খুঁজুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

মাত্র ৬০ দিনে নির্মূল হবে ফ্যাটি লিভার, খাদ্য তালিকায় রাখুন ৫ খাবার

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
মাত্র ৬০ দিনে নির্মূল হবে ফ্যাটি লিভার, খাদ্য তালিকায় রাখুন ৫ খাবার

আজকের ব্যস্ত জীবনধারা এবং সেডেন্টারি লাইফস্টাইল আমাদের শরীরের জন্য নানা ঝুঁকি তৈরি করছে। অফিসের কাজ, ঘরে বসে প্রযুক্তি ব্যবহার, আর খাদ্যাভ্যাসে জাঙ্কফুডের বৃদ্ধি; এসব মিলিয়ে লিভারের ওপর চাপ বাড়ছে।

বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা এখন ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। অথচ লিভার আমাদের শরীরের বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি শোষণ এবং টক্সিন নিঃসরণের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই অঙ্গের যত্ন না নিলে শরীরের স্বাস্থ্য দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, ডায়েট ও খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা অবলম্বন করলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তারা বলছেন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে লিভারের ফ্যাট গলানো যায়। তাই খাদ্যতালিকায় যদি প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি এমন খাবার রাখা হয়, তবে ৬০ দিনের মধ্যে লিভারের স্বাস্থ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

চলুন জেনে নিই, কোন পাঁচটি খাবার লিভারের যত্নে বিশেষ কার্যকর—

১. গ্রিন টি

গ্রিন টিতে আছে ক্যাটেচিন, যা লিভারের ফ্যাট কমাতে সহায়ক। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ মলিকুলার সায়েন্সসে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার সারাতে গ্রিন টি দারুণ কার্যকর। দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি নিয়মিত খেলেই লিভারের স্বাস্থ্য বজায় থাকে।

২. বিটের রস

বিটের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক যৌগ লিভারের কোষকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। লিভারে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে এবং লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে বিটের রস সহায়ক।

৩. হলুদ

হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন, একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এটি লিভারসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। নিয়মিত খাবারে হলুদ রাখলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে।

৪. শাকসবজি

মৌসুম অনুযায়ী তাজা শাকসবজি খান। যেমন এই সময়ে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে পালংশাক, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, বিনস, ক্যাপসিকাম। এগুলো লিভারের প্রদাহ কমায়, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে এবং ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় সহায়ক।

৫. রসুন

রসুনে আছে সালফার সমৃদ্ধ যৌগ, যা শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সহায়তা করে এবং লিভারের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। নিয়মিত রসুন খেলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মোটকথা, সঠিক খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচটি খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে, মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে লিভারের স্বাস্থ্য উন্নত করা সম্ভব।

সূত্র : এই সময়

এই ৫ ব্যক্তির দোয়া কখনোই কবুল হয় না

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
এই ৫ ব্যক্তির দোয়া কখনোই কবুল হয় না

আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তাঁর দয়া অফুরন্ত। তাঁর রহমত অগণিত। রব্বুল আলামিনের দয়ার সাগরে দুনিয়ার সব মানুষ, সব মহাশক্তি ডুব দিলেও বরকতে পরিপূর্ণ মণিমুক্তা পাবে, কিন্তু কূল পাবে না। কারণ, তাঁর দয়ার সাগরের গভীরতার কোনো সীমা নেই। সৃষ্টির প্রতি তাঁর মায়ার কোনো পরিমাপ নেই।

দুনিয়ার সব মালিকের কাছে তার শ্রমিকরা একটু বেশি মজুরি চাইলে, সুবিধা চাইলে তারা নাখোশ হন। কেউ কেউ ক্ষিপ্ত হন। অনেকে আবার অবিচারও করেন। কিন্তু দু’জাহানের মালিকের প্যাটার্ন ভিন্ন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পাল্লা অতুলনীয়। তাঁর কাছে তাঁর গোলামরা যত বেশি চায়, তিনি তত বেশি দেন। খুশি হন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, বান্দা তুই যত বেশি চাইবি, আমি তত বেশি খুশি হই। রহমতের দ্বার খুলে দিই। আমি পরম করুণাময়।

কোরআনের ভাষায়, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। আর যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ (সুরা মু’মিন, আয়াত : ৬০)।

আল্লাহর কাছে চাইতে হয় দোয়ার মাধ্যমে। নতচিত্তে। অবনত মস্তকে। রব্বেকা’বা ইরশাদ করেন, ‘আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)। হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, দোয়া সব ইবাদতের মূল।

আর দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে হারাম খাদ্য, বস্ত্র, পানীয় ইত্যাদি বর্জন (পরিহার) করা। রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু (হালাল) হতে ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো। (সুরা মুমিন : ৫১)

অন্য আয়াতে তিনি ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদাত কর। (সুরা বাক্বার : ১৭২)

এর ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরাম বলেন, যারা হারাম উপার্জন, হারাম খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে, তাদের দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। চাই সে যতই দোয়া করুক না কেন।

চলুন জেনে নিই, যে ৫ ব্যক্তির দোয়া কখনোই কবুল হয় না—

হারাম খাওয়া

হারাম খাবার খাওয়া ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, হারাম খাবার, পানীয় ও বস্ত্র অর্থাৎ হারাম উপার্জনে যাপিত জীবন দোয়া কবুলের অন্তরায়। যে ব্যক্তি হারাম পরিহার করতে পারে না, তার দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায় না। বিপরীতে যার জীবিকা পবিত্র, তার দোয়া কবুল হওয়ার কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি (সা.) একদিন সাদকে (রা.) বলেন, হে সাদ, তোমার খাদ্য পবিত্র করো, তাহলে মুস্তাজাবুদ দাওয়াত (যার দোয়া কবুল হয়) হতে পারবে। (আল মুজামুল আওসাত : ৬৪৯৫)

নিরাশ হওয়া ব্যক্তি

যে ব্যক্তি দোয়া করে হতাশ হয়ে যায় তার দোয়াও আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। যদি-না সে তাড়াহুড়ো করে আর বলে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না। (বোখারি : ৬৩৪০) তাই রাসুল (সা.) বলেছেন, দোয়ার পর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করবেন।

আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া

হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। নিশ্চয়ই তোমরা সৎ কাজের জন্য আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। তা না হলে আল্লাহ তায়ালা শিগগির তোমাদের ওপর তার শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তার কাছে দোয়া করলেও তিনি তোমাদের সেই দোয়া গ্রহণ করবেন না (তিরমিজি : ২১৬৯)। তাই আল্লাহ যেসব কাজের আদেশ দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন না করলে ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না।

আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা

হাদিসে আছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করে, সে এই পাপের শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায়ই ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘কোনো মুসলিম দোয়া করার সময় কোনো গোনাহের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া না করলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে এ তিনটির কোনো একটি দান করবেন— ১. হয়তো তাকে তার কাঙ্ক্ষিত সুপারিশ দুনিয়ায় দান করবেন ২. অথবা তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন ৩. অথবা তার কোনো অকল্যাণ বা বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করবেন। এ কথা শুনে সাহাবিরা বলেন, তাহলে তো আমরা অনেক বেশি লাভ করব। তিনি (রাসুল সা.) বলেন, আল্লাহ এর চেয়েও বেশি দেন। (আত-তারগীব : ১৬৩৩)

দোয়া করার সময় মনোযোগী না থাকা

যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয় তখন পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে দোয়া করতে হবে। কারণ, অবচেতন মনের দোয়া আল্লাহ গ্রহণ করেন না। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না। (তিরমিজি : ৩৪৭৯)

সূত্র : কালবেলা

দুধ দিয়ে কফি খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতিকর, জানাল গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দুধ দিয়ে কফি খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতিকর, জানাল গবেষণা

কফি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। সকালে দিন শুরু করা হোক বা দুপুরে সতেজতা বাড়ানো, কোটি কোটি মানুষ কফির স্বাদ ও গন্ধে ভরিয়ে দেন প্রতিদিনের রুটিন। তবে অনেকেই কফির সঙ্গে দুধ মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন।

এটি শুধু স্বাদ বাড়ায় না, শরীরের ওপরও বিভিন্ন প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণা ও পুষ্টিবিদের মন্তব্য অনুযায়ী দেখা গেছে, দুধ মিশিয়ে কফি খাওয়া কিছু ক্ষেত্রে উপকারী, আবার কারও জন্য তা সমস্যার কারণও হতে পারে।

কফির সঙ্গে দুধের সংমিশ্রণ

ক্যাপাচিনো, লাতে বা মোচার মতো দুধযুক্ত কফি বিশ্বের বহু দেশে জনপ্রিয়। সাধারণত ফোম আকারে দুধ দেওয়া হয়, যা কফিকে ক্রিমি ও মসৃণ করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, দুধে থাকা প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনলের সঙ্গে মিলিত হয়ে শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে জয়েন্টে ব্যথা, আর্থ্রাইটিস বা হাড়ের সংক্রমণজনিত প্রদাহের ক্ষেত্রে এই সংমিশ্রণ উপকারী হতে পারে।

জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কফির সঙ্গে দুধ মেশালে শরীরে প্রদাহ কমে যায়। পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহরও উল্লেখ করেছেন, দুধযুক্ত কফি শরীরের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা অ্যাসিডিটি ও হজমের সমস্যাও কমায়। এ ছাড়া, দুধ কফির তীব্র স্বাদ হালকা করে এবং ক্যাফেইনের নেতিবাচক প্রভাবও কিছুটা কমাতে পারে।

কারা সতর্ক হবেন

যাদের ল্যাকটোজ সহনশীলতা কম, তাদের জন্য দুধ মিশ্রিত কফি সমস্যা তৈরি করতে পারে। দুধে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন থাকায় এটি হাড়ের জন্য উপকারী হলেও, একবার দুধযুক্ত কফি বানানোর পর পুনরায় গরম না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তা খাদ্যনালিতে জ্বালা বা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

এ ছাড়া যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে আছেন বা ডায়েটিং করছেন, তাদের জন্য দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দুধযুক্ত কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়। তবে প্রদাহ কমানো, অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় এটি উপকারি।

মোটকথা

দুধ মিশিয়ে কফি খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতিকর; এ প্রশ্নের উত্তর এককভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ওপর। সংযমী পরিমাণে কফি পান করা এবং নিজের দেহের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফি পানের অভ্যাসে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং প্রয়োজন বিবেচনা করাই মূল চাবিকাঠি।

সূত্র : হেলথলাইন ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

রক্তের গ্রুপ বলে দিতে পারে আপনি কেমন মানুষ, মিলিয়ে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
রক্তের গ্রুপ বলে দিতে পারে আপনি কেমন মানুষ, মিলিয়ে নিন

মানুষকে চেনার সবচেয়ে বড় উপায় কী, আচরণ, চিন্তা নাকি অভ্যাস? অনেকেই বলেন, একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব বুঝতে সময় লাগে। তবে অবাক করা হলেও সত্য, আপনার রক্তের গ্রুপ নাকি অনেকটাই বলে দিতে পারে আপনি কেমন মানুষ!

বিজ্ঞানভিত্তিক চূড়ান্ত সত্য না হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের কিছু মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। তাই মজার ছলে হলেও নিজের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের এই মিলটা যাচাই করে দেখতে পারেন। কে জানে, হয়তো নিজের অজানা দিকগুলোই আবিষ্কার করে ফেলবেন!

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন রক্তের গ্রুপের মানুষের ব্যক্তিত্ব কেমন—

এ গ্রুপ

রক্তের গ্রুপ ‘এ’ যাদের, তারা সাধারণত সবার সঙ্গে সহজে মানিয়ে চলতে পারেন। ভদ্রতা, দায়িত্ববোধ ও সংবেদনশীলতা; এই তিনটি গুণ তাদের ব্যক্তিত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই গ্রুপের মানুষরা খুব ভালো বন্ধু হিসেবে পরিচিত। তারা অন্যদের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করতে ভালোবাসেন এবং নিজের আগে অন্যের কথা ভাবেন। তবে একটি বিষয় হলো, অতিরিক্ত চিন্তা করার প্রবণতা থাকায় অনেক সময় মানসিক চাপেও ভোগেন তারা।

বি গ্রুপ

‘বি’ ব্লাড গ্রুপের মানুষদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তারা খুব সহজে অন্যদের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন। বন্ধুত্ব গড়তে তাদের জুড়ি মেলা ভার। তবে এই গ্রুপের মানুষরা অনেক সময় বেশি চিন্তা করেন, যা তাদের মানসিক চাপে ফেলে। কখনো কখনো তাদের মধ্যে স্বার্থপর আচরণও দেখা যায়। অন্যকে সাহায্য করার ব্যাপারে সব সময় আগ্রহী না হলেও, মনের দিক থেকে তারা খাঁটি এবং ভালো বন্ধু হিসেবে নির্ভরযোগ্য।

এবি গ্রুপ

এবি ব্লাড গ্রুপের মানুষরা সাধারণত শান্ত স্বভাবের হন। পাশাপাশি তারা বুদ্ধিমান ও স্মার্ট হিসেবেও পরিচিত। তবে সহজে কাউকে বিশ্বাস করতে না পারা তাদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। একবার কাউকে আপন করে নিলে তারা সত্যিকারের বন্ধু হয়ে ওঠেন। অন্যের বিপদে সবার আগে এগিয়ে যাওয়ার সাহসও তাদের মধ্যে থাকে।

ও গ্রুপ

‘ও’ ব্লাড গ্রুপের মানুষরা আত্মবিশ্বাসী ও ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী হন। নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। তারা খুব পরিশ্রমী এবং লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এজন্য সফলতা তাদের নাগালের মধ্যেই থাকে। এরা নিজের সেরাটা দিতে সব সময় প্রস্তুত থাকেন এবং অন্যকে খুশি রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন।

রক্তের গ্রুপ আর ব্যক্তিত্বের এই সম্পর্ক শতভাগ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত না হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তাই নিজের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের এই বৈশিষ্ট্যগুলো মিলিয়ে দেখুন, হয়তো নিজের মধ্যেই খুঁজে পাবেন নতুন কিছু দিক।

হেলথলাইন ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে