খুঁজুন
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা, হারাচ্ছে ইতিহাস, রক্ষায় নেই উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ ও এস.এম. মাসুদুর রহমান তরুন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৯ এএম
ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা, হারাচ্ছে ইতিহাস, রক্ষায় নেই উদ্যোগ

মাতৃভাষা বাংলার জন্য ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। এই আন্দোলনের বীর শহীদদের নাম—সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার—জাতীয়ভাবে স্মরণ করা হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য ত্যাগী ভাষা সৈনিক আজও অজানাই রয়ে গেছেন। তেমনি এক বিস্মৃত অধ্যায়ের নাম ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকরা। তাদের অবদান ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের স্রোতে, আর নতুন প্রজন্ম জানতেই পারছে না নিজ জেলার এই বীরত্বগাথা।

ফরিদপুরে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি হয়নি। স্থানীয় গবেষক, প্রবীণ নাগরিক ও সচেতন মহল বলছেন, সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগেই এখনো এই ইতিহাস সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে একসময় যারা ঢাকার রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন কিংবা জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাষার দাবিতে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, তাদের স্মৃতিচিহ্ন আজ প্রায় বিলীন।

বিস্মৃতির আড়ালে ফরিদপুরের বীরেরা:

ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি এখন মূলত শহরের দু-একটি সড়কের নাম, কিছু স্মৃতিফলক এবং জেলা জাদুঘরের কয়েকটি ছবির ফ্রেমে সীমাবদ্ধ। অথচ এই জেলার অনেক তরুণই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ফরিদপুর শহরের সন্তান ডা. মোহাম্মদ জাহেদ ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি থেকেই ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। সে সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পরে ১৯৫২-৫৩ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

একইভাবে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীর বাসিন্দা ডা. ননী গোপাল সাহা ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক সকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের আমতলায় ছাত্র-জনতার সমাবেশে যোগ দেন এবং মিছিলে অংশ নেন। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে বহু মানুষ আহত হন, শহীদ হন অনেকে। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন ফরিদপুরের আরেক কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. শামসুল বারী (মিয়া মোহন)।

তিনি নিজেও আহত হন, তবুও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শহীদ আবদুল বরকতকে কাঁধে তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। ভাষার জন্য জীবন বাজি রাখা এই সাহসিকতার গল্প আজ প্রায় বিস্মৃত।

জেলার আরও ভাষা সৈনিক:

ফরিদপুরের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ঘাঁটলে আরও অনেক নাম উঠে আসে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আবদুল গফুর, মহিউদ্দিন আহমেদ, ইমাম উদ্দিন আহমেদ, রওশন জামাল খান, এজহারুল হক সূর্য মিয়া, সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন, সামসুদ্দিন মোল্যা, মনোয়ার হোসেন, এস.এম. নুরুন্নবীসহ আরও অনেকে।

তাদের কেউ সরাসরি ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, কেউবা ফরিদপুরে সংগঠিত করেছেন প্রতিবাদ, মিছিল ও জনমত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের জীবনী, অবদান বা সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ কোনো দলিল আজও সংরক্ষিত হয়নি।

ফরিদপুরেও হয়েছিল প্রতিবাদ:

অনেকে মনে করেন ভাষা আন্দোলন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। সে সময় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা স্কুল হয়ে থানা রোড ও জেলখানার সামনে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং দু-একজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা যায়।

এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে, ভাষার দাবিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানুষ একযোগে প্রতিবাদে নেমেছিল। অথচ সেই ইতিহাস এখন পাঠ্যবই বা গবেষণায় খুব একটা জায়গা পায় না।

নতুন প্রজন্ম জানে না নিজেদের ইতিহাস:

ফরিদপুরের তরুণদের বড় একটি অংশ নিজ জেলার ভাষা সৈনিকদের নামই জানে না। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

ভাষা সৈনিক সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন রনি বলেন, “মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন বাজি রেখেছেন, তাদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ করা জরুরি। একুশে বইমেলায় তাদের স্মৃতিগাথা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পান্না বালা বলেন, “ঢাকার পাশাপাশি ফরিদপুরেও ভাষা আন্দোলনের জোয়ার ছিল। রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে সচেতনতা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাদের অবদান সেভাবে স্বীকৃতি পায়নি। অনেকের নামে রাস্তার নাম থাকলেও সেখানে ‘ভাষা সৈনিক’ পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “ডা. ননী গোপাল সাহার বাড়ির সামনে যে নামফলক ছিল, সেটিও এখন আর দেখা যায় না। আমরা যদি আমাদের বীর সন্তানদের ভুলে যাই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে কীভাবে?”

গবেষণা ও সংরক্ষণে ঘাটতি:

স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নিয়ে এখনও কোনো বিস্তৃত গবেষণা হয়নি। ফলে অনেক তথ্য হারিয়ে গেছে, অনেক নাম অজানা রয়ে গেছে।

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন জানান, নব্বইয়ের দশকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা শাখার উদ্যোগে কয়েকজন ভাষা সৈনিককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পায়নি।

তার মতে, এখনই যদি উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে খুব শিগগিরই এই ইতিহাস পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি:

বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও ভাষা সৈনিকদের স্মরণে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী আবরার নাদিম ইতু বলেন, “আমরা আমাদের জেলার ভাষা সৈনিকদের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না। তাদের নাম, ঠিকানা, অবদান—কিছুই সংরক্ষিত হয়নি। অথচ তাদের ত্যাগের কারণেই আমরা বাংলায় কথা বলতে পারছি।”

তিনি বলেন, “স্মৃতিফলক নির্মাণ, বইমেলায় বিশেষ স্টল এবং ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা জরুরি।”

শিক্ষার্থী জেবা তাহসিন বলেন, “শুধু সড়কের নামকরণে সীমাবদ্ধ না থেকে স্কুল-কলেজে তাদের নিয়ে আলোচনা, কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে। এমনকি শ্রেণীকক্ষ বা হোস্টেলের নামও ভাষা সৈনিকদের নামে রাখা যেতে পারে।”

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস সংরক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—

ভাষা সৈনিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন

মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহ করে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে স্মৃতিফলক নির্মাণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা

একুশে বইমেলায় ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি তুলে ধরা

– গবেষণা ও প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণ

ইতিহাস বাঁচানোর আহ্বান:

ভাষা আন্দোলন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। সেই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবদানই এই সংগ্রামকে শক্তিশালী করেছে। ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের অবদানও সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণ ও স্বীকৃতির অভাবে তাদের স্মৃতি আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। এখনই যদি উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে জানার সুযোগ হারাবে।

জেলাবাসীর দাবি—ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস নতুন করে তুলে ধরতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে এবং সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। কারণ, যে জাতি তার বীর সন্তানদের ভুলে যায়, সে জাতি কখনোই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।

“২০ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি চালানো”—ছাত্রদল সভাপতির বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৯ এএম
“২০ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি চালানো”—ছাত্রদল সভাপতির বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকৃত দিবসের আগের দিন অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে তা ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি তার আগের স্ট্যাটাসের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সৈয়দ আদনান হোসেন অনু তার পোস্টে বলেন, তিনি আগেই উল্লেখ করেছিলেন যে, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভোরে, লোকচক্ষুর আড়ালে ফুল দিয়ে যায় এবং পরে সেটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে। তার দাবি, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে বিভিন্ন হামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত ১৭ বছরে স্বাভাবিকভাবে কর্মসূচি পালনের সুযোগ খুবই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, প্রতিটি নবীনবরণসহ নানা আয়োজনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন এবং রক্ত ঝরেছে।

ছাত্রদল সভাপতি দাবি করেন, অতীতে একাধিকবার তাকে রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। তবুও প্রতিটি হামলার জবাব তারা প্রতিরোধের মাধ্যমে দিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ‘ভয়ভীতির পরিবেশ’ তৈরি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য প্রকৃত আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে চলছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দ আদনান হোসেন অনু বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং দলটি গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী এবং শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা চান না।

সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে কোনো ধরনের উসকানি বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। ফরিদপুরকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

রমজানে হজমের ঝামেলা? যে খাবারেই মিলবে সহজ সমাধান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ এএম
রমজানে হজমের ঝামেলা? যে খাবারেই মিলবে সহজ সমাধান

রমজান মাসে বদহজম বা হজমের সমস্যা খুব সাধারণ। এ সময় দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর ইফতার ও রাতে একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়ার কারণে পেট ভারি মনে হতে পারে।

এছাড়া দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ বেশি বা ভারী খাবার খেলে বদহজম, গ্যাস, বুকজ্বালা— এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বদহজম ঠেকাতে কিছু খাবার এবং অভ্যাস মেনে চলা উচিত।

বদহজম এড়াতে খাবার—

সহজ হজমযোগ্য খাবার

ভাত, রুটি, সেদ্ধ আলু, ওটস, ডাল

সবজি (হালকা ভাজা বা সিদ্ধ)

মাছ বা হালকা মাংস

প্রাকৃতিক ফাইবার যুক্ত খাবার-

শসা, গাজর, কুমড়া, লাউ

ফল যেমন কলা, আপেল (চামড়া ছাড়িয়ে)

গুটখোলা বাদাম ও বীজ (যদি পেট সহ্য করে)

দুগ্ধজাত ও হালকা প্রোটিন-

দই, ছানা, লো-ফ্যাট দুধ

পর্যাপ্ত পানি-

ইফতার ও সাহরির মধ্যে প্রচুর পানি পান করা।

খুব ঠান্ডা পানি হঠাৎ খাওয়া এড়াতে হবে।

যা এড়ানো ভালো-

তেলতেলে, ভাজাপোড়া ও মশলাদার খাবার

অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনির খাবার

অনেক কফি বা চা

অভ্যাস-

ছোট ছোট পরিমাণে খাওয়া, হঠাৎ বেশি খাবার খাওয়া এড়ানো

ধীরে ধীরে খাওয়া, ভালোভাবে চিবানো

খাবারের পরে হালকা হাঁটা বা বসে বিশ্রাম নেওয়া

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে ‘কাচ্চি বাড়ি’ রেস্টুরেন্টের জমকালো উদ্বোধন, নতুন স্বাদের সংযোজন

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৩ এএম
ফরিদপুরে ‘কাচ্চি বাড়ি’ রেস্টুরেন্টের জমকালো উদ্বোধন, নতুন স্বাদের সংযোজন

ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ে নবনির্মিত আধুনিক রেস্টুরেন্ট ‘কাচ্চি বাড়ি’র উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রেস্টুরেন্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফরিয়ান ইউসুফ। এসময় তিনি বলেন, “ফরিদপুরবাসীর জন্য উন্নতমানের খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই এই রেস্টুরেন্টটি শহরের একটি নির্ভরযোগ্য খাবারের ঠিকানা হয়ে উঠুক।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, রেজাউল করিম এবং কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রেস্টুরেন্টের সার্বিক উন্নতি, সফলতা ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ময়েজ মসজিদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা কবির আহমেদ।

রেস্টুরেন্টটির আধুনিক ও মনোরম পরিবেশ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ‘কাচ্চি বাড়ি’তে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি কাচ্চি, বিরিয়ানি, কাবাব, নান-রুটি ও বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক আইটেম পরিবেশন করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এখানে রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং উন্নতমানের সার্ভিস।

উদ্বোধনের দিন থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকরা আশা করছেন, ‘কাচ্চি বাড়ি’ খুব দ্রুতই ফরিদপুরের জনপ্রিয় খাবারের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হিসেবে পরিচিতি পাবে।