খুঁজুন
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

টক্সিক পরিবার: যে ট্রমা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ
টক্সিক পরিবার: যে ট্রমা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়

আপনি কেমনভাবে বড় হয়েছেন, তা জীবনের পরবর্তী ধাপেও প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা এখনও বিতর্ক করেন, প্রকৃতি না লালন-পালনের মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু স্পষ্টভাবে বলা যায়, পরিবার এবং বেড়ে ওঠার পরিবেশ আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কঠিন পরিবেশে বড় হওয়া অনেক সময় এমন মানসিক ও আবেগগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যা অন্যরা পুরোপুরি বুঝতে পারে না। নিজের অতীত ও তার প্রভাব বোঝার চেষ্টা করলে আপনি আরও শান্ত, আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন। একবার এ বিষয়টি বুঝে নিলে এবং গ্রহণ করলে, অতীতের ছায়া থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কঠিন শৈশব কাটিয়ে ওঠা সময়সাপেক্ষ হতে পারে, কিন্তু থেরাপি এবং সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
এখানে কিছু ট্রমা উল্লেখ করা হলো, যা টক্সিক পরিবারে বড় হওয়ার কারণে দেখা দিতে পারে

নিজের পরিচয় বোঝা যায় না : যদি আপনার শৈশব অস্থির হয় বা সবসময় অন্যদের চাহিদা আগে পূরণ করতে হতো, তবে হয়তো আপনি জানেন না আসলে আপনি কে। এ ধরনের পরিবেশে মানুষ নিজের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে না এবং নিজের মত করে বাঁচতে ভয় পায়।

সবাইকে দূরত্বে রাখেন : যদি পরিবারে আবেগিক সংযোগ কম থাকে, তাহলে বড় হয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন হতে পারে। অনুভূতি প্রকাশ করা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, তাই মানুষকে দূরে রাখা যায়, যাতে হয়তো হতাশা বা আঘাত কম হয়।

সবসময় সাবধান থাকা : টক্সিক পরিবেশে আবেগিক অস্থিরতা সাধারণ। রাগ বা মানসিক সমস্যা থাকা অভিভাবকের মধ্যে বড় হওয়া মানে আপনি ছোট ভুলেও ভয় পেতে পারেন। তাই অনেক সময় আপনি দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলেন এবং নিজের মত কথা বলতে ভয় পান।

সবকিছুর জন্য নিজেকে দোষারোপ করা : কিছু পরিবারে অভিভাবক ছোটখাটো ভুলেও সন্তানকে দোষারোপ করেন। এতে আপনি মনে করতে পারেন সব দায়িত্বই আপনার কাঁধে, এমনকি যখন সেটা যুক্তিসঙ্গত নয়।

ব্যর্থতা সহ্য করা কঠিন : যদি অভিভাবক কঠোর এবং সর্বদা নিখুঁত হওয়ার আশা রাখতেন, তাহলে ব্যর্থতা মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। বড় হয়ে এমন মানুষ হয়তো সবসময় নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ভুল মেনে নিতে ভয় পান।

অন্যের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে ভয় পাওয়া : যদি বাড়িতে সবসময় ঝগড়া চলত, আপনি বড় হয়ে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলতে পারেন। নিজের মতামত প্রকাশ করা বা অন্যের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে।

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালে ক্লান্তি অনুভব করা : বড় হয়ে টক্সিক পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক বা আবেগিক ক্লান্তি তৈরি করতে পারে। মূলত পরিবার হওয়া উচিত সমর্থন ও সান্ত্বনার জায়গা, কিন্তু টক্সিক পরিবেশে এটি প্রায়ই বোঝা বা চাপের মতো মনে হয়।

টক্সিক পরিবারের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা জীবনের নানা ধাপকে প্রভাবিত করে। নিজের অতীতকে বোঝা ও গ্রহণ করা, থেরাপি বা সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা অর্জন সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে ভালোবাসা, সীমা নির্ধারণ করা এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্মরণ রাখুন, অতীত আপনাকে সংজ্ঞায়িত করে না – আপনি এখনও নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।

সূত্র : Relationship Rules

ফরিদপুরে দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল ছেড়ে ইরানের সমর্থক হলেন ২ তরুণ

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল ছেড়ে ইরানের সমর্থক হলেন ২ তরুণ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল দল ছেড়ে এবার ইরানে সমর্থক হলেন ২ তরুণ।

বুধবার (১৭ জুন) সরকারি কে.এম কলেজ মাঠে এই ঘটনা ঘটে। এসময় তাদের ইরানের পতাকা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরা হলেন ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ইউনিয়নের সবুজ মাতুব্বর ও পৌরসদরের কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার মো. ফরহাদ হোসেন।

এই বিষয়ে সবুজ মাতুব্বর বলেন, আমি ছোট সময় থেকে ব্রাজিলের সমর্থক ছিলাম। আমাদের দেখলেই সবাই সেভেন আপ বলে অপমান করে। আর ৬ আসরে ব্রাজিল দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এতো বাজে যে কোথাও বুক ফুলিয়ে কথা বলতে পারি না। আর আমি দেখলাম একজন মুসলিম হয়ে মুসলিম দলকে সমর্থন করা উচিত তাই আমি এবার ইরানের সমর্থক হলাম।

এই বিষয় ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি বাসা থেকেই বের হলে বলে সেভেন আপ, সেভেন আপ। চায়ের দোকানে চা চাইলে চা না দিয়ে বলে সেভেন আপ খান। আমি আর এই দলে থাকতে চাই না, তবে ভবিষ্যৎ দিনে কোন দলের সমর্থক হবো এখনও সিদ্ধান্ত নেই নি। এসময় আমি স্থানীয় সাংবাদিক সোহাগ মাতুব্বর ভাইয়ের কাছ থেকে শপথ বাক্য পাঠ করি।

ফরিদপুরে ১২০ পরিবার পেল ‘ফ্যামিলি কার্ড’

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১২০ পরিবার পেল ‘ফ্যামিলি কার্ড’

নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ১২০টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদীরদি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে ফরিদপুর জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

দেশের ২০টি জেলার ২০টি উপজেলায় একযোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১২০ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ১০ জন সুবিধাভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেন অতিথিরা। বাকি কার্ডগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। তবে উদ্বোধনের দিন থেকেই সকল সুবিধাভোগী মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেনা জেরিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রুবাইয়াত মো. ফেরদৌস।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কারিজুল ইসলাম, বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টুসহ স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিভিন্ন সেবার আওতায় আরও সহজে যুক্ত হতে পারবে। পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নেও এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফরিদপুরে ৩ দিন ধরে শিশু নিখোঁজ, ইমো বার্তায় তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৩ দিন ধরে শিশু নিখোঁজ, ইমো বার্তায় তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে সামিউল মল্লিক (৯) নামের এক শিশু। বাড়ি থেকে বাইসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এদিকে নিখোঁজের একদিন পর স্বজনদের ইমো নাম্বরে ম্যাসেজ দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিখোঁজ সামিউল মল্লিক সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল মল্লিকের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৭টার দিকে সামিউল একটি বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে সামিউলের চাচাতো চাচা রবিন মল্লিকের ইমো নম্বরে একটি বার্তা আসে। সেখানে সামিউলকে ফেরত পেতে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

নিখোঁজ শিশুর স্বজনরা জানান, সামিউলের সন্ধান পেতে তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সামিউলকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেন, শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।