খুঁজুন
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

ফরিদপুরে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ২০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ২০

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা জারি করেছে এবং টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (০২ জুন) সকালে ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বাসিন্দা বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান। অপরজন ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু দুজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সোমবার তারা মারা যায়।

চিকিৎসকরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকাদান না হলে শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকেই ফরিদপুর অঞ্চলে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “হামের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনতে হবে। টিকাই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।”

তিনি আরও জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালেও বিশেষ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন বলেন, “চলমান বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে আসবে।”

ফরিদপুর পৌরসভায় ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইনে পানি সংকট, দুর্ভোগে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর পৌরসভায় ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইনে পানি সংকট, দুর্ভোগে মানুষ

ফরিদপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পুরোনো পাইপলাইনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। শহরের বিভিন্ন মহল্লায় নিয়মিত পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও পানি খুব কম আসছে, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একেবারেই পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে সম্প্রতি বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরজুড়ে পানি সরবরাহের জন্য লোহার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও সেই পাইপলাইন এখনো পরিবর্তন করা হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে পাইপের ভেতরে জং ও আয়রনের স্তর জমে পাইপগুলো সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে পানি প্রবাহ কমে গিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

শহরের গুহলক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ট্যাংকে পর্যাপ্ত পানি ওঠে না। বাধ্য হয়ে মোটর চালিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।”

ঝিলটুলী এলাকার গৃহিণী সেলিনা বেগম বলেন, “কয়েকদিন ধরে পানি খুব কম আসছে। রান্না, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বেশি দুর্ভোগে আছি।”

টেপাখোলা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “পানি না থাকলে দোকান ও বাসার দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পৌরসভার উচিত দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।”

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে পানি উত্তোলন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে গভীর নলকূপ ও পাম্প চালানো সম্ভব না হওয়ায় পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পানি সরবাহের জন্য ১৯৮০ দশকের পাইপ এখন জং ধরে ও আয়রণ পড়ে পানিপথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে, এতে অনেক এলাকায় পানি দিতে সমস্যা হচ্ছে ও কম পানি যাচ্ছে। তবে, বরাদ্দ না থাকায় পাইপগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছেনা।

ফরিদপুুর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য হাসানউজ্জামান বলেন, ‘নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তন, পানি উত্তোলন কেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার চুরি রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপও জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক নাগরিক আছেন নিয়মিত পানির বিল দিচ্ছেন কিন্তু একেবারেই তারা পানি পাচ্ছেন না এমন অভিযোগও রয়েছে। পানির সরবরাহের ব্যাপারে জানতে চাইলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে তাদের সদুত্তর দিচ্ছেনা। এটা দুঃখজনক। আমরা বলবো, অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধানে পৌরসভাকে উদ্যোগী হতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হয়নি। অনেক এলাকায় নতুন সংযোগ দেওয়া হলেও পুরোনো অবকাঠামোর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে গ্রীষ্মকাল কিংবা বিদ্যুৎ সমস্যার সময় সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।’

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, ‘ফরিদপুরবাসী দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার সরবরাহ করা পানীয় জলের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। পানির লাইনগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা না করায় ময়লা আবর্জনা পানির সাথে প্রভাবিত হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানের জন্য দ্রুত পৌরসভাকে উদ্যোগ নিতে হবে। নাগরিক সুবিধার নিশ্চিত করতে এবং একটি এ গ্রেডের পৌরসভার আধুনিক সুবিধা ক্ষেত্রে এর কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিতাপের বিষয় পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ ব্যাপারে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা আশা করি পৌরসভা এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং পৌরবাসীকে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি দেবে।’

এব্যাপারে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় ও সরকারি সফরে চীনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, “১৯৮০-এর দশকে স্থাপিত লোহার পাইপগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে জং ধরে ভেতরে সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এতে অনেক এলাকায় পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। পুরোনো পাইপ পরিবর্তন করা জরুরি হলেও বড় বাজেটের অভাবে এখনো তা সম্ভব হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে নতুন পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি শহরে বৈদ্যুতিক তার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর প্রভাব পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। এছাড়া কোনো এলাকায় পাইপলাইনের মেরামত কাজ চললে সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। তারপরও আমাদের কর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।”

শহরে বৈদ্যুতিক তার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে বলে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যের ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘চুরি রোধে রাতে ও দিনে আমাদের পুলিশের মোবাইল টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। এছাড়া চুরি বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।’

দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ফরিদপুর শহরের পানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কসম করে তা রক্ষা করতে না পারলে করণীয় কী?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
কসম করে তা রক্ষা করতে না পারলে করণীয় কী?

জীবন চলার পথে মানুষ রাগ করে, অভিমান করে। এটা মানবজাতির সহজাত। তবে মাঝে মাঝে আমাদের অভিমানের মাত্রা এত তীব্র হয় যে, আমরা কসম (শপথ) কেটে বলি, ‘আজ থেকে এটা করব না, ওইটা খাব না’। কিন্তু জীবনের বাস্তবতায় আমরা অনেকক্ষেত্রে সেই কসম ধরে রাখতে পারি না। কোনো না কোনোভাবে সেটা ভেঙে যায়। কখনো প্রিয়জনদের আবদারে, আবার কখনো আমরা নিজে থেকেই কসম ভঙ্গ করি। তাই প্রশ্ন জাগে, এভাবে কসম ভাঙার বিধান কী?

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমরা যে শপথ পরিপক্কভাবে করে থাকো, সেজন্য তিনি তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন। সুতরাং তার কাফফারা হলো, দশজন মিসকিনকে মধ্যম ধরনের খাবার দেবে, যা তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে খাইয়ে থাকো। অথবা তাদেরকে বস্ত্র দান করবে কিংবা একজন গোলাম আজাদ করবে।

তবে কারও কাছে যদি (এসব জিনিসের মধ্য হতে কিছুই) না থাকে, সে তিন দিন রোজা রাখবে। এটা তোমাদের শপথের কাফফারা যখন তোমরা শপথ করবে (এবং তারপর তা ভেঙ্গে ফেলবে)। তোমরা নিজেদের শপথকে রক্ষা করো। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের সামনে নিজ আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করো। (সুরা মায়িদা: ৮৯)

উল্লিখিত আয়াতের আলোকে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি কসম রক্ষা করতে না পেরে ভেঙে ফেলার কারণে আপনাকে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে। আর কসমের কাফফারা হলো, দশজন মিসকিনকে পেট ভরে দুবেলা খাবার খাওয়ানো, অথবা তাদেরকে এক জোড়া করে কাপড় দেওয়া। এ দুটির কোনোটি যদি সম্ভব না হয়, তাহলে টানা তিনদিন রোজা রাখা।

উল্লেখ্য, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় অনেক সময় এমন বিপদে পড়তে হয় যার থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত বীর সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (বোখারি: ৫৭৬৩, মুসলিম: ২৬০৯)

সূত্র : কালবেলা

যে ৫ ভুল নীরবে সম্পর্ক ভেঙে দেয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
যে ৫ ভুল নীরবে সম্পর্ক ভেঙে দেয়?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং আধুনিক ডেটিং সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের সম্পর্কের সংজ্ঞাও বদলে যাচ্ছে। অনেক সময় আমরা এমন কিছু কাজকে ‘স্বাভাবিক’ মনে করি, যা আসলে তিলে তিলে ভালোবাসার সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে।

ভারতীয় সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. বর্তিকা বিশ্বানি এবং ড. সানি গার্গের মতে, অনেক সময় ভালোবাসা ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে সম্পর্ক ভাঙে না; বরং মানসিক ক্লান্তি, অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং একে অপরের প্রতি মনোযোগের অভাবে ধৈর্য ও কোমলতা হারিয়ে যায়।

আপনার ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখতে হলে যে ৫টি ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. কথা বলা বা মেসেজ দিতে অনীহা

আজকের ডিজিটাল যুগে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হলেও অনেকে ঝগড়ার পর বা মান-অভিমানের কারণে আগে যোগাযোগ করতে চান না। এই ইগো বা অহমিকা সম্পর্কের জন্য এক বড় হুমকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ক মানে ‘আমি বনাম তুমি’ নয়; বরং হওয়া উচিত ‘আমরা দুজনে মিলে সমস্যার বিরুদ্ধে’। তাই প্রথম পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না।

২. তর্কের সময় চিৎকার করা

ঝগড়া হওয়া সম্পর্কের একটি অংশ, কিন্তু তর্কের সময় সঙ্গীর ওপর চিৎকার করা বা কটু কথা বলা কেবল তিক্ততাই বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, সব ঝগড়া তৎক্ষণাৎ সমাধান করার প্রয়োজন নেই। আগে নিজেকে শান্ত করুন, তারপর নম্রভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন।

৩. মেসেজে রাগ প্রকাশ করা

রাগ বা অভিমান প্রকাশ করতে দীর্ঘ টেক্সট পাঠানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ টেক্সট মেসেজে গলার স্বর বা সঠিক অভিব্যক্তি প্রকাশ পায় না, ফলে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেকোনো গুরুতর সমস্যা বা মতপার্থক্য সরাসরি দেখা করে বা অন্তত ফোনে কথা বলে সমাধান করাই শ্রেয়।

৪. পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটা

বর্তমান কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলার সময় সঙ্গীর অতীত ভুলগুলো টেনে আনা একটি মারাত্মক ভুল। এতে তর্কের পরিধি আরও বাড়ে এবং মূল সমস্যাটি আড়ালে চলে যায়। সুস্থ সম্পর্কের জন্য বর্তমান সমস্যা সমাধানেই মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

৫. মনে মনে ধরে নেওয়া বা অনুমান করা

সঙ্গী আপনার মনের সব কথা না বলতেই বুঝে নেবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। আপনার কী প্রয়োজন বা আপনি কী অনুভব করছেন, তা স্পষ্টভাবে সঙ্গীকে জানান। একে অপরের সাথে স্বচ্ছতা বজায় না রাখলে এবং নিস্তব্ধতার (silent treatment) মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলে সম্পর্কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।

শেষকথা

একটি সুস্থ সম্পর্ক কেবল রসায়নের ওপর গড়ে ওঠে না; এর জন্য প্রয়োজন মানসিক নিরাপত্তা, শান্ত যোগাযোগ এবং যেকোনো সংঘাতের পর পুনরায় মিলে যাওয়ার সদিচ্ছা। ইন্টারনেটে নিখুঁত ভালোবাসার অভিনয় না করে, একে অপরের জন্য সত্যিকারের মানসিক আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠাই হলো দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের চাবিকাঠি।

তথ্যসূত্রহিন্দুস্তান টাইমস