খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিলুপ্তির পথে ৪’শ বছরের পুরনো ফরিদপুরের বাইশ রশি জমিদার বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
বিলুপ্তির পথে ৪’শ বছরের পুরনো ফরিদপুরের বাইশ রশি জমিদার বাড়ি

বৃহত্তর ফরিদপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে ৪’শ বছরের পুরনো বাইশরশি জমিদার বাড়ির নাম ইতিহাসের এক অন্যতম নিদর্শন। ফরিদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৮কিলোমিটার দূরত্বে বর্তমান সদরপুর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি। এককালে প্রভাবশালী বাইশরশি জমিদাররা ফরিদপুর-বরিশালসহ ২২টি পরগনার বা জোত মহলের অধিপতি ছিলেন। জমিদারি পরিচালনার পাশাপাশি তখনকার দিনে বাইশরশির বাড়িটির প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে কয়েকটি বাগানবাড়ি, পুকুর, পূজামন্ডপ ও দ্বিতলা বিশিষ্ট ছোট-বড় ১৪টি দালান কোঠা দিয়ে ঢেলে সাঁজিয়ে ছিলেন।

জানা গেছে, ১৭’শ শতাব্দির গোড়াপত্তনে এককালের লবণ ব্যবসায়ী সাহা পরিবার বিপুল অর্থসম্পত্তির মালিক হয়ে কয়েকটি জমিদারি পরগনা কিনে জমিদারি প্রথার গোড়া পত্তন শুরু করে। ১৮শ শতক থেকে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের আগে পর্যন্ত জমিদার পরিবারটি অনেক ধন-সম্পত্তির মালিক হন ও ২২টি জমিদারি পরগনা ক্রয় করে বিশাল জমিদার হিসেবে ভারতবর্ষে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও হিন্দুস্থান দুইটি রাষ্ট্র হওয়ার পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সাল জমিদারি প্রথা থাকার আগ পর্যন্ত জমিদাররা কলকাতা বসে জমিদারি দেখাশুনা করত। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর জমিদার সুকুমার রায় বাহাদুর ছাড়া সবাই কলকাতা চলে যায়। ৭১-এ বাংলাদেশ স্বাধীনের পর সুকুমার বাবু ওই রাজ প্রসাদে আত্মহত্যা করেন। এরপর বাড়িটির আর কোন অভিভাবক না থাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি হিসেবে গন্য হয়ে যায়।

বর্তমানে প্রায় ৩০একর জমির ওপর জমিদার বাড়িটির অবস্থান হলেও চারপাশের অনেক জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে ৫টি শান বাঁধানো পুকুর, বিশাল বাগানবাড়ি ও ছোটবড় চৌদ্দটি কারুকার্য খচিত দালান-কোঠা জমিদারদের কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান দরজা-জানালা, লোহার কারুকার্য খচিত ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাড়িটির সামনের অংশে বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস রয়েছে।

বাইশরশি জমিদার বাবুরা যেভাবে আলোচিত হয়ে আছেন। কথিত আছে, উদ্ধর চন্দ্র সাহা লবনের ব্যবসা করতেন। লবন বিক্রয় করার জন্য যাবার সময় নদী ভাঙ্গনে কবলিত কোন এক পড়বাড়ীর ধ্বংসাবশেষ হতে বেশ কিছু গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করেন। এভাবে অর্থ প্রাপ্তির পর তিনি বাইশরশিতে বিশাল জোদ্দারী ক্রয় এবং জমিদারী প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তীতে বাবু রঘুরাম সাহার পুত্র উদ্ধর চন্দ্র সাহা ১৮২৪ইং সালে সম্ভবত লর্ড ক্লাইভের সময় বাইশরশি জমিদার উদ্ধর চন্দ্র সাহা বরিশালের কালিয়ায় জোদ্দারী ক্রয় করেন।

উদ্ধর চন্দ্র সাহার পুত্র হরে কৃষ্ণ সাহা জমিদারীর হাল ধরেন এবং তিনি বরিশালের বাউফলের জমিদারী ক্রয় করেণ এবং প্রভূত উন্নতি সাধন করেন। হরে কৃষ্ণ সাহার তিন পুত্রের মধ্যে রাম জয় সাহা জমিদারীর ভার গ্রহণ করেন। এ সময়ে বাবুরা ইংরেজদের কাছ থেকে সাহা উপাধির পরিবর্তে রায় চৌধুরী উপাধী লাভ করেন। রাম জয় রায়ের দুই পুত্র বৈকুন্ঠ রায় ও নীল কন্ঠ রায় জমিদারী ভাগাভাগি করেন এবং বৈকুণ্ঠ রায়ের অংশকে বড় হিস্যা ও নীল কণ্ঠ রায়ের অংশকে ছোট হিস্যা বলা হতো। বৈকুণ্ঠ রায়ের কোন সন্তান না থাকায় তিনি মহিম চন্দ্র রায়কে পৌষ্য পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। মহিম চন্দ্র রায় প্রতাপ শালী ছিলেন। তারও কোন সন্তান না থাকায় তিনি কলকাতা হতে মহেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরীকে পৌষ্য পুত্র হিসেবে সংগ্রহ করেন। উল্লেখ মহিম চন্দ্র রায় বাহাদুর উপাধি লাভ করেন। মহেন্দ্র নারায়ন রায় বাহাদুর সাধু প্রকৃতির লোক ছিলেন। তিনি তার পৌষ্য মাতার মহিম চন্দ্র রায় বাহাদুরের স্ত্রী শিব সুন্দরী চৌধুরানী নামে ১৯১৪ সালে ‘‘বাইশরশি শিব সুন্দরী একাডেমী’’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সমেয় মহেন্দ্র নারায়ন চৌধুরীর বয়স ছিল মাত্র ২০/২২ বছর।

নীল কণ্ঠ রায় বাহাদুরের পুত্র রাজেন্দ্র বাবু ও দেবেন্দ্রবাবু। রাজেন্দ্র বাবুর কোন সন্তান ছিলনা। তিনি রমেশ বাবুকে পৌষ্য গ্রহণ করেন। দেবেন্দ্র বাবুর ছেলে দক্ষিণা রঞ্জন বাবু।

দক্ষিণা রঞ্জন বাবু রাগী ও উগ্র প্রকৃতির লোক ছিলেন। দক্ষিণা বাবুর কোন সন্তান না থাকায় তিনি দিলীপ বাবুকে পৌষ্য সন্তান হিসাবে গ্রহণ করেন। ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে দুই হিস্যার মধ্যে হিংসা-বিবাদের কারণ ঘটায় উভয় হিস্যা মামলা মোকদ্দমায় জড়িত হয়ে পড়েন এবং তা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলে তখন ফরিদপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের হস্তক্ষেপে বিবাদের মিমাংশা ঘটে। অতঃপর দক্ষিনা বাবু তার পিতৃব্য বা জেঠার নামে ফরিদপুরের অম্বিকা চরণ মজুমদার বাবুর সহায়তায় ‘‘রাজেন্দ্র কলেজ’’ স্থাপন করেন।

এছাড়া বর্তমান ফরিদপুরের পুরাতন সরকারী হাসপাতালের একটা অংশ এখনও বাবুদের নামে বর্তমান আছে। মহেন্দ্র বাবু নগর কান্দায় নীজের নামে (মহেন্দ্র নারায়ন একাডেমী) নামের একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

জমিদারদের প্রধান আয়ের উৎস্য ছিল ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা। খাজনা বা কর আদায় করার জন্য নায়েব নিযুক্ত করা হতো। অবাধ্য প্রজাকে শায়েস্তা করার জন্য লাঠিয়াল বাহীনি ব্যবহার করা হতো। এ জন্য নিজস্ব বড় লাঠিয়াল বাহিনী সুরক্ষিত ভাবে রাখা হতো। অপরাধ অনুসারে এই প্রজাদেরকে অত্যাচার করা হতো। অত্যাচারের ফলে কারও মৃত্যু হলে মৃত দেহ বাড়ীর পিছনে সু-গভীর অন্ধকুপে নিক্ষেপ করা হতো।

আরও লোক মুখে শোনা যায়, মুসলমান বা হিন্দুরা বাবুদের বাড়ীর সামনে দিয়ে জুতা পায়ে, ছাতা মাথায় দিয়ে যাতায়াত নিষেধ ছিল। বাবুদের চারটি পুকুরের মধ্যে নাট মন্দিরের সামনের পুকুরটি পানীয় জলের জন্য নির্ধারিত ছিল। ঐ পুকুরে কেহ পা ভেজাতে পরতো না। বেচু নামে এক মুসলমান প্রজা অজ্ঞাতবশতঃ ঐ পুকুরে পা ধোয়ার অপরাধে তাকে বেদম প্রহার ও দাড়ী উৎপাটন করা হয়। ফলে তা নিয়ে মামলা হলে বাবুদের এক পাই জরিমানা হয়। মানিক দহের বড় মিয়া আব্দুল বাবুদের বশ্যতা স্বীকার না করার জন্য বাবুরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। বড় মিয়া আব্দুল উপায়ন্তর না দেখে শিবসুন্দরী চৌধুরানীকে মা ডাকেন। পরে শিব সুন্দরী চৌধুরানীর হস্তক্ষেপে বড় মিয়া আব্দুলকে মামলা হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। মিয়াদের পরিবারের লোকজন সেই সময় থেকে বর্তমান বাইশরশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজকর্ম করতেন।

বাইশরশি শিবসুন্দরী একাডেমীর বর্তমান খেলার মাঠ বাবুদের চিত্তবিনোদনের জন্য বাগানবাড়ী ছিল এবং তারা ঐ বাগান বাড়ীতে যেমন খুশি তেমন ভাবে বিভিন্ন রকমের আনন্দ ফূর্তি করতো। জমিদার বাড়ীটি ৩০একরের উর্ধ্বে ছিল।

১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা লোপ ও প্রজাস্বত্তর আইন প্রনয়ন হবার পর সুকুমারবাবু অর্থহীন এবং বিত্তহীন হয়ে পড়লে তিনি জমিদারী হারিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় লোকশান ও বাড়ীর দাসী কর্তৃক সঞ্চিত স্বর্ণ খন্ডাদী চুরি হওয়ায় ও দাসীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে দাসী গর্ভবতী হলে ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় উপায়ন্তর না পেয়ে সুকুমারবাবু নিজে বন্দুকের গুলীতে আত্মহত্যা করেন।

উল্লেখ্য যে, সুকুমার বাবু ১৯৩৪-১৯৪৬ পর্যন্ত সদরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পর জমিদার পরিবারের সদস্যরা কলিকাতা চলে যান এবং অমরেশ বাবু দিনাজপুর চলে যান। এভাবেই বাইশরশি জমিদারদের জমিদারীর পতন ঘটে। বর্তমানে জমিদার বাড়ীর অধিকাংশ জমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের দখলে রয়েছে। অবশিষ্ট ভবন ও স্থাপনা অযত্নে ও অবহেলা পড়ে আছে। সরকারি ভাবে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নাই।

সদরপুর এর বাইশরশি জমিদারের অধীনে থাকা আরেকটি জমিদারী শাসনামল অঞ্চল সম্পর্কে আরও জানা যায়, এ অঞ্চলের দু শতাধিক বছর পূর্বের সাক্ষী বর্তমান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহাসিক নির্দশন জমিদার মহেন্দ্ররায় চৌধুরী ও রাজেন্দ্র রায় চৌধুরীর কাঁছারী বাড়ি। বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস হিসাবে পরিচিতি।

জনশ্রুতি হচ্ছে, ১৮’শ শতকের কথা। ফরিদপুর জেলার সদরপুর বাইশরশি থেকে দক্ষিণারঞ্জন রায় বাণিজ্য জন্য চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে যায়। চতুর্দশ শতাব্দীতে গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ শাসনামলে বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য ছিল। মেঘনার অববাহিকা বর্তমান ভোলা ও বাউফলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া নামক স্থানে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজধানী ছিল। চন্দ্রদ্বীপ তেঁতুলিয়া নদীতে গয়না পারি দিয়ে বাণিজ্য জন্য চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে আসে।

ব্রিটিশদের থেকে অত্র এলাকায় জমি ক্রয় করে রায় চৌধারিত্ব উপাদি লাভ করে। দক্ষিণারঞ্জন রায়ের দুই ছেলে মহেন্দ্র রায় বড়ো হিস্যাই, রাজেন্দ্র রায় ছোট হিস্যাই হিসাবে সে এলাকায় স্বীকৃতি পায়। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য এলাকা বাউফলে জমিদারীত্ব আরম্ভ করে। জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় সদরপুরের বাইশরশি থেকে বিভিন্ন পেশার লোক নিয়ে যেত এবং বসতির জন্য অনুমতি দিয়ে থাকে। প্রজাদের মাধ্যমে অত্র এলাকায় কাঁছারী থেকে প্রজাদের মাধ্যমে খাঁজনা গ্রহণ করে। প্রতিবছর প্রজাদের মাধ্যমে খাঁজনা গ্রহণ এবং দুর্গাপূজাসহ হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফরিদপুর বাইশরশি থেকে গয়নাযোগে এলাকায় আগমন করতেন। থাকতে মাস ব্যাপী খাস কামরায়ে। খাস কামরায় স্থাপত্য গড়ে তোলে।

স্থাপত্য দুটি বাউফল মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের জে এল নং ৮৭ দাগ নং ১১২০ও ১১২১ তে ১১.৯৭ একর জমির উপর অবস্থিত। অধিকাংশ অফিস ঘরই জমিদারী এ স্টেটের পুরাতন দালানে অবস্থিত। উপজেলা সদর প্রধান সড়ক দক্ষিণ পাশে ২২ একর জমির উপর মহেন্দ্র রাজেন্দ্র রায়ের জমিদার বাড়ি। স্থাপত্য দুটি দেড় ইঞ্চি পাকা ইটের তৈরি প্রায় দেড় ফুট পুরো দেয়াল। চিনেমাটি প্লেষ্টার দিয়ে ছাদ তৈরি লোহার আড়া। ভিতরে ৪টি কক্ষ। সামনে জোড়া বাধা ৬ টি গম্মুজ। এটি হচ্ছে দক্ষিণ ভিটে। দক্ষিণ ভিটে দালান সামনে বসার জায়গা রয়েছে বসার সাথে দুটি হাতির স্থাপনা। পশ্চিম পাশে রয়েছে অনুরূপ আরেকটি দালান। তিন কক্ষবিশিষ্ট। ৪০ ফুট উচু স্থাপত্য দালানটি উপরে রয়েছে টিনের ছাউনি। আড়া গুলো হচ্ছে বড় গাছের চিড়াই গাছ।

জমিদারের স্থাপত্য দুটি সামনে রয়েছে টিনের ৮চালা বিশিষ্ট উচু নাটঘর। নাট ঘরে বসে যাত্রা-পালাসহ নাটকহতো। কাঁছারি বাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে জমিদার বাড়ীতে হতো নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে দুর্গাপুজা উপলক্ষ্যে মাস ব্যাপী যাত্রা অনুষ্ঠান হয়েছিল। দেওয়া হতো মহিষ ও পাঠা বলী। মাসব্যাপী যাত্রার রিহার্সেল দেওয়া হতো। দু ঘরের সামনে বসে জমিদার তার পরিবার নিয়ে এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেতন।

ওই সময় যাত্রা পালার মধ্যে ছিল অকালের দেশ, বাঙ্গালী রক্ততিলক, সমাজের বই, কাঞ্চন মালা, বাঙ্গালী বিচারক, সোহরাফ রুস্তম,দর্পহারী, এজিদ ও জয়নাল উদ্ধার, বঙ্গেরবর্গী প্রভৃতি। অনুষ্ঠিত যাত্রাপালায় এলাকার বাইরে থেকে আসা যাত্রাপালা দলের পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে যারা অংশ গ্রহণ করতে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে, মাখম সাহা, মনোরঞ্জন শীল, রাজস্বর রায়, অনন্ত ঘোষ, মেঘনাথ ঘোষ, চিত্র রঞ্জন সাহা, বিনোদ বিহারী সাহা। কাঁছারী বাড়ি নিরাপত্তার্থে চার পাশে রয়েছে উচু দেয়াল। প্রাচীর রয়েছে প্রাচীর পূর্বপাশে বতর্মান প্রবেশপথ ইটের তোরণ, উত্তর পাশে রির্জাভ ঘাটে গেট পশ্চিম পাশে ঘেট রয়েছে। ইটের র্নিমান প্রাচীর ১০ ইঞ্চি প্রসস্ত উচু হচ্ছে ৯ ফুট। স্থাপত্য দুটি সংলগ্ন রয়েছে ২টি পুকুর। জমিদার বাড়ীর উত্তর পাশে পুকুরটি পানি ছিল রিজার্ভ। রিজার্ভ পুকুরের দক্ষিণ পাশে বাধাই করা ঘাট। রিজার্ভ পুকুরের পানি কেউ ব্যবহার করতে না। ভুলক্রমে কেউ পানি পান করতে গেলেও পা পুকুরে পানিকে ভিজাতে না। এ পুকুরে পানি রিজার্ভ রাখার জন্য ছিল আলাদা পাহারাদার। পশ্চিম পাশে বড়ো একটি পুকুর। যা ছিল সবার জন্য উম্মুক্ত। আরো জনশ্রুতি হচ্ছে, জমিদারের কঠোর শাসন থাকলে তাদের জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছে।

১৮৬৭ খ্রিঃ কলকাতা গেজেটে পটুয়াখালী মহকুমাধীন বাউফলকে থানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং ১৮৭৪ খ্রিঃ পুলিশ ষ্টেশন স্থাপন করে থানা হিসেবে বাউফলে কার্যক্রম শুরু করা হয়। পূর্ব পশ্চিম পাকিস্তান শাসন আমল। মধ্য স্বত্বলোপ পায়। সরকার সমস্ত জমিদারিত্ব একোয়ার করে নেয়। জমিদার মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় দেশ ছেড়ে চলে যায়। সরকার ১নং খতিয়ানভুক্ত করে বর্তমানে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ভূমি অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

দু’শ বছরের পুরানো এই জমিদারী স্থাপনার ঐতিহ্য কে সংরক্ষণ করা গেলে ফরিদপুরের সদরপুরের বাইশরশি জমিদার বাড়িকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্রের উজ্জ্বল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যেতো।

সংরক্ষণ না থাকায় আজ ভগ্নদশায় ধ্বংসস্তুপের মধ্যে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাওয়ায় তার সৌন্দর্য্য নষ্ট হচ্ছে। সরকার একটু নজর দিলে হতে পারে দেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটক কেন্দ্র। সরকারি ভাবে সংরক্ষণ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতল ভবনের ছাদ নিরাপত্তাদ্বয় কাঠের আড়া গুলো কেটে নেওয়ার ফলে কয়েকটি রুমের ছাদ ধসে পড়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়াও বাড়িটির অন্যান্য কক্ষে লোহার দরজা,জানালা,গ্রীল ও চুরি হয়ে যাচ্ছে। বেশীরভাগ চুরির ঘটনা রাতে হচ্ছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

এবিষয়ে সদরপুরের সন্তান তৌকির আহম্মেদ বলেন, এখন সময় এসেছে আমাদের এই ইতিহাসের অংশ টুকুকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার তাই আমরা সদরপুর বাসী এই জমিদার বাড়ি টি সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি। এই জমিদার বাড়ি টি সংস্কার করলে জমিদার বাড়িটি হতে পারে অত্র সদরপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। রক্ষা পেত ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িটি ও একটি ইতিহাস।

‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা-এর আটঘর ইউনিয়নের নিভৃত এক জনপদ খোয়াড় গ্রাম। ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সবুজে ঘেরা এই গ্রাম যেন প্রকৃতির এক শান্ত আশ্রয়স্থল। গ্রামের প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে শতবর্ষী এক বিশাল বটগাছ, যা শুধু একটি গাছ নয়—এলাকার মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আবেগের জীবন্ত সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটগাছ যেন সময়ের নীরব গল্পকথক হয়ে আজও মাথা উঁচু করে আছে।

বটগাছটির বিশাল ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতার মতো। ঝুলে থাকা অসংখ্য শিকড় মাটির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজের হাতে যেন একটি জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করেছে। গাছটির নিচে দাঁড়ালেই মন ভরে যায় শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাসে। দিনের প্রখর রোদেও এখানে পাওয়া যায় এক অন্যরকম প্রশান্তি।

ভোর হতেই বটগাছের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে। শালিক, দোয়েল, কোকিল আর নানা নাম না জানা পাখির ডাকে গ্রামের সকাল যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। গাছের ডালে ডালে পাখিদের ছোটাছুটি আর কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অপার মুগ্ধতা তৈরি করে। সন্ধ্যা নামলে আবার পাখিরা ফিরে আসে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে। তখন পুরো পরিবেশজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেগঘন দৃশ্য।

এই বটগাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা দুপুরের ক্লান্ত সময়ে এসে বসেন গাছটির ছায়ায়। কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ একটু জিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে যান। গ্রামের প্রবীণদের কাছেও এটি স্মৃতির এক অমূল্য জায়গা। অনেকে বলেন, ছোটবেলায় তারা এই গাছের নিচেই খেলাধুলা করেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, এমনকি গ্রামের নানা সামাজিক বিচার-আচারও একসময় এই গাছতলাতেই বসত।

বর্ষাকালে বটগাছটির চারপাশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজ পাতাগুলো তখন আরও সতেজ দেখায়। শীতের কুয়াশামাখা সকালেও গাছটি যেন রহস্যময় সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের বুকজুড়ে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, এই বটগাছ তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শতবর্ষী বটগাছ খোয়াড় গ্রামের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। তাই গাছটিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, তখনও খোয়াড় গ্রামের এই বটগাছ অতীত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের গল্প শোনাচ্ছে নীরবে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু চিনবেন যেভাবে?

কোরবানির ঈদ এলেই দেশের পশুর হাটগুলোতে বেড়ে যায় গরু কেনাবেচার ব্যস্ততা। এই সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় গরুকে স্টেরয়েড, হরমোন বা বিভিন্ন ক্ষতিকর ইনজেকশন দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে মোটাতাজা করে।

বাইরে থেকে এমন গরু দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব গরুর মাংস খেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসক ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাটে গিয়ে ইনজেকশন দেওয়া গরু চেনার কয়েকটি সহজ উপায় নিচে তুলে ধরা হলো—

১. আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে দেখুন

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর শরীরে অনেক সময় অতিরিক্ত পানি জমে থাকে। এটি বোঝার সহজ উপায় হলো গরুর শরীরের মাংসল অংশে আঙুল দিয়ে চাপ দেওয়া। গরুর পিঠ বা রানের অংশে জোরে চাপ দিলে যদি জায়গাটি দেবে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় নেয়, তাহলে সেটি সন্দেহজনক হতে পারে। সুস্থ গরুর মাংস সাধারণত শক্ত ও টানটান থাকে। চাপ দিলে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

২. আচরণ লক্ষ্য করুন

স্টেরয়েড বা হরমোন দেওয়া গরু অনেক সময় ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তাদের আচরণেও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

এ ধরনের গরু সাধারণত বেশি অলস থাকে, ঠিকভাবে হাঁটতে চায় না এবং অল্পতেই হাঁপিয়ে যায়। অনেক সময় মাথা নিচু করে ঝিমাতে দেখা যায়। চোখও ঘোলাটে বা ক্লান্ত দেখাতে পারে।

অন্যদিকে সুস্থ গরু তুলনামূলক চঞ্চল হয়। আশপাশে মানুষ দেখলে সাড়া দেয়, কান ও লেজ নেড়ে স্বাভাবিক আচরণ করে।

৩. অস্বাভাবিক ফোলা ও অতিরিক্ত লালা

ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগের কারণে অনেক গরুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। বিশেষ করে উরু, রান, থুতনি বা প্রস্রাবের রাস্তার আশপাশের অংশ অতিরিক্ত ফোলা দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া কিছু গরুর মুখ থেকে নিয়মিত লালা বা ফেনা পড়তে দেখা যায়, যা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।

যে কারণে সতর্ক থাকা জরুরি?

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা গরুর মাংস মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এমন পশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

গরু কেনার সময় যা করবেন

সম্ভব হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা পরিচিত খামারিকে সঙ্গে নিন। গরুর দাঁত, চোখ ও হাঁটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। পরিচিত ও বিশ্বস্ত খামার বা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার চেষ্টা করুন। কেনার আগে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট গরুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন।

সূত্র : কালবেলা

সালথায় সংঘাত থামাতে সংবাদ সম্মেলন, সম্প্রীতি চান জাহিদ মাতুব্বর

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
সালথায় সংঘাত থামাতে সংবাদ সম্মেলন, সম্প্রীতি চান জাহিদ মাতুব্বর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বালিয়া ও গট্টি এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধ, দাঙ্গা ও সংঘর্ষের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ মাতুব্বর। তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আর কোনো কাইজ্জা-মারামারী নয়, সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করুন।”

সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গট্টি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক, বিএনপির নেতাকর্মী ও তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ মাতুব্বর বলেন, তিনি ২০০১ সালে সাবেক মন্ত্রী মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের নির্বাচনে কাজ করেছিলেন। পরে ২০০৭ সালে ইউরোপে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে ফরিদপুরে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, কোনো সময়ই আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না, তবে নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন।

তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত আখ্যা দিয়ে একাধিক মামলায় জড়িয়েছে। সম্প্রতি গট্টি এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও রাজিব মাতুব্বরের ওপর হামলার ঘটনায়ও তাকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাহিদ মাতুব্বর বলেন, “ঘটনার দিন সকাল থেকেই আমি অসুস্থ ছিলাম এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। টানা চারদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ফরিদপুরে চলে যাই। অথচ আমাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”

তিনি মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এলাকায় তার একটি সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব রয়েছে। গ্রামের মানুষ তাকে একটি পক্ষের প্রধান হিসেবে দেখলেও তিনি কোনো সংঘাত চান না। বরং এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতেই কাজ করতে চান।

এ সময় তিনি তার সমর্থক ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাকে যারা ভালোবাসেন, তারা আর কোনো সংঘর্ষে জড়াবেন না। সবাই ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবেন—এটাই আমার অনুরোধ।”

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শামা ওবায়েদ ইসলাম মরহুম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি এলাকায় শান্তি চান। আমরাও তার নির্দেশনা মেনে চলবো। আগামী দিনেও শামা ওবায়েদ আপার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো, ইনশাল্লাহ।”