খুঁজুন
, ,

এআই-নির্ভর অপতথ্য কীভাবে নির্বাচনকে বিপর্যস্ত করতে পারে?

সিরাজুল ইসলাম
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ
এআই-নির্ভর অপতথ্য কীভাবে নির্বাচনকে বিপর্যস্ত করতে পারে?

নির্বাচন শুধু ব্যালটের লড়াই নয়, এটি বিশ্বাসের পরীক্ষা। ভোটার যখন ভোটকেন্দ্রে যান, তখন তিনি ধরে নেন- যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা সত্য। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই বিশ্বাসটাই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে। নির্বাচনী নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকে নীরবে কাঁপিয়ে দিচ্ছে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও, অডিও ও ছবি- যাকে আমরা ডিপফেক বলি।

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে যে অভিজ্ঞতা সামনে এসেছে, তা এক কথায় উদ্বেগজনক। অপতথ্য নতুন কিছু নয়, কিন্তু এআই অপতথ্যকে দিয়েছে ভয়ংকর গতি, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বিস্তার। আগে একটি গুজব ছড়াতে সময় লাগত; এখন কয়েক মিনিটেই তা লাখো মানুষের স্ক্রিনে পৌঁছে যায়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে ভোটার আচরণ, প্রার্থীর ভাবমূর্তি এবং পুরো নির্বাচনী পরিবেশের ওপর।

ডিপফেক মূলত ডিপ লার্নিংভিত্তিক এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট, যা দেখতে ও শুনতে একদম আসল সত্যের মতো। যেমন- কোনো ব্যক্তি এমন কথা বলছেন বা এমন কাজ করছেন- ভিডিওতে তা স্পষ্ট দেখা যায়- কিন্তু বাস্তবে তিনি কখনোই তা করেননি। এখানেই বিপদ। মানুষ চোখে দেখা জিনিসকে সহজে বিশ্বাস করে। লেখা বা পোস্টের তুলনায় ভিডিওর বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি।

ডিপফেকের পাশাপাশি আছে চিপফেক- এআই নয়, বরং সস্তা সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি বিকৃত কনটেন্ট। সত্য ভিডিও বা ছবি কেটে-ছেঁটে, প্রসঙ্গ বদলে, ভুল ক্যাপশন জুড়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। ফলাফল প্রায় একই- ভোটার বিভ্রান্ত হয়, সত্য আড়ালে চলে যায়।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ আসনের একটি ঘটনা বাংলাদেশের ডিপফেক বাস্তবতার ভয়াবহ দিকটি সামনে আনে। ভোটের দিন সকালে এক প্রার্থীর ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলতে দেখা যায়। অনেক ভোটার বিভ্রান্ত হন। নির্বাচন এমনিতেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল; তার ওপর এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপতথ্য পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।

এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রতিবেদন বলছে, আমেরিকা থেকে শুরু করে ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা- সবখানেই নির্বাচনে ডিপফেক ব্যবহারের নজির আছে। কোথাও ভোটারদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, কোথাও প্রার্থীর চরিত্র হনন করা হয়েছে, কোথাও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম এখন ভিডিও। গ্রাফিকস, ছবি বা লিখিত পোস্টের তুলনায় ভিডিও অনেক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ ভিডিও আবেগে আঘাত করে, দ্রুত বিশ্বাস তৈরি করে এবং শেয়ার হয় বেশি। বাংলাদেশে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ভিডিওভিত্তিক ভুল তথ্যের হার চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই মিথ্যা ভিডিও বা বক্তব্য একযোগে বহু পেইজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হচ্ছে। এটিই সংঘবদ্ধ অপপ্রচার। এখানে ব্যক্তি নয়, কাজ করছে নেটওয়ার্ক- যাকে অনেকে বলেন বটবাহিনী।

এআই অপতথ্য এতটা কার্যকর হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ডিজিটাল লিটারেসির দুর্বলতা। বাংলাদেশের বড় অংশের মানুষ এখনো জানেন না কীভাবে অনলাইনের তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে আসল-নকল আলাদা করতে হয়। ফলে ডিপফেক বা চিপফেক সহজেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।

সমস্যা আরও গভীর, যখন দেখা যায় রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি এমনকি কিছু গণমাধ্যমও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো যাচাইহীন তথ্যকে সত্য ধরে বক্তব্য দিচ্ছেন বা প্রকাশ করছেন। এতে অপতথ্যের বৈধতা যেন আরো বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ তখন ধরে নেন- নেতা বা মিডিয়া বললে নিশ্চয়ই সত্য।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপতথ্য ছড়ানোর পেছনে মূলত দুই ধরনের গোষ্ঠী কাজ করে। একদল রাজনৈতিক বা আদর্শিকভাবে উৎসাহিত। তাদের লক্ষ্য ক্ষমতা, প্রভাব বা প্রতিশোধ। অন্য দলটি অর্থের বিনিময়ে কাজ করে- এটি তাদের কাছে একটি ব্যবসা। এ ছাড়া রয়েছে ভুয়া পরিচয়ের অসংখ্য পেইজ ও অ্যাকাউন্ট, যেগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে। একটি মিথ্যা তথ্য আগে ছড়ানো হয়, তারপর সেটিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে একই কনটেন্ট বারবার পোস্ট করা হয়। অ্যালগরিদম তখন সেটিকে ‘ট্রেন্ডিং’ মনে করে আরো ছড়িয়ে দেয়। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশে বসেও বাংলাদেশের নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে দেশের ভেতরের পরিস্থিতি আরো অস্থির হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডিপফেক এবং এআই অপতথ্যকে শুধু নির্বাচনী সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। কারণ এর মাধ্যমে—

• ভোটারদের ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখা যায়

• সহিংসতা উসকে দেয়া যায়

• রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা নষ্ট করা যায়

• নির্বাচন পরবর্তী অস্থিরতা তৈরি করা যায়

বিশ্বের কিছু দেশে ডিপফেক ও সাইবার আক্রমণের কারণে নির্বাচন পেছানোর নজিরও আছে। অর্থাৎ এটি শুধু তথ্যযুদ্ধ নয়, এটি গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে একটি নীরব যুদ্ধ।

বাংলাদেশে অপতথ্য মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে সাইবার নজরদারি, ফ্যাক্টচেকিং, বিশেষ সেল গঠন ইত্যাদি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়িয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই উদ্যোগগুলো কি বাস্তব ঝুঁকির তুলনায় যথেষ্ট? ডিপফেক প্রযুক্তি যেভাবে দ্রুত উন্নত হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কি আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে? অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, নজরদারি থাকলেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। অপতথ্য ছড়ানোর পর ব্যবস্থা নেয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতি হয়ে যায়।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে কয়েকটি বিষয় নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে-

• ডিজিটাল লিটারেসি বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ- সবাইকে শেখাতে হবে কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে সন্দেহ করতে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দ্রুত কর্মসূচি নেয়া জরুরি।

• রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য অপতথ্যকে হাতিয়ার করলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হবে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার।

• গণমাধ্যমকে আরো সতর্ক হতে হবে। সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট যাচাই ছাড়া প্রকাশ করলে মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

• আইনি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদার করতে হবে। ডিপফেক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

এআই নিজে কোনো শত্রু নয়। এটি একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি। কিন্তু নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে এআই যদি অপতথ্যের অস্ত্রে পরিণত হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। আজ যদি আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিই, কাল এর ফল হবে ভয়াবহ। নির্বাচন মানে শুধু ক্ষমতা বদল নয়, এটি নাগরিকের বিশ্বাসের প্রতিফলন। সেই বিশ্বাস ভাঙলে রাষ্ট্রই দুর্বল হয়। তাই ডিপফেক এবং এআই অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই এখন আর কোনো বিকল্প ইস্যু নয়- এটি গণতন্ত্র রক্ষার মূল লড়াই।

সিরাজুল ইসলাম : লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন চেনার ৫ উপায়, এক নজরে দেখে নিন

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন চেনার ৫ উপায়, এক নজরে দেখে নিন

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে প্রতারণার কৌশলও। বিশেষ করে অনলাইন জব পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মেসেজিং অ্যাপকে ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতারকচক্র। আকর্ষণীয় বেতন, ঘরে বসে কাজ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই মোটা অঙ্কের আয় কিংবা দ্রুত নিয়োগের মতো প্রলোভন দেখিয়ে তারা চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী ব্যবসাবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বস এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন শনাক্ত করার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় তুলে ধরেছে। চাকরির আবেদন করার আগে এসব বিষয় জানা থাকলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

১. অবিশ্বাস্য বেতন, কিন্তু কাজের বর্ণনা অস্পষ্ট

যে কোনো বৈধ চাকরির বিজ্ঞাপনে দায়িত্ব, যোগ্যতা, কাজের ধরন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু ভুয়া বিজ্ঞাপনে সাধারণত অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে অল্প কাজ, কম অভিজ্ঞতা এবং অস্বাভাবিক বেশি বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, কোনো চাকরির অফার যদি বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়, তাহলে সেটি যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। ‘ঘরে বসে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয়’ বা ‘অভিজ্ঞতা ছাড়াই উচ্চ বেতন’ ধরনের দাবি সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

২. প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা ঠিকানায় অসংগতি

বর্তমানে অনেক প্রতারক আসল প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দেখতে প্রায় একই রকম ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে। অনেক সময় শুধু একটি অক্ষর বা বানানের সামান্য পরিবর্তন থাকে, যা সহজে চোখে পড়ে না।

তাই আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ডোমেইন, লিংকডইন পেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতি যাচাই করা উচিত। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি একে অপরের সঙ্গে মিলছে কি না, সেটিও দেখা জরুরি।

৩. অস্বাভাবিক যোগাযোগ পদ্ধতি

কোনো সাক্ষাৎকার ছাড়াই শুধু হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা ব্যক্তিগত ইমেইলের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব এলে সতর্ক হতে হবে।

বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান সাধারণত অফিসিয়াল ইমেইল ব্যবহার করে এবং ফোন, ভিডিও কল বা সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থী যাচাই করে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনে অতিরিক্ত বানান ভুল, দুর্বল ভাষা বা অপেশাদার উপস্থাপনাও ভুয়া হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

৪. আবেদন ছাড়াই চাকরির অফার

হঠাৎ কোনো দিন একটি মেসেজ বা ইমেইল এলো, যেখানে বলা হলো আপনি একটি চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ আপনি সেই প্রতিষ্ঠানে কখনো আবেদনই করেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে আগে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যাচাই করা উচিত। বর্তমানে অনেক প্রতারক পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম, এমনকি প্রকৃত রিক্রুটারের পরিচয়ও ব্যবহার করছে বিশ্বাস অর্জনের জন্য। তাই আবেদন না করেও চাকরির অফার পেলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।

৫. চাকরি দেওয়ার আগে অর্থ বা ব্যাংক তথ্য চাওয়া

এটি সবচেয়ে বড় সতর্কসংকেতগুলোর একটি। প্রতারকরা কখনো প্রশিক্ষণ ফি, কখনো সফটওয়্যার, কখনো ল্যাপটপ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম কিট’ কেনার কথা বলে অর্থ দাবি করে। আবার কেউ কেউ নিয়োগের শুরুতেই ব্যাংক হিসাব, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য চায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ কোনো প্রতিষ্ঠান চাকরি দেওয়ার আগে আবেদনকারীর কাছ থেকে অর্থ নেয় না। একইভাবে নিয়োগের প্রাথমিক ধাপে ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। এমন দাবি এলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হওয়া উচিত।

প্রতারণা এড়াতে যা করবেন

প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনটি মিলিয়ে দেখুন।

প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ‘scam’, ‘review’ বা ‘complaint’ লিখে অনলাইনে খুঁজে দেখুন।

কোনো অর্থ বা ফি দেওয়ার আগে একাধিকবার যাচাই করুন।

অফিসিয়াল ইমেইল ছাড়া অন্য মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করবেন না।

তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। সন্দেহ হলে অফারটি প্রত্যাখ্যান করুন।

শেষ কথা

চাকরি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে প্রতারকরাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। তাই আকর্ষণীয় বেতন বা দ্রুত নিয়োগের প্রতিশ্রুতির চেয়ে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, সত্যিকারের নিয়োগদাতা আপনাকে চাকরি দেওয়ার জন্য অর্থ চাইবে না; বরং আপনার যোগ্যতা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেবে। সচেতন থাকলে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপনের ফাঁদ এড়িয়ে নিরাপদে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ফোর্বস

সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে ৫ অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে ৫ অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা দিনের শুরুটা যেভাবে করি, তার ওপর নির্ভর করে আমাদের সারাদিনের শক্তি, কর্মদক্ষতা এবং মানসিক প্রশান্তি। একটি সুন্দর সকালের রুটিন হলো নিজের যত্নে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি।

তবে অনেক সময় অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমরা এমন কিছু অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি, যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ততার মাঝে আমরা অধিকাংশ সময়ই সঠিক রুটিন ভুলে ভুল কিছু অভ্যাসের ওপর নির্ভর করতে শুরু করি।

মার্কিন গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সকালে এমন কিছু কাজ আমরা করি যা আমাদের সারাদিনকে আনন্দহীন এবং ক্লান্তিকর করে তুলতে পারে। জীবনযাপনে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন এনে কীভাবে আমরা আরও সুস্থ ও প্রাণবন্ত সকাল পেতে পারি, তা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই ফিচার। চলুন তাহলে জেনে নিই সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে ৫টি অভ্যাস আপনার এড়িয়ে চলা উচিত:

১. স্নুজ বাটন বারবার চাপা

সকালে অ্যালার্ম বাজার পর ‘আর মাত্র ৫ মিনিট’ ভেবে স্নুজ বাটন টেপার অভ্যাস অনেকেরই আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নুজ করার পর যে বাড়তি কয়েক মিনিট আমরা ঘুমাই, তা আসলে শরীরের জন্য মোটেও আরামদায়ক বা পুনরুদ্ধারকারী নয়। বরং এটি সকালের গভীর ঘুমের পর্যায়কে ব্যাহত করে, যা মানসিক অবসাদ এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপাকীয় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ নিকেত সোনপাল পরামর্শ দেন, অ্যালার্মের সময় অন্তত ১৫ মিনিট পিছিয়ে দিয়ে সেটি বাজার সাথে সাথেই বিছানা ছাড়ার অভ্যাস করতে।

২. দিন শুরু করা ফোনের স্ক্রিন দেখে

ঘুম থেকে চোখ মেলতেই হাতে ফোন নেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেইল চেক করা অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি অভ্যাস। চিকিৎসক নাওমি প্যারেলা জানান, দিনের শুরুতেই বাইরের জগতের খবর বা ইমেইল চেক করার অর্থ হলো আপনার নিজের চিন্তা ও অনুভূতির নিয়ন্ত্রণ অন্য কারো হাতে তুলে দেওয়া। এর ফলে দিনের শুরুতেই আপনি অহেতুক দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের শিকার হতে পারেন। ফোনের বদলে সকালের শুরুটা করুন দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে, হালকা স্ট্রেচিং করে অথবা এক গ্লাস পানি খেয়ে।

৩. সকালের নাস্তায় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার

সকালের নাস্তায় মিষ্টি জাতীয় খাবার, চিনিযুক্ত কফি বা সিরিয়াল খাওয়ার ফলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এটি আপনাকে সাময়িকভাবে শক্তি দিলেও দ্রুতই রক্তের শর্করা কমিয়ে দেয়, যার ফলে আপনি মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা দ্রুত ক্ষুধার্ত বোধ করার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। বিশেষজ্ঞরা সকালে চিনি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যদি চিনিযুক্ত কিছু খেয়েও ফেলেন, তবে তার পরপরই কিছুটা শারীরিক কসরত বা হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন।

৪. সঠিক পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার না করা ও সানস্ক্রিন এড়িয়ে যাওয়া

অনেকেই মনে করেন রাতে মুখ ধুয়ে ঘুমানোর পর সকালে আর মুখ পরিষ্কারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু রাতে বালিশের ময়লা বা ধুলোবালি ত্বকে লেগে থাকতে পারে। তাই সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ঘরের বাইরে বের হন বা না হন, ত্বকের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সানস্ক্রিন (SPF) ব্যবহার করা উচিত। ঘাড় এবং বুকের ত্বকেও এটি লাগানো প্রয়োজন।

৫. মানসিক সুস্বাস্থ্যের দিকে নজর না দেওয়া

সকালের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যাই। দিনের শুরুটা যদি ভালো না হয়, তবে সারাদিন একটি বিষণ্ণ ভাব মনের মধ্যে থেকে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সকালে জানালার পর্দা সরিয়ে ঘরে প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিন এবং অন্তত কয়েক মিনিট মেডিটেশন বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অভ্যাস করুন। সামান্য এই সময়টুকু আপনাকে সারাদিনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ও প্রাণবন্ত রাখবে।

সকালের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমেই আপনি নিজের জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল এবং কর্মক্ষম করে তুলতে পারেন।

তথ্যসূত্র: হাফিংটন পোস্ট

সদরপুরে দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
সদরপুরে দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার গাবতলা ও সতের রশি এলাকার পৃথক দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

রবিবার (০২ আগস্ট) নির্মাণাধীন সড়ক দুটি পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ও এলাকাবাসীর ‌সঙ্গে কথা বলেন।

এসময় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দ্রুত এবং টেকসই ভাবে শুধু এই দুটি নয় সকল রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর আগামীতে এরচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হবে । এই এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের জনভোগান্তি দূর করতে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হবে।

এছাড়া,জনগণের দুর্ভোগ লাঘব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এমনটি প্রত্যাশা করেন তিনি।

পরিদর্শন কালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সদরপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।