটার ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৬। এর মধ্যে পুরুষ ৩৩ লাখ ৯৭ হাজার ৮১২ ও মহিলা ভোটার ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৫।

নোয়াখালীর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুই হাজারের বেশি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বসবাস করলেও ভোটার তালিকায় তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন মাত্র ১৪ জন। ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের জানানো হয়নি, আবার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জটিলতাও বড় বাধা। তবে ময়মনসিংহে তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয়ে এবার ভোট দেবেন ৪১ জন। যদিও জেলায় এ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েক শ।অর্থাৎ বাস্তবে সংখ্যা বেশি কিন্তু নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা কম।

নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ সমাজের মূলধারায় যুক্ত হয়ে নিজেদের আইনগত ও সামাজিক অধিকারের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। ইসির মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, ভোটকেন্দ্রে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের জন্য নেই আলাদা কোনো ব্যবস্থা, নেই নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ। ফলে নারী বা পুরুষের লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, বিদ্রƒপ ও মশকরার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই ভোট দিতে যেতে চান না।

আইনি কাঠামো থাকার পরও শুধু প্রশাসনিক উদাসীনতায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। সংখ্যায় অল্প হলেও এই জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু এ অব‍্যবস্থাপনা তাদের ভোটাধিকারকে কার্যত নিরুৎসাহিত করছে।যার ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারান। এই মনোভাব শুধু একজনের নয়, একাধিক তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের মনোভাবও প্রায় একই।

তৃতীয় লিঙ্গের ভোট প্রদানে বাস্তবতা:

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার সংবিধান স্বীকৃত হলেও এর বাস্তব প্রয়োগে প্রশাসনিক উদাসীনতা বড় সমস্যা। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তব প্রয়োগ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ না থাকলে এই অধিকার কাগজেই থেকে যাবে। নির্বাচন কমিশন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটার তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কেবল আইনগত স্বীকৃতি দিলেই হবে না, ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এই কাজ একা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সচেতনতা, সংবেদনশীল প্রশাসন ও বাস্তবমুখী ব্যবস্থা গ্রহণে বৈষম্যের এ চক্র ভাঙতে হবে। কেননা তৃতীয় লিঙ্গের অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

 

কাকে ভোট দেবেন? ইসলামের চোখে ভোটার ও প্রার্থীর জবাবদিহি

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ এএম
কাকে ভোট দেবেন? ইসলামের চোখে ভোটার ও প্রার্থীর জবাবদিহি

ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট একটি আমানত, তা সঠিক ব্যক্তিকে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব এবং ইসলামের নির্দেশ। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে ভোটের আমানত জলাঞ্জলি দেওয়া অনৈতিক ও দ্বিনি শিক্ষার পরিপন্থী। ভোটারের দ্বিনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতা না থাকলে দেশের অধঃপতন অনিবার্য। সমাজের বেশির ভাগ মানুষ ভোটকে নিছক পার্থিব বিষয় মনে করে, অথচ এটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত এবং প্রয়োগে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন  আমানত তার হকদারকে প্রত্যর্পণ করতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে।’
(সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)

ব্যক্তিস্বার্থে ভোট নয়

ভোটাধিকার প্রয়োগে যদি মানুষ ব্যক্তিস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে দেশ ও জাতির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। ভোটার যদি দেশ ও জাতির স্বার্থ বিবেচনা না করে ভোট দেয়, তবে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কখনো দূর হবে না।

মানুষের জীবনযাত্রার মানও কখনো উন্নত হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন আমানত বিনষ্ট হয় তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষা কোরো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৯৬)

ভোট বিক্রয়যোগ্য নয়

ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষরাই বেশি ভুল করে থাকে। অনেকেই এই সময়টাকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ মনে করে।

তারা সামান্য অর্থের বিনিময়ে এমন ব্যক্তি ও দলে ভিড়ে যায়, তাদের পক্ষে স্লোগান দেয় এবং মিছিল করে যাদের সে নিজেও অন্তর থেকে পছন্দ করে না। এমনকি এই ব্যক্তির সব দোষত্রুটি জানার পরও তার পক্ষে ভোট চায় এবং ভোট দেয়। ফকিহ আলেমরা বলেন, অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তি ও পাপিষ্ঠকে ভোট দেওয়া এক প্রকারের ঘুষ। এটা সমাজ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জেনেশুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাস ভঙ্গ করবে না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২৭)

পক্ষ নেওয়ার আগে লক্ষ করুন

কোনো ব্যক্তির পক্ষে মিছিল করা, স্লোগান দেওয়া এবং তার পক্ষে ভোট চাওয়া এক প্রকারের সাক্ষ্য। কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়াও সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত। আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া গুরুতর অপরাধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা বর্জন করো মূর্তি পূজার অপবিত্রতা এবং দূরে থাকো মিথ্যা কথা থেকে।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাবধান হও মিথ্যা কথার ব্যাপারে এবং তোমরা সাবধান হও মিথ্যা সাক্ষ্যের ব্যাপারে (অর্থাৎ তোমরা পরিহার কোরো)।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৬)

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, কাউকে ভোট দেওয়া এবং কারো পক্ষে প্রচারণা চালানো সুপারিশের মতো। আর সুপারিশ করার আগে ব্যক্তি তার যোগ্য কি না সেটাও বিবেচনা করা জরুরি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে এবং কেউ কোনো মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে। আল্লাহ সর্ববিষয়ে নজর রাখেন।’

(সুরা : নিসা, আয়াত : ৮৫)

তাসফিরবিদরা বলেন, উত্তম সুপারিশ হলো যা যোগ্য ব্যক্তির জন্য করা হয় এবং মন্দ সুপারিশ হলো যা অযোগ্য ব্যক্তির জন্য করা হয়। এ জন্য আলেমরা বলেন, প্রার্থী নির্বাচনে জয় লাভ করবে কি না সে বিবেচনা না করে প্রার্থী যোগ্য কি না সেটা বিবেচনা করা উচিত। কেননা যোগ্য প্রর্থীকে ভোট দেওয়ার পর সে যদি পরাজিতও হয়, তবু উত্তম সুপারিশ করার সওয়াব পাওয়া যাবে। অন্যদিকে যারা অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেবে, সে অযোগ্য ব্যক্তিকে উকিল নিযুক্ত করার কারণে গুনাহগার হবে। অযোগ্য প্রার্থী কোনো অন্যায় করলে অন্যায় কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভোটারকেও দায় বহন করতে হবে।

প্রার্থীর দ্বিনদারিও বিবেচ্য বিষয়

প্রার্থী নির্বাচনে একজন মুসলমান প্রার্থীর বাহ্যিক যোগ্য ও দক্ষতার পাশাপাশি তার দেশপ্রেম, কল্যাণকামিতা, নীতি-নৈতিকতা ও দ্বিনদারির দিকগুলোও বিবেচনা করবে। যারা প্রকাশ্যে ইসলাম, ইসলামী শিক্ষা, দ্বিন, শরিয়ত, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলে প্রতি ধৃষ্টতা দেখায় তাদের ভোট দেওয়া উচিত নয়। দুই প্রার্থীর ভেতরে যে দ্বিনদারির ক্ষেত্রে অগ্রগামী মুসলমান তাকেই প্রাধান্য দেবে। যারা দেশদ্রোহী, যারা দেশবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত, যারা অন্যায় ও জুলুমের সঙ্গে জড়িত তাদেরও ভোট দেওয়া যাবে না। কোনো প্রার্থীই যদি যোগ্যতা, দ্বিনদারি ও দেশপ্রেমের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ না হয়, তবে ভোট দান থেকে বিরত থাকা যাবে, এমনকি না ভোটও দেওয়া যাবে।

প্রার্থী কারা হবে, কারা হবে না

যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয় তারা মূলত পুরো জাতির সামনে দুটি বিষয়ের দাবি করে। এক. সে এই দায়িত্ব পালনের যোগ্য এবং এই দায়িত্ব পালনে আগ্রহী, দুই. সে এই দায়িত্ব যথাযথভাবে আমানতদারিতার সঙ্গে পালন করবে। এই দাবির ক্ষেত্রে সে যদি সত্যবাদী হয় তবে তো ভালো, কিন্তু বাস্তবতার আলোকে দাবি মিথ্যাও হতে পারে। তাই উত্তম হলো সমাজের একদল দ্বিনদার ও আল্লাহভীরু মানুষ সম্মিলিত পরামর্শের মাধ্যমে একজন যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা এবং তাকে নির্বাচন করতে অনুরোধ করা। কেননা আল্লাহ না করুন সে যদি নিজেই প্রার্থী হয় এবং নিজেকে যোগ্য ঘোষণা করে আর পরে সে ব্যর্থ হয়, দুর্নীতি করে, তবে সে আল্লাহর দরবারে খিয়ানতকারী হিসেবেই বিবেচিত হবে। মানুষের অধিকার নষ্ট করার কারণে তাকে জাহান্নামে যেতে হতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রার্থিতা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটা হলো অসংখ্য ও অগণিত মানুষের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে নেওয়া। যার ভেতর এই দায়িত্ব পালনের সৎ সাহস নেই, তার উচিত নয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া। আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, হে আবদুর রহমান, তুমি কখনো নেতৃত্ব চেয়ে নিয়ো না। কেননা তুমি যদি চেয়ে নিয়ে তা লাভ করো, তাহলে তোমাকে ওই দায়িত্বের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে (তুমি দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাবে, কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাবে না)। আর না চাইতেই যদি তা পাও তাহলে তুমি সে জন্য সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৪৭)

প্রার্থীদের আরেকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। তা হলো তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। আর প্রতিনিধির আরবি হলো উকিল। জনগণ ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রার্থীকে নিজের এবং এলাকার উকিল বা প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন। আর প্রতিনিধির দায়িত্ব হলো তার মক্কেল বা নিযুক্তকারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা, তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা এবং মক্কেলের স্বার্থ রক্ষা করা। এ ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারী হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

ভোট দেওয়া দ্বিনি দায়িত্ব

ওপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হলো ভোট সাক্ষ্য, ভোট আমানত, ভোট সুপারিশ এবং ভোট উকিল নিযুক্ত করার মাধ্যম। শরিয়তের দৃষ্টিতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে, আমানত নষ্ট করলে, মন্দ সুপারিশ করলে এবং অযোগ্য উকিল নিযুক্ত করলে যেমন গুনাহ হয়, তেমনি সত্য সাক্ষ্য দেওয়া, আমানত আদায় করলে, উত্তম সুপারিশ করলে এবং যোগ্য ব্যক্তিকে উকিল নিযুক্ত করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। আল্লাহ মুক্তিপ্রাপ্ত মানুষের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ‘তবে যারা সত্য উপলব্ধি করে তার সাক্ষ্য দেয়, তারা ছাড়া।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৮৬)

অনেক দ্বিনদার ব্যক্তি ভোট দেওয়াকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, কিন্তু গবেষক আলেমরা বলেন, ভোট দেওয়া একটি নৈতিক ও দ্বিনি দায়িত্ব। কেননা কোনো দ্বিনদার ব্যক্তি যদি ভোট দান থেকে বিরত থাকেন, তবে একজন যোগ্য প্রার্থীই ভোটপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন এবং দুর্নীতিবাজদের পাল্লা ভারী হয়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশনা হলো, ‘তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না, যে কেউ তা গোপন করে অবশ্যই তার অন্তর পাপী। তোমরা যা করো আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮৩)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

সকালে ঘুম ভাঙার পর যে ৩০ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ এএম
সকালে ঘুম ভাঙার পর যে ৩০ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

সুখী জীবনের জন্যে সুস্বাস্থ্যের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বিশ্বে মানুষ স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বেড়েই চলেছে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের রোগীর সংখ্যা। বাড়ছে হাড়ের সমস্যা।

কম বয়সিরাও ভুগছে জয়েন্টের ব্যথায়। নেপথ্যে দায়ী সেডেন্টারি লাইফস্টাইল। দৈনন্দিন জীবনে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে এ ধরনের সমস্যা সহজেই এড়াতে পারবেন। সারাদিন শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকা, এক জায়গায় বসে না থাকা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া—এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম ৩০ মিনিট কী করবেন জানেন?

ঘুম থেকে ওঠার পরের ৩০ মিনিট কী কী করবেন?

হাইড্রেশন

৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম একাধিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আর এই নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে আপনি পানি খান না। তাই ঘুম থেকে ওঠার পরে শরীর ডিহাইড্রেট থাকে। তাই বিছানা থেকে নামা মাত্র পানি পান করুন।

এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন। এ ছাড়া কুসুম গরম লেবুর পানিও খেতে পারেন। বরং, চা-কফি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলুন।

স্ট্রেচিং

মুখ ধোয়া, গোসল করার মতো প্রাত্যহিক কাজগুলো শুরু করার আগে একটু স্ট্রেচিং করে নিন। হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন।

৫-১০ মিনিট করলেই হবে। এতে শরীরে ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়বে এবং জয়েন্টের স্টিভনেস বা কঠোর ভাব এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি কাজ করার এনার্জি পাবেন।

রোদে দাঁড়ান

সকালের রোদ স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। এটি শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ করে। তাই অন্তত ১৫ মিনিট রোদে দাঁড়ান। এই অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী।

এক্সারসাইজ

একদম ওয়ার্কআউট না করলে স্ট্রেচিং করে নিন। আর ফিট থাকতে হলে সকালবেলাই এক্সারসাইজ সেরে নিন। ব্রিস্ক ওয়াকিং, সাইকেলিং, সুইমিং করতে পারেন। কিংবা জিমে গিয়েও ঘাম ঝরাতে পারেন। দিনের শুরুতেই শরীরচর্চা করে নেয়া জরুরি। এতে সারাদিন কাজ করার এনার্জি মেলে এবং মন ভালো থাকে।

দিনের কাজ গুছিয়ে নিন

সারাদিন কী কী করবেন, কী রান্না করবেন, কখন কোথায় যাবেন— সব প্ল্যান সেরে রাখুন। এতে সারাদিন যতই ব্যস্ততা থাকুক, সব কাজ সময় মতো করতে পারবেন।

গোলাপেই প্রকাশ প্রেমের অনুভূতি, আজ শুরু ভালোবাসার সপ্তাহ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০২ এএম
গোলাপেই প্রকাশ প্রেমের অনুভূতি, আজ শুরু ভালোবাসার সপ্তাহ

ফেব্রুয়ারি মাসই যেন ভালোবাসার মাস। রোজ ডের মধ্য দিয়ে ভ্যালেন্টাইনস উইকের শুরু হলেও শেষে হয় ভ্যালেন্টাইন্স ডের মাধ্যমে। সারা বছর ধরে কত দিবসই না থাকে। কোনোটা আনন্দের আবার কোনোটি মজার।

তবে ভ্যালেন্টাইনস উইকের দিবসগুলো যেন ভালোবাসাকে পুনর্জীবিত করে। ভ্যালেন্টাইনস উইকের ৭ দিন ধরেই পালন করা হয় ৭টি দিবস।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহে কবে কোন দিবস-

১। ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে বা গোলাপ দিবস। প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসার কথা জানাতে এদিন উপহার দিতে পারেন লাল গোলাপ।

২। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রপোজ ডে। আপনার ভালোবাসার কথা জানিয়ে তাকে সারাজীবনের জন্য আপন করে পাওয়ার কথা বলার দিন এটি।

৩। ৯ ফেব্রুয়ারি হচ্ছে চকোলেট ডে। চকোলেট খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। প্রিয় মানুষটিকে তাই এক বক্স চকোলেট উপহার দিতে পারেন এইদিন।

৪। বিশ্ব টেডি ডে হচ্ছে ১০ ফেব্রুয়ারি। চমৎকার একটি টেডি উপহার দিয়ে এদিন প্রিয় মানুষকে আনন্দিত করতে পারেন।

৫। ১১ ফেব্রুয়ারি প্রমিস ডে। ভালোবাসা ও সম্পর্কের ব্যাপারে একই লক্ষ্যে অটল থাকার কথা দেওয়ার দিন।

৬। ১২ ফেব্রুয়ারি হাগ ডে বা আলিঙ্গন করার দিন। প্রিয় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া আলিঙ্গনে ভালোবাসার পাশাপাশি লুকিয়ে থাকে ভরসা।

৭। ১৩ তারিখ বিশ্ব চুম্বন দিবস বা কিস ডে। চুম্বন ভালোবাসার অন্যতম চমৎকার বহিঃপ্রকাশ।

৮। ১৪ তারিখ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ভালোবাসা উদযাপনের দিন।

তবে আজ ৭ ফেব্রুয়ারি গোলাপ দিবস। এদিন থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রেমের সপ্তাহ। শেষ হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে। এর আগে একেকদিন একেক দিবস। ৭ তারিখ যেমন রোজ ডে।

অভিমান ভাঙাতে কিংবা ভালোবাসার কথা জানাতে প্রিয়জনকে আজ গোলাপ দিতেই পারেন। দেখবেন আপনার না বলা সব কথাই বলে দেবে এই গোলাপ। যুগ যুগ ধরেই এই গোলাপ ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে কাজ করে আছে। গোলাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রেম, অনুভূতি আর মুগ্ধতার প্রকাশ। তাই ভালোবাসার অনুভূতি জানাতে প্রিয়জনকে একগুচ্ছ গোলাপ দিতে পারেন। এই ফুল মানুষকে ভালোবাসার অনুভূতির কাছাকাছি নিয়ে যায় এবং সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রচলিত আছে, ভিক্টোরিয়ান যুগে মানুষ প্রিয়জনকে মনের কথা জানানোর জন্য গোলাপ আদান-প্রদান শুরু করেছিলেন। তবে যেভাবে এ প্রথা শুরু হোক না কেন, গোলাপ দিবসে আপনি প্রিয় মানুষকে লাল, গোলাপি, হলুদ, কমলা, সাদা, ল্যাভেন্ডার বা নীল—যে কোনো রঙের গোলাপ উপহার দিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি রঙের গোলাপ আলাদা অনুভূতির প্রতীক।

গোলাপ দিবস ঠিক কীভাবে শুরু হয়েছিল, সে বিষয়ে খুব বেশি তথ্য জানা যায় না। তবে কেন এই দিনটি উদযাপন করা হয়, তা পরিষ্কার। কারণ, গোলাপ দিবস দিয়েই ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহের সূচনা হয়।