খুঁজুন
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কথায় কথায় হেসে লুটোপুটি খান? শরীরে তখন ঠিক কী কী ঘটে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
কথায় কথায় হেসে লুটোপুটি খান? শরীরে তখন ঠিক কী কী ঘটে জানুন

ব্যস্ত শহুরে জীবন, কাজের চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা; সব মিলিয়ে আজকের মানুষের জীবনে হাসি যেন দিন দিন কমে আসছে। অথচ আমাদের আশপাশেই এমন কিছু মানুষ থাকেন, যারা ছোট্ট কোনো কথাতেই হেসে ওঠেন, আড্ডাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন, নিজেরাও থাকেন হালকা মেজাজে।

অনেকেই তাদের দেখে মজা করে বলেন, ‘কথায় কথায় হাসে!’ কিন্তু এই সহজাত অভ্যাসটাই যে শরীর ও মনের জন্য কতটা উপকারী, তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না।

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, প্রাণ খুলে হাসা শুধু আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি শরীরের ভেতরে এক ধরনের প্রাকৃতিক থেরাপির মতো কাজ করে। হাসির প্রতিটি মুহূর্তে শরীরের ভেতরে শুরু হয় একের পর এক ইতিবাচক পরিবর্তন, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক, আপনি যখন হাসেন তখন আপনার শরীরে ঠিক কী কী ঘটে।

১. পেশি শিথিল হয়, ব্যথা কমে

আপনি যখন প্রাণ খুলে হাসেন, তখন শরীরের শক্ত হয়ে থাকা পেশিগুলো ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসির সময় শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক নির্গত হয়, যা প্রাকৃতিক ‘পেইনকিলার’ হিসেবে কাজ করে। ফলে দীর্ঘদিনের ব্যথা বা অস্বস্তির ক্ষেত্রে সহ্যশক্তি বেড়ে যায়। যারা বেশি হাসেন, তাঁদের শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাভাবিক ও কম জড়তাপূর্ণ থাকে।

২. হার্টের জন্য উপকারী

কথায় কথায় হাসলে সবচেয়ে বেশি উপকার পায় হৃদপিণ্ড। হাসির ফলে রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, যার কারণে রক্ত চলাচল আরও মসৃণ হয়। এতে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। সহজভাবে বলতে গেলে, হাসি আপনার হার্টের জন্য এক ধরনের অদৃশ্য সুরক্ষা কবচের মতো কাজ করে।

৩. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়

হাসি শুধু ঠোঁটের ব্যায়াম নয়, এটি মস্তিষ্কের জন্যও অত্যন্ত কার্যকর। হাসলে মস্তিষ্কে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, ফলে মানসিক চাপ ও অবসাদ দূরে থাকে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে। যারা নিয়মিত হাসিখুশি থাকেন, তাঁদের মনে রাখার ক্ষমতা এবং কাজে মনোযোগ অন্যদের তুলনায় বেশি, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. মেদ ঝরানোর সহজ উপায়

জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে যাদের অনীহা, তাদের জন্য সুখবর হলো, হাসিও হতে পারে শরীরচর্চার একটি বিকল্প। সমীক্ষা বলছে, টানা এক মিনিট প্রাণ খুলে হাসলে যে পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হয়, তা প্রায় দশ মিনিট ব্যায়ামের সমান। পাশাপাশি হাসি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বাড়ায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।

৫. ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে

যারা বেশি হাসেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হয়। লাফিং থেরাপির মাধ্যমে শরীরে অ্যান্টিবডির উৎপাদন বাড়ে, যা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এছাড়া যারা অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য হাসি হতে পারে একটি প্রাকৃতিক সমাধান। হাসি মনকে প্রশান্ত করে এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করে।

শেষ কথা

কথায় কথায় হাসেন বলে কেউ যদি আপনাকে মজা করে, তাতে মন খারাপ করার কিছু নেই। বরং গর্বের সঙ্গেই বলতে পারেন, এই হাসিই আপনার সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘ জীবনের একটি বড় শক্তি। কারণ, আপনি যখন হাসছেন তখন আসলে আপনি নিজের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার কাজটাই করে যাচ্ছেন।

সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বালিয়াগট্টি বাজার ও সালথা বাজার এলাকায় চলমান ব্রিজ নির্মাণকাজের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ শুরু করায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

ফরিদপুর-সালথা সড়কটি জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের কারণে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ থাকায় এখন যাত্রীদের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প ও সংকীর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।

সালথা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মারুফ বলেন, “আগে কয়েক মিনিটে বাজারে আসা যেত, এখন ঘুরে আসতে অনেক সময় লাগে। পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসায় বড় ক্ষতি হচ্ছে।”

স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, প্রতিদিন কলেজে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “সকালে সময়মতো বের হলেও যানজটের কারণে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বৃষ্টির দিনে কাঁচা বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

এদিকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা। সরু বিকল্প রাস্তায় বড় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে ট্রাক ও বাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও বিকল্প সড়কের কারণে দ্রুত চলাচল করতে পারছে না।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, “রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি ঘোরাতে সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় আটকে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন কাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে আগে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তারা দ্রুত সাময়িক চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “নির্মাণাধীন ব্রিজের আশপাশে বিকল্প রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে কেউ জায়গা দিলে দ্রুত বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হবে।”

ফরিদপুরে বিকল ট্রাক সারতে গিয়ে বাসের চাপায় ঝরে গেল বাবা-ছেলের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিকল ট্রাক সারতে গিয়ে বাসের চাপায় ঝরে গেল বাবা-ছেলের প্রাণ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন ট্রাকচালক ও তার বাবা। নিহত দুইজন সম্পর্কে পিতা-পুত্র বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) ভোর রাত ৪টার দিকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোলপ্লাজার সামনে বগাইল ও বামনকান্দা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৫০) ও তার ছেলে ইয়াকুব আলী (২৬)। ইয়াকুব মালবাহী ট্রাকটির চালক ছিলেন এবং তার বাবা ইউসুফ আলী হেলপার হিসেবে সঙ্গে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী একটি মালবাহী ট্রাক ভোররাতে বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির পিছনের একটি চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে সড়কের পাশে ট্রাকটি থামিয়ে চালক ইয়াকুব ও তার বাবা ইউসুফ আলী মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করেন। এসময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত বাস পেছন দিক থেকে এসে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ছেলে ট্রাকের ড্রাইভার এবং বাবা হেলপার ছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এই ৬ গুণ থাকলে বুঝবেন আপনি জান্নাতি

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
এই ৬ গুণ থাকলে বুঝবেন আপনি জান্নাতি

পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী জীবন শেষে মুমিনের একমাত্র কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভ করা। জান্নাত এমন এক চিরসুখের নীড়, যার বিশালতা আসমান ও জমিনের সমান এবং যা কেবল মুত্তাকিদের জন্যই প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সুরা আল ইমরানের ১৩৩ থেকে ১৩৬ নম্বর আয়াতে মুত্তাকিদের বিশেষ কিছু গুণের কথা বর্ণনা করেছেন, যা অর্জন করতে পারলে কেয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে মাগফেরাত বা ক্ষমা এবং পরম শান্তির জান্নাত নিশ্চিত করা সম্ভব।

আলেমদের মতে, কোরআন-হাদিসে মুত্তাকিদের অসংখ্য গুণ থাকলেও এই আয়াতে বর্ণিত ছয়টি বৈশিষ্ট্য একজন ঈমানদারকে জান্নাতের পথে অনেক দূর এগিয়ে দেয়। নিচে সেই গুরুত্বপূর্ণ ৬টি গুণ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সচ্ছল ও অসচ্ছল সর্বাবস্থায় দান করা

জান্নাতি মানুষের প্রথম গুণ হলো তারা কেবল সচ্ছল থাকলেই দান করেন না, বরং অভাব বা টানাটানির সময়েও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে। তাদের দানের মূল উদ্দেশ্য থাকে কেবল আল্লাহকে খুশি করা, মানুষের বাহবা পাওয়া নয়। বিশেষ করে গোপনে দান করা মুত্তাকিদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য, যেখানে এক হাত দান করলে অন্য হাতও তা টের পায় না। আল্লাহর কাছে দানের পরিমাণের চেয়ে দাতার নিষ্ঠা বা এখলাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. ক্রোধ সংবরণ করা

রাগ বা ক্রোধ মানুষের হিতাহিত জ্ঞান কেড়ে নেয় এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। জান্নাতি মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। যারা আল্লাহর ভয়ে নিজের রাগকে হজম করে ফেলে, তারা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় বান্দা। নবী কারীম (সা.)-এর মতে, প্রকৃত বীর সেই নয় যে অন্যকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়, বরং সেই ব্যক্তিই প্রকৃত বীর যে রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।

৩. মানুষকে ক্ষমা করা

অন্যের ভুল বা অন্যায়কে ক্ষমা করার জন্য একটি বড় কলিজার প্রয়োজন হয়। ছোট মনের মানুষ কখনো ক্ষমা করতে পারে না। জান্নাতি ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন যে, কিয়ামতের দিন যদি তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা পেতে চান, তবে দুনিয়াতে আল্লাহর বান্দাদের ক্ষমা করা শিখতে হবে। মানুষকে ক্ষমা করলে নিজের মন হালকা ও নির্ভার হয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার নিশ্চিত হয়।

৪. এহসান বা পরোপকার করা

মুত্তাকিরা সর্বদা মানুষের উপকার করার মানসিকতা লালন করেন। মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর সবচেয়ে বড় আমল হলো মানুষের উপকার করা এবং সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো মানুষের পিছে লাগা বা কারও ক্ষতি করা। ঈমানদার ব্যক্তি কখনো অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করে না, বরং সর্বদা মানুষের কল্যাণকামী হয়ে এহসান বা অনুগ্রহ করে থাকে।

৫. গোনাহের পর দ্রুত তওবা করা

মানুষ হিসেবে ভুল বা গুনাহ হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু মুত্তাকি ব্যক্তির বিশেষত্ব হলো, কোনো অন্যায় বা অশ্লীল কাজ করে ফেললে সাথে সাথে তার আল্লাহর কথা মনে পড়ে যায় এবং তিনি বিলম্ব না করে কায়মনোবাক্যে তওবা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফ করার নেই।

৬. গোনাহের পুনরাবৃত্তি না করা

একবার ভুল করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর মুত্তাকি ব্যক্তি সেই অপরাধের পথে আর পা বাড়ান না। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে সংশোধন করেন এবং সেই পাপে লিপ্ত না হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

যাদের মধ্যে এই ছয়টি গুণের সমন্বয় থাকবে, কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য মাগফেরাত এবং এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত হবে এবং সেখানে তারা চিরকাল বসবাস করবেন। আসুন, আমরা নিজেদের জীবনকে এই গুণগুলোর আলোকে সাজানোর চেষ্টা করি।

ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর বয়ান অবলম্বনে