খুঁজুন
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র, ১৪৩২

এসি ছাড়াই গরমে ঠান্ডা থাকবে ঘর—জানুন ১৫টি সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:২০ এএম
এসি ছাড়াই গরমে ঠান্ডা থাকবে ঘর—জানুন ১৫টি সহজ উপায়

গ্রীষ্ম এলেই বাংলাদেশের বেশিভাগ ঘরবাড়িতে শুরু হয় তাপের সঙ্গে লড়াই। দুপুরের প্রখর রোদ, গরমে ভারী হয়ে থাকা বাতাস আর ঘরের ভেতর জমে থাকা তাপ অনেক সময় জীবনযাপনকে অস্বস্তিকর করে তোলে।

অনেকেই এই সমস্যার সমাধান হিসেবে এয়ার কন্ডিশনার বা এসির কথা ভাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবার পক্ষে এসি কেনা বা নিয়মিত চালানো সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ বিলের চাপ, পরিবেশগত প্রভাব এবং যন্ত্রের খরচ—সব মিলিয়ে অনেকেই বিকল্প উপায় খুঁজে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘর ঠান্ডা রাখতে সব সময় এসির প্রয়োজন হয় না। ঘরের নকশা, বাতাস চলাচল, রঙ, আসবাবপত্রের ধরন কিংবা দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস বদলালেই অনেক ক্ষেত্রে ঘরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এমন কিছু সহজ কৌশল আছে, যেগুলো অনুসরণ করলে বড় অঙ্কের খরচ ছাড়াই ঘরকে অনেকটা শীতল রাখা যায়। একই সঙ্গে এসব পদ্ধতি পরিবেশবান্ধবও।

নিচে এমনই ১৫টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো, যেগুলো অনুসরণ করলে গরমের দিনেও ঘরকে তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।

১. জানালা কখন খুলবেন, কখন বন্ধ রাখবেন

ঘরের জন্য প্রাকৃতিক আলো জরুরি হলেও গরমকালে সূর্যের আলো যত বেশি ঢুকবে, ঘর তত গরম হবে। তাই দিনের বেলায় বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তরমুখী জানালা বন্ধ রাখা ভালো।

রান্না করলে ঘরের তাপমাত্রা বাড়ে। তাই গরমে এমন খাবার খাওয়া ভালো যা অল্প সময়েই রান্না হয়।

১২. বৈদ্যুতিক যন্ত্র

মোবাইল চার্জার, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ অনেক যন্ত্র তাপ উৎপন্ন করে।

ব্যবহার শেষে প্লাগ খুলে রাখা ভালো।

১৩. গাছ লাগানো

বাড়ির আশপাশে বড় গাছ থাকলে তা প্রায় ৭০ শতাংশ রোদ আটকে দিতে পারে।

ঘরের ভেতরে মানিপ্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা বা অ্যারিকা পাম রাখা যেতে পারে।

১৪. ডিহিউমিডিফায়ার

ডিহিউমিডিফায়ার ঘরের আর্দ্রতা কমায়। বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি ঘরকে তুলনামূলক আরামদায়ক করে।

১৫. শরীর ঠান্ডা রাখা

ঘর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার খাওয়া, ঠান্ডা পানিতে গোসল এবং সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরা এতে সহায়ক।

সব মিলিয়ে, কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন ও সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে এসি ছাড়াও ঘরকে অনেকটা শীতল রাখা সম্ভব। এতে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়, তেমনি পরিবেশও থাকে নিরাপদ।

সূত্র : বিবিসি

‘বর্তমান সংসদ দেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
‘বর্তমান সংসদ দেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা জাতীয় সংসদ আবারও কার্যকর হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা মোড়ে বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় অবশেষে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র, রাজনীতি ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদ আবারও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। এই সংসদ দেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।

তিনি আরও বলেন, ভোটারদের হাতের কালি শুকানোর আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন, যা বিএনপির জনকল্যাণমুখী রাজনীতির প্রমাণ।

ইফতার মাহফিলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, যুবদল নেতা তৈয়াবুর রহমান মাসুদসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে ‘মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র’ দাখিলের অভিযোগ, গণপূর্তের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম
আদালতে ‘মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র’ দাখিলের অভিযোগ, গণপূর্তের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আদালতে অসত্য প্রত্যয়নপত্র দাখিল করে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাসিন্দা মো. রকি হাসান।

গত ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রেরিত ওই আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা—মো. আঃ রহমান (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ই/এম), বর্তমানে ঢাকা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১০ এ কর্মরত এবং শিরিনা পারভীন (উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ই/এম), ফরিদপুরে কর্মরত—তার দায়ের করা একাধিক মামলায় আদালতে অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, যশোরের বিজ্ঞ আমলী আদালতে দায়ের করা পি-৫৭১/২৩ ও পি-৯২৭/২৪ নম্বর দুটি মামলার শুনানির সময় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি প্রত্যয়নপত্র আদালতে উপস্থাপন করেন। ওই প্রত্যয়নপত্রে দাবি করা হয় যে, ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর (শুক্রবার) তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

তবে অভিযোগকারী মো. রকি হাসানের দাবি, বাস্তবে ওই দিন তারা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং আদালতে দাখিল করা প্রত্যয়নপত্রটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বারবার এমন অসত্য তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা আইনত গুরুতর অপরাধ এবং এটি একটি শাস্তিযোগ্য বিভাগীয় অপরাধ।

রকি হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথমে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এবং পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেন। প্রতিকার না পেয়ে পরে তিনি সরকারের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম (GRS)-এও অভিযোগ করেন। যার স্লট ট্র্যাকিং নম্বর ০১৭২০৯৪৪২৬১০০০১।

তবে GRS প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাকে জানানো হয় যে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রকি হাসান বলেন, আদালতে দাখিল করা নথিপত্র ও বিভিন্ন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যদি সত্যতা অস্বীকার করা হয়, তাহলে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মিথ্যা প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে দুইবার মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ফরিদপুরের স্থানীয় কিছু ঠিকাদারের সহায়তায় তার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করছেন।

একই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি যশোর কোতোয়ালী থানাধীন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে সি আর মামলা (CR-১৪৭২/২৫) দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য যশোর সিআইডি কার্যালয়ে পাঠায়। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
এ মামলায় ইতোমধ্যে আদালত থেকে সমন জারি হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ নভেম্বর ২০২৫।

রকি হাসান অভিযোগ করেন, গণপূর্ত বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তা হওয়ায় অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে আইনি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছেন এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।

এ পরিস্থিতিতে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন তাকে অবহিত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত কর্মকর্তারা বলেন, রকি যে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছেন সেগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাদের হয়রানি করার জন্য তিনি এ অভিযোগগুলো দিচ্ছেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আবেদনকারী।

“চেনা কেউ আসবে কি?” ফরিদপুরের বৃদ্ধাশ্রমে নুরজাহান বেগমের অপেক্ষার জীবন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
“চেনা কেউ আসবে কি?” ফরিদপুরের বৃদ্ধাশ্রমে নুরজাহান বেগমের অপেক্ষার জীবন

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে একটু স্নেহ, একটু খোঁজখবর আর প্রিয়জনের পাশে থাকার সুযোগ। কিন্তু সব মানুষের ভাগ্যে তা জোটে না। ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার ‘শান্তি নিবাস’—যা স্থানীয়দের কাছে বৃদ্ধাশ্রম হিসেবেই বেশি পরিচিত—সেখানে এমনই এক নীরব জীবনের গল্প বয়ে বেড়াচ্ছেন নুরজাহান বেগম।

বয়স তার ৬০ পেরিয়েছে বহু আগেই। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে সংগ্রাম আর একাকীত্বে। পৃথিবীতে নিজের বলতে তেমন কেউ নেই বলেই শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রমে। এখানে এখন তার দিন কাটে অপেক্ষায়, স্মৃতির ভেতর ঘুরে বেড়ানো আর মৃত্যুর প্রহর গোনায়।

নুরজাহান বেগমের জন্ম ফরিদপুর জেলা সদরের হারোকান্দিতে। ছোটবেলাতেই জীবনে নেমে আসে দুঃখের ছায়া। যখন তার বয়স মাত্র নয় বছর, তখনই মারা যান তার বাবা আইনউদ্দিন শেখ। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই কিছুদিনের মধ্যে হারান মাকেও। এত অল্প বয়সে এত বড় শূন্যতা তাকে একেবারেই অসহায় করে তোলে।

এরপর আশ্রয় মেলে বড় বোনের সংসারে। বোনের বাসাতেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা তার জীবনের স্বাভাবিক পথকে বদলে দেয়। ছোটবেলা থেকেই তার দুই পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে এবং তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। স্থানীয় ভাষায় যাকে অনেকে “পা ফোলা রোগ” বলে উল্লেখ করেন। এই অসুস্থতার কারণেই তিনি কখনো স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা বা ভারী কাজ করতে পারেননি।

নুরজাহান বেগম নিজেই বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই পায়ের সমস্যায় ভুগছি। হাঁটতে কষ্ট হয়, ব্যথা করে। তাই ভাবতাম, যদি বিয়ে করি তাহলে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে পারব না। কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি। তাই জীবনে বিয়ে করিনি।”

সময়ের সাথে সাথে বোনের জীবনেও পরিবর্তন আসে। বোনের বিয়ে হয়, সংসার গড়ে ওঠে, সন্তান হয়। পরিবারের সদস্য বাড়তে থাকে। সেই সংসারে ধীরে ধীরে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হতে শুরু করে নুরজাহানের।

তিনি বলেন, “বোনের সংসার হলো, ছেলে-মেয়ে হলো। তখন বুঝলাম আমি যেন ওদের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছি। কারও ওপর চাপ হয়ে থাকতে ভালো লাগে না। এক সময় আমাকে এই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আসা হয়।”

ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার শান্তি নিবাস বহু বছর ধরে অসহায় ও নিঃস্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। এখানে থাকা অনেকের মতো নুরজাহান বেগমের জীবনেও রয়েছে না বলা অনেক গল্প, কষ্ট আর স্মৃতি।

বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট একটি কক্ষে তার এখনকার বাস। সেখানে একটি খাট, কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আর দেয়ালে ঝুলে থাকা পুরোনো স্মৃতিই তার সঙ্গী।

তবে পুরোপুরি ভুলে যাননি তার আপনজনরা—এমনটাও নয়। মাঝে মাঝে বোনের পরিবারের কেউ কেউ তাকে দেখতে আসে। কখনো ফোন করে খোঁজখবর নেয়। এই সামান্য যোগাযোগই তার কাছে বড় সান্ত্বনা হয়ে আসে।

নুরজাহান বেগম বলেন, “অনেকদিন পর পর ওরা আসে। কখনো মোবাইলে কথা বলে। তখন মনে হয়, এখনও কেউ আছে আমার খোঁজ নেওয়ার।”

বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে প্রায়ই তিনি রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। হয়তো মনে মনে আশা করেন—হঠাৎ করেই কোনো পরিচিত মুখ সামনে এসে দাঁড়াবে।

“এই বৃদ্ধাশ্রমই এখন আমার ঘর। এখানেই মাথা ঠুকে বেঁচে আছি। মাঝে মাঝে বসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকি। যদি চেনা কেউ আসে,”—কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখে ভেসে ওঠে এক অদৃশ্য শূন্যতা।

এভাবেই দিন যায়, রাত আসে। আর তিনি ধীরে ধীরে গুনতে থাকেন জীবনের শেষ সময়ের অপেক্ষা।

“স্বপ্ন বলতে এখন আর কিছু নেই,”—শান্ত কণ্ঠে বলেন নুরজাহান বেগম। “দিন আসে, রাত যায়। মনে হয় শুধু মৃত্যুর প্রহর গুনছি।”

বৃদ্ধাশ্রমের দায়িত্বশীলরা জানান, এখানে থাকা অনেক মানুষের মতো নুরজাহান বেগমও অত্যন্ত শান্ত ও নিরহংকার একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা খুব কমই বলেন। বেশিরভাগ সময় চুপচাপ থাকেন।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবারভিত্তিক সামাজিক কাঠামো এখনও শক্তিশালী হলেও অনেক ক্ষেত্রে অসহায় ও বয়স্ক মানুষেরা পরিবারের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের শারীরিক অসুস্থতা বা আর্থিক সংকট রয়েছে, তাদের জীবনে এই বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

নুরজাহান বেগমের জীবনও যেন সেই বাস্তবতারই একটি প্রতিচ্ছবি।

তবুও তার চোখে মাঝে মাঝে একটুখানি আশা জ্বলে ওঠে—হয়তো কোনোদিন আবার কেউ এসে বলবে, “চলো, তোমাকে নিয়ে যাই নিজের ঘরে।”

ততদিন পর্যন্ত ফরিদপুরের টেপাখোলার এই শান্তি নিবাসই তার আশ্রয়, সঙ্গী আর জীবনের শেষ ঠিকানা।