খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ট্রাম্পকাণ্ডে টালমাটাল বৈশ্বিক রাজনীতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্পকাণ্ডে টালমাটাল বৈশ্বিক রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং এমন বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। অভিষেকের প্রথম দিনেই দেওয়া ঘোষণা—‘কোনো কিছুই আমাদের পথে (বাধা হয়ে) দাঁড়াতে পারবে না’—এখন আর সেই বক্তব্য নিছক রাজনৈতিক বলে মনে হচ্ছে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা যেন বাস্তব নীতির রূপ নিচ্ছে।

ট্রাম্প তার অভিষেক ভাষণে উনিশ শতকের ‘ম্যানিফেস্ট ডেসটিনি’ মতবাদের উল্লেখ করেন, যে ধারণা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে ঈশ্বরপ্রদত্ত দায়িত্ব হিসেবে নিজেদের প্রভাব ও ভূখণ্ড বিস্তার করতে হবে। প্রথমে পানামা খাল ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ কথা, আর এখন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সরাসরি মালিকানার দাবি—এ ধারাবাহিকতা বিশ্বনেতাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের অংশ এবং সেখানে বসবাসকারী জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সামরিক বা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি সাম্প্রতিক মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন। গত এক শতাব্দীতে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এত প্রকাশ্যে মিত্রদেশের ভূখণ্ড দখলের কথা বলেননি। এই অবস্থান শুধু আন্তর্জাতিক আইন নয়, বরং ন্যাটোর মতো বহুপক্ষীয় জোটের ভিত্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পকে এখন অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ‘আমূল পরিবর্তনকারী’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখছেন। তার সমর্থকরা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে সাহসী ও বাস্তববাদী বলে প্রশংসা করছেন। কিন্তু ইউরোপের রাজধানীগুলোয় বিশেষ করে প্যারিস, বার্লিন ও কোপেনহেগেনে উদ্বেগ স্পষ্ট। অন্যদিকে মস্কো ও বেইজিং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে— এই ভাঙন তাদের কৌশলগত সুযোগ বাড়াতে পারে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দাভোস অর্থনৈতিক ফোরামে সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক দিকে যাচ্ছে যেখানে নিয়ম নয়, বরং শক্তির শাসন কার্যকর হবে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট—ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র সেই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ঘিরে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কাও বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতির কথা বলছে। এমনকি চরম পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যদি বলপ্রয়োগের পথে যায়, তাহলে ৭৬ বছরের পুরোনো ন্যাটো জোট টিকে থাকবে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে।

ট্রাম্পের সমর্থকরা অবশ্য জাতিসংঘ ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে এসব পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিচ্ছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করে বলেন, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, তাই তার নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই।

ট্রাম্পের কূটনৈতিক কৌশল বরাবরই অপ্রত্যাশিত। কখনো তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলেন, আবার পরক্ষণেই কঠোর হুমকি দেন। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একসময় ইউরোপের সঙ্গে ঐক্য দেখালেও পরে তার অবস্থান বদলেছে। কখনো রাশিয়ার প্রতি নরম, কখনো ইউক্রেনপন্থি—এই দোলাচল মিত্রদের বিভ্রান্ত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্পের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট গতানুগতিক রাজনীতিবিদের মতো নন এবং তিনি যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেন। রুবিও জোর দিয়ে বলছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কেনার পথ খুঁজছেন। তবে ট্রাম্প নিজেই যখন বলেন, ‘আমার এটার মালিকানা চাই’ তখন সেই আশ্বাস অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের কৌশলকে শক্তি ও লেনদেননির্ভর বলে আখ্যা দিচ্ছেন। দ্য ইকোনমিস্টের সম্পাদক জ্যানি মিনটন বেডোসের ভাষায়, ট্রাম্প জোট বা মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন না; তিনি কেবল শক্তির ভাষা বোঝেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প কিছু কূটনৈতিক সাফল্য দেখিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি তার উদাহরণ। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তার নীতিতে কখনো হস্তক্ষেপবিরোধী বক্তব্য, আবার কখনো আগ্রাসী আচরণ—এই দ্বৈততা বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে।

ইউরোপের দেশগুলো ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। ফ্রান্স কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, যুক্তরাজ্য সম্পর্ক বজায় রেখে ক্ষতি কমাতে চাইছে, ইতালি সমঝোতার ভাষা ব্যবহার করছে। অন্যদিকে কানাডা বিকল্প পথ খুঁজছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির চীন সফর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর চিন্তা জোরালো হচ্ছে।

দাভোসে কার্নি বলেন, বিশ্ব এখন কোনো রূপান্তরের মধ্য দিয়ে নয়, বরং একটি ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ বক্তব্যই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে যথাযথ সারাংশ।

ট্রাম্প নিজে যখন বলেন, তাকে থামাতে পারে কেবল তার নিজের মন ও নৈতিকতা, তখন বিশ্ববাসীর উদ্বেগ আরও বাড়ে। কারণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যেখানে নিয়ম, প্রতিষ্ঠান ও পারস্পরিক আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানে একজন ব্যক্তির ইচ্ছাই যদি প্রধান নিয়ামক হয়ে ওঠে, তবে সেই ব্যবস্থা যে কতটা টেকসই থাকবে—তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় দেন।

এর আগে বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

মামলাটিতে বাদীপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর আসামিরা সাফাই সাক্ষ্য দেন।

মামলাটিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনও শেষ হয়।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়।

তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাদের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এ মামলায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা জজ আদালতে নাসির ও তামিমা অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষ।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ মামলাটির বিচার চলবে বলে আদেশ দেন। এরপর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সকল বন্দির মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল লিচু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লিচু বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন। তারা বন্দিদের খোঁজখবর নেন এবং কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও বন্দিদের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা, বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মৌসুমী ফল বিতরণও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

লিচু বিতরণ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণ ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।