খুঁজুন
, ,

যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে হজ ফরজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:১২ পূর্বাহ্ণ
যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে হজ ফরজ?

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ। জীবনে একবার হলেও আল্লাহর ঘর বায়তুল্লাহ-এ উপস্থিত হয়ে হজ আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ। তবে ‘সামর্থ্য’ শব্দটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা যায়, কত টাকা থাকলে হজ ফরজ হবে, কী ধরনের সম্পদ থাকলে তা বাধ্যতামূলক হবে, কিংবা ঋণ থাকলে কী হবে—এসব বিষয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই।

ইসলামি শরিয়তে হজ ফরজ হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে একজন মুসলমানের জন্য হজ আদায় করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। নিচে সেই শর্তগুলো ও ‘সামর্থ্য’ বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো—

হজ ফরজ হওয়ার মৌলিক পাঁচ শর্ত

১. মুসলমান হওয়া

২. মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া

৩. সাবালক হওয়া

৪. স্বাধীন (দাসত্বমুক্ত) হওয়া

৫. সামর্থ্য থাকা

এই পাঁচটির মধ্যে ‘সামর্থ্য’ শর্তটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তব জীবনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

সামর্থ্যের ব্যাখ্যা

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর জন্য এই ঘরের হাজ করা লোকেদের ওপর আবশ্যক, যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে।’ (সুরা আল ইমরান : ৯৭)

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম-এর সিনিয়র মুফতি মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, এখানে ‘সামর্থ্য’ বলতে মূলত দুই ধরনের সক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে। তা হলো, শারীরিক সক্ষমতা ও আর্থিক সক্ষমতা।

শারীরিক সামর্থ্য

হজ ফরজ হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে এমন সুস্থ হতে হবে, যাতে তিনি নিজে মক্কায় গিয়ে হজের যাবতীয় আমল আদায় করতে পারেন। গুরুতর অসুস্থতা বা অক্ষমতা থাকলে সেই অবস্থায় হজ ফরজ হয় না।

কতটুকু সম্পদ হলে হজ ফরজ

হজ ফরজ হওয়ার জন্য কেবল ধনী হওয়া জরুরি নয়; বরং নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক শর্ত পূরণ হতে হবে—

১. নিজের মৌলিক প্রয়োজন (খাবার, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি) পূরণের পর অতিরিক্ত অর্থ থাকতে হবে।

২. হজে যাওয়া-আসা ও সৌদি আরবে থাকা-খাওয়ার খরচ থাকতে হবে।

৩. হজের সময় পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রেখে যেতে হবে।

এই শর্তগুলো পূরণ হলে হজ ফরজ হয়ে যাবে।

ঋণ থাকলে করণীয়

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আগে ঋণ পরিশোধ প্রাধান্য পাবে। যদি জমাকৃত অর্থ দিয়ে ঋণ ও হজ দুটি সম্ভব না হয়, তাহলে হজ ফরজ হবে না। আগে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

‘মৌলিক প্রয়োজন’ কী?

মৌলিক প্রয়োজন বলতে অপচয় বাদ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য যা অপরিহার্য, তা-ই বোঝানো হয়েছে। যেমন—বসবাসের জন্য একটি ঘর, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, পেশাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি এবং জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ।

তাই একমাত্র বসতবাড়ি বা প্রয়োজনীয় গাড়ি বিক্রি করে হজ করা ফরজ নয়। তবে একাধিক সম্পদ থাকলে অতিরিক্ত অংশ সামর্থ্যের মধ্যে গণ্য হবে।

একইভাবে বিয়েও মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। কারো বিয়ের প্রয়োজন থাকলে, হজের আগে বিয়ে প্রাধান্য পাবে।

শারীরিকভাবে অক্ষম হলে করণীয়

যদি সাময়িক অসুস্থতা থাকে, তাহলে সুস্থ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে। আর স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে অন্য কাউকে দিয়ে ‘বদলি হজ’ করানো যাবে। এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে নির্দেশনা পাওয়া যায়।

নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত

নারীর হজ ফরজ হওয়ার জন্য মাহরাম সঙ্গে থাকা শর্ত। বোখারি ও মুসলিমে এ বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে নারীর হজের জন্য স্বামীর অনুমতির শর্ত নেই। ওপরের শর্তগুলো পাওয়া গেলে স্বামীর অনুমতি ছাড়াই হজ করতে পারবেন নারীরা।

সূত্র : আল-শারহুল মুমতি, ৭ /৫-২৮।

দুদকের মামলায় ফরিদপুরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
দুদকের মামলায় ফরিদপুরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী কারাগারে

ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি মূল্যবান হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড দিয়ে মুছে ও ঘষামাজা করে জমি আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফরিদপুরের সাবেক সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজা তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে দুদকের করা মামলায় আদালতে হাজির হলে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একটি হেবা ঘোষণাপত্র দলিল (দলিল নং-৪০৬৭, তারিখ ১৫ মে ২০১৭) জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করে জমি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সাব-রেজিস্ট্রারসহ পাঁচজন পরস্পরের যোগসাজশে দলিলের মূল কপির ষষ্ঠ পৃষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড দিয়ে মুছে এবং ঘষামাজা করে দলিলের প্রকৃত তথ্য পরিবর্তন করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দলিলে থাকা স্ট্যাম্প নং-০৩১৭১৯৭-এর শেষ লাইনের পর “যাহা দিয়ারা ৩৯১৯ ও ৩৯২০ নং দাগ হইতে দখলভোগ করিবেন” অংশটি অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়। পরে পরিবর্তিত দলিলটি বালামভুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক স্বাক্ষরও সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে দলিলের প্রকৃত গ্রহীতা ও অভিযোগকারী মো. খলিলুর রহমানকে প্রায় ৯ শতাংশ জমির দখল থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরের মামলা নং-০২ (দুদক জি.আর-৬/২৬) হিসেবে রুজু করা হয়।

মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— সাবেক সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী মিয়া, তুলনাকারক মো. মেহেদী হাসান, নকলকারক মনোয়ার হোসেন, পাঠক মো. জাহিদ শেখ এবং দলিলের দাতা মো. জিন্নাহ শেখ।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারার পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তে যদি এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মামলাটি ফরিদপুরে সরকারি নথি জালিয়াতি ও ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। আদালতের এ আদেশের মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পেঁয়াজের দামে হাহাকার, কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দ্বারস্থ ফরিদপুরের সালথার ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
পেঁয়াজের দামে হাহাকার, কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দ্বারস্থ ফরিদপুরের সালথার ইউএনও

ফরিদপুরের সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা সালথার পেঁয়াজ চাষিদের দীর্ঘদিনের লোকসান, ন্যায্যমূল্য সংকট ও সংরক্ষণ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়, বাজারে মূল্য পতন, সংরক্ষণ সংকট এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

এর আগে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সালথার কয়েকজন কৃষক ক্ষোভে উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা ও পানিতে ফেলে দেন। সেই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কৃষকদের দুর্দশার বাস্তব চিত্র সামনে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, সালথার অর্থনীতির একটি বড় অংশই পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাই বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে কৃষকদের জন্য কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি জানান, প্রতিবেদনের সঙ্গে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, জমির লিজ, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয়সহ পেঁয়াজ উৎপাদনের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বিবরণী সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সালথা উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ২২ থেকে ২৩ টাকা দরে, যেখানে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা ১৫ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে কৃষকদের প্রায় ২ টাকা ৬৫ পয়সা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন ভালো হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমেই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ফলে উৎপাদন খরচও তুলতে না পেরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সালথার মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে শুধু তাদের জীবনমানই উন্নত হবে না, দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনও আরও বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে পেঁয়াজ চাষে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে। তাই তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে সালথার হাজার হাজার পেঁয়াজ চাষি উপকৃত হবেন।”

জ্বর থাকলে কি গোসল করা ক্ষতিকর? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
জ্বর থাকলে কি গোসল করা ক্ষতিকর? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

জ্বর আসলে শরীরে অস্বস্তি, ক্লান্তি এবং ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক। এই অবস্থায় গোসল করা নিয়ে আমাদের সমাজে নানা রকম মত প্রচলিত আছে। কেউ বলেন জ্বর থাকলে একদমই গোসল করা যাবে না, আবার কেউ বলেন ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে জ্বর কমে যাবে।

এই নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সঞ্জয় রায়না।

ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা

সাধারণত মনে করা হয় যে জ্বরের সময় গোসল করলে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এটি একটি ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে, হালকা গরম বা কুসুম কুসুম গরম পানিতে গোসল করা অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং এটি জ্বর নিরাময়ে সাহায্য না করলেও রোগীকে অনেকটা সতেজ ও আরামদায়ক অনুভব করতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীর থেকে ঘাম পরিষ্কার হয় এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কেন ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলবেন?

অনেকেই মনে করেন বরফ-ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমবে। কিন্তু চিকিৎসকরা এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ডা. রায়নার মতে, খুব ঠান্ডা পানি শরীরে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে, যা পেশিতে তাপ তৈরি করে এবং শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া ঠান্ডা পানি অস্বস্তি এবং কাঁপুনি বাড়িয়ে দেয়।

অতিরিক্ত গরম পানিও ক্ষতিকর

ঠান্ডা পানির মতো অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করাও ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত গরম পানি:

ঘামের মাধ্যমে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে।

মাথা ঘোরার সমস্যা বাড়াতে পারে।

শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শারীরিক অস্বস্তি তৈরি করে।

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, হালকা গরম পানি ব্যবহার করা, যা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না।

কখন গোসল করা থেকে বিরত থাকবেন?

জ্বর থাকলেও গোসল করা নিরাপদ হলেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি রোগী:

প্রচণ্ড দুর্বল অনুভব করেন।

মাথা ঘোরে বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হয়।

বিভ্রান্তি বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকেন।

নিজে নিরাপদভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে না পারেন।

খুব বেশি জ্বরের সাথে গুরুতর অসুস্থতা থাকে। এমন অবস্থায় গোসলের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বিশ্রাম নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

সুস্থ হতে আরও যা প্রয়োজন

মনে রাখতে হবে, জ্বর কোনো রোগ নয় বরং এটি শরীরে অন্য কোনো সংক্রমণের উপসর্গ। তাই শুধু শরীরের তাপমাত্রা কমানোর দিকে নজর না দিয়ে চিকিৎসকরা আরও কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন:

প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পানি পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখা।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।

পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খাওয়া।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি জ্বর দুই থেকে তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে, শ্বাসকষ্ট হয়, তীব্র মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, বারবার বমি হয় কিংবা রোগী বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জ্বরের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

পরিশেষে বলা যায়, জ্বর মানেই গোসল বন্ধ নয়। নিয়ম মেনে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে আপনার শরীর পরিষ্কার থাকবে এবং আপনি মানসিকভাবেও স্বস্তি বোধ করবেন, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি