খুঁজুন
, ,

সালথায় হচ্ছে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
সালথায় হচ্ছে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখের এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর নির্বাচনী এলাকায় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন।

প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি বিবেচনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সালথা উপজেলায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় এলাকার বিপুলসংখ্যক ছাত্রীকে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেখাপড়া করতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কারণে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকি, অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার অনুলিপি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সালথায় একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দাবি ছিল। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মেয়েদের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি ঝরে পড়ার হার কমবে এবং নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদ্যালয়টির স্থান নির্ধারণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিদ্যালয়টি বাস্তবায়িত হলে সালথার শিক্ষা খাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভাঙেনি সততা, হার মানেনি বিবেক: এক গ্রামীণ সাংবাদিকের জীবনগাথা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
ভাঙেনি সততা, হার মানেনি বিবেক: এক গ্রামীণ সাংবাদিকের জীবনগাথা

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে নিজের কাজটিকে নিভৃতে করে যেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। প্রচার-প্রচারণা, আত্মপ্রচার কিংবা নিজের অর্জন নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হওয়া—এসব যেন তার স্বভাবের সঙ্গে যায় না। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতে, মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরতে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দার পরিচিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান বাবু, যিনি সবার কাছে মিজান বাবু নামেই অধিক পরিচিত।

১৯৭৫ সালের ১ আগস্ট ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে জন্ম তার। বাবা ছিলেন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কিন্তু জীবনের শুরুতেই নেমে আসে বড় এক দুঃখ। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে, ১৯৮০ সালে বাবাকে হারান তিনি। বাবার স্নেহ হারিয়ে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

অভাব-অনটনের মধ্যেও থেমে থাকেননি। শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়েছেন নিজের চেষ্টায়। ১৯৯১ সালে নগরকান্দার এম.এন. একাডেমি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে একই কলেজে বাংলা বিভাগে অনার্সে ভর্তি হলেও নানা বাস্তবতার কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। এরপর প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই মানুষের কথা বলার এক অদম্য ইচ্ছা তাকে টেনে আনে সাংবাদিকতায়। ২০১০ সালে ফরিদপুরের স্থানীয় দৈনিক কুমার পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু করেন। একই বছর জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক-এর নগরকান্দা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর একে একে কাজ করেন দৈনিক সংবাদ, সকালের খবর, আলোকিত বাংলাদেশ এবং মানবকণ্ঠ পত্রিকায়। ২০১৬ সাল থেকে তিনি জাতীয় দৈনিক যুগান্তর-এর নগরকান্দা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জনই ছিল তার সবচেয়ে বড় অর্জন।

গ্রামীণ সাংবাদিকতার বাস্তবতা সহজ নয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, নানা ধরনের চাপ ও ঝুঁকির মধ্য দিয়েই কাজ করতে হয়। তবু মিজান বাবু বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্যনিষ্ঠা। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বহুবার ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে কলম ধরেছেন।

এই পথচলায় তাকে নানা প্রতিকূলতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হামলা, মামলা, হুমকি—সবকিছুরই শিকার হয়েছেন। অনেক সময় সামাজিক ও পেশাগতভাবে একঘরে করার চেষ্টাও হয়েছে। তবু তিনি থেমে যাননি। কারণ তার বিশ্বাস, সাংবাদিকতা যদি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার না হয়, তবে সেই সাংবাদিকতার মূল্য অনেকটাই কমে যায়।

তার সহকর্মীদের অনেকেই বলেন, মিজান বাবুর সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্পষ্টবাদিতা। তিনি যেটিকে সত্য মনে করেন, সেটিই বলতে চেষ্টা করেন। এই স্বভাবের কারণে যেমন অনেকের শ্রদ্ধা পেয়েছেন, তেমনি অনেকের বিরাগভাজনও হয়েছেন। কিন্তু জনপ্রিয় হওয়ার চেয়ে নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

আর্থিক দিক থেকেও তার জীবন খুব স্বচ্ছল নয়। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেও বিলাসী জীবন তার ভাগ্যে জোটেনি। কিন্তু অর্থকষ্ট কখনোই তাকে নীতির সঙ্গে আপস করতে শেখাতে পারেনি। পরিচিতজনদের ভাষ্য, তিনি কখনো কাউকে ভয় দেখিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে কিংবা কারও দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেননি। সংবাদকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম বানানোর চেয়ে মানুষের আস্থাকে বেশি মূল্য দিয়েছেন।

অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধেও তিনি বরাবরই সোচ্চার। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল কিংবা সংবাদকে বাণিজ্যের হাতিয়ার বানানোর প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, একটি সমাজে সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে সাংবাদিকদের নিজেদেরও জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।

পেশাগত ব্যস্ততার বাইরেও তার রয়েছে কিছু ভিন্ন আগ্রহ। তিনি ছবি আঁকতে ভালোবাসেন, কবিতা আবৃত্তি করতে পছন্দ করেন এবং সুযোগ পেলেই নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। প্রকৃতি, গ্রামবাংলার জীবন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতেই যেন তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে। চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক বা বিলাসী জীবন তাকে আকর্ষণ করে না। একটি সাধারণ টি-শার্ট ও ট্রাউজার পরেই তাকে অধিকাংশ সময় দেখা যায়। স্ত্রী রাকিবা আক্তারী পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হিসেবে কর্মরত। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে চলেছেন তিনি।

মজার বিষয় হলো, নিজের সম্পর্কে লেখা বা প্রচার তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না। পরিচিতদের ভাষ্য, নিজের কাজের চেয়ে কাজের ফলাফলকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। এমনকি তাকে নিয়ে এই ধরনের লেখা প্রস্তুতের সময়ও তিনি বারবার লেখকের ফোন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যাতে নিজের বিষয়ে কিছু লেখা না হয়। নিজের ছবি তুলতেও অনীহা প্রকাশ করেন। অনেক অনুরোধের পর একটি ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে।

এই অনীহা হয়তো তার ব্যক্তিত্বেরই একটি অংশ। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, একজন সাংবাদিকের কাজ নিজেকে নয়, সমাজকে সামনে নিয়ে আসা। সংবাদে যেন মানুষ থাকে, সাংবাদিক নয়—এমন একটি দর্শন তিনি ধারণ করেন।

বাংলাদেশের গ্রামীণ সাংবাদিকতার ইতিহাসে অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা আলোচনার বাইরে থেকেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মিজান বাবুও সেই সারির একজন। জাতীয় পর্যায়ে খুব বেশি পরিচিত না হলেও স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ, অন্যায়-অনিয়ম, সম্ভাবনা ও সংকটের গল্প বছরের পর বছর ধরে তুলে ধরেছেন তিনি।

সাংবাদিকতার পেশায় সাফল্যকে অনেকেই পদ-পদবি, খ্যাতি কিংবা আর্থিক অবস্থান দিয়ে মাপেন। কিন্তু আরেক ধরনের সাফল্যও আছে—যেখানে একজন মানুষ নিজের নীতি, সততা ও বিবেককে অক্ষুণ্ন রেখে পথ চলেন। সেই পথ হয়তো সহজ নয়, অনেক সময় নিঃসঙ্গও। তবু সেই পথই সমাজে কিছু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।

মিজান বাবুর জীবনগল্প হয়তো কোনো রূপকথা নয়। এতে নেই বড় কোনো ক্ষমতার গল্প কিংবা বিত্তের ঝলকানি। আছে সংগ্রাম, সততা, দায়িত্ববোধ এবং সত্যের প্রতি এক ধরনের অবিচল আস্থা। সেই কারণেই তিনি হয়তো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নন, কিন্তু নীরবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া একজন গ্রামীণ সাংবাদিক হিসেবে অনেকের কাছে সম্মানের নাম।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ফরিদপুরে হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৩৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন। তবে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৬ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩ হাজার ৪’শত ৭ জন রোগী বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হামের উপসর্গে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ৭৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই শিশু। আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শরীরে লালচে দাগের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৪৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে টিকাবঞ্চিত শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এমনকি মৃত্যুর মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি, রোগী শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি আরও কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় রাখা হয়েছে। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামের সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সবাইকে অপ্রয়োজনে ভিড় এড়িয়ে চলা, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রেখে পরিচর্যা করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে হামের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ফাহিম মাতুব্বর (২৩) ও রফিকুল মাতুব্বর (২৫) নামে দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার মশাউজান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে ফরিদপুরগামী সাকুরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে নগরকান্দাগামী একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মোটরসাইকেল চালক ফাহিম মাতুব্বর ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী রফিকুল মাতুব্বরকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ফাহিম মাতুব্বর নগরকান্দা উপজেলার ফুলসূতী ইউনিয়নের চকনাউডুবি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের ছেলে। অপর নিহত রফিকুল মাতুব্বর একই গ্রামের কাউছার মাতুব্বরের ছেলে। তারা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। একসঙ্গে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ও নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানী আজাদ জানান, সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহত অপর ব্যক্তিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।