খুঁজুন
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৫ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে পুকুরের নিচে মিলল পিস্তল-গুলিসহ বিপুল অস্ত্র

হারুন-অর-রশীদ ও মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ফরিদপুরে পুকুরের নিচে মিলল পিস্তল-গুলিসহ বিপুল অস্ত্র

ফরিদপুরের সদরের কানাইপুরের আখ সেন্টার এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি পুকুর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের পরিমাণ ও ধরন দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে, এগুলো কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কাজে ব্যবহারের জন্য গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল।

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাজ। অভিযানে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় পুকুরের পানি সেচে ফেলা হয়। এরপর পানির নিচে তল্লাশি চালিয়ে কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই তল্লাশি অভিযান, যা এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে— ৪টি পিস্তল ও ১৬ রাউন্ড গুলি, ২টি কাটা পাইপগান ও ২ রাউন্ড গুলি, ৫টি চাইনিজ কুড়াল, ৬৫টি ছোট-বড় ছেনদা, ৮টি বল্লম, ৬টি ছোট-বড় চাকু, ১০১টি বর্ষার মাথা, ১টি টেটা এবং ৫টি খালি কাঁচের মদের বোতল। অস্ত্রগুলো মাটির নিচে ও পানির তলদেশে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ছিল বলে জানা গেছে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রাথমিকভাবে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা না হলেও অস্ত্রগুলো কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কতদিন ধরে সেখানে মজুত করে রেখেছিল—তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানানো হয়েছে, এলাকায় অপরাধ দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অস্ত্র মজুদের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় এমন অভিযান নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাইয়ের হাসপাতালে দুর্বৃত্তদের হানা, প্রাণনাশের হুমকি

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাইয়ের হাসপাতালে দুর্বৃত্তদের হানা, প্রাণনাশের হুমকি

ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের মুজাহিদ বেগের ভাই এর হাসপাতালে সন্ত্রাসীরা হানা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও গালিগালাজ করেছে। তাকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে এই ঘটনা ঘটাতে পারে প্রতিপক্ষ।

শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে ডা. মহসিন বেগ এর মালিকানাধীন আনোয়ারা হামিদা চক্ষু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন হাসপাতালের কর্মচারীরা। রোগী দেখা শেষ করে ডা. মহসিন বেগ হাসপাতাল ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থান করায় সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে তিনি রক্ষা পান। ৬ থেকে ৭ মিনিট হুমকি ধামকি গালি গালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জনের সন্ত্রাসীর দল হাসপাতাল ত্যাগ করে।

এ ব্যাপারে ডা. মহসিন বেগ পুলিশ ও জেল রিটার্নিং কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ডা. মহসিন বেগ বলেন, আমি দুই যুগের বেশি সময় ধরে সারাদেশে সুনামের সাথে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন হুমকি ন্যাক্করজনক। আমি অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। আমার ভাই মুজাহিদ বেগ ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী। তাকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে এই ঘটনা ঘটাতে পারে প্রতিপক্ষ।

ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের প্রচারণায় বাধা, রিকশার প্রার্থীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৫ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের প্রচারণায় বাধা, রিকশার প্রার্থীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে দশ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা শাহ্ আকরাম আলীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি আসনটিতে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ (বুড়িদিয়া) বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ভোট চাইতে গেলে আকরাম আলীর বহরভুক্ত গাড়ি আটকানো হয় এবং সেখানে ধানের শীষের স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গাড়ির গ্লাসের বাইরে থেকে কিল-ঘুষি, চর-থাপ্পড় মারার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একই দিন রাত ৮টার দিকে আকরাম আলীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী ওইদিন গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ এলাকায় প্রচারণা শেষ করে সিংহপ্রতাপের বুড়িদিয়া বাজারে যান। বাজারে গাড়ি থেকে নেমে তিনি দুইটি দোকানে লিফলেট বিতরণ করেন। তৃতীয় দোকানে ভোট চাইতে গেলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্যার নেতৃত্বে একদল লোক একত্রিত হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে।

মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, “এসময় প্রার্থীর গাড়ি ও আমাদের ব্যবহৃত গাড়ি আটকে রেখে ধানের শীষের স্লোগান দেওয়া হয়। গাড়িতে কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়। আমাদের কর্মীদের অপমান করা হয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়।”

তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং আকরাম আলী ও তার বহরকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “এভাবে যদি ভোট চাইতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে সুষ্ঠু ভোট ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে আমরা গভীরভাবে শঙ্কিত। রিকশা প্রতীকের সাধারণ ভোটারদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, রিকশায় ভোট দিলে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়া’ হবে।”

তিনি দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। চলমান নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে এমন ঘটনার ফলে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

তৃতীয় লিঙ্গের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার ও প্রতিবন্ধকতা

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম
তৃতীয় লিঙ্গের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার ও প্রতিবন্ধকতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার হলেও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের প্রতিকূলতা রয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৩৪ জন। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি।

কারণ সামাজিক অবহেলার ভয়ে পরিচয় গোপন করে ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন অনেক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। কাগজে-কলমে এ জনগোষ্ঠীর ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও মানসিক গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতিতে থমকে আছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকারের বাস্তবায়ন।

নির্বাচনে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভূমিকা বর্তমানে ভোটাধিকার প্রয়োগ, প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ এবং প্রচারণায় সক্রিয় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র‍্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করছে। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

মূলত ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদের সভায় নারী-পুরুষের পাশাপাশি হিজড়াদের পৃথক লিঙ্গীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ সময় উল্লেখ করা হয় যে, তারা শিক্ষাসহ অন্যান্য সব মৌলিক অধিকারে অগ্রাধিকার পাবে। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়, ‘সরকার বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করিয়া স্বীকৃতি প্রদান করিল’। ২০১৯ সালে হিজড়ারা স্বতন্ত্র লিঙ্গীয় পরিচয়ে ভোটাধিকার লাভ করে। এর আগে তারা নারী ও পুরুষ হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেন।

এ নির্বাচনে লিঙ্গ কোন বিবেচ্য বিষয় নয়। বাংলাদেশে ইতিপূর্বে নজরুল ইসলাম ঋতু প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এবারও তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী নির্বাচন করছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এই আনোয়ারা ইসলাম রানী।

ওই নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের জয়লাভ করলেও তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হন রানী। সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে এবারও ভোটের মাঠে রংপুর-৩ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃতীয় লিঙ্গের একমাত্র প্রতিনিধি আনোয়ারা ইসলাম রানী।

এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রামে এবার ১৬টি সংসদীয় আসনে ৬৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার শেষ নেই।

এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের তৃতীয় লিঙ্গের ৫৬ জন ভোট দিয়েছিলেন। গতবারের চেয়ে এবার ১৩ জন ভোটার বেড়েছে। চট্টগ্রামে এবার মোট ভোটার ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৬। এর মধ্যে পুরুষ ৩৩ লাখ ৯৭ হাজার ৮১২ ও মহিলা ভোটার ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৫।

নোয়াখালীর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুই হাজারের বেশি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বসবাস করলেও ভোটার তালিকায় তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন মাত্র ১৪ জন। ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের জানানো হয়নি, আবার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জটিলতাও বড় বাধা। তবে ময়মনসিংহে তৃতীয় লিঙ্গ পরিচয়ে এবার ভোট দেবেন ৪১ জন। যদিও জেলায় এ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েক শ।অর্থাৎ বাস্তবে সংখ্যা বেশি কিন্তু নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা কম।

নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ সমাজের মূলধারায় যুক্ত হয়ে নিজেদের আইনগত ও সামাজিক অধিকারের দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। ইসির মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, ভোটকেন্দ্রে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের জন্য নেই আলাদা কোনো ব্যবস্থা, নেই নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ। ফলে নারী বা পুরুষের লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, বিদ্রƒপ ও মশকরার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই ভোট দিতে যেতে চান না।

আইনি কাঠামো থাকার পরও শুধু প্রশাসনিক উদাসীনতায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। সংখ্যায় অল্প হলেও এই জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু এ অব‍্যবস্থাপনা তাদের ভোটাধিকারকে কার্যত নিরুৎসাহিত করছে।যার ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারান। এই মনোভাব শুধু একজনের নয়, একাধিক তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের মনোভাবও প্রায় একই।

তৃতীয় লিঙ্গের ভোট প্রদানে বাস্তবতা:

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার সংবিধান স্বীকৃত হলেও এর বাস্তব প্রয়োগে প্রশাসনিক উদাসীনতা বড় সমস্যা। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তব প্রয়োগ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ না থাকলে এই অধিকার কাগজেই থেকে যাবে। নির্বাচন কমিশন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটার তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কেবল আইনগত স্বীকৃতি দিলেই হবে না, ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এই কাজ একা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সচেতনতা, সংবেদনশীল প্রশাসন ও বাস্তবমুখী ব্যবস্থা গ্রহণে বৈষম্যের এ চক্র ভাঙতে হবে। কেননা তৃতীয় লিঙ্গের অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।