খুঁজুন
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

পেশাদার আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আইনি রূপরেখা

তানভীর আহমেদ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
পেশাদার আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আইনি রূপরেখা
২০২২ সালের শেষদিকে যুক্তরাজ্যের একাধিক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী এবং বিচারবিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক রব তাদের প্রতি বুলিং (বলপ্রয়োগ বা ভয় দেখিয়ে কাউকে কিছু করতে বাধ্য করা) এবং অপমানজনক আচরণ করছেন। অভিযোগগুলো মূলত বিচারবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আসে।  সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক অভিযোগগুলো পর্যালোচনার জন্য অ্যাডাম টলি কেসি-কে Independent Investigator হিসেবে নিয়োগ দেন। টলি যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় সিনিয়র ব্যারিস্টারদের একজন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণসংক্রান্ত তদন্ত, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ অনিয়ম অনুসন্ধান এবং কর্মক্ষেত্রে অনৈতিক আচরণসংক্রান্ত বিষয়ে আইনগত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ King’s Counsel খেতাব অর্জন করেন; সেজন্যই তার নামের পশ্চাতে কেসি লেখা হয়। টলি প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিস্তারিত তদন্ত ও প্রমাণাদি সংগ্রহ করেন। তদন্তে দুটি ঘটনায় বুলিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে অভিযুক্ত মন্ত্রী সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের প্রতি অযথা রূঢ় ও ভয় সৃষ্টিকারী আচরণ করেছেন, যা যুক্তরাজ্যের ‘মিনিস্টিরিয়াল কোড’-এর লঙ্ঘন।  অভিযুক্ত উপপ্রধানমন্ত্রী ডমিনিক রব এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও তদন্তের ফলাফলের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ২১ এপ্রিল ২০২৩ উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচারবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন অ্যাঞ্জেলা রেইনার; পাশাপাশি তিনি গৃহায়ন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল যে তিনি ইংল্যান্ডের হোভ এলাকায় নিজের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সময় ৪০ হাজার পাউন্ডের স্ট্যাম্প ডিউটি (কর) কম পরিশোধ করেছেন। বর্তমান ‘স্বাধীন উপদেষ্টা’ স্যার লরি ম্যাগনাসের তদন্তে অ্যাঞ্জেলার অনিয়ম ধরা পড়ে। এরপর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ক্ষমতায় আসার পর গত ১৪ মাসে কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভা থেকে ৯ জন পদত্যাগ করলেন; যার বেশির ভাগই স্বাধীন উপদেষ্টার তদন্তের ফলস্বরূপ। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির যে অভিযোগের মুখে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘সিটি মিনিস্টার’-এর পদ থেকে পদত্যাগ করেন, সেই অভিযোগের বিষয়েও এই স্বাধীন উপদেষ্টাই তদন্ত করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী ও রাজনৈতিক পদাধিকারীদের করণীয়-বর্জনীয় বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে ৩৮ পৃষ্ঠার মিনিস্টিরিয়াল কোডে; যার সর্বশেষ ভার্সনটি নভেম্বর, ২০২৪-এ জারি হয়েছে। সেখানে সিভিল সার্ভিস সম্পর্কে মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, মন্ত্রী হিসেবে দেশ ও জনগণের সেবা করা একটি বিশেষ সুযোগ ও দায়িত্ব। মন্ত্রীদের উচিত সব ধরনের যোগাযোগ ও কার্যসম্পর্কে ভদ্রতা ও পেশাদারি বজায় রাখা এবং যাদের সঙ্গে তারা কাজ করেন তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও বিবেচনাবোধ প্রদর্শন করা। যাদের সঙ্গে তাদের কাজের সম্পর্ক রয়েছে যেমন সরকারি কর্মচারী, মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় সহকর্মী বা সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে সম্পর্ক যথাযথ ও পেশাগত হওয়া উচিত। যে কোনো ধরনের হয়রানি, হুমকি, নিপীড়ন বা বৈষম্যমূলক আচরণ আচরণবিধির পরিপন্থি এবং তা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না [অনুচ্ছেদ ১.৫]। মন্ত্রীদের অবশ্যই সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে হবে এবং কখনো তাদের এমন কোনো কাজ করতে বলা যাবে না, যা সিভিল সার্ভিস কোডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় [অনুচ্ছেদ ১.৬] মন্ত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পর্ক একটি সহযোগিতা, যা তাদের অভিন্ন বা জনসেবামূলক দায়িত্বের (public service duty) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। মন্ত্রীদের অবশ্যই সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে হবে এবং কখনো তাদের এমন কোনো কাজ করতে বলা যাবে না যা সিভিল সার্ভিস কোড এবং ‘সংবিধান সংস্কার এবং সুশাসনসংক্রান্ত ২০১০ সালের আইন’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় [অনুচ্ছেদ ১.৮]। মন্ত্রীদের উচিত এটা নিশ্চিত করা যে সরকারি সম্পদ, যার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হয় [অনুচ্ছেদ-১.১০]।

যদি বলা হয় যে আমাদের দেশেও তো ভালো ভালো আইনকানুন আছে, কিন্তু মানা হয় না। তাহলে তার জবাব কী হবে? না, আমাদের দেশে মন্ত্রীদের করণীয়-বর্জনীয় বিশেষ করে সিভিল সার্ভিসের নিরপেক্ষতা সমুন্নত রাখার বিষয়ে স্পষ্ট বা বিস্তারিত বিধান নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে তার প্রতিকার কীভাবে হবে সেই সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান এই মিনিস্টিরিয়াল কোডের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিভিন্ন উপ-অনুচ্ছেদে পাওয়া যায়। সে মতে, যদি কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী ক্যাবিনেট অফিসকে তথ্য অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারেন অথবা তিনি বিষয়টি Independent Adviser on Ministerial Standards-এর কাছে তদন্তের জন্য পাঠাতে পারেন। যুক্তরাজ্যে ‘মন্ত্রীগণের আচরণবিধিবিষয়ক স্বাধীন উপদেষ্টার এই পদটি প্রথম চালু হয় ২০০৬ সালে। তিনি সরকার থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন। মন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চ পদাধিকারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে তদন্তভার প্রদান করে থাকেন। তবে স্বাধীন উপদেষ্টা প্রয়োজন মনে করলে তার কাছে পাঠানো হয়নি, এমন অভিযোগও স্ব-উদ্যোগে তদন্ত শুরু করতে পারেন। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে তিনি  শাস্তি বা ব্যবস্থা সম্পর্কেও সুপারিশ করতে পারেন। যদি তিনি মনে করেন যে তার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন তবে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করতে পারেন। কোনো মন্ত্রী তার নিজের সততা বা স্বচ্ছতার বিষয়ে উত্থাপিত কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন পরিষ্কার করার জন্য নিজেই তদন্ত শুরু করার অনুরোধ জানাতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে ‘স্বাধীন উপদেষ্টা’ ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকেও ইনডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটর হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন। যেমনটি ঋষি সুনাক ব্যারিস্টার টলিকে উপপ্রধানমন্ত্রী ডমিনিক রবের বিরূদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছিলেন।

কানাডার নৈতিকতাবিষয়ক কমিশনার (আনুষ্ঠানিক নাম Office of the Conflict of Interest and Ethics Commissioner) হলো একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যার মূল কাজ হলো ফেডারেল রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী এবং সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তারা যেন স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে না পড়েন এবং নৈতিক আচরণবিধি মেনে চলেন তা নিশ্চিত করা। তিনিও যুক্তরাজ্যের উপদেষ্টার মতোই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বা কারও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে থাকেন। তিনি সরাসরি সংসদকে রিপোর্ট করেন, সরকারি কোনো দপ্তরকে নয়। কানাডায় গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার নাম Public Sector Integrity Commissioner (PSIC); যা সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা, সততা ও সুশাসন রক্ষায় কাজ করে। এই সংস্থাটিও পুরোপুরি স্বাধীন এবং সরকার থেকে আলাদা। সরকারি কর্মকর্তারা নিরাপদে সেখানে যে কোনো অনিয়মের অভিযোগ জানাতে পারেন। কোনো মন্ত্রীর দ্বারা বা রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন হলে নাম গোপন রেখেও অনলাইনে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন। পিএসআইসি অভিযোগ দায়েরকারীকে সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য তার তথ্য কাউকে প্রদান করে না। অভিযোগ করার কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি বা হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়ার আইনি সুরক্ষাও রয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনে।

যুক্তরাজ্য বা কানাডায় কিংবা অন্য কোনো দেশে অনুসৃত নিয়মনীতির অনুরূপ বিধান আমাদের দেশে চালিয়ে দিতে আমরা বলতে পারি না। তবে এটা জরুরি যে আমরা এই বিষয়গুলো সম্পর্কে উদাসীন না থাকি এবং বিস্তারিত পরীক্ষানিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান প্রণয়নে সচেষ্ট হই। সম্প্রতি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘জনপ্রতিনিধির কর্মপরিধি’ শীর্ষক ৯.৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সুপারিশ করেন যে ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিগণ কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কর্মপরিচালনায় হস্তক্ষেপ করবেন না। কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা রাজনৈতিক ব্যক্তি কোনো সরকারি কর্মচারীকে অন্যায্য ও বিধিবহির্ভূত কাজের জন্য অনৈতিক চাপপ্রয়োগ করলে তিনি বিষয়টি গোপনীয়ভাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অবহিত করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। কোনো বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক লিখিত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে উপরস্থ কর্মকর্তা বা উপরস্থ জনপ্রতিনিধি ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজন মনে করলে অবশ্যই তাকে লিখিতভাবে নির্দেশ প্রদান করতে হবে। মৌখিক নির্দেশ বাস্তবায়ন করা যাবে না এবং মৌখিক নির্দেশে তা কার্যকর করা যাবে না।’ এটি সুপারিশ, স্বভাবতই পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নয়। পূর্ণাঙ্গ বিধান প্রণয়ন অধিকতর পর্যালোচনার দাবি রাখে। উল্লিখিত সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নের উদ্যোগের বিষয়ে আমার জানা নেই, তবে সরকার নিশ্চয় তা গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে।

কারও কারও এই লেখা পড়ে মনে হতে পারে, যেন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার মধ্যেই আমলাতন্ত্রের পেশাদারি নিহিত মর্মে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি মোটেও তা নয়। আমলাতন্ত্রের কাঙ্ক্ষিত নিরপেক্ষ ও পেশাদার আচরণ এবং ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য অনেকগুলো বিষয়ে হাত দিতে হবে। তবে বিশ্বের টপ র‌্যাংকিং ব্যুরোক্রেসির সংস্কার অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি, রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে আমলাতন্ত্রের পেশাদারি বজায়ের উদ্দেশ্যে লিখিত বিধিবিধান থাকা জরুরি; নতুবা দিন শেষে সংস্কারের প্রকৃত সুফল ঘরে তোলা অথবা টিকিয়ে রাখা মুশকিল হতে পারে।  সম্প্রতি একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ব্যুরোক্রেট আমাকে বললেন যে তোমরা অভিযোগ কর রাজনীতিবিদরা তোমাদের কাজের ওপর হস্তক্ষেপ করে; বরং আমি তো বলি তোমরাই কাঙ্ক্ষিত পদায়ন আর পদোন্নতি পেতে নিজেরাই তাদের কাছে ধরনা দিয়ে বেড়াও। তার অভিজ্ঞতালব্ধ পর্যবেক্ষণ প্রণিধানযোগ্য; তবে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই লেখার মাধ্যমে মূলত আমাদের আর্জি হচ্ছে, যদি কোনো ক্ষমতাসীন পদাধিকারী অন্যায়ভাবে সরকারি কার্যক্রম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করেন, তাহলে সেই ‘বেচারা’ কর্মচারী যদি চাপের মুখেও আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখার সংকল্প করেন, তবে তার আইনি প্রতিকার আর সুরক্ষা কোন্ পথে হবে? এই ভাবনার খোরাক জোগাতেই এই নিবন্ধের অবতারণা।
লেখক : সরকারের যুগ্ম সচিব, যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে কী ভাবছে বাংলাদেশের দলগুলো?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে।

বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা ব্যানার্জীর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় এবং প্রথমবারের মতো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।

একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নির্বাচনের আগে কিছু ভারতীয় নেতার বাংলাদেশ নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। পাশাপাশি বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আরও বেড়ে যায় কি-না সেই উদ্বেগও আছে অনেকের মধ্যে।

কোনো কোনো দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

দলগুলো যা বলছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল সবসময়ই ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

এমনকি শেখ হাসিনা সরকার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-এমন শ্লোগানও শোনা গেছে ঢাকার রাস্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিভিন্ন ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হয় এবং এর জের ধরে ভারতে বাংলাদেশ মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল ।

ভারতের পণ্য বয়কটের ডাক, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা, বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা তুলে নেওয়া , ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে না যাওয়া- এমন অনেক ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

যদিও বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য উভয় দেশের সরকারের দিক থেকেই দৃশ্যমান চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে এসেছেন।

ওই সফরের আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা হচ্ছে একটা নিউ সম্পর্ক বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া”।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হলেও ওই সময়ে তিস্তা নদীর পানি ইস্যুটির সমাধান করা যায়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অবস্থানের কারণে। তিনি প্রকাশ্যেই এর বিরোধিতা করেছিলেন।

আবার এবারের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে ভারতের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা বাংলাদেশ সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোও এদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করেন।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল কোন দিকে যায় সেদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরও দৃষ্টি ছিল।

“নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সেখানকার কিছু নেতা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ নিয়ে উদ্বেগজনক মন্তব্য করেছেন, যা দুঃখজনক। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের বড় সীমান্ত আছে এবং সম্পর্কের মাত্রা বহুমাত্রিক। এর মধ্যে এ ধরনের মন্তব্য সামনেও আসতে থাকলে সেটি এদেশেও প্রভাব ফেলতে পারে,” বলছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আমরা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিলাম। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য বিজেপি অগণতান্ত্রিক চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই আমরা দেখেছি। ভোটার তালিকাকে টার্গেট করে তারা যা করেছে সেটিকেও গণতান্ত্রিক মনে হয়নি”।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব পড়বে না এবং বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের উৎসাহিত হবার আশঙ্কা তারাও খুব একটা দেখছে না।

“তবে তাদের হিন্দুত্ববাদীতা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদীতা আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ। তাদের রাষ্ট্রের যে আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা সেটিই তারাই তো মানছে না। মুসলিমের ওপর যে নিগ্রহ সেটি তো সব দেখা যায় না। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ থাকলে তো অন্য ধর্মের লোকেরা নিরাপদে থাকতো”।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের রাষ্ট্র ও সরকারের সহায়তা নিয়েই তো আওয়ামী লীগ শক্তি সঞ্চয় করেছিল এবং শেখ হাসিনা তাদের প্রশ্রয়েই আছেন। বিজেপি সরকার তো তাকে সহায়তা করছে। এখন তারা আরও শেল্টার পেয়ে ষড়যন্ত্র বাড়াতে পারে”।

তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানকার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করেছে।

“তবে নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি যারাই ক্ষমতায় থাকুক দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং এ থেকে মানুষ উপকৃত হবে। পারস্পারিক ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে নিশ্চয়ই দুই দেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলো এবং এটিও সত্যি যে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাদেশেও আছে।

“বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ভারতবর্ষের রাজনীতিও একই সংকটে নিপতিত। সেখানে যারাই ক্ষমতায় আসুক বা থাকুক তাতে সংকটের সমাধান হবে না কারণ তারা সবাই বুর্জোয়া ও কর্পোরেট শক্তির ধারক বাহক। তবে আমি বিশ্বাস করি দুই দেশের সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতেই সমাজকে এগিয়ে নিবে,” বলেছেন তিনি।

ওদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।

“ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আমাদের সাথে ইস্যুগুলা কিন্তু রয়েই যায়। ওগুলোতো আমাদের অবশ্যই ডিল করতে হবে,” বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সূত্র : বিবিসি বাংলা