খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বাঁধা দিয়ে আমি কেন চাকরি হারাবো!

সোহানুর রহমান
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
বাঁধা দিয়ে আমি কেন চাকরি হারাবো!

২০২১ সালের কোন একদিন ঢাকা-গোপালগঞ্জ হাইওয়েতে ডিউটি করছিলাম। স্পীডগান ধরে দেখি একটি হ্যারিয়ার প্রাইভেট কার ১২০-১২৫ কিমি গতিতে আসছে। সিগনাল দিয়ে দাড় করাতেই ড্রাইভারের ডানপাশে বসা এক ভদ্রলোক আমার সাথে ডিউটি করা কনস্টেবল ভাইকে ধমক দিয়ে বললো আপনার ইনচার্জ কে এদিকে আসতে বলেন। আমি এগিয়ে গেলেই উনি আমাদের পুলিশের এক সিনিয়র স্যারের নাম নিয়ে বললেন সে তার আত্মীয় এবং তিনি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

আমি বোঝাতে চেষ্টা করলাম যে এই রোডে বিআরটিএ নির্ধারিত গতি ৬০ কিমি. কিন্তু আমাদের সিনিয়র স্যারেরা ৮০ কিমি গতি ক্রস করল ওভারস্পীডের সেকশনে প্রসিকিউশন দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। উনি আমাকে ইচ্ছেমত তিরস্কার করলেন এবং উনার আত্মীয়কে ফোন দিয়ে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলে আমাকে ফোন ধরিয়ে দিলেন।

সিনিয়র স্যারও আমাকে তিব্রভাষায় তিরস্কার করলেন এবং এসপিকে বলে আমাকে সাইজ করার হুমকি দিলেন!! আমি ভদ্রলোক কে জিজ্ঞেস করলাম,” আচ্ছা স্যার, আপনি চলে যান সমস্যা নাই, কিন্তু শুধু বলে যান আপনার গাড়ি ওভারস্পীডে ছিল কি না; উনি কুকুরের মত মুখ করে (আল্লাহ ক্ষমা কর) বললেন, No Never. তখন উনার ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে দেখি ড্রাইভার মুসকি মুসকি হাসছেন!!

৩০ মিনিট পরেই এসপি অফিস থেকে কল এলো ৩০ মধ্যে মিনিটের এসপি স্যারের সামনে হাজির হতে হবে। যথারিতি এসপি স্যারের অফিসে উপস্থিত হলাম। এসপি স্যার প্রায় ১ ঘন্টা ধরে এটা-সেটা জিজ্ঞেস করলেন; মৃদু ভাষায় অনেক তিরস্কার করলেন!! Last Warning দিলেন! এমন কিছু দ্বিতীয়বার শুনলে চাকরির ১২ টা বাজানোর হুমকি দিলেন!!

সেদিন এতটাই খারাপ লেগেছিল যে ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে ৩/৪ বার থামছি আর ভাবছি আমার কি দোষ ছিল!! এত এত তিরস্কার এত অপমান এত হুমকি!!
সেদিনের পর চাকরির Rule of thumb শিখে গেলাম!! যতদিন ডিউটি করেছি (ঘ) সিরিয়ালের কোন গাড়িকে সিগনাল দেই নাই। কাউকে বড়লোক লাগলেই তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতাম!!

টাঙ্গাইলে যে রডবাহী ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জন মারা গেল। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর একাধিক ধারা অনুযায়ী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ, মালামালের উপর যাত্রী পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু কে তাদেরকে থামাতে যাবে? ঐ ট্রাক কে যদি হাইওয়ে পুলিশ দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিত তাহলে কি ঐ পুলিশের চাকরি রাখতো সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ?? কত টা অমানবিক দেখাতো!!

যে পুলিশ ঐ ট্রাক থেকে যাত্রী নামাতো; তারা এখন লাইনে সংযুক্ত হইতো, এমনকি মিডিয়ার বেশি চাপাচাপি থাকলে সাসপেন্ড হইতো!!

লেখক: পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাট বসিয়ে লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজার এলাকায় এ পশুর হাট বসানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান চাকলাদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খাজনার চাপে পড়ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ওই বাজারে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উনারা জেলা প্রশাসকের আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে শেখ সামাদ (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সলিমুদ্দিন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সামাদ ওই গ্রামের মৃত শেখ ইয়াজউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে শেখ সামাদ গরুর জন্য নিজ জমিতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তার স্ত্রী ছাহেরা বেগমের চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে উপ-পরিদর্শক (নি:) মো. মিনারুল কাজী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।