খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

তিতুমীর: স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায়

মোহাম্মদ হাসান শরীফ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
তিতুমীর: স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায়

তিতুমীর নামেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তার পুরো নাম মীর নিসার আলী। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ১৮২৭ সালে শুরু হয়ে ১৮৩১ সালে শেষ হয় এ আন্দোলন। সময়ের হিসাবে খুব একটা বড় নয়। কিন্তু এ আন্দোলন যে প্রভাব রেখে গেছে, তা এখনো অনুভূত হয়। তিতুমীরের আন্দোলন এবং কাছাকাছি সময়ে গড়ে ওঠা ফরায়েজি আন্দোলন মিলে যে গণজাগরণের সৃষ্টি করেছিল, তার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

তিনি ১৭৮২ সালে চব্বিশ পরগনার বারাসারের চাঁদপুর নামের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ২৭ জানুয়ারি। আর ১৮৩১ সালে তিনি শাহাদতবরণ করেন। তিনি নারকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। কিন্তু তিনি যে ভালো কুস্তিগিরও ছিলেন, সেটা খুব বেশি প্রচার হয়নি। মনে রাখতে হবে, অনেক পরে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী যুবকরা নানা প্রশিক্ষণে শরীর চর্চার ওপর যে গুরুত্বারোপ করত, সেটা কিন্তু তিতুমীরেরই দান।

গৌতম ভদ্র অভিমত প্রকাশ করেছেন, তিতুর মূল সামাজিক আবেদন ছিল গ্রামের নিম্নকোটির মানুষদের কাছে। যারা জাতিতে তারা যুগী, জোলা আর কৃষক। প্রায় সবাই গরিব। কলভিন বলেছেন, যাদের কিছু হারানোর আছে, তারা তিতুর দলে যোগ দিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি। লক্ষণীয় হিন্দুদের পাশাপাশি তিতুর আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে অত্যাচারী মুসলিম জমিদাররাও। সুতরাং এ আন্দোলন শুধু হিন্দুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল এ অতিশয়োক্তি। যারা গো-হত্যা ইত্যাদির মতো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ খুঁজে পান, তারা পুরোটা দেখছেন না বা দেখতে চাইছেন না। ড. ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত লিখেছিলেন, জমিদারদের শোষণ উৎপীড়নই তিতুমীরের ‘শান্তিপূর্ণ ধর্মসংস্কার আন্দোলনকে ব্যাপক বিদ্রোহে রূপান্তরিত করেছিল। পরে বিদ্রোহ দমিত হলে যে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল তাতে হিন্দু জমিদারদের সঙ্গে মুসলিম জোতদার, মহাজনরা শামিল হয়।

দাড়ি রাখা, লুঙ্গি পরার মাধ্যমে এ আন্দোলনের সদস্যরা তাদের স্বাতন্ত্র্য জাহির করত। তিতু যখন তার আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলেন, তখন নিম্নবর্গীয় মুসলমান সমাজের ভেতরেও কাছা দিয়ে ধুতি পরাটাই ছিল সাধারণ দস্তুর। এভাবে ধুতি পরাতে নামাজ আদায়ে কিছু সমস্যা তৈরি হতো। তাই তিতু তহবন্দের আকারে তা পরার অভ্যাসটি চালু করেন। এমন আদেশ বাংলার কৃষক আন্দোলনের আরেক পথিকৃৎ হাজী শরিয়তউল্লাহও দিয়েছিলেন। স্বকীয়তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দাড়িও ছিল একটি উপাদান। এ দাড়ি ঘিরে তিতুমীর এবং তার সহমর্মীদের ওপর ‘দাড়ি ট্যাক্স’ বসানো হয়েছিল। জমিদারি আইনকে ব্রিটিশ কেবল যে হিন্দু-মুসলমানের বিরুদ্ধে সংঘাত তৈরিতেই ব্যবহার করেছিল, তেমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানকে, বিশেষ করে প্রাচীনপন্থিদের সঙ্গে আধুনিকচেতনা, মানসিকতাসম্পন্ন মানুষদের সংঘাত তৈরি করতেও এ জমিদারি আইনকে ব্রিটিশরা ব্যবহার করে।

তিতুমীর বা হাজী শরীয়তুল্লাহরা কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়টি কেন জুড়ে দিয়েছিলেন? তিতুমীরের বিদ্রোহের নাম ছিল ‘তারিক-ই-মুহম্মদিয়া’ আর হাজী শরীয়তুল্লাহটির নাম ছিল ফরায়েজি আন্দোলন। নামকরণকে ব্যবহার করে আন্দোলন দুটিকে এমনভাবে প্রচার করা হয়, উভয়টিই ছিল নিছক ধর্মীয় শুদ্ধি আন্দোলন। ধর্ম অবশ্যই ছিল। তবে এ ব্যাপারে গৌতম ভদ্রের মন্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তার ইমান ও নিশানে দেখিয়েছেন, সমাজের নিম্নবর্গের মানুষ চরম নির্যাতনের মধ্যে মসজিদ আর ইসলামের মধ্যেই তাদের অভয়ের জায়গা পেয়েছিল। আন্দোলনের নেতারাও এটাকে হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।

অবশ্য মনে রাখতে হবে, ধর্মকে ব্রিটিশরাও ব্যবহার করত। তারা কিন্তু কেবল শোষণ, লুণ্ঠন করতেই এখানে আসেনি। তাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্টধর্ম প্রচার ও প্রসার। সেই যে প্রথম ইউরোপিয়ান হিসাবে ভাস্কো ডা গামা উপমহাদেশের এসেছিলেন, তার সঙ্গেও ছিল বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্ট প্রচারক। ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের প্রধান কারণই ছিল খ্রিষ্টধর্ম। মহাবিদ্রোহ নিয়ে ব্রিটিশদের প্রশ্নের জবাবে স্যার সৈয়দ আহমদ পর্যন্ত স্বীকার করেছিলেন, ভারতবর্ষের বিদ্রোহের মূলে ছিল ওই ব্যাপক জনবিশ্বাস যে, ব্রিটিশরা জনসাধারণকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করতে এবং তাদের ওপর ইউরোপীয় রীতিনীতি চাপিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে গৌতম ভদ্রের মন্তব্যটির দিকেও নজর রাখতে হবে। তিনি তার ইমান ও নিশানে দেখিয়েছেন, তিতুমীর-সম্পর্কিত চালু বইগুলোতে প্রচলিত একটি ভুল ধারণার উল্লেখ করতে হয়। তা হলো, তিতুমীরকে ‘ওহাবি’ বলা। এ নামটি তিতুমীরের সময় বড় একটা চালু ছিল না। উনিশ শতকের অষ্টম দশকে উইলিয়াম হান্টারই এ নামটি ব্যাপকভাবে চালু করেন। যে কোনো ইংরেজবিরোধী মুসলিমের প্রতি শব্দটি প্রয়োগ করা হতো, গোঁড়া ধর্মান্ধ আর বিদ্রোহী মুসলমানের বদলি শব্দ হিসাবে গৃহীত হতো।

ব্রিটিশদের খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের আগ্রহ নিয়ে রেজা আসলান নো গড বাট গড গ্রন্থে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে প্রকৃতপক্ষে, ১৮৫৭ সালে যে বাঙালি সৈন্যরা ভারতবর্ষে বিদ্রোহের সূচনা করেছিল, তারা শুধু তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনকারী উপনিবেশিক নীতির কারণেই ক্ষুব্ধ ছিল না। বরং, তারা নিশ্চিত ছিল এবং তা যথার্থই ছিল, যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তাদের জোর করে খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে। তাদের কমান্ডিং অফিসার সব সামরিক ক্লাসে প্রকাশ্যে সুসমাচার (গসপেল) প্রচার করতেন, যা ছিল উদ্বেগের একটি কারণ। কিন্তু, সিপাহিরা যখন জানতে পারল, তাদের রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মাখানো হয়েছে, যা হিন্দু ও মুসলিম উভয়কেই অপবিত্র করে দেবে, তখন তাদের সেই চরম আশঙ্কা সত্যে পরিণত হলো। নাগরিক অবাধ্যতার নিদর্শন হিসাবে একদল সৈন্য ওই কার্তুজ ব্যবহার করতে অস্বীকার করে। এর জবাবে ব্রিটিশ কমান্ডাররা তাদের শিকলবন্দি করেন, সামরিক কারাগারে নিক্ষেপ করেন। ব্রিটিশরা যে ‘সভ্যকরণ মিশন’ চালু করেছিল বিশ্বজুড়ে, সেটাও কার্যত ছিল খ্রিষ্টকরণ মিশন। ডি বিয়ার্স ডায়মন্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং এক সময়কার আধুনিক দক্ষিণ আফ্রিকার কার্যত একনায়ক সেসিল যেমনটি ঘোষণা করেছিলেন : ‘আমরা ব্রিটিশরা পৃথিবীর প্রথম জাতি এবং আমরা বিশ্বের যত বেশি অংশে বাস করব, মানবজাতির জন্য তা তত বেশি মঙ্গলজনক হবে।’

এই তথাকথিত ‘সভ্য করার মিশন’-এর অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল, এটি যতটা না সদিচ্ছা থেকে প্রণোদিত ছিল, তার চেয়েও বেশি এটি একটি ‘খ্রিষ্টান করার মিশন’ দিয়ে আচ্ছন্ন ছিল। মাদ্রাজের গভর্নর স্যার চার্লস ট্রেভেলিয়ানের ভাষায়, যার মূল লক্ষ ছিল ‘স্থানীয়দের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’ ভারতবর্ষে খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকদের সরকারের সর্বোচ্চ পদগুলোতে বসানো হয়েছিল। এমনকি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি স্তরেও তাদের উপস্থিতি ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক চার্লস গ্র্যান্ট (১৮৫৮ সাল পর্যন্ত যার হাতে সরকারের প্রায় সব ক্ষমতা ছিল) নিজে একজন সক্রিয় খ্রিষ্টান মিশনারি ছিলেন। তিনি এবং তার বেশিরভাগ দেশবাসী বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর ব্রিটেনকে ভারতবর্ষের শাসনভার দিয়েছেন, যাতে এ দেশকে পৌত্তলিকতার অন্ধকার থেকে বের করে এনে খ্রিষ্টের আলোর পথে পরিচালিত করা যায়। উপমহাদেশের প্রায় অর্ধেক স্কুল পরিচালনা করত গ্র্যান্টের মতো মিশনারিরা, যারা স্থানীয়দের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার জন্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য পেত।

অবশ্য সব ঔপনিবেশিক শাসক ব্রিটেনের এ মিশনারি এজেন্ডার সঙ্গে একমত ছিলেন না। ১৮৪২-১৮৪৪ সাল পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করা লর্ড এলেনবরো বারবার তার দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন, সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের এই উৎসাহ শুধু সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি ব্যাপক জনরোষ এবং সম্ভবত প্রকাশ্য বিদ্রোহের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তা সত্ত্বেও এলেনবরোও সম্ভবত ট্রেভেলিয়ানের সঙ্গে একমত হতেন, যিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ভারতবর্ষের ধর্ম ‘এত বেশি অনৈতিকতা এবং শারীরিক অসারতার সঙ্গে জড়িত, ইউরোপীয় বিজ্ঞানের আলোর সামনে এটি মুহূর্তেই ভেঙে পড়বে।’

তিতুমীর তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হননি। তবে তাই বলে তার বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছে, তাও বলা যাবে না। তার এবং অন্যদের আন্দোলনের রেশ ধরেই ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ব্রিটিশরাজকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আর এর রেশ ধরেই আরও পরে আমাদের স্বাধীনতা আসে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে কৃষক বিদ্রোহের যে অল্প কয়েকজন নেতা অবহেলিত নন, তাদের মধ্যে তিতুমীর একজন। স্কুলপাঠ্য ইতিহাসে তার জায়গা আছে, তাকে ঘিরে লেখা হয়েছে নাটক, উপন্যাস। বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ইবনে মিজান ‘শহীদ তিতুমীর’ নামে সিনেমাও বানিয়েছিলেন। তবে একটু খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যাবে, তিতুমীর সম্পর্কে জানি আমরা সবচেয়ে কম। এ অভাবটাই আমাদের পূরণ করতে হবে।

মোহাম্মদ হাসান শরীফ : সাংবাদিক

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর

ভোটের পর নতুন সরকারের সামনে যেসব বড় চ্যালেঞ্জ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৬ এএম
ভোটের পর নতুন সরকারের সামনে যেসব বড় চ্যালেঞ্জ?

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার সাথে সাথে আলোচনায় আসতে শুরু করেছে যে ভোট পরবর্তী নতুন সরকারের জন্য কোন কোন বিষয়গুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ব্রাসেলস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’ তাদের এক নিবন্ধে নতুন সরকারের জন্য অন্তত পাঁচটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করছে, যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ‘আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক সমঝোতার মতো জটিল বিষয়’।

অবশ্য সংস্থাটি এটিও বলছে যে, নির্বাচিত সরকার হওয়ার কারণে সমস্যা সমাধানে কাজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নিতে পারবে।

বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর মব সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন কারণে আইনশৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণটা এবং এটি করতে যে রাষ্ট্র বা সরকারের সক্ষমতা আছে প্রাথমিকভাবে সেটি প্রমাণ করাই হবে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ ইস্যু ছাড়াও ভারতের সাথে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক চাপ সামলিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান নেওয়াটাই নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

ক্রাইসিস গ্রুপের দিক থেকেও নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জগুলোর তালিকায় এসব ইস্যু ঠাঁই পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে দৃশ্যত মূল প্রতিযোগিতা হচ্ছে বিএনপি জোট ও জামায়াতে ইসলামীর জোটের মধ্যে এবং দুই জোটই ক্ষমতায় যাওয়ার আশা করছে।

২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দলটির কার্যক্রম অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ করেছে।

যেসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে ক্রাইসিস গ্রুপ

ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র কনসালট্যান্ট টোমাস কিনের একটি নিবন্ধ সোমবার প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এতে ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গত দেড় বছরে বাংলাদেশে সামগ্রিক চলমান ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।

এই নিবন্ধেই তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সম্ভাব্য যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তার একটি ধারণা দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বেশ কয়েকটি কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোট বাংলাদেশকে শুধু সাংবিধানিক কাঠামোতেই ফেরাবে না, বরং ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো সত্যিকার জনরায়ের ভিত্তিতে একটি সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে।

“দুর্বল প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পোশাক রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ধীরগতির অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবসহ একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ নতুন প্রশাসনকে মোকাবেলা করতে হবে। তাকে সামলাতে হবে ভারতের সাথে সম্পর্কের ইস্যুসহ যুক্তরাষ্ট্র চীন প্রতিযোগিতার প্রভাব ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ জটিল পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক,” ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে।

টোমাস কিন লিখেছেন, হাসিনার পতনের পর হিযবুত-তাহরিরের মতো উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এদের মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আছে।

তার মতে, নির্বাচনের পরে নতুন সরকারকে রাজনৈতিক সমঝোতার জটিল ইস্যুও মোকাবেলা করতে হবে, কারণ ইতিহাস ও শক্ত ভোট ভিত্তির কারণে আওয়ামী লীগকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা সম্ভব নয়।

“২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দলের কর্মকাণ্ডের কারণে নতুন নেতৃত্বের অধীনে হলেও আওয়ামী লীগকে আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। আওয়ামী লীগের কোনোভাবে প্রত্যাবর্তনের শর্ত নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে উঠলে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঝুঁকি কমবে”।

টোমাস কিন লিখেছেন, তিনি মনে করেন এটি করতে হলে আওয়ামী লীগকে আগে সহিংসতার জন্য অনুশোচনা করতে হবে, যা করতে শেখ হাসিনা এখনো অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।

তবে এক্ষেত্রে সমঝোতায় পৌঁছাতে ভারত ও অন্য বিদেশি প্রভাবশালী সরকারগুলো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, দেশের তরুণদের আশা পূরণে ব্যর্থতার কারণে আগামী বছরগুলোতে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি আসতে পারে।

এগুলোই প্রধান চ্যালেঞ্জ?

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, নতুন প্রশাসনের সামনে আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং একই সাথে দেশ শাসন ও রাজনীতির ক্ষেত্রে পুরনো সংস্কৃতির পরিবর্তন করে ভিন্নতাটা তুলে ধরে জনমনে আস্থা অর্জন করাই হবে নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

“কর্তৃত্ববাদ পরবর্তী সময়ে মবসহ আইন শৃঙ্খলার যে অবস্থা তৈরি হয়েছে সেই বিবেচনায় আইন শৃঙ্খলা ঠিক করা এবং রাষ্ট্র ও সরকার যে সেটি করতে সক্ষম সেই আস্থা জনমনে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ তাদের থাকবে,” বলেছেন তিনি।

ক্রাইসিস গ্রুপের নিবন্ধেও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা খাতে সংস্কার প্রায় অগ্রগতি পায়নি এবং পুলিশ বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা ফেরেনি।

এছাড়া পুলিশের দুর্বল অবস্থানের কারণে মব সন্ত্রাস, বিশেষ করে দল বেঁধে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা বেড়েছে। র‌্যাব, ডিজিএফআইয়ের মতো সংস্থাগুলোতে সংস্কার হয়নি বলে ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশটির অন্তত তিনটি মানবাধিকার সংগঠন ২০২৫ সালের অর্থাৎ গত এক বছরের যে মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, মব ভায়োলেন্স বা সন্ত্রাস বছর জুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

এসব সংগঠন বলছে, ২০২৫ সাল জুড়ে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশজুড়ে ভিন্নমত ও রাজনৈতিক ভিন্ন আদর্শের মানুষ এবং মাজার, দরগা ও বাউলদের ওপর হামলা, নিপীড়নের ঘটনা ক্রমাগত বাড়লেও এর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেও মবের মতো ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

এসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা না নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং ভয় আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। ঢাকায় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনাতেও সরকারের দিক থেকে কার্যকর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, থানা, পুলিশ, সচিবালয়সহ কোথাও কোন চেইন অব কমান্ড নেই।

“এ বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তিটাই হবে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন জায়গায় কিছু ব্যক্তি দানব হয়ে ওঠেছে এবং তারা যা খুশী করছে। দেখার বিষয় হবে পরবর্তী সরকার কিভাবে এটি মোকাবেলা করে,” বলেছেন মি. রহমান।

এবার সংসদ নির্বাচনের সাথে গণভোটও হবে সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে। ফলে নির্বাচনে যারাই জিতবেন তারা রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সাংবিধানিক সংস্কার, সংসদে আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রপরিচালনা- এই তিন ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।

কিন্তু এক্ষেত্রে অতীতের সরকার ও রাজনীতির যে সংস্কৃতি সেটির পরিবর্তে জনপ্রত্যাশা পূরণে কতটা ভিন্নতা তারা দেখাতে পারেন সেটিও নতুন সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন ডঃ ইফতেখারুজ্জামান।

তবে ক্রাইসিস গ্রুপের নিবন্ধে আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমঝোতার যে চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে ডঃ ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, নতুন সরকারকে প্রতিবেশী ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আওয়ামী লীগের নিজের পদক্ষেপের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হবে।

ইতোমধ্যেই ঢাকায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজার দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় আসা এবং পরে ভারতের লোকসভায় মিসেস জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশকে – ভারত সরকারের দিক থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করার আগ্রহের একটি ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন অনেকে।

“আওয়ামী লীগের ইস্যুটি দলটির নিজের ওপর অনেকখানি নির্ভর করে। পাশাপাশি বড় প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্কের বিষয়টিও নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে,” বলছিলেন ডঃ ইফতেখারুজ্জামান।

অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলছেন, ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চ্যালেঞ্জ যেমন নিতে হবে, তেমনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রভাবশালী কিছু দেশ যেভাবে চাপ তৈরি করতে শুরু করেছে নতুন সরকারকে সেটিও সামলাতে হবে।

“স্থবির ব্যবসা বাণিজ্যকে সচল করা এবং পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়া শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর চ্যালেঞ্জও নতুন সরকারকে নিতে হবে,” বলছিলেন মি. রহমান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

চর্বি খেলেই কি হৃদরোগ? জানুন সত্যটা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫০ এএম
চর্বি খেলেই কি হৃদরোগ? জানুন সত্যটা

খাবারে চর্বি বা ফ্যাটের নাম শুনলেই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে মনে করেন, ফ্যাট খেলেই হৃদরোগ হবে বা ওজন বেড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন। সব ফ্যাট একরকম নয়।

কিছু ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর হলেও কিছু ফ্যাট আবার হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ফ্যাট পুরোপুরি বাদ না দিয়ে কোন ফ্যাট খাবেন আর কোনটি এড়িয়ে চলবেন, সেটাই জানা বেশি জরুরি।

শরীরের জন্য ফ্যাট কেন দরকার

ফ্যাট শরীরের একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এটি শরীরে শক্তি জোগায়, ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে শোষণে সাহায্য করে এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ত্বক ও চুল ভালো রাখতেও ফ্যাট দরকার। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ফ্যাট খেলে ওজন বাড়ে, যা হৃদরোগসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

কোন ফ্যাটগুলো কম খাওয়া উচিত

সব ফ্যাট সমান নয়। কিছু ফ্যাট নিয়মিত বেশি খেলে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট

এই ধরনের ফ্যাট সাধারণত প্রাণিজ খাবারে বেশি পাওয়া যায়। যেমন

– গরু বা খাসির চর্বিযুক্ত মাংস

– মুরগির চামড়া

– পুরো দুধ, মাখন, পনির, আইসক্রিম

– নারিকেল তেল ও পাম তেল

স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। এতে ধমনিতে চর্বি জমে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এই ফ্যাট একেবারে বাদ না দিলেও সীমিত রাখা ভালো।

ট্রান্স ফ্যাট

ট্রান্স ফ্যাটকে সবচেয়ে ক্ষতিকর ফ্যাট বলা হয়। এটি সাধারণত প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা খাবারে থাকে। যেমন

– ফাস্ট ফুড

– ডিপ ফ্রাই খাবার

– বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি

– কিছু মার্জারিন

এই ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই ট্রান্স ফ্যাট যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো।

কোন ফ্যাটগুলো হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো

সব ফ্যাট খারাপ নয়। কিছু ফ্যাট নিয়মিত ও পরিমিত খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে।

মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট

এই ফ্যাট রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়। পাওয়া যায়

– অলিভ অয়েল

– চিনাবাদাম তেল

– বাদাম

– অ্যাভোকাডো

পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট

এই ফ্যাট শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার থেকেই নিতে হয়। এর মধ্যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

ওমেগা থ্রি পাওয়া যায়

– সামুদ্রিক মাছ যেমন সারডিন, স্যামন

– আখরোট

– চিয়া বীজ ও তিসি

ওমেগা সিক্স ফ্যাটও শরীরের জন্য দরকার, তবে সেটিও পরিমিত মাত্রায় খেতে হবে।

পরিমাণের দিকে নজর দিন

ভালো ফ্যাট হলেও বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে। কারণ ফ্যাটে ক্যালরি বেশি। তাই রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে সেদ্ধ, ভাপানো বা হালকা রান্না করা খাবার বেছে নেওয়া ভালো। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল ও মাছের পরিমাণ বাড়ালে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা সহজ হয়।

ফ্যাট মানেই ক্ষতিকর এই ধারণা ঠিক নয়। কোন ফ্যাট ভালো আর কোনটি খারাপ, তা জানা থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলা, স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খাওয়া এবং ভালো ফ্যাট পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলেই হৃদযন্ত্র ভালো থাকবে।

সচেতন খাবার নির্বাচনই সুস্থ জীবনের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

সূত্র : Health Line