খুঁজুন
, ,

রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফরিদপুরে আইনজীবীদের মানববন্ধন, দ্রুত বিচারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ফরিদপুরে আইনজীবীদের মানববন্ধন, দ্রুত বিচারের দাবি

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডসহ দেশব্যাপী নারী ও শিশু হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনার প্রতিবাদে ফরিদপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সাধারণ আইনজীবীরা। এ সময় তারা নারী ও শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে ফরিদপুর শহরের স্বাধীনতা চত্বরে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যসহ বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মেহেরুন্নেসা স্বপ্না। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত হোসেন খান বুলু।

এসময় বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুর রহমান হাফিজ, মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী, অ্যাডভোকেট লতা আক্তার, অ্যাডভোকেট সোহানুর রহমান সোহেল ও অ্যাডভোকেট ফারজানা প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার মতো বর্বর ঘটনাগুলো সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে। এসব অপরাধের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে গেলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

তারা আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এসময় “নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার চাই”, “ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে” এবং “নিরাপদ সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হোন” — এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্বাধীনতা চত্বর।

‘ব্যর্থ প্রেমিক’

এমডি কামাল হোসেন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘ব্যর্থ প্রেমিক’

কলেজ পড়তে দু’বছর ছিলাম এক গ্রামে,
ধরা পড়লাম ষোড়শী এক ম্যাডামের প্রেমে।
মেয়েটি বড়ই সাদাসিধে নেই কোন লাজ,
আমার পিছু লাগল সুন্দরী ছাড়লো না পাছ।

অনেক বুঝিয়েছি শোনো হে রূপসী ম্যাডাম,
তোমাকে ভালবাসলে অবশেষে পাবো কি দাম?
চোখে অশ্রু এনে বলল সেদিন শ্লথ গলায়,
কি যে বলেন জনাব, আপনি বিনা কে আমার?

করুন কন্ঠে পাগল হয়ে দিলাম তারে মন,
ভালোবাসা লুকিয়ে লুকিয়ে করলামনা কম।
আমাদের ভালোবাসা ঠিক যখনি গভীরে,
তখনই জানাজানি হলো বেশ কিছুটা বাহিরে।

সুমির বয়স্ক মাতা বড়ই সারল্য পনা,
আমাদের ভালোবাসায় হলো নাকো আনমনা।
ভাই তাহার খুবই চতুর মেনে নেবে না কিছু,
সেদিন থেকে আমাদের পিছে নিলেন তিনি পিছু।

হঠাৎ পড়লাম ধরা সুমীর ভাই এর কাছে,
বাড়ি থেকে অপমান হয়ে নামতে হল মাঠে।
আশা ছিল পরীক্ষা শেষে ফিরবো নিজের দেশে,
এদেখি অপমান হয়ে চলছি পাগল ভেসে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের স্ত্রীর মৃত্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের স্ত্রীর মৃত্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শোক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব এ.কে.এম কিবরিয়া স্বপনের স্ত্রী মেহেজাবিন আক্তার লোটাসের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) শামা ওবায়েদ ইসলাম। এছাড়াও ফরিদপুর -৩ সদর আসনের এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল।

শুক্রবার (১০ জুলাই) এক শোকবার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে, তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এই গভীর শোক সহ্য করার মতো ধৈর্য ও শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন।

একইভাবে শোক জানিয়েছেন ফরিদপুর সদর আসনের এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আবজাল হোসেন খান পলাশ, মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক খন্দকার মাশুকুর রহমান, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, মেহেজাবিন আক্তার লোটাস গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। তিনি স্বামী, দুই পুত্র এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বাদ জুম্মা  শহরের চকবাজার জামে মসজিদে মরহুমার নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে দল মত নির্বিশেষে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর ও পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে আলীপুর গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নগরকান্দায় ১০ আগস্ট থেকে থামবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন, মাত্র ১১৫ টাকায় ঢাকা যাত্রা

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
নগরকান্দায় ১০ আগস্ট থেকে থামবে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন, মাত্র ১১৫ টাকায় ঢাকা যাত্রা

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১০ আগস্ট থেকে ফরিদপুরের নগরকান্দা রেলওয়ে স্টেশনে নিয়মিত যাত্রাবিরতি করবে ১৩৫/১৩৬ নম্বর ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের এ সিদ্ধান্তে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নগরকান্দার রেল যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নগরকান্দা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা। ট্রেনটি প্রতিদিন রাত ৮টা ২৪ মিনিটে নগরকান্দা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে। ফলে মাত্র দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময়েই রাজধানীতে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।

অন্যদিকে, ট্রেনটি প্রতিদিন বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে নগরকান্দাসহ পথে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। এতে ঢাকা থেকে ফেরার ক্ষেত্রেও যাত্রীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

স্থানীয়দের মতে, নগরকান্দা স্টেশনে অভিযাত্রী কমিউটার ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় উপজেলার চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। সড়কপথে যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে তারা এখন স্বল্প খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে রাজধানীতে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে সময় ও অর্থ—উভয়েরই সাশ্রয় হবে।

এছাড়া এই ট্রেনের স্টপেজ চালু হওয়ার ফলে নগরকান্দার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বিশেষ করে নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।

দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। তারা বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে ট্রেনটির কোচ সংখ্যা বৃদ্ধি, যাত্রাসূচি আরও উন্নত করা এবং নগরকান্দা রেলওয়ে স্টেশনের অবকাঠামো, টিকিটিং ব্যবস্থা ও যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন।