খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

গানম্যান পায় কারা এবং কেন? আবেদন করবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১০ এএম
গানম্যান পায় কারা এবং কেন? আবেদন করবেন যেভাবে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে একটি শব্দ— গানম্যান।

সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক নেতা, আন্দোলনকর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। নির্বাচনের আগে এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আশঙ্কা ছিল। তার মধ্যে গানম্যান চাওয়া ও দেওয়ার খবর সেই উদ্বেগকে সামনে এনে দিয়েছে আরও স্পষ্টভাবে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। পাশাপাশি নিজ নিজ নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন অনেকে। কেউ গানম্যান চেয়েছেন, কেউ আবার ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স।

এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের জন্য গানম্যান নিয়োগ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরও কারা ঝুঁকিতে রয়েছেন, সেই বিষয়টি পুলিশের বিশেষ শাখা যাচাই করছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে গানম্যান নিয়োগ কিংবা ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে কি না— সে প্রশ্নও উঠছে নানা মহলে।

অনেকে বলছেন, ব্যক্তি বিশেষকে গানম্যান দেওয়ার চেয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার সময় আপনি কয়জনকে নিরাপত্তা দেবেন? আমেরিকার মতো জায়গায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পর্যন্ত হিট করেছে। তার তো গানম্যান কম ছিল না।’

কীভাবে পাওয়া যায় গানম্যান

বাংলাদেশে গানম্যান বা বডিগার্ড পাওয়া কোনো ঢালাও অধিকার নয়। বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের ওপর। সরকারের বিশেষ বিবেচনায় এটি অনুমোদিত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে যে কাউকে তার নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় গানম্যান বরাদ্দ দিতে পারে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, গুরুতর হুমকি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষী হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে সরকার নিজ উদ্যোগেও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।

পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাধারণ নাগরিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি লিখিতভাবে পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন। আবেদন পাওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থা বা স্পেশাল ব্রাঞ্চ যাচাই করে দেখে, আবেদনকারীর প্রকৃতপক্ষে নিরাপত্তা প্রয়োজন আছে কি না, নাকি এটি কেবল প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও কঠোর।

সাধারণত মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রোটেকশন ইউনিট থেকে বডিগার্ড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বডিগার্ড সাধারণত প্রোটেকশন ইউনিট থেকে আসে, আর গানম্যান দেওয়া হয় বিশেষ শাখা থেকে।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, সব যাচাই শেষে পুলিশের প্রশিক্ষিত সদস্যকে গানম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে যার জন্য নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তার মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘সরকার নিয়োগ দিলেও গানম্যান হিসেবে কাকে দেওয়া হবে—সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতামত নেওয়া হয়। কারণ এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় থাকে।’

একজন গানম্যান সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করেন এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক গুলি বরাদ্দ থাকে। গানম্যানের বেতন ও অন্যান্য খরচ বহন করে সরকার। তবে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

কারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গানম্যান পান

রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি গানম্যান বা সশস্ত্র দেহরক্ষী পেয়ে থাকেন। এই তালিকায় রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানরা।

পুলিশের সাবেক প্রধান নুরুল হুদা বলেন, ব্যক্তি বিভিন্নভাবে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান বা বডিগার্ড দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তার ভাষায়, ‘নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। তবে যাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তার প্রকৃত ঝুঁকি যথার্থ হওয়া দরকার।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের কাছেও গানম্যান বা পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করা যায়।

তিনি বলেন, ‘কোনো নাগরিক যদি মনে করেন তার জীবন বিপন্ন, তবে তিনি গানম্যানের জন্য আবেদন করতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে কাকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে— সে সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’

ব্যক্তিগত ব্যবস্থায় নিরাপত্তা

অনেকে নিজস্ব বেতনভুক্ত লোক দিয়েও গানম্যানের কাজ করান। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির নিজের নামে অস্ত্রের লাইসেন্স থাকতে হবে অথবা নিয়োগকর্তার অস্ত্রের লাইসেন্সে তাকে ‘রিটেইনার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সরকার অনুমোদিত বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি থেকেও নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে গানম্যান নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আলাদা অনুমতি প্রয়োজন।

অতীতের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশে অতীতেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশেষ বিবেচনায় গানম্যান নিয়োগের নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে মুক্তমনা লেখক, প্রকাশক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড ও হুমকির ঘটনায় সরকার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। সে সময় ২৬২ বিশিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যে এমনটাই জানা যায়।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

 

 

ঘাড় ও বগলে কালচে দাগ কেন হয়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৮ এএম
ঘাড় ও বগলে কালচে দাগ কেন হয়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

অনেকের ঘাড়, বগল কিংবা শরীরের ভাঁজে অন্য জায়গার তুলনায় কালচে দাগ দেখা যায়। অনেকেই এটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি মনে করে বেশি করে ঘষে বা সাবান ব্যবহার করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি সব সময় পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং এটি কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক অ্যানেসথেসিওলজি ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। গত ৪ মার্চ তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় জানান, ঘাড় বা বগলের ত্বক গাঢ় হয়ে যাওয়ার একটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম রয়েছে— Acanthosis Nigricans।

কেন হয় এই কালচে দাগ?

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অবস্থায় ত্বক শুধু গাঢ়ই হয় না, বরং একটু মোটা ও মসৃণ বা ভেলভেটের মতো দেখায়। অনেকেই এটিকে ময়লা বা অপরিষ্কার ভাবলেও আসলে তা নয়। ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করলে সাধারণত কোনো পরিবর্তন হয় না।

ডা. কুনাল সুদের মতে, এই সমস্যাটি বেশিভাগ ক্ষেত্রেই শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেশি থাকা বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে এটি অনেক সময় প্রিডায়াবেটিস, টাইপ ২ ডায়াবেটিস কিংবা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)–এর মতো সমস্যার সঙ্গে দেখা যায়।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কী?

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের পেশি, চর্বি ও লিভারের কোষগুলো ইনসুলিন হরমোনের প্রতি ঠিকমতো সাড়া দেয় না। অথচ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইনসুলিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যখন কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সাড়া কম দেয়, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে অগ্ন্যাশয়কে আরও বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। এই পরিস্থিতিই অনেক সময় ত্বকের এমন কালচে দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, Acanthosis Nigricans নিজে থেকে সংক্রামক বা মারাত্মক রোগ নয়। তবে এর পেছনে থাকা কারণগুলো শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

ডা. কুনাল সুদের মতে, শুধু ত্বক ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করে লাভ নেই। বরং শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়?

স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Cleveland Clinic জানায়, কিছু জীবনধারাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানো সম্ভব। যেমন—

পুষ্টিকর খাবার খাওয়া : অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া।

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম : ব্যায়াম করলে শরীরের পেশি রক্তের গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে, ফলে ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা কমে।

অতিরিক্ত ওজন কমানো : অনেক ক্ষেত্রে ওজন কমালে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও কমে যায়।

পরীক্ষা করা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি ঘাড় বা বগলে এমন কালচে দাগ দেখা যায় এবং তা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। অনেক সময় A1C পরীক্ষা করা হয়, যার মাধ্যমে গত তিন মাসে রক্তে গ্লুকোজের গড় মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরের ত্বকে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় ছোট একটি লক্ষণই বড় কোনো শারীরিক সমস্যার আগাম ইঙ্গিত দিতে পারে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

রমজানের শিক্ষা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা: সালথায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
রমজানের শিক্ষা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা: সালথায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সালথা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে সালথা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রমজানের তাৎপর্য ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা এবং মিলনমেলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল ফজল মুরাদ।

আলোচনা সভায় প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা মাহে রমজানের শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, রমজান কেবল রোজা পালনের মাসই নয়, এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিকতার অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি জীবনকে শুদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধারণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান, নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বকুল মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের সুরা সদস্য ও তালমা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা মাহবুব হোসেন, ঢাকা মহানগরীর মুহাম্মদপুর থানা জামায়াতের সুরা সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ সাইফুর রহমান হিটু।

এ ছাড়া উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি চৌধুরী মাহবুব আলী সিদ্দিকী নসরু, সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।