খুঁজুন
, ,

নব্য ফ্যাসিবাদের শঙ্কা মুক্তির পথ কী

মো. ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
নব্য ফ্যাসিবাদের শঙ্কা মুক্তির পথ কী

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সংবাদ হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ যা আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধের যে কোনোদিনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। কেঊ কেউ বলছে, দ্রুত সাধারণ নির্বাচন দিয়ে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এবং দেশি-বিদেশি কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মনে করছেন, গত ১৫ বছরের সব জঞ্জাল দূর করতে ‘রাষ্ট্র সংস্কার’-এ হাত দিক, তাতে যদি ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগে তাতেও সমস্যা নেই।

তারা মনে করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যেমন বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে নির্বাহী বিভাগ, ব্যাংকিং বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসারসহ দেশের যেসব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে সাধারণ জনগণের কাছে বিতর্কিত করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করাসহ যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদ্যমান থাকা প্রয়োজন। সেই দাবি পূরণ করতে বর্তমান সরকার বেশকিছু সংস্কার কমিটিও গঠন করেছে, ওইসব সংস্কার কমিটির রিপোর্টও ইতোমধ্যে সরকারের হাতে এসে পৌঁছেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো তারা সব সংস্কার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে এবং সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কারের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে যা জাতির কাছে উপস্থাপন করা হবে। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, ‘রাষ্ট্র-সংস্কার’ শব্দটি ক্ষুদ্র হলেও এর ব্যাপকতা অনেক বেশি।

তাই দেশের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, লেখক, গবেষক এবং সুশীল সমাজসহ সব পর্যায়ের জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের অনেক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান আছে, আছে ’৭২-এর সংবিধান, অনেক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এসবের সংস্কারের জন্য প্রয়োজন বুদ্ধিভিত্তিক ইনপুট এবং পর্যাপ্ত সময়। এমন এমন সব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার সংস্কার ৬ মাসে সম্ভব, কোনোটা ১ বছর, আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ১ বছরের অধিক সময়ও লাগতে পারে। এসব বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে সর্বাগ্রে দরকার সংস্কারের গুরুত্ব অনুযায়ী একটি প্রায়োরিটি লিস্ট করা। অতঃপর সেই প্রায়োরিটি অনুসারে সংস্কার কার্যক্রমে মনোনিবেশ করা। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, ফ্যাসিবাদের পতনের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এই কাজের জন্য যে যে সংস্কার প্রয়োজন তা দ্রুত শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা। তারা মনে করেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া যা নির্বাচিত সরকার পরবর্তী সময়েও চলমান রাখতে পারবে। এ প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের উচিত একটা রোডম্যাপ প্রস্তুত করে তা জনগণের কাছে উন্মুক্ত করা।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বরাতে জানা যায়, সংস্কারসহ জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে সংঘটিত নৃশংস ও বর্বরিত হত্যাকাণ্ডের ওপর একটি দলিল যাকে ‘জুলাই সনদ ২০২৪’ নামে প্রস্তুত করে তা সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরের জন্য উপস্থাপন করা হবে যা ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এসব করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবল পুরনো পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে নির্বাচন করলেই কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসবে না। নির্বাচন ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। প্রস্তাব এসেছে, স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকার গঠনের একটি নতুন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই কাঠামোর আওতায় গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত পরিষদ গঠন করা হবে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি ভিন্নধর্মী ভোটিং কাঠামো প্রস্তাব করা যেতে পারে, যেখানে সাধারণ ভোটারের ভোটের ওজন হবে ৭৫% এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের ভোটের ওজন থাকবে ২৫%। এতে জনগণের চাওয়ার প্রতিফলন যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি স্থানীয় নেতৃত্বের অংশগ্রহণও সুনিশ্চিত হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ, নির্বাচনকালীন রোডম্যাপ ও কাঠামো নিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে কার্যকর সমাধান। এর জন্য দরকার সময়সীমা নির্ধারণ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং আন্তরিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সে পথে হাঁটতে দেখছি না। দেখছি না সেই বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা সংগ্রামী ছাত্রদের, যাদের প্রতিবাদী কণ্ঠে মানুষ দেখেছিল নতুন এক ভোরের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ছিল মুক্তি, ছিল স্বাধীনতা, ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ছিল একটি ন্যায়ের সমাজ গঠনের প্রত্যাশা।

জাতীয় নির্বাচন, যা হওয়া উচিত ছিল জনগণের মতপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম, যার জন্য গত ১৫ বছর মানুষ সংগ্রাম করেছে, আজ তার দিন-তারিখ ঠিক করতেই অতিবাহিত হয়েছে ১০ মাস। কবে সেই কাক্সিক্ষত নির্বাচন? আদৌ হবে কী? এরই মধ্যে বিরোধী মতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, প্রশাসনিক পক্ষপাতÑ সব মিলিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া, অন্যদিকে সম্ভাব্য ক্ষমতাগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার স্বাদ পেতে সব আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কেবল নির্বাচনের তাড়াহুড়া, পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সাম্রাজ্যের দখল নেওয়ায় ব্যস্ত থাকা ইত্যাদি সব মিলিয়ে বর্তমান তরুণদের অনেকেই এখন রাজনীতিকে দেখছে আজ ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার এক বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ক্রমেই কলুষিত হয়ে পড়ছে। দেশ একটি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট শুধু রাজনৈতিক নয়Ñ এটি একটি নৈতিক সংকট, একটি চেতনার সংকট। সেজন্য প্রয়োজন আদর্শনিষ্ঠ এবং মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি, যা হতে পারে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। ইতিহাস বলে, যে জাতি অধিকার আদায়ে রক্ত দিতে জানে, তারা কখনও চিরকাল নিপীড়িত থাকে না। তাই আমাদের সামনে এখনও পথ আছে। সেই পথ সংগ্রামের, প্রশ্নের, আত্মজিজ্ঞাসার। স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে, তবে তাকে বাস্তব করতে হলে দরকার একটানা চেষ্টা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং সত্যিকারের সাহস। যদি আমরা সেই পথে হাঁটতে পারি, তবে নিশ্চিতভাবেই একদিন মুক্তি আসবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং মানুষ আবার বিশ্বাস করতে পারবেÑ এই দেশটি সত্যিই আমার এবং আমাদের।

কর্নেল মো. ইলিয়াস হোসেন : প্রকৌশলী ও গবেষক

থানা হেফাজতে থাকা ফরিদপুরের সেই হাতি আদালতের নির্দেশে ফিরছে মালিকের কাছে

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
থানা হেফাজতে থাকা ফরিদপুরের সেই হাতি আদালতের নির্দেশে ফিরছে মালিকের কাছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জব্দ হয়ে এক সপ্তাহ ধরে থানা হেফাজতে থাকা হাতিটি অবশেষে আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আদালত এক আদেশে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাতিটি তার প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুতকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে উদ্ধার করে আটক করে এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে।

পরদিন পুলিশ আটক মাহুত জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের আনিসউদ্দিনের ছেলে বকুল মিয়াকে (২৪) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। একই সঙ্গে জব্দকৃত হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে নাকি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে-সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী হাতিটির মালিক হিসেবে নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী দুলাল দেওয়ানের কাছে প্রাণীটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানা গেছে, তিনি নিজে সার্কাস পরিচালনা না করলেও বিভিন্ন সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়া দিয়ে থাকেন।

তবে আদালতের নির্দেশ এলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনেই ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

গত সাত দিন ধরে হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এ সময় হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিকের পক্ষ থেকে নাজমুল সরদার (১৭) নামে আরেক মাহুতকে সদরপুর থানায় পাঠানো হয়। তিনি নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাবার খাওয়ানো, সকালে হাঁটানো এবং সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন।

এক সপ্তাহ ধরে থানায় হাতিটি রাখার ফলে খাদ্যের ব্যবস্থা করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কলাগাছ, ঘাস ও অন্যান্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়। থানা প্রাঙ্গণে এমন কোনো স্থায়ী খাদ্যব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ ও মাহুতকে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাদ্যের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত ছিল না।

থানায় অবস্থানকালে বিশাল আকৃতির হাতিটি স্থানীয় মানুষেরও ব্যাপক কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রতিদিন শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সদরপুর থানায় এসে হাতিটিকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। আদালত হাতিটিকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এমন সমস্যা এক-দুদিন হলে চিন্তার কারণ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হতে পারে অনিদ্রা (ইনসমনিয়া)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ, খিটখিটে মেজাজ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেই অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হয় অনিদ্রা?

অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)

আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ

অস্বস্তিকর বিছানা বা ঘুমের পরিবেশ

মদ্যপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

রাতের শিফটে কাজ করার অভ্যাস

অনিদ্রা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত মেডিটেশন করুন

মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে কার্যকর। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

২. ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার অয়েল দীর্ঘদিন ধরে অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক প্রশান্তি এনে ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বালিশে সামান্য স্প্রে করা বা ঘাড় ও কাঁধে অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করেও ব্যবহার করা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যা কমতে পারে।

৪. ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ডার্ক চকলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডোসহ ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

৫. মেলাটোনিন বাড়ায় এমন খাবার

মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। ডিম, দুধ, মাছ, কলা, মাশরুম, বাদাম ও আখরোটের মতো খাবার শরীরে মেলাটোনিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা

প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি

অনিদ্রা কমাতে ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল বেশ জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হবে, সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ভালো ঘুমের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।