খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

রাতে এই অভ্যাসটি করলে বাড়তে পারে লিভার রোগের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৩ এএম
রাতে এই অভ্যাসটি করলে বাড়তে পারে লিভার রোগের ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

লিভারের রোগ শুধু কষ্টদায়কই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অজান্তেই রাতের বেলায় আমাদের একটি সাধারণ অভ্যাস লিভারের গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সম্প্রতি ব্রিটেনে পরিচালিত এক চিকিৎসা গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, রাতের খাবার গ্রহণের সময় ও শরীরের মেটাবলিক পরিবর্তন বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজনের মানুষের ক্ষেত্রে লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, লিভারে চর্বি জমে যাওয়ার রোগ বা ফ্যাটি লিভার বর্তমানে লিভারের সবচেয়ে সাধারণ রোগ। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত। রোগটির তীব্রতা বাড়লে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া, লিভার ক্যানসার এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের সঙ্গে অতিরিক্ত শারীরিক ওজনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও ফ্যাটি লিভারের অন্যতম প্রধান কারণ, যা লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে তোলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনের অধিকাংশ ক্যালোরি রাতের বেলায় গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ রাতে শরীরের মেটাবলিজম স্বাভাবিক সময়ের মতো কার্যকরভাবে কাজ করে না। এর ওপর অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করলে মেটাবলিক কার্যক্রম আরও দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে লিভারে চর্বি জমার হার বেড়ে যায়।

গবেষকরা জানান, ফ্যাটি লিভারের বড় সমস্যা হলো এর স্পষ্ট কোনো উপসর্গ অনেক সময় দেখা যায় না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সহজে বুঝতেই পারেন না যে তাদের লিভারে চর্বি জমছে।

তাদের ব্যাখ্যায় বলা হয়, রাতের সময় শরীর ইনসুলিনের প্রতি কম প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ সময় লিভার বেশি চর্বি তৈরি করতে শুরু করে, আর মাংসপেশি ও পেটের চর্বি টিস্যুর মেটাবলিক কার্যক্রমও তেমন কার্যকর থাকে না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এমনকি শরীরের ওজন কমানো এবং লিভারের চর্বি কমে যাওয়ার পরও রাতের বেলায় মেটাবলিজমের কার্যকারিতায় তেমন উন্নতি হয় না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের সময় মেটাবলিজমের এই স্বাভাবিক দুর্বলতাই ফ্যাটি লিভার রোগের একটি বড় কারণ।

মেডিকেল গবেষকদের মতে, ঘুমাতে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেলে শরীর তা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। ফলে গ্লুকোজ ও চর্বি লিভারে জমা হতে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

এই গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সেল মেটাবলিজম’-এ প্রকাশ হয়েছে।

সূত্র : জিও নিউজ

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ এএম
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানে চালিয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য।

সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়ে দিনভর চালানো এই অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অভিযানে ১৫ জনকে আটকের পাশাপাশি কিছু অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন।

সবশেষ গত ১৯শে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

মূলত ওই ঘটনার কারণেই মাদক, অস্ত্র ও নানা বাহিনীর জন্য আলোচিত হয়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

যদিও পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া গেছে যে, ব্যাপক আয়োজনে চালানো এই অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কিত তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি স্থায়ী কেন্দ্রের কার্যক্রম চলবে।

“আমাদের মূল ফোকাস ছিল এই বিশাল অংশে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি৷ আজ থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি ক্যাম্প এখানে কাজ করবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তাবিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে, আমরা কামান দেব,” সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।

অভিযানে যা যা হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে, লিংক রোডের উত্তর পাশে বিস্তৃত তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুর নামক এলাকাটি অবস্থিত।

পাহাড় কেটে বানানো এই খাসজমির ওপর গড়ে ওঠা এলাকাটি কার্যত ‘সন্ত্রাসীদের’ কয়েকটি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেখানে প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ বাস করলেও তাদের জন্য রয়েছে আলাদা পরিচয়পত্র।

মূলত নিম্নআয়ের বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষরা কম খরচে বসবাসের জন্য এই এলাকায় বাস করেন। এর বাইরে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ছিন্নমূল মানুষের উপস্থিতি।

আজ ভোরেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। র‍্যাবের গাড়ি বহরের সাথে একাধিক অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে ঢুকেই প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ভেতরে ছোটো কালভার্ট ভেঙ্গে রাখার পাশাপাশি রাস্তায় ট্রাক আড়াআড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক স্পিড ব্রেকার দিয়ে রাখা হয়েছে।

“এগুলো সরিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে,” বলেছেন তিনি।

এর আগে যৌথ বাহিনীর সদস্য একাধিক ভাগে ভাগ হয়ে ভোরে অভিযান শুরু করেন। একই সাথে ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে বসানো হয় চেকপোস্ট।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার উদাহরণ থাকায় এবার সার্বক্ষণিক ড্রোন ব্যবহার করা হয় নজরদারির জন্য।

কিন্তু অভিযানে ওই এলাকায় সন্ত্রাসের জন্য যারা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছিল, তাদের কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা গেছে কি-না সে সম্পর্কে পুলিশের দিক থেকে কিছু জানানো হয়নি।

অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেছেন, পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

জঙ্গল সলিমপুর আলোচনায় কেন

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে কেটে তৈরি হওয়া এলাকাটিতে প্লট বাণিজ্য, অস্ত্র ও মাদক নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এবার ২০২৪ সালের অগাস্টে সরকার পরিবর্তনের পর দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গত উনিশে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে র‍্যাবের এক সদস্য নিহত হন।

এ ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও আর দুশো জন অজ্ঞাত পরিচয়ধারীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে তাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও র‍্যাব তখন বলেছিল, এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন গ্রুপ। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ কিংবা রিদোয়ান গ্রুপ।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান তখন র‍্যাবের ওপর হামলার জন্য ইয়াসিন গ্রুপকে অভিযুক্ত করেছিলেন।

স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ ছিল মশিউর-গফুর গ্রুপের হাতে এবং এরপর তা চলে যায় রোকন গ্রুপের হাতে।

অন্যদিকে আলীনগর নিয়ন্ত্রণ করতো ইয়াসিন গ্রুপ। কিন্তু এই ইয়াসিন গ্রুপ সম্প্রতি রোকন গ্রুপকে সরিয়ে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০২২ সালে একবার র‍্যাবের সাথে ‘সন্ত্রাসীদের’ গোলাগুলি হয় এবং ওই বছরই সলিমপুরে অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের লোকদের বাধা দেওয়া হয়। একই বছর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে গেলে আলীনগরের ‘সন্ত্রাসীরা’ পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

ওই বছরই জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের শাখা, মডেল মসজিদ, স্পোর্টস ভিলেজ ও নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে না থাকায় প্রকল্পগুলোর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এখন পুলিশ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, আজকের যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ করে র‍্যাব ও পুলিশের দুটি স্থায়ী কেন্দ্র নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে ওই এলাকায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ভ্যাট ফাঁকির নতুন কৌশল কী ‘শূন্য রিটার্ন’?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ এএম
ভ্যাট ফাঁকির নতুন কৌশল কী ‘শূন্য রিটার্ন’?

কর ছাড়ের বড় সুবিধা পাওয়ার পরও বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার এক অভিনব কৌশল উন্মোচন করেছে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ভ্যাটযোগ্য পণ্য বিক্রি করেও তা গোপন রেখে ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিল করেছে এমন ৯৫৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হুইলচেয়ার, কমোড চেয়ার ও পোর্টেবল চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে আমদানি পর্যায়ে কোনো শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয় না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিপণনের ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও তা বছরের পর বছর ফাঁকি দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের ক্রয়-বিক্রয় তথ্য যাচাই করে ভ্যাট ফাঁকির এই বিশাল চিত্র পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির বিরুদ্ধে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সুদ ও জরিমানা যোগ করলে এই ফাঁকির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জনবল সংকট ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন, রাজস্ব আদায়সহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের ১২টি কমিশনারেট অফিসকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই শেষে ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটনসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’

আমদানিতে শুল্কছাড়ের বিশাল সুবিধা পাওয়ার পরও পণ্য বিক্রির তথ্য গোপন করে ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ করছে আমদানিকারকরা। ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের এমন অভিনব জালিয়াতি ধরা পড়েছে। হুইলচেয়ার ও কমোড চেয়ারের মতো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রিতে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর তা এড়িয়ে গেছে

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই চিহ্নিত ২১টি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে, জনবল সংকটের কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিস্তারিত তদন্ত ও ভ্যাট আদায়ের দায়িত্ব ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ১২টি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকে দেওয়া হয়েছে। তাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যা বলছে

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত হুইলচেয়ার, হাঁটার লাঠি বা ছড়ি এবং পোর্টেবল কমোড চেয়ারের মতো পণ্যগুলো প্রায় শতভাগ আমদানি-নির্ভর। এসব পণ্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মাধ্যমে দেশে আসে এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে এই খাতে মোট ৯৫৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদের আমদানি তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দু-একটি বাদে প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিল করে আসছে। যদিও এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা সব ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতি পান, তবে নিয়মানুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র ভ্যাট দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই স্থানীয় পর্যায়ের প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ না করে নিয়মিত শূন্য রিটার্ন জমা দিচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ২১টি প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করেছে, যার আর্থিক পরিমাণ ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৯০৭ টাকা।

চিহ্নিত ২১ আমদানিকারক এবং ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের চিত্র

গোয়েন্দা অনুসন্ধানে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। ২০২০-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর ‘শূন্য রিটার্ন’ দাখিল করে মোট ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৯০৭ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে ২১টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। ভ্যাট গোয়েন্দাদের মতে, সুদ ও জরিমানা যোগ করলে এই ফাঁকির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ট্রেড ভিশন ও ইউনিমিড লিমিটেডের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কড়া নজরদারিতে এখন বেরিয়ে আসছে বড় বড় রাঘববোয়ালদের নাম

শীর্ষ ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ট্রেড ভিশন লিমিটেড, ১৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬ টাকা; ইউনিমিড লিমিটেড, ১৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৮ টাকা; তাজ ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেড, ৫ কোটি ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮২২ টাকা; এসএস এন্টারপ্রাইজ, ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৪২ টাকা; মেডিকিট ইন্টারন্যাশনাল, ২ কোটি ৭২ লাখ ২৬ হাজার ৩০৯ টাকা; রুশদা এন্টারপ্রাইজ, ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪১ টাকা; ইউনাইটেড সার্জিক্যাল লিমিটেড, ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬২৭ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ফাঁকির পরিমাণ

তালিকায় থাকা আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপরা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, ৮১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০২ টাকা; ইউরো মিলেনিয়াম ট্রেডিং, ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৩৬৩ টাকা; দেশ মিডিকা, ৯১ লাখ ১১ হাজার ৬৪৯ টাকা; ইয়ামিন টেক ইন্টারন্যাশনাল, ৮৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৪৩ টাকা; মেহেদী সার্জিক্যাল স্টোর, ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৮৬১ টাকা; সুপার হেলথ কেয়ার, ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৫৯৭ টাকা; স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সিস্টেম, ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ টাকা এবং ম্যাক্সটন এলাইন্স, ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৫০১ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

এছাড়া মেসার্স ট্রেড ফেয়ার, ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৯০২ টাকা; সাজ্জাদ ইনট্রাস্ট ট্রেড ২৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫ টাকা; নুসাইবা ট্রেডিং, ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৯০৭ টাকা; বায়োটেক সার্ভিসেস, ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৭ টাকা; মেডিকম, ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭০১ টাকা; মন্ডল সার্জিক্যাল অ্যান্ড ট্রেডিং, ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫৯ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বা পরিশোধ করেনি।

অবশিষ্ট ৯৩২ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, জনবল ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট অফিসকে দেওয়া হয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট নিরূপণ, বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে।

জনবল সংকটের কারণে অবশিষ্ট ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের তদন্ত ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই শেষে মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বড় ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের বিআইএন স্থগিত বা বাতিলসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও জেল-জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনবিআর

কমিশনারেট অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের তালিকা— ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট : ৪২০টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট : ১৬৮টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট : ১৪৫টি প্রতিষ্ঠান, যশোর ভ্যাট কমিশনারেট : ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট : ৪৭টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেট : ৪১টি প্রতিষ্ঠান, রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেট : ১৪টি প্রতিষ্ঠান, খুলনা ভ্যাট কমিশনারেট : ১২টি প্রতিষ্ঠান, কুমিল্লা ও রংপুর ভ্যাট কমিশনারেট : প্রতিটি ৯টি করে প্রতিষ্ঠান, সিলেট ভ্যাট কমিশনারেট : ৭টি প্রতিষ্ঠান এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিট : ৩টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিরূপণ, বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ কী?

‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ বা ‘নিল রিটার্ন’ বলতে এমন একটি ভ্যাট বিবরণীকে বোঝায়, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মাসে তাদের পরিশোধযোগ্য ভ্যাটের পরিমাণ ‘শূন্য’ দেখায়। অর্থাৎ, ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা থেকে সরকারের কাছে কোনো ভ্যাট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি— এমন তথ্য দিয়েই এই রিটার্ন দাখিল করা হয়।

ভ্যাট আইন অনুযায়ী, যদি কোনো মাসে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভ্যাটযোগ্য পণ্য বিক্রি না হয়, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে অথবা প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূন্য হারের পণ্য নিয়ে কাজ করে, তবেই তারা শূন্য রিটার্ন দাখিল করতে পারে। এক্ষেত্রে ভ্যাট জমা দেওয়ার দায় না থাকলেও প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া প্রতিটি বিআইএনধারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে শূন্য রিটার্ন জমা দেয়। এটি মূলত ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার একটি অপকৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ভ্যাট গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ভ্যাট ফাঁকিতে শাস্তি কী?

ভ্যাট ফাঁকি দিলে মূলত ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ‘কাস্টমস আইন, ১৯৬৯’ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আওতায় কোনো প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ ভ্যাট গোপন বা ফাঁকি দিয়েছে, তা আদায়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই জরিমানার পরিমাণ ফাঁকি দেওয়া করের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। এছাড়া ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের ওপর মাসিক ভিত্তিতে সুদ বা সারচার্জ আরোপের বিধানও রয়েছে।

গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন (বিআইএন) স্থগিত বা বাতিল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ কিংবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও হিসাবপত্র জব্দ করতে পারে। এমনকি সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড— উভয় ধরনের শাস্তির আদেশ দিতে পারেন।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

শবে কদরের আলামত কী? মহানবী (সা.) জানিয়েছেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৯ এএম
শবে কদরের আলামত কী? মহানবী (সা.) জানিয়েছেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

‘শবেকদর’ ফার্সি শব্দগুচ্ছ। শব শব্দের অর্থ রাত্রি, আর কদর শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, সমাদর, খাতির, ভাগ্য, পরিমাণ এবং তাকদির নির্ধারণ করা।

আরবিতে এই রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। আল্লাহ যে রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেছেন, সে রাতকে বরকতময় করেছেন। সেটিই কদরের রাত বা শবেকদর। রমজান মাসের শেষ দশদিনের যে কোনো বেজোড় রাত্রে এই ‘শবেকদর’ ঘটে।

কিন্তু ঠিক কোন রাতে শবেকদর কোরআনে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে কদর যে রমজান মাসে, তার নির্দেশ স্পষ্ট। সুরা বাকারায় বলা হয়েছে, কোরআন রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে (আয়াত : ১৮৭) এবং সুরা কদরে বলা হয়েছে, কোরআন কদরের রাতে নাজিল হয়েছে (আয়াত : ১)।

নবীজি (সা.) লাইলাতুল কদর লাভের আশায় একবার রমজানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করেন। এরপর কয়েকবার ইতিকাফ করেন মাঝের দশ দিন। এরপর একসময় শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতে শুরু করেন এবং ইরশাদ করেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করো। (বোখারি : ২০২০, লাতাইফুল মাআরিফ : পৃষ্ঠা ৩৫৩)

এদিকে, রোজার শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধানের পাশাপাশি নবীজি লাইলাতুল কদরের রাত চেনার কিছু আলামতও বলে দিয়েছেন। বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে কদরের রাত চেনার কিছু আলামত জেনে নিই—

১. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, …ওই রাতের আলামত বা লক্ষণ হলো, রাত শেষে সকালে যে সূর্য উদিত হবে, তা উজ্জ্বল হবে। কিন্তু সে সময় (উদয়ের সময়) তার কোনো তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)। (মুসলিম : ১৬৭০)

২. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, লাইলাতুল কদরের রাতটি হবে প্রফুল্লময়। না গরম, না ঠাণ্ডা। সেদিন সূর্য উঠবে লালবর্ণে, তবে দুর্বল থাকবে। (ইবনু খুযাইমাহ : ২১৯২)

৩. উবাদাহ ইবনু সামাত (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, লাইলাতুল কদর শেষ দশ রজনীতে রয়েছে। যে এই রাত্রে নিজের (আমলের) হিসাব নিতে দাঁড়াবে, আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের এবং পরের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। আর এই রাত্রি আছে বেজোড় রাত্রিগুলোতে: নবম, সপ্তম, পঞ্চম, তৃতীয় এবং শেষ রাত।

নবীজি আরও বলেন, লাইলাতুল কদরের আলামত হচ্ছে, স্বচ্ছ রাত, যে রাতে চাঁদ উজ্জ্বল হবে, আবহাওয়ায় প্রশান্তি (সাকিনাহ) থাকবে। না ঠাণ্ডা, না গরম। সকাল পর্যন্ত (আকাশে) কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না। সে রাতের চাঁদের মতই সূর্য উঠবে (তীব্র) আলোকরশ্মি ছাড়া। শয়তান সেই সময় বের হয় না। (মুসনাদ আহমাদ : ২২৭৬৫)

৪. এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, লাইলাতুল কদর উজ্জ্বল একটি রাত। না গরম, না ঠাণ্ডা। সে রাতে কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না। (মাজমাউজ জাওয়ায়িদ : ৩/১৭৯; সহিহ আল-জামিঈ, হাদিস : ৫৪৭২)

৫. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, লাইলাতুল কদর রয়েছে সপ্তম, অথবা নবম, অথবা বিংশ, যে রাতে (পৃথিবীর) নুড়ি পাথরের চেয়ে বেশি সংখ্যক ফেরেশতাগণ জমিনে নেমে আসেন। (মাজমাউল জাওয়ায়িদ, হাদিস : ৩/১৭৮; সহিহ আল-জামি, হাদিস : ৫৪৭৩)

সূত্র : কালবেলা