খুঁজুন
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

স্ট্রেসজনিত মাথাব্যথা ও চোখের চাপ কমানোর ঘরোয়া উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
স্ট্রেসজনিত মাথাব্যথা ও চোখের চাপ কমানোর ঘরোয়া উপায়

আধুনিক জীবনে মাথাব্যথা এবং চোখের উপর চাপ সাধারণ লক্ষণ; কাজ এবং পরিবারের চাপ, সেইসাথে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, এই অবস্থার প্রধান কারণ।

ক্লান্তি, চাপজনিত মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে, রোগীরা কিছু সহজ ব্যবস্থা চেষ্টা করতে পারেন:

 আকুপ্রেসার, ম্যাসাজ

বাড়িতে মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমানোর জন্য আকুপ্রেশার এবং ম্যাসাজ জনপ্রিয় পদ্ধতি। যদিও এটি জটিল শোনাতে পারে, সঠিকভাবে করা গেলে, এই পদ্ধতিটি বেশ সহজ এবং লক্ষণীয় শিথিলতা প্রদান করে। আকুপ্রেশার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে, চাপ কমাতে এবং এইভাবে মাথাব্যথা এবং চোখের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

কন্টেন্ট

 আকুপ্রেসার, ম্যাসাজ

 বরফের প্যাক লাগান।

 ভেষজ বাষ্প

 মুগওয়ার্ট এবং লবণ

 মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন।

অনুশীলনকারী আলতো করে কানের মস্তক ম্যাসাজ করতে পারেন, তারপর ধীরে ধীরে কপাল এবং কানের দিকে যেতে পারেন। কানের চারপাশের আকুপয়েন্টগুলিতে হালকাভাবে চাপ দিন এবং ঘাড় ম্যাসাজ করতে থাকুন। উভয় হাত পরস্পর সংযুক্ত করে, ঘাড়ের পিছনে রাখুন এবং বাম থেকে ডানে, উপরে থেকে নীচে ম্যাসাজ করুন। প্রতিদিন নিয়মিত এটি করলে শরীর আরও আরামদায়ক এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।

 বরফের প্যাক লাগান

হালকা মাথাব্যথা এবং চোখের ব্যথার জন্য ঠান্ডা কম্প্রেস প্রয়োগ করা একটি সহজ এবং কার্যকর প্রতিকার। বরফ রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে, রক্ত ​​প্রবাহ হ্রাস করে এবং এইভাবে ব্যথা উপশম করে। অতিরিক্তভাবে, ঠান্ডা কম্প্রেস মনকে শিথিল করতে এবং চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সেরা ফলাফলের জন্য আপনি কয়েকটি বরফের টুকরো একটি পরিষ্কার কাপড়ে মুড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০-১৫ মিনিটের জন্য আপনার দাঁতের গুদে লাগাতে পারেন।

 ভেষজ বাষ্প

ভেষজ বাষ্প শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা একটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি যা কেবল সর্দি-কাশি এবং ফ্লুতেই সাহায্য করে না বরং কার্যকরভাবে মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। কিছু গবেষণা অনুসারে, ভেষজের প্রয়োজনীয় তেল রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে, চাপ কমাতে এবং মাথাব্যথার পুনরাবৃত্তি সীমিত করতে সহায়তা করে।

রোগীরা আদা, পুদিনা, ল্যাভেন্ডার, অথবা ইউক্যালিপটাস সিদ্ধ করতে পারেন, তারপর জ্বালা এড়াতে চোখ বন্ধ করে ২-৫ মিনিটের জন্য গভীরভাবে বাষ্পটি শ্বাস নিতে পারেন।

দ্রষ্টব্য: চোখের সাথে সরাসরি অপরিহার্য তেলের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, অপরিহার্য তেল গিলে ফেলবেন না; শুধুমাত্র একটি বিশ্বস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ অপরিহার্য তেল ব্যবহার করুন, জ্বালা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন এবং খুব বেশিক্ষণ ব্যবহার করবেন না।

 মুগওয়ার্ট এবং লবণ

স্নায়বিক এবং রক্তনালী রোগের চিকিৎসার জন্য মুগওয়ার্ট এবং লবণকে উপকারী উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মুগওয়ার্টে অনেক সক্রিয় যৌগ রয়েছে যা রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে এবং মাথাব্যথা উপশম করে, অন্যদিকে লবণ স্নায়ু শিথিল করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে আপনি লবণ দিয়ে মাগওয়ার্ট গরম করতে পারেন এবং এটি কম্প্রেস বা বালিশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন:

 ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করুন: স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো চোখের উপর চাপ এবং মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। লক্ষণগুলি দেখা দিলে, আপনার কাজ বন্ধ করুন এবং প্রায় ১৫-২০ মিনিটের জন্য আপনার চোখকে বিশ্রাম দিন।

 পর্যাপ্ত ঘুম পান: ঘুমের অভাব মাথাব্যথা এবং চোখের চাপের একটি সাধারণ কারণ। আপনার প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিত, দেরি করে জেগে থাকা বা অতিরিক্ত কাজ করা এড়িয়ে চলা উচিত।

 যোগব্যায়াম অনুশীলন: যোগব্যায়াম মানসিক চাপ উপশম করতে, মেজাজ উন্নত করতে এবং মাথাব্যথা এবং চোখের চাপ কমাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন তাদের স্বাস্থ্য এবং মানসিক সুস্থতা ভালো থাকে।

 পর্যাপ্ত পানি পান করুন: পানিশূন্যতার কারণে ক্লান্তি, মনোযোগ দিতে অসুবিধা এবং মাথাব্যথা হতে পারে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন ১-১.৫ লিটার পানি পান করার লক্ষ্য রাখুন এবং আপনার খাদ্যতালিকায় পানি সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।

সূত্র: https://suckhoedoisong.vn/bi-quyet-giam-dau-dau-nhuc-mat-do-cang-thang-hieu-qua-169260128174253248.htm

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে?

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। সেটি হলো, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো তার পারমাণবিক সক্ষমতা নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ক্ষমতা।

সংঘাতের শুরুর সময় থেকে অনেকেই এই যুদ্ধকে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে দেখেছিলেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়।

এর জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে সংঘাত বাড়তে থাকলে ইরান তাদের কৌশল বদলে ফেলে।

তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়। হরমুজ প্রণালি হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে।

বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। তাই এই প্রণালির ওপর দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বড় প্রভাব পড়ে।

ইরানের নতুন এই কৌশলের কারণে দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়।

কারণ তাদের অর্থনীতি নির্ভর করে এই প্রণালি দিয়ে অব্যাহতভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ওপর।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা বুঝেছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রচলিত সামরিক সংঘাতের চেয়ে বেশি কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলে ওয়াশিংটনকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে ইরান।

শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি আলোচনার শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে।

ইরান নিয়মিতভাবে হুমকি দিয়ে এসেছে যে, তাদের ওপর আক্রমণ হলে তারা এই প্রণালি বন্ধ করে দেবে। তবে এর আগে কখনোই এটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

এমনকি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়, যখন তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছিল, তখনও এই প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

বর্তমানে ইরানের কিছু সামরিক কমান্ডার ও কর্মকর্তারা এই প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছেন।

ইরানের পার্লামেন্ট বিশেষ করে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন ইতোমধ্যে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে।

ইরানের এক পার্লামেন্ট সদস্য প্রস্তাব করেছেন, প্রতি তিন ব্যারেল তেলের জন্য এক ডলার করে চার্জ আরোপ করা যেতে পারে।

বিজয়ের চিত্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুদ্ধবিরতির পর বিজয়ের একটি চিত্র তুলে ধরে।

কুয়েতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। যার শিরোনাম ছিলো, “যখন আল্লাহর সাহায্যে সফলতা ও বিজয় অর্জিত হয়”।

এটি ইরানের ভেতরে প্রচারিত সেই বার্তাকেই তুলে ধরে, যেখানে বলা হচ্ছে যে, দেশটি বিদেশি চাপকে সফলভাবে প্রতিরোধ করতে পেরেছে।

আইআরজিসি’র ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ বলেছে, ইরানের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আর মার্কিন সেনা প্রত্যাহার কথা বলা আছে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্টের মতে এই যুদ্ধবিরতি “খামেনির মতবাদের” বিজয়। এর মাধ্যমে মূলত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে বোঝানো হয়েছে, যিনি যুদ্ধের শুরুর দিকে নিহত হন।

একই সময়ে, সাবেক আইআরজিসি প্রধান ও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, ইরানি বাহিনী এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে এবং তাদের “আঙুল ট্রিগারে রয়েছে”। অর্থাৎ ইরানের সেনারা যেকোনো মুহূর্তে হামলার জন্য প্রস্তুত।

তবে বিজয়ের এই বয়ানের আড়ালে প্রকৃত বাস্তবতা অনেক বেশি ভঙ্গুর।

ইরানের সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকায় দেশটির অর্থনীতি আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে।

সংঘাত চলাকালে অন্তত ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল এবং বেশ কয়েকজনকে জানুয়ারির দেশব্যাপী বিক্ষোভ থেকে আটক হয়েছিলো।

এই পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, দেশের ভেতরে ভিন্নমত নিয়ে সরকার গভীর উদ্বেগে রয়েছে, তাই তারা আবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

শান্তি আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান দাবি। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন সহজ ছিল না বলেই মনে হচ্ছে।

বুধবার ইরান সতর্ক করে যে, রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অনুমতি ছাড়া প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে, সেগুলোকে “লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ধ্বংস করা হবে”।

পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই “অগ্রহণযোগ্য” প্রতিবেদনের বিষয়ে জেনেছেন, তবে তিনি বলেন, গোপনে বা ব্যক্তিগতভাবে যা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে এসব কথা মিলছে না।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ খাতিবজাদেহ বৃহস্পতিবার বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন সবাই নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেই “নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে” ইরান।

তিনি বলেন, এই প্রণালি হাজার বছর ধরে উন্মুক্ত ছিল, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়।

তবে তিনি বলেন, এই প্রণালি পুনরায় তখনই খুলে দেওয়া হবে, “যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে এই আগ্রাসন বন্ধ করবে,” যা সম্ভবত লেবাননে ইসরায়েলের হামলার দিকে ইঙ্গিত করে।

খাতিবজাদে আরো বলেন, ইরান “আন্তর্জাতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন” মেনে চলবে, তবে তার মতে, এই প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং নিরাপদ চলাচল “ইরান ও ওমানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে”।

প্রণালিটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যার লক্ষ্য বেসামরিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিপজ্জনক নজির

তাহলে ইরান এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী করতে পারে?

ইরানের পার্লামেন্টে প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে প্রস্তাবটি তোলা হয়েছে, তাতে মোট নয়টি ধারা রয়েছে।

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বলা হয়েছে, “শত্রুপক্ষের জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না”।

বিকল্প হিসেবে, ইরান নিজেই জাহাজ চলাচলের সব সেবা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ইরান বলেছে, এই পথে জাহাজ চালাতে হলে কোম্পানিগুলোকে সেই বাবদ অর্থ ইরানের মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে, ইরানের কোনো একটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রাখতে হবে, আর জাহাজগুলো কী ধরণের মালামাল বহন করছে তা জানাতে হবে।

এটি একটি অত্যন্ত জটিল প্রস্তাব এবং এখনো এ বিষয়ে ভোটগ্রহণ হয়নি।

যদি ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপ করে, তাহলে মূল প্রশ্ন হবে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা ও আঞ্চলিক মিত্ররা এই পদক্ষেপ মেনে নেবে কি না।

সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া বোঝা যাচ্ছে, এর বিরুদ্ধে অনেক বিরোধিতা থাকবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা মনে করে সমুদ্রে স্বাধীনভাবে চলাচল করা তাদের একটি মৌলিক নীতি।

তাই এমন কোনো শুল্ক আরোপ হলে সেটা একটা বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে বলে মনে করা হবে।

যদি ইরান এতে সফল হয়, তাহলে একে একটি বড় কৌশলগত এবং প্রতীকী বিজয় হিসেবে দেখা হবে, যা প্রমাণ করবে যে তারা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

তবে এখানেও অনেক বড় ঝুঁকিও আছে। এ ধরনের পদক্ষেপ উল্টো ফল দিতে পারে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ, নেটোর সদস্য দেশ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো একজোট হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হয়ে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, এমনকি সামরিক পদক্ষেপও নিতে পারে।

সূত্র : বিবিসি

পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, কোন জেলায় পদসংখ্যা কত?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, কোন জেলায় পদসংখ্যা কত?

বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে জেলাভিত্তিক নিয়োগযোগ্য শূন্য পদের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশের ওয়েবসাইটে এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়।

এতে জানানো হয়েছে, ৬৪ জেলায় মোট ২ হাজার ৭০৩ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ ঢাকা জেলায় (২২৬) এবং সবচেয়ে কম বান্দরবান জেলায় (৭)। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৪৩, রাজশাহীতে ৪৯, খুলনা এবং বরিশালে ৪৪টি করে নিয়োগযোগ্য শূন্য পদ রয়েছে।

জেলাভিত্তিক নিয়োগযোগ্য শূন্য পদের সংখ্যা

১. ঢাকা-২২৬

২. গাজীপুর-৬৪

৩. মানিকগঞ্জ-২৬

৪. মুন্সীগঞ্জ-২৭

৫. নারায়ণগঞ্জ-৫৫

৬. নরসিংদী-৪২

৭. ফরিদপুর-৩৬

৮. গোপালগঞ্জ-২২

৯. মাদারীপুর-২২

১০. রাজবাড়ী-২০

১১. শরীয়তপুর-২২

১২. কিশোরগঞ্জ-৫৫

১৩. টাঙ্গাইল-৬৮

১৪. ময়মনসিংহ-৯৬

১৫. জামালপুর-৪৩

১৬. নেত্রকোনা-৪২

১৭. শেরপুর-২৫

১৮. চট্টগ্রাম-১৪৩

১৯. বান্দরবান-০৭

২০. কক্সবাজার-৪৩

২১. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫৩

২২. চাঁদপুর-৪৫

২৩. কুমিল্লা-১০১

২৪. খাগড়াছড়ি-১২

২৫. ফেনী-২৭

২৬. লক্ষ্মীপুর-৩২

২৭. নোয়াখালী-৫৮

২৮. রাঙ্গামাটি-১১

২৯. রাজশাহী-৪৯

৩০. জয়পুরহাট-১৭

৩১. পাবনা-৪৭

৩২. সিরাজগঞ্জ-৫৮

৩৩. নওগাঁ-৪৯

৩৪. নাটোর-৩২

৩৫. চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩১

৩৬. বগুড়া-৬৪

৩৭. রংপুর-৫৪

৩৮. দিনাজপুর-৫৬

৩৯. গাইবান্ধা-৪৫

৪০. কুড়িগ্রাম-৩৯

৪১. লালমনিরহাট-২৪

৪২. নীলফামারী-৩৪

৪৩. পঞ্চগড়-১৯

৪৪. ঠাকুরগাঁও-২৬

৪৫. খুলনা-৪৪

৪৬. যশোর-৫২

৪৭. ঝিনাইদহ-৩৩

৪৮. মাগুরা-১৭

৪৯. নড়াইল-১৪

৫০. বাগেরহাট-২৮

৫১. সাতক্ষীরা-৩৭

৫২. কুষ্টিয়া-৩৬

৫৩. চুয়াডাঙ্গা-২১

৫৪. মেহেরপুর-১২

৫৫. বরিশাল-৪৪

৫৬. ভোলা-৩৩

৫৭. ঝালকাঠি-১৩

৫৮. পিরোজপুর-২১

৫৯. পটুয়াখালী-২৯

৬০. বরগুনা-১৭

৬১. সিলেট-৬৪

৬২. মৌলভীবাজার-৩৬

৬৩. সুনামগঞ্জ-৪৬

৬৪. হবিগঞ্জ-৩৯

সূত্র : প্রথম আলো

 

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর যা করেছিলেন আমির খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পূর্বাহ্ণ
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর যা করেছিলেন আমির খান

রূপালি পর্দায় তিনি নিখুঁত, অভিনয় জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে মেপে পা ফেলেন, তাই তো তার নাম ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। কিন্তু সেই রূপালি পর্দার জনপ্রিয় এই মানুষটা যে একসময় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিলেন, তা কজন জানত?

সম্প্রতি নিজের জীবনের অন্ধকারতম অধ্যায়টি মেলে ধরলেন বলিউডের অভিনেতা আমির খান। তিনি স্বীকার করেছেন, সাফল্যের নেশায় পরিবারকে অবহেলা করার মাসুল তাকে দিতে হয়েছে চরম যন্ত্রণায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানান এই গুণী অভিনেতা।

২০০২ সাল। আমির ও তার প্রথম স্ত্রী রিনা দত্তের ১৬ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্যে যখন ইতি পড়ল, তখন এক নিমিষেই ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল আমিরের সাজানো পৃথিবী। আমির জানান, কাজের পেছনে অন্ধের মতো ছুটতে গিয়ে তিনি বুঝতেও পারেননি কখন সন্তানদের থেকে দূরে সরে গিয়েছেন।

সেই বিচ্ছেদের রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আমির বলেন,’যে রাতে রিনা বাচ্চাদের নিয়ে আমায় ছেড়ে চলে গেল, সেই রাতটা ছিল বিভীষিকার মতো। নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। ‘

সেই অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা ভুলতে আমির বেছে নিয়েছিলেন নেশার পথ। নিজের আসক্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘প্রতি রাতে আমি মদ্যপান শুরু করি। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, প্রতিদিন প্রায় এক বোতল করে মদ শেষ করে ফেলতাম। রীতিমতো নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম আমি।‘

এদিকে রিনার পর কিরণ রাওয়ের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন আমির। তাদের এক পুত্রসন্তানও (আজাদ) রয়েছে। কয়েক বছর আগে সেই বিয়েও ভেঙেছে। তবে আমিরের জীবনে বসন্ত আবার ফিরে এসেছে। বর্তমানে তিনি তার ছোটবেলার বান্ধবী গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন।

আমির এখন কাজ কমিয়ে পরিবারের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাতে চান, যেন জীবনের ফেলে আসা ভুলগুলো এখন শুধরে নিতে চাইছেন বলিউডের এই মহাতারকা।