খুঁজুন
, ,

আমলাতন্ত্র কি বিফলতার ঢাল, না-কি রাষ্ট্রের অপরিহার্য রক্ষাকবচ?

শামীম আল মামুন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ
আমলাতন্ত্র কি বিফলতার ঢাল, না-কি রাষ্ট্রের অপরিহার্য রক্ষাকবচ?

বাংলাদেশে পণ্ডিতের অভাব নেই। তবে সংখ‍্যার দিক দিয়ে সব চেয়ে বেশি বিশেষজ্ঞ পণ্ডিত দেখা যায় প্রশাসন বিষয়ে। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, রাজনীতিক থেকে শুরু করে ফুটপাথে বসে অলস আড্ডা দেয়া অক্ষম ব্যক্তিটিও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে, নিদেন পক্ষে তাঁর অক্ষমতার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেন।

আমি কোনো পণ্ডিত নই বা কখনো তা হবার চেষ্টাও করিনি। নিজের অজ্ঞতা নিয়ে আমি সবসময় সংকুচিত থাকি। তথাপি আমার শিক্ষকগণ, দেশী-বিদেশী বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীদের এক বিরাট অংশ মনে করেন আমি জনপ্রশাসন বিষয়টা খুব ভালো বুঝি। জনপ্রশাসন বুঝার জন‍্য লোকপ্রশাসন পাঠই যথেষ্ট নয়। প্রশাসন বুঝার জন্য দেশীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, লোকাচার, সামাজিক মনোবিজ্ঞান, সমাজের ক্ষমতা-কাঠামো সমন্ধে স্বচ্ছ জ্ঞান থাকার সাথে সাথে গভীর অন্তর্দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন।

স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, আমি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা বুঝি। দায়িত্ব নিয়েই বলছি যে, এর উত্থান-পতনের উপলক্ষ‍্য এবং উপাদান ব‍্যাখ‍্যা করতে পারি। বন্ধুমহলের আড্ডায় অনেকবার প্রশাসন ও রাজনীতি নিয়ে যা বলেছি তা পরবর্তীতে সত্য হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।

পৃথিবীর সকল দেশেই আমলারা কখনো রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের কোনো কথার প্রতিবাদ করে না বা করতে পারে না। তারা হলো ফুটবলের মত। ২২ জন খেলোয়াড় একটি সীমাবদ্ধ মাঠে লাথি দিতে থাকে এবং বল বিনা প্রতিবাদে সেই লাথি সহ্য করে। বলের মত আমলাদেরও সকল দোষ অপবাদ মাথায় নিয়ে নীরবে কাজ বা অকাজ করে যেতে হয়।

গত কয়েক দিন যাবৎ সরকারের উপদেষ্টাগণ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা, পরিযায়ী পণ্ডিতগণসহ অনেকেই সকল ব‍্যর্থতার দায় আমলাদের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার থেকে মুক্তির চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হতো না, যদি না কিছুদিন আগে একজন উপদেষ্টা মাইলস্টোন স্কুলের পরিবর্তে সচিবালয়ে মধ্যে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার বাসনা প্রকাশ না করতেন। তাঁর হতাশা এবং আমলাতন্ত্রের প্রতি শত্রুভাবাপণ‍্যতা কত প্রবল তা পত্রিকায় প্রকাশিত বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। তাঁর ব‍্যক্তিগত অনুভূতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি আমলাতন্ত্রকে জনগণের শত্রু হিসাবে উপস্থাপনের প্রয়াস নিয়েছেন – যা মেনে নিতে না পেরে আমি এই লেখা লিখছি।

আমলাতন্ত্রের সমালোচনা নতুন কিছু নয়, কিন্তু যখন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে একে ধ্বংস করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তখন বুঝতে হবে আমরা গভীর সংকটে আছি।

আসলে আমলাতন্ত্র কী এবং কেন এটি এমন—তা বুঝতে হলে এর ঐতিহাসিক ও সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট বোঝা জরুরি।

১. ম্যাক্স ওয়েবার এবং যৌক্তিক কাঠামো:

আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয় ম্যাক্স ওয়েবারকে (Max Weber)। তিনি বলেছিলেন, আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আমলাতন্ত্র হলো ‘সবচেয়ে যৌক্তিক এবং কার্যকর উপায়’। তার মতে, আমলারা আবেগ বা রাজনৈতিক হুজুগে নয়, বরং নির্দিষ্ট নিয়মের (Rule of Law) অধীনে কাজ করে। এই যে আমরা ‘ধীরগতি’র কথা বলি, ওয়েবারের দৃষ্টিতে এটি আসলে একটি ‘নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত’ পদ্ধতি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া।

২. কার্ল মার্ক্স ও আমলাতন্ত্রের দ্বান্দ্বিক অবস্থান:

কার্ল মার্ক্স (Karl Marx) আমলাতন্ত্রকে শাসক শ্রেণির হাতিয়ার হিসেবে দেখলেও তিনি একে রাষ্ট্রের একটি ‘অপরিহার্য অঙ্গ’ হিসেবে স্বীকার করেছেন। মার্ক্সীয় বিশ্লেষণে আমলাতন্ত্র হলো রাষ্ট্রের সংহতি রক্ষার একটি মাধ্যম। যখন কোনো সংকট তৈরি হয়, তখন রাজনীতিবিদরা দায় এড়াতে আমলাতন্ত্রকে ‘বলির পাঁঠা’ বানান, যা বর্তমানে আমরা বাংলাদেশেও দেখতে পাচ্ছি। অথচ এই কাঠামোটিই রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

৩. ঐতিহাসিক সত্য: কেন আমলাতন্ত্র ধীর?

পৃথিবীর কোনো সফল রাষ্ট্রই হুটহাট সিদ্ধান্তে চলেনি। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আধুনিক ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যন্ত সর্বত্র আমলাতন্ত্র একটি ‘ফিল্টার’ হিসেবে কাজ করে। উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson) তার ‘The Study of Administration’-এ স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনীতি এবং প্রশাসন দুটি ভিন্ন মেরু। রাজনীতি স্বপ্ন দেখায়, আর প্রশাসন সেই স্বপ্নকে বাস্তবতার কঠিন আইন ও বাজেটের নিক্তিতে বিচার করে। এই বিচার করতে গিয়ে যে সময় ব্যয় হয়, তাকে ‘অদক্ষতা’ বলা ভুল।

যারা খোঁজ খবর রাখেন তাঁরা জানেন পৃথিবীর সকল দেশের আমলাতন্ত্রই ধীরগতিতে চলে। যে রাষ্ট্র যত উন্নত সে রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্র তত শক্তিশালী। আমাদের ধারণাগত সীমাবদ্ধতা এবং তথ‍্যের অপ্রতুলতার কারণে সফল রাষ্ট্রগুলোর আমলাতন্ত্র সম্পর্কে না জেনে আমরা অনেক মন্তব্য এবং আমাদের আমলাতন্ত্র তুলনা করে থাকি। উন্নত রাষ্ট্রসমূহের সেবাখাত বেসরকারি ব‍্যবস্থাপনায় ছেড়ে দিয়ে তারা প্রতিযোগিতামূলক অবকাঠামো তৈরি করে দেয়াতে ঐসব দেশে সেবা প্রদানের মান ও দক্ষতা বাণিজ‍্যিক কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের সেবাখাত পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এখানে অদক্ষতা ও দুর্নীতি বেশী এবং সেবার মান হতাশাজনক। সেবাখাতের প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ – আমলাতন্ত্র নয়। আমেরিকা, ইউকে, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, জাপান, রাশিয়া সিংগাপুর, ইন্ডিয়াসহ পৃথিবীর যে কোনো স্থিতিশীল দেশের আমলাতন্ত্র আমাদের দেশের আমলাতন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাধর এবং মজবুত। পিরামিড থেকে তাজমহল পৃথিবীর সকল অত‍্যাশ্চর্য স্থাপনা নির্মাণের পিছনে আছে সুসংগঠিত এবং সুদক্ষ এক আমলাতন্ত্র।

আমরা অনেকেই আইনের শাসন (rule of law) নিয়ে কথা বলি। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক তা আমরা চাই। কিন্তু আমরা একবারও ভাবি না যে আইনের শাসন মানেই দল নিরপেক্ষ এক আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে আইনের চোখে সবাই সমান। আমলাগণ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সকলকে এক দৃষ্টিতে দেখবেন। তখন আমলাগণ এখনকার চেয়ে শক্তিশালী হবেন।

এবার অন্য প্রসঙ্গে কথা বলি। আমলাদের যতটা ক্ষমতাবান হিসেবে বিবেচনা করা হয় আসলে তাঁরা তা নন। গত তিন দশক যাবৎ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্বাহী প্রধান হচ্ছেন মন্ত্রী/উপদেষ্টা। তাই সকল মন্ত্রণালয়ের ভালো মন্দ যাই হোক না কেন তাতে দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী/উপদেষ্টার বিশাল ভূমিকা বা দায় আছে।

বাংলাদেশের বর্তমান আমলাতন্ত্র অত্যন্ত দুর্বল এবং disoriented। জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এটাকে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের স্বার্থে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলেছে। ফলে আইনের শাসন থেকে দেশ যোজন যোজন মাইল দূরে ছিটকে পড়েছে। গত ১৭/১৮ ধরে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে দেশের আমলাতন্ত্রই প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে। আর দূর্বল আমলাতন্ত্রের কারণে দেশে এমন কোনো অপরাধ নেই যা ঘটেনি। লক্ষকোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। বৈদেশিক ঋণ সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে অদক্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাতন্ত্র যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এরকম একটি দুর্বল ভঙ্গুর আমলাতন্ত্রকে যদি পরিচালনা করতে না পারে তাহলে জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত‍্যাশা পূরণ করবে কিভাবে!

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর আকাঙ্ক্ষা এই জনপদের দীর্ঘ দিনের। এমন কোনো পরীক্ষা নেই যা এদেশের মানুষ দেয়নি। সাধারণ মানুষের ত‍্যাগ বুদ্ধিজীবীদের চেয়ে অনেক বেশি। অন‍্যান‍্য প্রতিষ্ঠান সচল করার সাথে সাথে একটি শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ছাড়া সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব নয়। আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুফল পেতে সৎ-দক্ষ-দলনিরপেক্ষ আমলাতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের সাধারণ প্রবণতা হলো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন ঘটানো। কিন্তু এটা সবসময় ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনা। অনেক সময় আমলাগণ সেটা ধরিয়ে দিতে গেলেই রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ তা পছন্দ করেন না। বাস্তবে আমলাগণ ad hoc wisdom এর ভিত্তিতে চলতে পারেন না – তাকে আইন কানুন বিধিবিধান অনুসরণ করে যৌক্তিক পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একটা দেশও কখোনো ad hoc wisdom দ্বারা চলতে পারে না – চলা উচিত না।

শেষাংশ:

যারা আমলাতন্ত্রের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন, তারা আসলে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শনই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। একজন প্রাক্তন আমলা যখন সচিবালয়ে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার প্রত্যাশা করেন, তখন বুঝতে হবে তিনি নিজের পেশাগত অতীত এবং রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর প্রতি অশ্রদ্ধাশীল। আমলাতন্ত্র কোনো ত্রুটিমুক্ত ব্যবস্থা নয়, তবে এটি পরিবর্তনের পথ ‘ধ্বংস’ নয়, বরং ‘সংস্কার’। আমলাতন্ত্রকে তার কাজের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। যে কোনো বিচ‍্যুতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার হওয়া উচিৎ। মাথা ব্যাথার চিকিৎসা দরকার তবে তা মাথা কেটে নয়।

জনপ্রিয়তা পাওয়ার সস্তা আশায় রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে জনশত্রু হিসেবে দাঁড় করানোর এই অপচেষ্টা দেশের স্বার্থে সকল পক্ষ থেকে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

লেখক : প্রশাসনের অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা

অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের যে ৪ কারণ? এক পলকে দেখে নিন

একটা সময় পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাককে ভাবা হতো বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু এখন তরুণ বয়সেই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এই কারণে প্রাণ হারানোর সংখ্যাও কম নয়।

তাই শুধু বয়স্করা নয়, হার্টের অসুখের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে অল্প বয়সীদেরও। এই যে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক, এর পেছনে কারণ কী?

হার্ট অ্যাটাক যে কারণে হয়

কোনো কারণে আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরায় রক্ত ​​চলাচল ঠিকমতো না হলে রক্ত ​​জমাট বাঁধার সমস্যা সৃষ্টি হয়। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক হয়। আমাদের হৃৎপিণ্ডে যখন রক্ত ​​ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না, তখন শিরায় চাপ পড়ে। এর ফলে তখন হার্ট অ্যাটাক হয়।

জীবনযাপনে অনিয়ম

আমাদের বেশিরভাগ অসুখ-বিসুখের কারণ হলো জীবনযাপনের বিভিন্ন অনিয়ম। বর্তমানে বাইরের খাবার বেশি খাওয়া, রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকসহ নানা অনিয়মত করে থাকে তরুণেরা। জীবনযাপনের এসব বদ অভ্যাসের প্রভাব পড়ে শরীরে। বর্তমানে বিভিন্ন দিকে খেয়াল দিতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখার কথা ভুলে যান বেশিরভাগই। যে কারণে ধীরে ধীরে তৈরি হয় হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্র।

ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ

অনেকে না বুঝেই সিগারেট এবং অ্যালকোহলের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের আসক্তি একবার পেয়ে বসলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু সিগারেট এবং অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এ ধরনের অভ্যাস সরাসরি ধমনীতে প্রভাব ফেলে। হৃৎপিণ্ড দ্রুত পাম্প করার কারণে এটি পরিণত হয় আক্রমণে।

স্থূলতা

সঠিক খাদ্যাভ্যাস পারে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থতায় সাহায্য করতে। কিন্তু বর্তমানে ভুলভাল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন অনেকে। শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, ট্রিপল ভেসেল ডিজিজ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। যে কারণে বাড়ে বিপদ।

উত্তেজনা

আমাদের দেশে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায়ই অনেকে পাত্তা দিতে চান না, সেখানে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার কথা অনেকে চিন্তাও করতে চান না। এদিকে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে মারাত্মক সব রোগের কারণ। বর্তমানে তরুণেরা পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ইত্যাদি নানা দুশ্চিন্তায় থাকে। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
পেটের মেদ কমাতে যে ৪টি স্বাস্থ্যকর পানীয়?

আধুনিক জীবনযাত্রায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর কায়িক শ্রমের অভাবে পেটের মেদ বা ‘বেলি ফ্যাট’ জমানো এখন অনেকের জন্যই নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পেটের এই বাড়তি মেদ কেবল আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যই নষ্ট করে না; বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, পেটের মেদ মূলত দুই ধরনের হয়—চামড়ার নিচে থাকা ‘সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট’ এবং শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে জমে থাকা ‘ভিসারাল ফ্যাট’। এর মধ্যে ভিসারাল ফ্যাট অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সুস্থতার মাপকাঠি হিসেবে আমরা সাধারণত বিএমআই-এর ওপর নির্ভর করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোমর ও নিতম্বের অনুপাত জানা এখন অনেক বেশি জরুরি। যদি পুরুষদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ০.৯ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ০.৮৫-এর বেশি হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার পেটে ক্ষতিকর মেদ জমছে। এই জেদি মেদ ঝরানো বেশ কষ্টসাধ্য হলেও কিছু নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পানীয় বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে মেদ কমানোর এই সংগ্রামকে সহজ করতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন এনডিটিভি ফুড-এর কনসালট্যান্ট নিউট্রিশনিস্ট ড. রূপালী দত্ত।

ড. রূপালী দত্তের পরামর্শ অনুযায়ী পেটের মেদ কমাতে কার্যকরী ৪টি পানীয় নিচে দেওয়া হলো:

১. গ্রিন টি

সামগ্রিক ওজন কমাতে গ্রিন টি-র কার্যকারিতা এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ‘ক্যাটেচিন’ এবং বিশেষ করে ‘EGCG’ বিশ্রামের সময়ও শরীরের ফ্যাট অক্সিডেশনে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে তা সরাসরি পেটের ভেতরের ভিসারাল ফ্যাট কমাতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

২. দারুচিনি চা

দারুচিনি কেবল মসলা হিসেবেই নয়; বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতেও অনন্য। উল্লেখ্য যে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স পেটের মেদ জমার অন্যতম প্রধান কারণ। দারুচিনি শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমিয়ে আনে, যা চিনিযুক্ত খাবার ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি আসক্তি কমায়। এর বিপাক বৃদ্ধিকারী গুণাগুণ পেটের চর্বি পোড়াতে অত্যন্ত সহায়ক।

৩. ব্ল্যাক কফি

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পরিমিত (২-৩ কাপ) ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীরের সামগ্রিক মেদ, বিশেষ করে ভিসারাল ফ্যাট উল্লেখযোগ্য হারে কমে। কফিতে থাকা পলিফেনল এবং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড পেটের চর্বি কমাতে কাজ করে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করলেও এটি চিনি ছাড়া পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. মধু মিশ্রিত পানীয়

পেটের মেদ বা ভিসারাল ওবেসিটি কমাতে মধু একটি চমৎকার উপাদান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মধু শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি রোধ করতে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে। মধু একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ভিসারাল ফ্যাট কোষের কারণে তৈরি হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং বারবার খিদে পাওয়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে।

সতর্কতা

যদিও এই পানীয়গুলো ওজন কমাতে এবং বিপাক প্রক্রিয়া বাড়াতে সহায়ক, তবে মনে রাখতে হবে মেদ কমানোর কোনো ‘শর্টকাট’ বা জাদুকরী উপায় নেই। পেটের মেদ পুরোপুরি ঝরাতে এই পানীয়গুলোর পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা অপরিহার্য। যে কোনো ডায়েট শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

ফরিদপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় সুজন মণ্ডল (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার হোগলাকান্দি এলাকার পাকা রাস্তার ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

​নিহত সুজন মণ্ডল সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বিষ্ণুদিয়া গ্রামের মন্টু লাল মণ্ডলের ছেলে।

​থানায় দায়ের করা লিখিত আবেদন ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে সুজন মণ্ডল নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে কানাইপুর বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে হোগলাকান্দি এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।

​পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারা যান সুজন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

​ঘটনার পর নিহত যুবকের বাবা মন্টু লাল মণ্ডল পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থার আবেদন জানান।

​এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি লিখিতভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং নিহতের পরিবারের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।