খুঁজুন
, ,

‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে কী বিএনপি সরকার?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ
‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে কী বিএনপি সরকার?

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘মব কালচারের দিন শেষ’। কিন্তু দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের প্রশ্ন উঠছে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই আলোচনায় ছিল ‘মব ভায়োলেন্স’ বা ‘দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির নানা ঘটনা। এর বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

মব তৈরি করে কখনও নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি যেমন হয়েছে, তেমনি মারপিট করা হয়েছে ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের।

এমনকি দলবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

২০২৫ সালে মব ভায়োলেন্স ‘ ডমিনেন্ট অ্যান্ড ডেডলি ট্রেন্ড বা প্রকট এবং প্রাণঘাতী ট্রেন্ড ‘ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল বলে মনে করে অনেক মানবাধিকার সংগঠন।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশে ৪৬০ জনকে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিং এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাস এবং ‘মব ভায়োলেন্স’ দমনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততা অপরাধিদের উৎসাহ জুগিয়েছে।

দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুপ থেকেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

উল্টো তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার “মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই” এমন বক্তব্য নানা আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে নতুন সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশেষ করে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো বিএনপি সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে।

সরকারের জন্য পরিস্থিতি সামলানো “চ্যালেঞ্জিং হবে, তবে অসম্ভব নয়,” বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠক নূর খান লিটন। তিনি বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব।

তবে বিচারের নামে কেবল ভিন্ন মত দমন, নিজ দলের সমর্থকদের সব দোষ মাফ কিংবা দলবদ্ধভাবে ভিন্ন মতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পুরনো সংস্কৃতি চলতে থাকলে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করেন সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক।

কেন বেড়েছিল ‘মব ভায়োলেন্স’

বাংলাদেশে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা ‘দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার’ ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও ন্যায্য বা অন্যায্য দাবি আদায় কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হয়েছে এটি।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিংয়ে ২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মৃত্যু হয় ১২৮ জনের। আর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসেবে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দুইশো।

‘মব ভায়োলেন্স’ কেন এভাবে বৃদ্ধি পেল? এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের বিশেষ পরিস্থিতি এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততাকে দায়ি করেছেন বিশ্লেষকরা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক, গোষ্ঠীগত বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে স্বৈরাচারের দোসর কিংবা এ ধরনের ‘তকমা’ দিয়ে মব ভায়োলেন্স বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

‘তৌহিদী জনতা’ বা এ ধরনের ব্যানারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু মব সৃষ্টির ঘটনাও ঘটেছে। ব্যক্তির ওপর হামলার পাশাপাশি মাজার কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়েছে। অনেক সময় যেখানে কট্টরপন্থি ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতেও দেখা গেছে।

দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর “মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই” এমন বক্তব্য নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে।

এছাড়া সরকারের দায়িত্বশীলদের কারো করো মধ্যে দলবদ্ধ অপরাধকে কিছু ক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টা ছিল, যা এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, এটা যেমন ঠিক তেমনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন পক্ষের সামনে সরকারের নমনীয়তা অপরাধীদের সুযোগ করে দিয়েছিল।

তিনি বলছেন, “দৃশ্যমান মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গত সরকারের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল, যথেষ্ট দুর্বলতা ছিল। এর পেছনে এটার প্রেক্ষাপটটাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।”

এছাড়া একটি পক্ষ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও মনে করেন মি. লিটন।

এই অপরাধ কী থামবে?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জে সিলযুক্ত ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দলবদ্ধভাবে হেনস্তা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

অর্থাৎ এটি বলা যায় যে, দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার উদাহরণ সঙ্গী করেই, পট পরিবর্তনের দেড় বছর পর বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে রাজনৈতিক সরকার।

এসব কারণে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতির চাকা সচল করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। যেখানে ‘মব কালচার’ পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে মি. আহমদ বলেন, “মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপিও দেওয়া যাবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিশ্লেষকরা।

তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবে, সে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, মব সহিংসতার পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা- এই দুটি বিষয়ের ওপর।

মি. লিটন বলছেন, “নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা নিয়েছেন। অতীতে এই ধরনের সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে।”

তবে বিচারের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেন প্রশ্ন না ওঠে, এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

নারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা ভাঙার আহ্বান, ফরিদপুরে দিনব্যাপী কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
নারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা ভাঙার আহ্বান, ফরিদপুরে দিনব্যাপী কর্মশালা

নারীর মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ পরিবার ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না হলে ব্যক্তি, পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজ—সবক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই নারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূর করা এবং সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বুধবার (২২ জুলাই) ফরিদপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে ফাউন্ডেশন ফর উইমেন পসিবিলিটিজ-এর সহযোগিতায় নারী উন্নয়ন সংস্থা ‘নন্দিতা সুরক্ষা’ আয়োজিত “Women’s Mental Health: Awareness, Empathy and Practical Actions” শীর্ষক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক সুস্থতা রক্ষায় সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক মানসিক সহায়তা (Psychological First Aid) বিষয়ে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী নারী, তরুণ-তরুণী, যুব অ্যাক্টিভিস্ট, স্বেচ্ছাসেবক, নারী অধিকারকর্মী এবং সামাজিক উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন।

রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সুস্থতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাহাপারা আলম। তিনি নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বর্তমান বাস্তবতা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বার্নআউট, বিষণ্নতার কারণ, প্রাথমিক লক্ষণ এবং এসব পরিস্থিতিতে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ ও প্রাথমিক মানসিক সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক ট্যাবু, ভুল ধারণা এবং সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক নারী সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারেন না। ফলে অনেক সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি আকার ধারণ করে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, আত্মযত্ন (Self-care), সহমর্মিতাপূর্ণ যোগাযোগ এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেক মানসিক সংকট প্রাথমিক পর্যায়েই মোকাবিলা করা সম্ভব।

অংশগ্রহণমূলক এ কর্মশালায় বিশেষজ্ঞের উপস্থাপনার পাশাপাশি দলীয় আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। একই সঙ্গে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও কমিউনিটিতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, ইতিবাচক বার্তা প্রচার এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বেনিফিসিয়ারিজ ফ্রেন্ডশিপ ফোরাম (বিএফএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক এ. এন. এম. ফজলুল হাদী সাব্বির বলেন, “নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিকভাবে সুস্থ নারীই একটি সুস্থ পরিবার এবং উন্নত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও সমাজের সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

আয়োজক প্রতিষ্ঠান নন্দিতা সুরক্ষা-র নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, “নারীর মানসিক স্বাস্থ্য একটি মৌলিক অধিকার। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন। নন্দিতা সুরক্ষা নারী ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”

কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, নারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে এখনও নানা ভুল ধারণা ও সংকোচ রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সচেতনতা বাড়ায় না, বরং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণের মানসিকতাও তৈরি করে। তাদের মতে, এমন কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হলে সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
সালথায় বেকারিতে অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়ল ময়দা-চিনি ও তিন মোটরসাইকেল

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রসুলপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বেকারি, তিনটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৫ টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারে সেলিম মাতুব্বরের মালিকানাধীন আল্লাহরদান বেকারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বেকারিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের নীরবতায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন এবং একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে আশপাশের দোকান ও স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

অগ্নিকাণ্ডে বেকারির ভেতরে থাকা দুটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল, একটি রানার মোটরসাইকেল, প্রায় ২০ বস্তা ময়দা, ২৫ বস্তা চিনি, বেকারি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং পুরো টিনশেড ঘর পুড়ে যায়। এতে মালিকের প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সালথা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল জলিল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বেকারির চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বেকারি মালিকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভোরে আগুন লাগার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ক্ষতিগ্রস্ত বেকারিটি এলাকার অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর আর্থিক ক্ষতি বেশ বড়। দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে বেকারির কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ
অল্প বয়সী নারীরা কেন বয়স্ক পুরুষের প্রেমে পড়ে?

প্রেম বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে বয়স সবসময় নির্ধারক নয়। মানুষের অনুভূতি, পছন্দ কিংবা মানসিক সংযোগ অনেক সময় বয়সের সীমা অতিক্রম করে যায়। যদিও অধিকাংশ সম্পর্কেই দুই সঙ্গীর বয়স কাছাকাছি থাকে, তবুও বাস্তবে এমন অনেক সম্পর্ক দেখা যায় যেখানে নারীর বয়স তুলনামূলক কম এবং পুরুষের বয়স বেশি। কেন এমনটা ঘটে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে বয়সে বড় পুরুষদের প্রতি অনেক নারীর আকর্ষণের মূল কারণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নয়; বরং মানসিক পরিপক্বতা, দায়িত্বশীলতা, স্থিরতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ। আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মানসিক পরিপক্বতা তৈরি করে আস্থা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, যা তার চিন্তাভাবনা ও আচরণে পরিপক্বতা আনে। বয়সে বড় পুরুষরা সাধারণত আবেগ নিয়ন্ত্রণে বেশি দক্ষ হন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা উত্তেজিত হওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

বাস্তবভিত্তিক সম্পর্কের প্রতি ঝোঁক

পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ সম্পর্ককে কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করেন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। সম্পর্কে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার প্রবণতাও তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে থাকে আত্মবিশ্বাস

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বয়সে বড় অনেক পুরুষকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমাতে সাহায্য করে। এই স্থিরতা অনেক নারীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে স্পষ্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব অনেক। বয়সে বড় অনেক পুরুষের ক্যারিয়ার, পরিবার এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকে। ফলে সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কম দেখা যায় এবং সঙ্গীর মধ্যেও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা

জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন মতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়। অনেক পরিণত বয়সের পুরুষ এই অভিযোজন ক্ষমতার কারণে বিভিন্ন সামাজিক বা পারিবারিক পরিস্থিতিতে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। অনেক নারী এই গুণটিকেও ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করেন।

পারস্পরিক সম্মান ও সহানুভূতির গুরুত্ব

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়সে বড় অনেক পুরুষ সম্পর্কে সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেন, ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করেন এবং প্রয়োজন হলে সমঝোতার পথও বেছে নেন। এই ধরনের আচরণ সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বদলে গেছে সম্পর্কের ধারণা

একসময় ধারণা ছিল, বয়সে বড় পুরুষের প্রতি নারীদের আকর্ষণের প্রধান কারণ আর্থিক নিরাপত্তা। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন অনেক নারী এমন একজন সঙ্গীকে গুরুত্ব দেন, যিনি দায়িত্বশীল, আবেগ বোঝেন, খোলামেলা যোগাযোগে বিশ্বাসী এবং সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পরিণত বয়সের অনেক পুরুষ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তে বেশি আগ্রহী হন। তারা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধকে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন।

বয়স নয়, সম্পর্কের ভিত্তি বোঝাপড়া

তবে বিশেষজ্ঞরা এটিও স্পষ্ট করে বলছেন, শুধু বয়স বেশি হলেই কেউ আদর্শ জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠেন না। একইভাবে কম বয়স মানেই অপরিপক্ব এমন ধারণাও সঠিক নয়। একটি সম্পর্কের সফলতা নির্ভর করে ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, যোগাযোগের দক্ষতা এবং বোঝাপড়ার ওপর।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই, যখন দুইজন মানুষ একে অপরকে সম্মান করেন, বিশ্বাস করেন এবং মানসিকভাবে একসঙ্গে পথ চলতে প্রস্তুত থাকেন।